সারা পৃথিবী আজ করোনায় আক্রান্ত। পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ পাওয়া যাবে না, এই করোনা নিয়ে সামান্য হলেও চিন্তা করছে না, তাকে ভীত বিহবল করছেনা। তার অন্তরের কাঁপন ধরছে না। পৃথিবীর যত রথী মহারথী তাবত দুনিয়ার সবার মুখ চুপসে গেছে। সবায় বলছে আমাদের শক্তি সব শেষ। আসমানের দিকে সবাই চেয়ে আছে। মহান প্রভুর সাহায্য ছাড়া বাঁচার কোন উপায় নেই। আজ সকলে একত্ববাদী হয়ে গেছে। সব আল্লাহর ইবাদাত কারী বান্দা। আজ আর কেউ অন্য কোন প্রভু বা অলি আবদালকে ডাকে না। সবাই আল্লাহর পানে দুটো হাত উঠিয়ে ডাকছে। মানুষ যখন চরম বিপদে পড়ে যায় তখন সে কেবলমাত্র লা শারীক আল্লাহকে ডাকে। তখন তার মনে ধ্যানে অন্য কারো কোন চিন্তা থাকে না।

করোনা একটি ভাইরাস জনিত রোগের নাম। যার আঘাতে পুরো পৃথিবী আজ লন্ড বন্ড। জল স্থল আকাশ সব পথ বন্ধ। মানুষ এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যায় না। যেন সারা পৃথিবী একটি জেলখানা। এই বিষাদময় দিন ইমানদারদের জন্য মাওলাকে ডাকার জন্য এক বিরাট নেয়ামত। দুনিয়ামুখী মানুষদের দিন যেন কাঁটতে চায় না। তার কাছে সত্যিই ঘরকে জেলখানা বানিযে দিয়েছে। অন্য দিকে আল্লাহ প্রেমী মানুষদের জন্য ইতেকাফের মত। সে মাওলাকে ডাকতে পারে, বেশি বেশি ইবাদত করতে পারে। দীর্ঘ রাত জেগে মাওলার কাছে ধরণা দিতে পারে। কোরআন নিয়ে চিন্তা করতে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি। এই অবসর ইমানদারদের জন্য এক মহা নেয়ামত।

এই ভাইরাস জনিত রোগের নাম দেওয়া হয়েছে কোভিড ১৯। অবশ্য সবাই বলবে ২০১৯ সালে প্রথম চীন দেশে এই ভাইরাস জনিত রোগ দেখা দেয় তারজন্য কোভিড ১৯ দেওয়া হয়েছে। আমার চিন্তা এখানেই। এই রোগ ২০১৮ সালেও আসতে পারত, ২০২০ সালেও আসতে পারত। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা ২০১৯ সালে এই ভাইরাস দিলেন আর কোরআনকেও ১৯ দ্বারা বেষ্টন করে দিয়েছেন। তাই এক বিষ দিয়ে যেমন আরেক বিষের চিকিৎসা হয়। তেমনি কোরআনের উনিশের বেষ্টনিতেও এর চিকিৎসা বিদ্যমান।

আমার চিন্তায বলে এই ১৯ এর মধ্যে এই রোগের মুক্তিও রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা কোরআনকে সব রোগের নিরাময় হিসাবেও পাঠিয়েছেন। কোরআনকে শিফাও বলা হয়। আশ্চর্যের বিষয় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কোরআনুল কারীমের যে আয়াতে মানুষের মর্যাদার কথা তুলে ধরেছেন। আয়াতটি হল সুরা বনী ইসরাইলের ৭০ তম আয়াত। এই আয়াতেও প্রথম অব্যয় ওয়াও বাদ দিলে এখানে অক্ষর সংখ্যা হয় ৭৬ যা উনিশ দ্বারা বিভাজ্য।

َلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَهُم مِّنَ الطَّيِّبتِ وَفَضَّلْنَهُمْ عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا
৩+৫+৩+৩+৭+২+৪+৬+৭+২+৬+৭+৩+৪+৩+৫+৬=৭৬ টি অক্ষর

আমরা অবশ্যই মানব সন্তানদেরকে মর্যাদা দান করেছি, আমরা তাদেরকে স্থলে এবং জলে বহন করি এবং উৎকৃষ্ট বস্তু দিয়ে তাদেরকে রিজিক দান করি। আর আমরা যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের উপরে আমরা তাদের প্রাধান্য দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।

এর পর আল্লাহ তায়ালা যেই আয়াতে কারীমার মাধ্যমে মানব জাতিকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, আমি যে কোরআন তোমাদের নিকট প্রেরণ করেছি। তোমাদের জীবন বিধান, গাইড লাইন সাথে সাথে এই কোরআন অনুস্মরণ করলে তোমাদের যেমন আত্মীক রোগ থেকে বেঁচে যাবে । তোমারা মোত্তাকী হয়ে যাবে। তেমনি ভাবে তোমাদের শারীরিক সব রোগ বালাইও কোরআনের মাধ্যমে চলে যাবে। যেখানে পৃথিবীর সব ডাক্তার কবিরাজ ব্যর্থ হয়ে যায়। সেখানে তুমি খালেছ ভাবে আল্লাহর কাছে নিজেকে সপে দাও। কোরআনের দ্বারস্ত হও। তোমার রোগ ভাল হয়ে যাবে। বিপদ কেটে যাবে। তাইতো আল্লাহ তায়ালা সুরা বনী ইসরাইলের ৮২ তম আয়াতে বলেন,

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ ۙ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا [١٧:٨٢]
৫+২+৬+২+২+৪+৫+৮+৩+৪+৮+৩+৫=৫৭ টি অক্ষর

আর আমরা কুরআনরে মধ্যে অবর্তীণ করছেি যা হচ্ছে বশ্বিাসীদরে জন্য উপশম এবং করুণা, আর এটি অন্যায়কারীদরে ক্ষতসিাধন ছাড়া আর কছিু বাড়ায় না।
একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায উপরোক্ত দুটি আয়াত ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। যে আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষের সম্মানিত করার কথা বললেন। সাথে সাথে মানুষ বেঁচে থাকলে অসুখ বিসুখে পড়বে। অসুস্থ হবে। তার এখানে চিন্তা না করে কোরআনের কাছে আসলে অসুখ বিসুখও বিদায় নিবে। এর দ্বারা এই নয় যে কোন চিকিৎসা করবে না। বরং চিকিৎসা করবে সাথে কোরআনের আমলও করবে। অপর দিকে যখন হেরে যাবে কোন কুল পাবে না তখন চেষ্টার সাথে সাথে কোরআনের মাধ্যমে আল্লাহর আশ্রয় চাইবে। কেননা কোরআনের মধ্যে বিশ্বাসীদের রোগের শিফা রয়েছে।

কোরআনুল কারীমের প্রথমেই আল্লাহ তায়ালা আরো আশ্চর্য বিষয় রেখে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নাজিলকৃত কোরআনুল কারীমের সর্ব প্রথম পূর্ণাঙ্গ সুরা সুলাতুল ফাতিহা/ সুরাতুশ শিফার মধ্যে আল্লাহ তায়ালার নিকট কাকুতি মিনতি করার যে প্রথম দুটি আয়াত। যে দুটি আয়াত পড়লে আমাদের মধ্যে আবেগ উথলে উঠতে চায়। চোখ ছলছল করতে থাকে। হৃদয় বিগলিত হয়। নিজের দিনতা, হীনতা, অপারগতা, ব্যর্থতা, দুর্বলতা, আবদার, কাকুতি-মিনতি প্রকাশ করা হয়

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ [١:٥]

“তােমারই আমরা এবাদত করি এবং তােমারই কাছে আমরা সাহায্য র্প্রাথনা করি”

