আল্লামা ইকবালের বিশ্বজনীন ইসলামের চেতনা, রবীন্দ্রনাথের ‘মানুষের ধর্ম’, কাজী নজরুলের হিন্দু-মুসলিম ঐক্যসাধনা এবং আগামী বাংলাদেশের নবগঠন

আল্লামা ইকবালের কাব্যে ও দর্শনে ইসলামের বিশ্বজনীন ও সর্বজনীন চেতনা ও রূপ বিধৃত হয়েছে। কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ তার দ্বিজাতিতত্ত্ব ও পাকিস্তান প্রকল্পে আল্লামা ইকবালের এই বিশ্বজনীন ও সর্বজনীন চেতনা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, একথা ঠিক। কিন্তু একথাও অনস্বীকার্য যে ১৯৪০ সালে ঘোষিত লাহোর প্রস্তাবের পরিবর্তিত সংস্করণের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে যে ঐকিক রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা আল্লামা ইকবালের এই বিশ্বজনীন ও সর্বজনীন চেতনা থেকে কিছুটা বিচ্যুত হয়েছিল। অর্থাৎ যে পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ১৯৪৭ সালে গঠিত হয়েছিল সেটিকে আদতে তৎকালীন উপমহাদেশের হিন্দু-মুসলিম সমস্যার প্রেক্ষিতে একটি স্থানীয় ধর্ম-সম্প্রদায়ভিত্তিক জাতিবাদী প্রতিক্রিয়া হিশেবেই দেখা দরকার।
এই পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনে ইসলামের বিশ্বজনীন ও সর্বজনীন চেতনার কিছু চিহ্ন ও প্রতীক স্থান পেয়েছিল, একথা ঠিক। কিন্তু বস্তুতঃ এই পাকিস্তান রূপকল্পে উপমহাদেশের উর্দুভাষায় দক্ষ উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের আশরাফ মুসলিমদের সম্প্রদায়ভিত্তিক জাতিবাদী আকাঙ্খা ও নেতৃত্ব কায়েম হয়েছিল। [১] পূর্ব বাংলার বিশাল আতরাফ মুসলিম জনগোষ্ঠী পাকিস্তান আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিল তাদের কৃষক চেতনার আলোকে। এই বাঙালি মুসলিম কৃষক ও প্রজা শ্রেণির উপরে হিন্দু জমিদার শ্রেণি দীর্ঘদিন ধরে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ভিত্তিতে শোষণ ও জুলুম চালিয়ে আসছিল। তাই এরা জমিদারি প্রথা অবসানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পাকিস্তান প্রকল্পের মধ্যে নিজেদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিল। [২] মওলানা আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৯), শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক (১৮৭৩-১৯৬২), হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (১৮৯২-১৯৬৩) প্রমুখ বাঙালি মুসলিম ব্যক্তিত্ব এই কৃষক চেতনার কমবেশি ধারক ও বাহক হিশেবেই এদের নেতৃত্ব অর্জন করেছিলেন। তবে এক্ষেত্রে সবচাইতে অর্গ্যানিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (১৮৮০-১৯৭৬), আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯), আবুল হাশিম (১৯০৫-১৯৭৪) ও শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫)। [৩] শেখ মুজিবুর রহমান এমন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব যিনি একাধারে পাকিস্তান আন্দোলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রশিক্ষিত করেছেন [৪] এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। এজন্য তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি পেয়েছিলেন।
কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে পাকিস্তান কায়েমের লড়াইয়ে একাধারে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ ও কংগ্রেস নেতৃত্বের মোকাবেলা করতে হয়েছিল। এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে তিনি উপমহাদেশের মুসলিমদের আঞ্চলিক ও শ্রেণিগত বিভেদকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত প্রচ্ছন্ন করে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৪৮ সালের শেষের দিকে পূর্ব বাংলায় উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা করা প্রশ্নে যে বিরোধ দেখা দেয় তার মধ্য দিয়ে পাকিস্তান প্রকল্পের বোঝাপড়ায় উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল ও পূর্ব বাংলার মুসলিমদের ভিন্নতা উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এই বিরোধটি কেবলমাত্র জাতিগত বিরোধ ছিল না। এটি সেইসঙ্গে ছিল আশরাফ ও আতরাফ মুসলিমদের মধ্যকার একটি শ্রেণিগত বিরোধ।
