চিত্রকল্প
(নির্যাতিত ফিলিস্তিনী নারীকে)

আমার প্রিয়ার কবোষ্ণ বক্ষে
অসংখ্য বারুদের পোড়া চিহ্ন
চোখে তার শতাব্দীর ঘূর্ণিঝড়
কুন্তলজুড়ে সাম্রাজ্যবাদের
লেলিহান শিখা। অগণিত
সন্তানেরা তার লাশের মিছিলে
ধাবমান !!
……………………………………………

অন্তর্গত উচ্চারণ

বিংশতির এক অখ্যাত কবি আমি
কবিতা আমার চেতনার রক্তপলাশ।
একদা শারদপ্রভাতে আমি
শব্দহীন আর্ত চীৎকারে ফেটে পড়ি
সূর্যমুখীর দেহের মতো প্রসারিত হয়
আমার দুচোখ
পরিচিত লোকালয়ে
আকাশের সুদূরতায়
প্রকৃতির প্রত্যয়নে
মানবতার বন্দি শিবিরে
সিরিয়া আফগান কাশ্মীর বার্মা
মরো ভিয়েনা ফিলিস্তিন আলজেরিয়ার
মুক্তিসংগ্রামে
ইথিওপিয়ার খরা দুর্ভিক্ষ আর
আমার দেশের মুটে-মজুর
কিষাণ-শ্রমিক ছাত্র-জনতার
পরাজিত বিজয়ের দ্রোহনে।।
……………………………………………

রক্তাক্ত ফিলিস্তিন

কতো মা বাবা ভাই বোনের
রক্তে রঞ্জিত ফিলিস্তিন
লাখো মুসলিম আজ শত্রুর
বোমার আঘাতে নিশ্চিহ্ন।
আহা কতো ইয়াতীম শিশু আর
ধর্ষিতা নারীর আর্ত চীৎকারে
ভারী হয় আকাশ বাতাস।
জেগে ওঠো একশো ষাট কোটি
মুসলিম জনতা, প্রতিবাদী মিছিলে
আগুয়ান হও। লড়াই করো প্রাণপণে
মুক্ত করো ফিলিস্তিন, মুক্ত করো
মাসজিদুল আকসা।
ইন্নামাল মু’মিনুনা ইখওয়াহ্
মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই
আল্লাহর এ বাণীর প্রতিফলন ঘটাও!
বাঁচাও লাখো কোটি মুসলিম মানবতাকে।
ইহুদিবাদী জায়নবাদী মুশরিক হায়েনাদের
পতন হবে জাগ্রত মুসলিমের ভ্রাতৃত্ববোধ
আর ঈমানী চেতনায়। বিড়ালের মতো নয়
বাঘের মতো হুংকার ছাড়ো। দালালি ছাড়ো।
আয়েশি জীবন ছাড়ো। নইলে ছারখার হবে
লণ্ডভণ্ড হবে বিশ্ব মুসলিম, শাসকের জাতি
মুসলিম তোমরা হবে ভিক্ষুকের জাতি!
সাবধান হও হুশিয়ার হও-সময় এখনো
ফুরোয়নি। ঐক্যবদ্ধ হও!
রক্তাক্ত ফিলিস্তিনকে বাঁচাও!
স্বাধীন করো পরাধীন মুসলিম জনপদকে!
……………………………………………

অন্য রকম ঈদ

যাদের হৃদয়ে আছে
শুধু হাহাকার
তাদের কিসের সুখ বলো
কিসের ঈদ আবার।।

যাদের দিন কাটে রাত কাটে
শুধু হতাশায়
নির্বাসিত হয় যারা
নিজ আঙ্গিনায়
সর্বহারা হয়ে যারা
পথে পথে ঘোরে
দু’মুঠো খাবার খোঁজে
ফিরে দারে দার।।

শত্রুর বোমার আঘাতে
লাশ হয় মায়ের ছেলে
ধর্ষিতা নারীর বিলাপ ওঠে
আকাশ বাতাস ঠেলে
মানবতার ধ্বজাধারীরা
হাসে অট্টহাসি
অধিকার হারা বুক
ভাঙে বারে বার।।
……………………………………………