এখানে ৪+৪+৫+৬=১৯ টি অক্ষর
একই ভাবে
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ [١:٦]
“আমাদরে তুমি সহজ-সঠিক পথে পরচিালতি করাে”
এখানেও ৫+৬+৮=১৯ টি অক্ষর
এই আবেগঘন মাওলার কাছে নিবেদন পেশ করার দুটো আয়াতও ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।

আমরা দেখি তিরমিজি শরীফে আবু সাইদ খুদরী রাঃ এর হাদিস যেখানে তিনি সুরা ফাতেহার মাধ্যমে এক আবর গোত্র প্রধানকে ঝাড়ফুঁক করার মাধ্যমে সাপে কাঁটা বিষ থেকে সারিয়ে তুলে ছিলেন এবং হাদিয়াও নিয়েছিলেন।

এখন ভাবনার বিষয় হল। কোরআনুল কারীমের কোন আয়াত যার মাধ্যমে আমরা শিফা পেতে পারি এ্ই মহামারী করোনা থেকে যার এখনো কোন ঔষধ পাওয়া যায় না। যার জন্য পুরো পৃথিবী থমকে গেছে। আমার চিন্তায় বার বার উকি দেয়। এই আয়াকে কারীমা হবে بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ৩+৪+৬+৬= ১৯।
এটি এমন এক আয়াত যা ছাড়া কোন ভাল কাজ শুরু করা শুভনীয় নয়। যার দ্বারা কোন খারাপ কাজ করা যায় না। কোন খারাপ কাজ করার আগে এই আয়াতে কারীমা পড়তে চাইলেও মুখ লজ্জায় ঢেকে যায়। এই আয়াতের সাথে কোন কাজ শুরু করা হলে রহমত পাশে পাশেই চলতে থাকে। এই আয়াতে কোরআনুল কারীমের প্রতি সুরার প্রথমেই রয়েছে। কোরআনুল কারীমে এই আয়াত ১১৪ বার রয়েছে যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম হল শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার হাতিয়ার। بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ সকল কল্যাণ লাভের মহা কৌশল।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ মর্যাদা সম্পর্কে অনেকগুলো বর্ণনা রয়েছে তম্মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করা হল:
হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ হইতে বর্ণিত তিনি বলেন, بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ নাযিলের পর মেঘ পূর্বদিকে সরে গেল, বায়ু প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেল, সমুদ্র তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল, চতুস্পদ প্রাণীগুলো উৎকর্ণ হয়ে উঠল, অগ্নিগোলক নিক্ষিপ্ত হয়ে আকাশ শয়তান মুক্ত হল, আল্লাহ তায়ালা তাঁর মর্যাদা ও পরাক্রমের শপথ করে বললেন, তাঁর এই নাম যাহাতে উৎকীর্ণ হবে তাতে তিনি বরকত দিবেন। তাফসীরে ইবনে কাছির।

একদিন হযরত উসমান রাঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, উহা আল্লাহ তায়ালার একটি নাম। চোখের পুতুল (মণি) ও উহার সাদা অংশে যেমন পরস্পর সন্নিহিত ও ঘনিষ্ঠ, আল্লাহ তায়ালার শ্রেষ্ঠতম নাম ও বিসমিল্লাহ সেরূপ সন্নিহিত ও ঘনিষ্ঠ। তাফসীরে ইবনে কাছির।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার প্রতি এমন একটি আয়াত নাযিল করা হয়েছে যা সুলাইমান আলাইহিসসালাম ও আমি ছাড়া আর কারো উপর নাযিল করা হয়নি, ইহা হচ্ছে, بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ । তাফসীরে ইবনে কাছির।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ পড়লে শয়তান চুপসে যায়, রহমত উথলে উঠে, কাজে বরকত হয়। আসুন আমরা কোরআন নিয়ে চিন্তা করি। আমার আমল অত্যন্ত খারাপ। আজকাল আমলের অনুপ্রেরণা পাওয়ার জায়গাও খুব কম। আজ কোথাও বসলে দুনিয়ার ফিকির ছাড়া অন্য কোন আলোচনা খুব একটা হয় না। আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগেও যারা গ্রামের মসজিদের ইমাম ছিলেন, তাদের আমল অনেক সুন্দর দেখেছি। তাদের কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া খুব বেশী ছিল না। বর্তমানে আমাদের আলহামদু লিল্লাহ অনেক জ্ঞানী গুনী আলেম রয়েছেন। ইলম অর্জনের সাথে সাথে আমালী জিন্দেগী সুন্দর করতে পারলে দুনিয়ার কল্যাণ আর পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত।

