কবিরা সাধারণ মানুষই। তবে সাধারণের একটি অতিরিক্ত চোখ তাদের থাকে। এই অতীন্দ্রিয় চোখ দিয়ে তারা চারপাশকে বিশেষভাবে দেখতে পান। অলৌকিক ক্ষমতায় তারা মধুর ভালোবাসার সংজ্ঞা দেন, বেদনার হৃদয়গ্রাহী বর্ণনা দেন, কখনও মিলনাত্মক উপসংহার টানেন। কখনো ফিরেন ঐতিহ্যের কাছাকাছি, আবার কখনো মানুষের হাতে তুলে দেন স্বপ্নলোকের চাবি। তারা প্রায়শই সুন্দর আগামীর স্বপ্নে বিভোর থাকেন। সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কখনো রোপণ করেন বিদ্রোহের বীজ। তারা সমাজের রুচি নির্মাণ করেন, তৈরি করেন মানুষের আগামীর ভাষা। তাদের রচনা পাঠে মন ও মননের পাশাপাশি নির্মিত হয় পাঠকের শিল্পচেতনা ও সৌন্দর্যবোধ।

আল মাহমুদকে কাছ থেকে দেখে কবিদের সম্পর্কে আমার এই ধারণা দৃঢ়মূল হয়েছে। সৌভাগ্যবশত, এমন একজন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত-পরিচিত কবির সান্নিধ্যের সুযোগ পেয়েছি। ১৯৭৬ থেকে ২০১৯ সালে কবির মৃত্যু পর্যন্ত সময়টা কম দীর্ঘ নয়। তাঁর লেখালেখির পঠন দিয়ে শুরু, তারপর আড্ডা-অনুষ্ঠানে কাছাকাছি থাকা, ক্রমে তাঁর সাথে নানামাত্রিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া। ঢাকা-চট্টগ্রামের ব্যবধান ঘুচিয়ে কবির সাথে বহুবারের এ হার্দিক লেনদেন আমার পরম পাওয়া।

জীবনের বিচিত্র প্রয়োজনে দেশের নানা জায়গায় দিন কেটেছে তাঁর। তবে জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া আর ঢাকার পরে চট্টগ্রামই কবি আল মাহমুদের প্রিয় শহর। দীর্ঘদিন ঢাকায় বসবাস করলেও চট্টগ্রামে তিনি বারবার ঘুরে গেছেন। স্কুল জীবনে সীতাকুন্ড দিয়ে চট্টগ্রামে অবস্থান শুরু। ষাটের দশকে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বই বিপনী ‘বইঘরে’ চাকুরি করার সময় এখানকার অনেক মানুষের সাথে তাঁর সখ্য হয়েছে। চট্টগ্রামে বসেই লিখে ফেলেছেন অমর কাব্য ‘সোনালী কাবিন’ ও ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’র অনেক গুলো কবিতা। প্রিয় চট্টগ্রামেই কবি পেয়েছেন তাঁর বেশকিছু বিখ্যাত ছোটগল্পের প্লট। তাই চট্টগ্রামের প্রতি কবির অনেক স্মৃতিকাতরতা। শিক্ষা জীবনের স্মৃতি, শিল্প সৃষ্টির স্মৃতির পাশাপাশি মানবিক সম্পর্ক,পেশাগত জীবন এবং ধর্মবোধের স্মৃতি। দিনে দিনে এখানে তাঁর বন্ধুতার পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি সৃষ্টি হয়েছে নতুন নতুন গুণগ্রাহী।

২.
নান্দনিক শহর চট্টগ্রামের কতিপয় হৃদয়বান মানুষের সাথে বিভিন্ন সুযোগে কবির গাঢ় ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়। তাদের দলভুক্ত হিসেবে কিছুটা আত্মশ্লাঘা অনুভব করি। আশি দশকের আগে থেকে তাঁর রচনার সাথে পরিচয়। সেই থেকে কবির চট্টগ্রাম আগমনের যে কোনো সুযোগে তাঁর কাছাকাছি পৌঁছার সুযোগ পারতপক্ষে হাতছাড়া করি নি। সেইসময় বছরে দু-চার-পাঁচ বার কবির চট্টগ্রামে আসা হতো। প্রিয় শহর চট্টগ্রামের প্রিয় মানুষগুলোর সাথে মিশতে মিশতে এর কিছু রাস্তাঘাটও চেনা হয়ে যায় কবির।