হুশিয়ার মহানবীর অপমানকারী ফ্রান্স

শাসকের জাতি মুসলিমের
শিয়রে এখন বুনো শেয়ালেরা
বাসা বাঁধে। গিলে খেতে চায়
মুসলিমের মগজ। মুছে দিতে চায়
মুসলিমের অস্তিত্ব। কালিমা লেপন
করতে চায় মহামানবের, মহামুক্তিদূতের
শাশ্বত-সুন্দর চরিত্রভূষণে।
কালো দাম্ভিকতার চূড়ায় দাঁড়িয়ে
ফ্রান্সের আস্ফালন শতকোটি মুসলিমের
হৃদয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে অগ্নিশিখা।
যে অগ্নিশিখায় পুড়ে ছারখার হবে
তাবৎ পৃথিবীর নাস্তক্যবাদের আড্ডাখানা।
জাগ্রত মুসলিম জনতা মেনে নেবেনা
মহানবীর অপবাদ অবমাননা মিথ্যাচারের
খিস্তিখেউড়।
হুশিয়ার সাবধান হও ইসলামের দুশমনেরা।
মুসলিম ঘুমিয়ে যায়নি। বীরের জাতি মুসলিম
জীবনের বিনিময়ে রুখে দেবে সব অপশক্তির
সব তাগুতের প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। ওড়াবে সত্য-সুন্দরের
ঝাণ্ডা মহামানবের সত্যানুসারীরা।
আবার পৃথিবীর শাসক হবে মুসলিম জাতি।
মহানবীর মহান চরিত্র আভায় আলোকিত
হবে মাটির পৃথিবী। শান্তির নীড়ে ঘুমাবে
নিপীড়িত নির্যাতিত মানবতা।
শুনো হে বিশ্বনবীর শত্রুরা!
তোমাদের ধ্বংস অনিবার্য।।
……………………………………………

ওরা সোনার ছেলে

এক সাগর রক্তে কেনা স্বদেশ আমার
বুনো শকুনের থাবায় জর্জরিত
এখানে ধর্ষকদের অরাজকতায়
শত কোটি মা বোনেরা শঙ্কিত অরক্ষিত।।

চারদিকে শুনি শুধু হাহাকার
গুম খুন ধর্ষণে সব ছারখার
একাত্তরের বীর বাঙালি
গর্জে ওঠো আরেকবার
ওরা পাঞ্জাবি পাঠান নয়
ওরা ধর্ষণের সেঞ্চুরি করা সোনার ছেলে
আমার দেশকে করে ওরা কলঙ্কিত।। ঐ

ওরা মানুষরূপী হায়েনা
ওরা নীতিনৈতিকতার ধার ধারেনা
ওরা স্বার্থপর লোভী পশুর অধম
শক্তিশালীর ছত্রছায়ায় ওরা নরদানব
ওরা লম্পট ওরা সন্ত্রাস ওরা ধর্ষক
হাজারো মানবতার প্রতিরোধে
পরগাছা ওরা হবে পদানত।। ঐ
……………………………………………

শঙ্কিত ভালোবাসা

আমার ভালোবাসার পাখিরা
ওড়ে বেড়ায় দিগন্তজোড়া
ফসলের মাঠে, মেঘের ফাঁকে
রোদে ঝলমল করা রঙধনুর
গা ছুঁয়ে। সন্ধানী ভালোবাসারা আমার
এশিরিয়া বেবিলনিয়া ছাড়িয়ে
সুদূর মরক্কো গিয়ে পৌঁছায়।
রাবাত থেকে জাকার্তা চীন থেকে
পশ্চিমে আফগান বসনিয়া সিরিয়া
ফিলিস্তিন কাশ্মীর বার্মায় ওঁত পেতে থাকা
বিষাক্ত ভুজঙ্গদের ছোবল নিরীক্ষণ করে
এবং অসংখ্য মরা লাশের দুঃসংবাদ নিয়ে
ঘুরে বেড়ায় আমার শঙ্কিত ভালোবাসারা
পৃথিবীর আনাচে কানাচে!
……………………………………………

প্রত্যাশা

প্রতিনিয়ত একটা কষ্টের পাহাড়
বয়ে নিয়ে চলি আমি। আমি ব্যাকুল
আমার নির্বাক নিচঞ্চল প্রজন্মের
সাহসী বুলি আর বোধির উজ্জীবনে।
স্রষ্টার সমীপে সেজদাবনত হই
অশ্রুসিক্ত বদনে উচ্চারিত হয়
আমার আকুল আকুতি-
সুস্থ সুস্থিত এক মানবতার
আগমন প্রত্যাশার!
……………………………………………

বোধি

বোধির সারসীরা উড়ে যায়
নীল আকাশের সীমানায়
যেখানে আমার প্রভু সমাসীন।
সুবিশাল দৃষ্টি তাঁর নিযুত-কোটি
সৃষ্টিলীলায়। নীলাকাশ, সবুজাভ
অরণ্যাণী, মহাসমুদ্র, অচলায়তন,
বিচিত্র পাখ-পাখালি, গভীর জলাশয়ের
প্রাণীকুল, শ্বাপদ সরীসৃপ প্রজাতির
অবাধ বিচরণ, প্রকৃতির অপরূপ
সাজ-সজ্জা, মানবতার মহাজাগরণ,
বিজ্ঞানের জয় অভিযান সবই তাঁর
ইশারায় প্রবহমান। আনত হৃদয়ে
অবনত হয় আমার সত্তা
সর্বশক্তিমানের অপার মহিমায়!
……………………………………………