আরো আশ্চর্যের বিষয় যে দোয়া আমরা মহান রবের নিকট নিজের অপারগতা, অযোগ্যতা, দুর্বলতা সবচেয়ে বেশি প্রকাশ করি এবং আপদ বিপদে যে দোয়াটি সবচেয়ে বেশি পড়ি। এই দোয়াটি হল لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। আশ্চর্যের বিষয় হল এই দোয়াটিতেও অক্ষর ১৯ টি। ২+৩+৩++৩+৩+৫=১৯

আবূ মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “তোমাকে জান্নাতের অন্যতম ধনভাণ্ডারের কথা বলে দেব না কি?” আমি বললাম, ‘অবশ্যই বলে দিন, হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ (লা হাওলা অলা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ) (বুখারী ও মুসলিম)
আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আমি কি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের একটির সন্ধান দিবো না? আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেনঃ ‘‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’’।

হাযিম ইবনে হারমালা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে বলেনঃ হে হাযিম! তুমি অধিক সংখ্যায় ‘‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’’ বাক্যটি পড়ো। কেননা তা হলো জান্নাতের গুপ্তধন

মূসা ইব্ন ইসমাঈল (রহঃ) ……… আবু উছমান আল্-নাহ্দী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মূসা আল্-আশ্আরী (রাঃ) বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে ছিলাম। অতঃপর তাঁরা মদীনার নিকটবর্তী হলে লোকেরা উচ্চস্বরে আক্বীর ধ্বনি (আল্লাহু আকবার) দেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তো কোন বধীর এবং অনুপস্থিত ব্যক্তিকে আহবান করছ না, বরং তোমরা (ঐ মহান আল্লাহকে) স্মরণ করছ, যিনি তোমাদের শাহ্ রগেরও নিকটবর্তী। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবূ মূসা! আমি কি তোমাকে এমন একটি জিনিসের কথা অবহিত করব, যা জান্নাতের ভান্ডার (খাজানাহ) স্বরূপ? তখন আমি বলিঃ সেটা কি? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ না হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

কাইস ইবনু সা’দ ইবনু উবাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তার বাবা তাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেবার জন্য তার কাছে অর্পণ করেন। তিনি বলেন, আমি নামাযরত থাকা অবস্থায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছ দিয়ে গমন করলেন। তিনি নিজের পা দিয়ে আমাকে আঘাত (ইশারা) করে বললেনঃ আমি তোমাকে কি জান্নাতের দরজাগুলোর একটি দরজা সম্পর্কে জানাব না? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” (আল্লাহ ব্যতীত অনিষ্ট দূর করার এবং কল্যাণ লাভের কোন শক্তি কারো নেই)।
সাফওয়ান ইবনু সুলাইম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ফেরেশতাই “লা- হাওলা ওয়ালা কু-ওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” পাঠ না করে উর্ধ্বাকাশের দিকে গমন করেন না।