এই বিরোধ যারা প্রকাশ করেছিলেন তারা মূলত বাঙালি মুসলিম শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধি হলেও এদের উৎসস্থল ছিল পূর্ব বাংলার বৃহত্তর কৃষক সমাজের গভীরে নিহিত। [৫] মনে রাখতে হবে এই কৃষক শ্রেণি পাকিস্তানে যোগ দিয়েছিল জমিদারী প্রথার অবসানের মধ্য দিয়ে তাদের সার্বিক মুক্তির আকাঙ্খায়। কাজেই তারা এমন এক পাকিস্তান চেয়েছিল যেখানে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হবে এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্ম শিক্ষা দীক্ষা অর্জন করে সমাজ ও রাষ্ট্রে সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এজন্যে তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়াটা তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছিল।
আর এখানেই তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের কর্ণধারেরা সবচাইতে ভুল কাজটি করে বসলেন। আল্লামা ইকবালের বিশ্বজনীন ও সর্বজনীন ইসলামের চেতনা থেকে বিচ্যুতি আরেক কদম অগ্রসর হল। আশরাফ শ্রেণির আঞ্চলিক কৃষ্টি ও দৃষ্টির আলোকে উর্দুকে চাপিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা বাঙালি মুসলিম কৃষক শ্রেণি থেকে উঠতি নাগরিক মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অব্যবহিত কয়েক বছরের মধ্যেই এক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য করল। এই বিরূপ প্রতিক্রিয়া কোন সাময়িক এবং ঐকিক বিষয় ছিল না। এই প্রতিক্রিয়ার মধ্যে নিহিত ছিল তাদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ভিত্তিক সম্প্রদায়নিরপেক্ষ জাতিবাদী চেতনা ও আকাঙ্খা — যা পরবর্তী দুই দশক ধরে ক্রমাগত বিকশিত হয়েছে। [৬]
এই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ভিত্তিক সম্প্রদায়নিরপেক্ষ জাতিবাদী চেতনার জাগরণের প্রেক্ষিতে পূর্ব বাংলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ক্রমাগত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে থাকলেন। তার সাহিত্য ও সঙ্গীত উঠতি শিক্ষিত নাগরিক মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছে অনুসরণীয় ও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে লাগল।
ইসলামের বিশ্বজনীন ও সর্বজনীন আদর্শের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কিন্তু বস্তুতঃ পাকিস্তান রাষ্ট্র এর উপনিবেশিক কাঠামো অব্যাহত রেখে অগ্রসর হতে থাকে; সেইসাথে জমিদারী প্রথা উঠে গেলেও সামন্ত প্রভুদের আধিপত্য নিঃশেষ হয়ে যায়নি; সিভিল প্রশাসন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বহির্দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল উপনিবেশিক আইন-কানুন ও পদ্ধতির আওতাধীন। এ কারণে পূর্ব বাংলায় উদ্ভূত এই ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও জাতিগত সমস্যার কোন ইনসাফ বা আদল ভিত্তিক সমাধান করা হয়নি; উপরন্তু এই সমস্যার সঙ্গে পরবর্তী দুই দশকে যুক্ত হয় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য ও বঞ্চনার একটি ক্রমবর্ধিষ্ণু বয়ান।
এই সবকিছু মিলিয়ে পূর্ব বাংলায় দেখা দেয় একটি স্বায়ত্বশাসন ও স্বাধিকার ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবী ও আন্দোলন। এই আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার যোগান দেবার জন্য রবীন্দ্রনাথ হয়ে ওঠেন এর প্রবক্তাদের কাছে প্রধান প্রণোদক আইকন বা প্রতিভূ। [৭] উর্দু ভাষায় দক্ষ পাঞ্জাবি ও ভারতের উত্তর অঞ্চল থেকে হিজরত করা উর্দুভাষী মোহাজের বিহারী মুসলিম — বাস্তব পাকিস্তানে আধিপত্য বিস্তারকারী এই দুই জাতিসত্তার বিরুদ্ধে বাংলাভাষী পূর্ব বাংলার অধিবাসীদের এই সংগ্রাম পরিণত হয় একটি বাঙালি জাতিবাদী আন্দোলনে। আর এক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও সঙ্গীত এই আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়। [৮]
পাকিস্তানের আশরাফ মুসলিম নেতৃত্ব যতই এই বাঙালি জাতিবাদী আন্দোলনকে ভারতের ষড়যন্ত্র ও হিন্দুদের প্রভাবপুষ্ট বলে প্রচার করতে চেয়েছে ততই এই আন্দোলন আরো বেশি জোরদার হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রেও এই কথা সত্য; যখন রবীন্দ্রনাথের হিন্দু ও ভারতীয় পরিচয় তুলে ধরে তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তাকে মোকাবেলা করার চেষ্টা করা হয়েছে তখনই তিনি এই বাঙালি জাতিবাদী আন্দোলনকারীদের কাছে আরো বেশি বরণীয় ও স্মরণীয় হয়ে উঠেছেন। এই প্রেক্ষিতেই ১৯৬১ সালে পূর্ব বাংলায় রাষ্ট্রীয় প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে বেসরকারীভাবে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী ব্যাপকভাবে উদযাপিত হয়েছিল। [৯]