বোধির যন্ত্রণা

গাছ মাছের মতো হতো যদি
আমার জীবন
তাহলে কোনো অনুশোচনায়
জর্জরিত হতো না আমার মন।
আমারি আপন প্রজন্মের অক্ষমতা
আমাকে প্রতিনিয়ত যন্ত্রণায় বিদ্ধ করে।
পাপ-পংকিলতায় কখনো জড়িয়ে গেলে
মনে বড়ো কষ্ট অনুভব করি।
বিবেকের দংশনে ক্ষত-বিক্ষত হয়
আমার বোধি।
নিরন্ন নির্যাতিত মানুষের হাহাকার
আমায় ব্যথিত করে। শক্তিমানের
নির্মম বর্বরতা আমাকে কাঁদায়।
প্রিয়জন হারানোর বেদনায় চূর্ণ-বিচূর্ণ
হয় মন। সমাজের অসঙ্গতি উৎপাটনে
নিবেদিত হলে স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু
অগ্নিবাণ নিক্ষেপ করে আমায়।
পাখ-পাখালির মতো জন্ম যদি হতো আমার
বোধির যন্ত্রণায় আমাকে কাতরাতে হতোনা
বারংবার। সৃষ্টির সেরা জীব বলেই
নিকৃষ্টের অত্যাচারে পিষ্ট আমি!
……………………………………………

কষ্ট

আমার ভেতর একটা কষ্টের নদী
রক্তগঙ্গার মতো তরতর বেগে
বয়ে চলে। আমার প্রাণের সাথীরা
হারিয়ে যায় নিষ্ঠুর অন্ধকূপে।
সত্যের ধ্রুবতারা প্রোজ্জ্বলনে
তারা ছিল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একত্ববাদের
নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্বের চর্চায় তারা ছিল
নিবেদিত প্রাণ। তারা অপ্রতিদ্বন্দ্বী
অবিসংবাদিত নির্লোভ নেতৃত্ব। আষ্টেপৃষ্টে
আবদ্ধ হয় তারা। ঊষর মরুর লাল নীল
দাবানল নিঃশেষ করে দেয় তাদের
সোনালি স্বপ্ন। মানবতার মুক্তি চেতনায়
হাসিমুখে হয়ে ওঠে তারা যুগের
হামযা খালিদ। তাদের হারানো স্মৃতি
আমাকে কাঁদায়!
……………………………………………

শাহ আবদুল হান্নান : শতাব্দীর রোল মডেল

শতাব্দীর মরাগাঙে
জোয়ার এনেছিল যে জন
অনৈতিকতার সয়লাবের বিপরীতে
দাঁড় করিয়েছিল নৈতিকতার পিলার
শুদ্ধতার ডাক দিয়েছিল
মহামানবের অনিকেত চরিত্র-মধুরতায়।
মহান রবের ঐশীবাণীতে
মানবতার মুক্তি খুঁজেছিল যে জন
জীবন ও কর্মে।
অহর্নিশি এক স্বর্গীয় সমাজ বিনির্মাণে
নিবেদিত ছিল যে প্রাণ
অনুপম বাকভঙ্গি আর অমায়িক আচরণে
জিনেছিলেন লাখো মানুষের হৃদয়।
মহানের প্রতি অগাধ বিশ্বাস আর
শাশ্বত বিধানের ধারক এক
মহাপুরুষ ছিল তাঁর অন্তরগহীনে
প্রেরণার বাতিঘর হয়ে।
যুগ-যুগান্তরে চিরবহমান রবে
তাঁর অমীয় বচনধারা।
শতাব্দীর রোল মডেল যিনি এক :
শাহ আবদুল হান্নান।
হৃদয়ে-মননে গেঁথে রাখি তারে
আশার আলোর সারথী করে!
……………………………………………

বরিষার গান

প্রভু হে তোমায় মনে পড়ে
এই ঘনঘোর বরিষায়।।

কদম-কেতকীর অমীয় ঘ্রাণে
ডাহুক শ্যামার মধুর তানে
শেফালী বকুল ঝরা
ভোর-বিহানে
প্রভু হে তোমার সমীপে
পড়ে রই পরম সিজদায়।।

বরিষার বজ্রনিনাদে
ঝড়-তুফানের মহাদুর্যোগে
দরিদ্র মানবতার তুমিই সহায়
খড়-কুটোর মতো উড়িয়ে দিওনা
মোদের ছোট্ট এই আঙিনা
ওহে মহামহীয়ান ওহে দয়াময়।।

বৃষ্টিস্নাত শুচি-সবুজ শরৎ প্রভাতে
কী অপরূপ মহিমা ছড়াও নীল আভাতে
উড়ো উড়ো মেঘলার শ্রাবণ নীলিমায়
সোনালি রোদের সোনালি আভায়
মনটি আমার ছুটে যায় প্রভু
তোমার ওই আরশ-আঙিনায়।।

বরষার বরিষণে ধুয়ে মুছে
সাফ করে দাও মনের কালিমা
করোনার ছোবল থেকে বাঁচাও ওগো
তাবৎ পৃথিবীর তাবৎ মানবতা
ওহে অসীম ওহে গাফুর মহান
তুমিই যে শুধু সবহারাদের সহায়।।