আবূ মূসা মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) …… কায়স ইবন সা’দ ইবন উবাদা (রাঃ) থেকে বর্ণীত যে তাঁর পিতা (সা’দ ইবন উবাদা) তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাঁর খিদমতের জন্য সমর্পণ করেছিলেন। কায়স (রাঃ) বলেনঃ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তখন মাত্র সালাত শেষ করেছি। তিনি আমাকে তাঁর কদম মুবারক দ্বারা আঘাত করলেন। বললেনঃ জান্নাতের দ্বারসমূহের একটি দ্বারের আমি তোমাকে বলব কি? আমি বললামঃ অবশ্যই। তিনি বললেনঃ লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

মুহাম্মাদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ………. আবু যুবায়ের (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ . আবদুল্লাহ ইবন যুবায়ের (রাঃ) নামায শেষে তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ …) পাঠ করতেন। অতঃপর উপরোক্ত দুআর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং তার সাথে “ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ, লা না’বুদু ইল্লা ইয়্যাহু লাহুন-নি’মাহ … অতিরিক্ত বর্ণনা করে পরে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ….. উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুওয়াযযিন যখন “আল্লাহু আকবার, আল্লা-হু আকবার” বলে তখন তোমাদের কোন ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে তার জবাবে বলেঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”। যখন মুওয়াযযিন বলে “আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” এর জবাবে সেও বলেঃ “আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ” এর জবাবে সে বলেঃ “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ”। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ “হাইয়্যা আলাস সলা-হ” এর জবাবে সে বলেঃ “লা-হাওলা ওয়ালা- কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ”। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ “হাইয়্যা ‘আলাল লাফা-হ” এর জবাবে সে বলেঃ “লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ”। অতঃপর মুওয়াৰ্যযিন বলেঃ “আল্লা-হু আকবার, আল্লাহু আকবার” এর জবাবে সে বলেঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” এর জবাবে সে বলেঃ “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”। আযানের এ জবাব দেয়ার কারণে সে বেহেশতে যাবে।

আরো অবাক হতে হয়। আমরা প্রতিদিনই ইস্তেগফার পড়ি। এই ইস্তেগফারে আমরা বেশি যেটি পড়ি أستغفر الله وأتوب إليه

এখানেও ১৯ টি অক্ষর ৬+৪+৫+৪=১৯

কিভাবে কাকতালিয় ভাবে এগুলো মিলে যাচ্ছে। না কি মহান প্রভুর অপার কোন বিশ্ময়। আমাদের ভাবনার দুয়ারে কি কোন চিন্তার উদ্রেক হয় না। মহান রবের নিকট নিজেকে সপে দেওয়ার জন্য। সকল কাকুতি মিনতি পেশ করার জন্য। তাঁর আলিশান দরবারে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ১৯ এর মায়াজালে আবদ্ধ করে দিয়েছেন।

আমরা জানি, মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষের পাপাচারের কারনে পৃথিবীতে মহামারী পাঠান আর এই পাপাচার থেকে মুক্তির একমাত্র পথ ইস্তেগফার। আবার আল্লাহ তায়ালার দেওয়া শক্তি সাহস হিম্মত না থাকলে কোন ভাল কাজ করা যায় না। পাপ থেকেও বাঁচা যায় না।

তাই ১৯ এর মায়াজালে তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে, ১৯ এর কাকুতি মিনতির মাধ্যমে তাঁর কাছে সর্বাত্মক আত্মসমর্পন করে ১৯ এর মাধ্যমে তাঁর নিকট সাহায্য কামনা করলে আশা করা যায় এই করোনা মহামারী সহ সব ধরনের বিপদে আপদে তিনি আমাদের সাহায্য করবেন। বিপদ দূর করে দিবেন।

করোনা আমরা কেমন মানুষ, তা চিনিয়ে দিয়েছে। আসলেও আমরা কি প্রকৃত পক্ষে মানুষ না মানুষের লেবাস পড়া চরম হিংস্র জানোয়ার, করোনা আমাদের মুখোষ খুলে দিয়েছি। এখন আমরা আমাদেরকে চিনে নেওয়ার প্রয়োজন। নিজেকে সংশোধন করার প্রয়োজন।