আজ বলব আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেটা না থাকলে হয়তো আমার জীবন অসম্পূর্ণই থেকে যেত। সবাই নিশ্চই উদগ্রীব হয়ে আছেন আমি আজ কী নিয়ে লিখব। আমার এ তেরো বছরের জীবনের অর্ধেক সময় সেখানে কাটিয়েছি। যার নাম “সহজ পাঠ” ফুলকি। আমি ফুলকিতে ছয় বছর পড়েছি। এ স্বল্প পরিসর সময়ে আমি যে অভিজ্ঞতা নিয়েছি, যে স্নেহ-মমতাময় পরিবেশের মধ্যে লেখাপড়া করেছি, বেড়ে উঠেছি, তা সারাজীবন আামার মনে থাকবে। সেদিনগুলোর কিছু কথা না বললেই নয়। আামি ফুলকি স্কুলে ভর্তি হই ২০১২ তে। ২০১৭ পর্যন্ত ফুলকির সাথে যে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয় আমার, সেটা মনে গাঁথা থাকবে চিরদিন। ফুলকিতে যারা পড়েছে, কিংবা ভবিষ্যতে পড়বে, তারা কেউই ভুলতে পারবে না ফুলকির দিনগুলোর কথা।

তিনবছর হল আমি অন্য স্কুলে পড়ছি, কিন্তু ফুলকিকে ভুলতে পারিনি এখনও। এখনও ইচ্ছে করে আবার সেই পুরোনো দিনগুলোতে ফিরে যাই, আবার ভর্তি হয়ে যাই ফুলকিতে। কত হীরন্ময় স্মৃতি, কত আনন্দময় মুর্হুত! আজীবন গাঁথা থাকবে সেসব মনের গভীরে। ফুলকি সবার চেয়ে আলাদা, সবদিক থেকে। ফুলকি আমার ভাললাগার জায়গা। ফুলকির বয়স এখন তেতাল্লিশ। কত ছাত্র-ছাত্রী পড়ে চলে গেছে, আবার কত ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসবে ফুলকিতে, তাদের সবার মনের মণিকোঠায় আাজীবন জ্বলজ্বল করবে ফুলকির স্মৃতি, আামার মতোই।।

ফুলকির সাথে কারো তুলনা হয় না। অন্য কারো কাছে হোক না হোক, আমার কাছে বিশেষ। শিক্ষকরা কত না যত্নসহকারে খেলার ছলে শিশুদের শিক্ষা দেন! বাগানে যেমন ফুলেরা একে অপরের সাথে মিলেমিশে থাকে ফুলকিও ঠিক তেমন। ফুলকি আমার স্মৃতি নয়, আমার ভালবাসা। ফুলকিতে যদি শিক্ষকেরা বকা দিতেন সেটা মাথা পেতে নিতে কোন খারাপ লাগা ছিল না। তাদের বকা শোনার মধ্যেও ছিল অদ্ভুত এক অনুভূতি। এর পাশাপাশি সারা বছরই হতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আমি অনেকবার অংশগ্রহণ করেছি। একবার অভিনয়ে তৃতীয় হয়েছি। শিক্ষকেরা ছিলেন আমার মা-বাবার সমতুল্য।

এখনো কয়েকজনের সাথে প্রায়ই দেখা হয় পথে। তাঁদের একবার হলেও প্রণাম করি। ফুলকির প্রধান শিক্ষক ও পরিচালক শীলা মোমেন ম্যাডাম এবং আবুল মোমেন স্যার কারো সাথে কখনো কড়াভাবে কথা বলেন না। তাদের মুখের হাসিটাই বলে দেয় তাদের পরিচয়। এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই প্রাণবন্ত। নিজের মনের ভাব ব্যক্ত করতে পারে শিক্ষকের কাছে। তাঁরা সহজে যে কোন প্রশ্নের উত্তর দেন। আমি মা-বাবা এবং শিক্ষকদের কাছে কৃতজ্ঞ, ফুলকিতে পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। না হলে বুঝতামই না এত ভালবাসা ও যত্ন দিয়ে শিশুদের মানুষ করে তোলা যায়। সেটা বলে বোঝানো অসম্ভব, পারবও না।

লিখতে গেলে শেষও হবে না। লিখতে গিয়ে চোখ জলে ভরে গেল। কষ্ট চেপে রাখতে না পেরে কেঁদেছি। আরেকদিন ফুলকির কথা আরো বলব। আজ এতটুকু। ফুলকির একটি ছড়া দিয়ে শেষ করি-

ফুল মেলল দল রোদের পেয়ে বল
আসলো প্রজাপতি রঙ ছড়ানো গতি
পাখির পরে পাখি বাঁধলো এসে রাখি
ভোরের আলো এসে আদর জানায় হেসে
এমন আলোর হাট মোদের সহজ পাঠ।