১৯৮৭এর শেষের দিকের ঘটনা। রাতের ট্রেনে ঢাকা থেকে একাকী চট্টগ্রামে এলেন কবি, একটি অনুষ্ঠানের অতিথি হয়ে।

উদ্যোক্তারা জানালেন,আমার বাসায় নিয়ে আসা হবে তাঁকে। সকালের মধুর ঘুম ভাঙিয়ে এ খবর দেয়া হলেও আমি উৎফুল্ল। প্রস্তুত হয়ে বসে রইলাম মেহমানের জন্য। অনেকক্ষণ দেরি হওয়াতে এক তরুণ কবিকে পাহারায় রেখে বেরুতে হলো জরুরী কাজে। উদ্যোক্তাদের সাথে আবার যোগাযোগ হল দুপুরে। কবি এসেছেন এবং অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছেন। অভ্যর্থনাকারীদের সাথে নাকি সকালে কবির দেখা হয়নি রেলস্টেশনে। কবি নিজ উদ্যোগে চলে গেছেন তাঁর বন্ধু জামালখানস্থ শুচিতা লন্ড্রির মুসা সাহেবের বাসায়। এতোটুকু রাস্তাঘাট তাঁর চেনা। বিকেলে স্ব-উদ্যোগে তাঁর সাথে দেখা করলাম। রিক্সায় দু’জনে ঘুরলাম চট্টগ্রামের অলিগলি। সন্ধ্যায় পাঁচলাইশস্থ আকবর খানের বাসায়। গভীর রাত পর্যন্ত কবি চৌধুরী গোলাম মাওলা সহ আড্ডা চললো সেখানে।

কবির লেখালেখি তখন ক্রমশ মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। নতুন করে তাঁর গদ্যরাজিও তরুণদের প্রভাবিত করছে ভীষণ। আগ্রহী পাঠকশ্রেণীর তৃষ্ণা মেটাতে কবিও লিখছেন দু’হাতে। ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম– কবির সাথে যে কোনো সুযোগে আড্ডা হলে তাঁর সাম্প্রতিক লেখালেখি ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে মত বিনিময় হয়। ঢাকায় কবির অফিস, বাসা কিংবা অন্য কোন আড্ডাস্থলে তাঁর সাথে সাক্ষাতের লোভ সামলাতে পারি না।

চট্টগ্রামে সাহিত্যবোদ্ধাদের সাথে তাঁর যোগাযোগের কথা আগেই উল্লেখিত। নব্বই দশকে চট্টগ্রামের দৈনিক কর্ণফুলীতে কিছুদিনের জন্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন কবি। সময়ের এই বিস্তৃত পরিসরে চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্রের কোন উপযোগী প্রোগ্রামে তাঁর নাম থাকত শীর্ষ তালিকায়। বিশেষ কোন সাহিত্য সভা, সেমিনার কিংবা সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁকে আমরা কাছে পেয়েছি। তাছাড়া প্রকাশনা উৎসব, পুরস্কার অনুষ্ঠান, কবিতা পাঠের আসর, শোকসভা ইত্যাদিতে তিনি বারবার উপস্থিত থেকেছেন। উৎসাহী অনেক তরুণের সাথে নির্ধারিত-অনির্ধারিত আড্ডার মধ্যমণি হতেন তিনি। এভাবে চট্টগ্রামে তাঁর পাঠকশ্রেণী ও গুণগ্রাহীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। লিটলম্যাগ ‘নোঙরে’ নিয়মিত ছাপা হয়েছে তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার, অভিভাষণ ইত্যাদি। অনেক সময় পরিকল্পিত আড্ডাগুলো রূপান্তরিত হয়েছে সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে। বিভিন্ন সময়ে ‘নোঙরে’ই প্রকাশিত হয়েছে কবির এ’রকম চারটি সাক্ষাৎকার। কবির প্রতি ভালবাসার আরো নমুনা আছে। চট্টগ্রামের গুণমুগ্ধ সাহিত্য সম্পাদকবৃন্দ তাঁকে মূল্যায়ন করে লিটল ম্যাগাজিনের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মুহাম্মদ নিযামুদ্দীনের ‘উপমা’, মাঈন উদ্দিন জাহেদের ‘পুবাকাশ’, মাহবুবুল হাসানের ‘ছড়া পত্রিকা’। ‘পোয়েটিকস’ প্রকাশ করেছে তাঁর কবিতা আবৃত্তির সিডি ‘আল মাহমুদের কবিতা’। পরবর্তীতে সংস্কৃতি কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত হয়েছে চৌধুরী গোলাম মাওলা সম্পাদিত ‘নোঙর’ আল মাহমুদ সংখ্যা। চট্টগ্রাম থেকে কবির কাব্যগ্রন্হ ‘দোয়েল ও দয়িতা’ প্রকাশের পাশাপাশি এই শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রফেসর মোহাম্মদ আলী, প্রফেসর ড. খালেদা হানুম, ময়ুখ চৌধুরী, প্রফেসর ড. তসলিমা নাসরিন ও মোসতাক খন্দকারকে তিনি তিনটি গ্রন্থ উৎসর্গ করেছেন।