কিন্তু এই ধারা ১৯৭১-পূর্ব কালে একটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করলেও ১৯৭১-পরবর্তীকালে রবীন্দ্র অনুরাগীদের মধ্যে এক ধরণের উগ্র বাঙালি জাতিবাদী সাম্প্রদায়িকতার বিকাশ ঘটিয়েছে বলে লক্ষ করা যায়। এর প্রভাবে উর্দু ভাষা, উর্দুভাষী বিহারী ও সামগ্রিকভাবে পশ্চিম পাকিস্তানী জাতিসত্তাগুলি, বিশেষ করে পাঞ্জাবিদের প্রতি, একধরণের বিদ্বেষ ও ঘৃণার উদ্রেক হতে দেখা যায়। এই বিদ্বেষ ও ঘৃণা এতই সঞ্চারী যে এর প্রভাবে এরা এমনকি এদেশের নাগরিকদের মুসলমানত্ব ও অনেক ইসলামিকেট চিহ্ন ও প্রতীকের প্রতিও অবজ্ঞা, উপেক্ষা ও প্রতিহিংসা প্রদর্শন করে।
এরই প্রভাবে আল্লামা ইকবালের বিশ্বজনীন ও সর্বজনীন ইসলাম-ভাষ্য থেকে পূর্ব বাংলার বাংলাভাষীরা মুখ ফিরিয়ে নিতে থাকে। এমনকি রবীন্দ্রনাথের উপনিষদ ও বাউল চেতনা আশ্রয়ী যে বিশ্বজনীন ও সর্বজনীন “মানুষের ধর্ম” বা সম্প্রদায় ও জাতিনিরপেক্ষ মহামানব চেতনা, তা যতটা না এই বাঙালি জাতিবাদীরা আত্মস্থ করতে পেরেছে, তার চাইতে তারা রবীন্দ্রনাথকে পাকিস্তানী চেতনার একটি প্রতিচেতনা হিশেবে বেশি চর্চা করেছে।
একইভাবে এই উগ্র বাঙালি জাতিবাদী ও সাম্প্রদায়িকেরা কাজী নজরুল ইসলামের হিন্দু-মুসলিম যৌথ ঐতিহ্য ও ঐক্য সাধনাকে যতটা না অনুশীলন করেছে, তার চাইতে বেশি অনুশীলন করেছে নজরুলকে সামনে রেখে পাকিস্তানবাদ বর্জনের নামে পশ্চিম বঙ্গের বাঙালি হিন্দু রচিত সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি অতিভক্তি; এবং উর্দু ও ফারসি ভাষা ও এসব ভাষার সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি একধরনের বিদ্বেষ ও ঘৃণা।
এভাবে পূর্ব বাংলার বাঙালি একাধারে উপমহাদেশের তিন তিনজন মহাপুরুষের বিশ্বজনীন ও সর্বজনীন চেতনা ও আদর্শের প্রতি ইনসাফ ও আদল করতে ব্যর্থ হয়েছে; এবং তাদের উচ্চতর আদর্শ ও চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়ে একধরনের অদ্ভূত, স্থূল, সংকীর্ণ, কূপমন্ডুক, আত্মকেন্দ্রিক, একভাষী ও উর্ধ্বে মাঝারিমানের প্রজাতিতে পরিণত হয়েছে। এই কারণে এদের মধ্যে বিশ্বমানের বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৃহত্তর ও উচ্চতর উৎকর্ষ ও অর্জনের কোন নজির অত্যন্ত দুর্লভ।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আগামী বাংলাদেশকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিকভাবে পুনর্গঠিত ও নবগঠিত করা এখন সময়ের দাবী ও প্রয়োজন।

রেফারেন্স:
[১] Willem Van Schendel, A History of Bangladesh, Cambridge University Press, Cambridge, 2009
[২] Taj ul-Islam Hashmi, Pakistan As A Peasant Utopia: The Communalization Of Class Politics In East Bengal, 1920-1947, Westview Press, 1st edition, 1992, Routledge, New York, 2019
[৩] Joya Chatterji, Bengal Divided, Cambridge University Press, Cambridge, 1994
[৪] শেখ মুজিবুর রহমান, অসমাপ্ত আত্মজীবনী, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ঢাকা, ২০১২
[৫] বদরুদ্দীন উমর, পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি, ১ম খন্ড, প্রথম প্রকাশ, ১৯৭০, সুবর্ণ সংস্করণ, ২০১২
[৬] Willem Van Schendel, A History of Bangladesh, Cambridge University Press, Cambridge, 2009
[৭] Anisuzzaman, Claiming and Disclaiming a Cultural Icon: Tagore in East Pakistan and Bangladesh, Rabindranath Tagore: Reclaiming a Cultural Icon, Eds. Kathleen M. O’Connell and Joseph T. O’Connell, Visva-Bharati, Kolkata, 2009, 377-389
[৮] সৈয়দ আবুল মকসুদ, পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রনাথ, মওলা ব্রাদার্স, ঢাকা, ২০০৭
[৯] Anisuzzaman, Claiming and Disclaiming a Cultural Icon: Tagore in East Pakistan and Bangladesh, Rabindranath Tagore: Reclaiming a Cultural Icon, Eds. Kathleen M. O’Connell and Joseph T. O’Connell, Visva-Bharati, Kolkata, 2009, 377-389