আমদের বৈচিত্র্যময় এই জীবনে রয়েছে অনেক ব্যাকুলতা, হাহাকার আবার সুখ, দুঃখ কান্না হাতাশা। তবু আমরা জীবনের তাগিদে বা বাঁচার তাগিদে জীবিকা নির্বাহ করি। সমাজে শিক্ষার হার যতই বাড়ছে ততই আলোর বদলে অন্ধকারের কবলে মানুষ নিমজ্জিত হচ্ছে। এ যেন শিক্ষার অন্ধকার, ভালোভাবে জানার অন্ধকার, এটাতে সবাই তৃপ্তি পায়। ছোট বেলা যখন গোল্লাছোট ও এক্কাদোক্কা খেলতাম তখন ক্লান্ত হয়ে প্রতিবেশি দাদুর ঘরে বসতাম, দাদু পরম মমতায় ঘাম মুছে দিয়ে বলতেন, এই সুন্দরী দাদু আর খেলিস না এখন লাল হয়ে গেছিস যে। তখন বলতাম ঠিক আছে দাদূ, আমার বদলে তুমি খেলো, আমার সঙ্গিরা যে যেতে দেবেনা, খেলা শেষ হলে যেতে হবে। তখন দাদু আমার হয়ে খেলতেন আমাকে ভালোবেসে। এই দাদু কিন্তু এত বেশি শিক্ষিত ছিলেননা। মনে ছিল দয়া, মায়া, ভালোবাসা। এই আলোকিত জীবন এখন শিক্ষার অন্ধকারের অতল গহ্বরে চলে গেছে। এখানে নেই কোন দায়িত্ব, স্নেহ, ভালোবাসা। আছে স্বার্থের লড়াই।

চার দেয়ালের ইট, বালি, পাথর দিয়ে বানানো দেয়ালের মত মানুষের মন ও পাথর পরিণত হয়েছে। মানুষকে আল্লাহ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সেরা মানুষগুলোর অনেক খারাপ কাজ দেখে বনের জন্তু, জানোয়ার, পশু এগুলো দেখে লজ্জা পায়| কারণ, এগুলো তাদের কাজ , মানুষ কেন করছে? এইভেবে লজ্জায় তারা এই সব খারাপ কাজ ছেড়ে দিয়েছে।
এই কয়দিন আগে একটা হনুমানের বাচ্চাকে একজন মানুষ মারায় সব হনুমান একত্রিত হয়ে থানায় গিয়েছে বিচার চাইতে।
একহনুমানের প্রতি যদি আরেক হনুমানের ভালোবাসা থাকতে পারে তবে কেন মানুষ হয়ে আরেকজন মানুষের প্রতি ভালোবাসা নেই?
পরকীয়ার প্রবণতা ব্যাপক হারে বাড়ছে, যার ফলে স্ত্রী বা স্বামী খুন হচ্ছে, তার প্রতিফল ভোগ করছে নিরপরাধ অবুঝ শিশুরা, কখনো মা অথবা বাবা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ওদের জীবন কেড়ে নেন।
তাহলে আমরা শিক্ষিত হয়ে ও অন্যায় কাজ করি সেই আইয়ামে জাহেলিয়াতের মত।
নিরপরাধ ছাত্রদের নির্মমভাবে ফেলা হচ্ছে, ধর্ষণের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। মা-বাবার কাছে একটি শিশু নিরাপদ না। তাহলে কি হবে এই শিক্ষিত সমাজ দিয়ে? যে শিক্ষালয়ে শিক্ষকদের চরিত্র যদি খারাপ হয়, ওরা যদি অন্যায় করে তাহলে কোন শিক্ষা দিবে তারা ছাত্র সমাজকে?