৩.
চট্টগ্রামের এত যে কবির ভক্ত-অনুরক্ত, কিছুদিন থেকে তারা কবিকে কাছে পাচ্ছিলেন না। তাঁর সত্তরোর্ধ্ব বয়স এক্ষেত্রে বড় সমস্যা। কবির শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ২০০৮ সালের স্বাধীনতা দিবসে ঢাকায় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর সাথে দেখা হয়ে গেল আমার। অনেকদিন পর দেখা হওয়াতে জড়িয়ে ধরলেন। আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বললেন, “বহুদিন চট্টগ্রামে যাই না, আমাকে তোমাদের ওখানে নিয়ে যাও।” কবির আকুতি বুঝতে অসুবিধা হলো না। চট্টগ্রামের গুণগ্রাহীরা তাঁকে পেতেই চায়। কোন চিন্তা না করেই বলে বসলাম,”আগামী জুলাইতে আপনাকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাব, আপনার জন্ম মাসে।” কথা ফাইনাল। অতঃপর চট্টগ্রামে এসে প্রস্তুতি শুরু।

চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্র মূল আয়োজকের ভূমিকায়। চার মাস প্রস্তুতির পর কবির জন্ম মাস জুলাইয়ের ২৬ তারিখে আয়োজিত হল কবি-সম্বর্ধনার। প্রিয় কবি আল মাহমুদ সন্ধ্যাটির নামকরণ হলো– ‘আমরা বসবো তোমার সনে।’ স্থান নির্ধারণ করা হলো চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত অভিজাত মিলনায়তন থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে। চট্টগ্রামের কবিপ্রেমী সকল পর্যায়ের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হলো। মুখ্য আলোচক আল মাহমুদের সমকালীন কবি ও ভাষাবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মনিরুজ্জামান। অন্য দু’জন আলোচক ঐতিহ্যবাহী বই বিপনী ‘বইঘরে’র স্বত্বাধিকারী সৈয়দ আহমদ শফী এবং ইংরেজির তরুণ অধ্যাপক ও কবি মুজিব রাহমান।

কবিকে নিয়ে সুচারু মিলনায়তনে ঢুকেই দেখি বিপুল আল মাহমুদ প্রেমী দর্শকের পদভার। শিল্পী মোহাম্মদ তোয়াহা রঙিন কোলাজে কবির আকর্ষণীয় মুখচ্ছবি চিত্রিত করেছেন। কবি ইকবাল করিম রিপনের সুপরিকল্পনায় সেই কোলাজ দিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল ব্যাকওয়াল, যা আলাদা দ্যুতি ছড়াচ্ছে অনুষ্ঠানে। মনোরম পরিবেশে সংস্কৃতি কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কবি ও সম্মানীয় অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে হলো। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও স্বাগত বক্তব্যের পর আবারও ফুলেল শুভেচ্ছার পালা। বিভিন্ন সাহিত্য-সংস্কৃতি-আবৃত্তি-নাট্য সংগঠন যথা ক্বণন শুদ্ধতম আবৃত্তি সংসদ, মুক্তকণ্ঠ সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ, চট্টগ্রাম সংস্কৃতি সংসদ, পরিশীলন, নিক্কন আবৃত্তি অঙ্গন, কন্ঠশ্রী, বর্ণক সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ, পারাবার সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ, বর্ণালী, রেনেসাঁ , আবৃত্তি ঘরানা, মঞ্চকল্প নাট্য সম্প্রদায়, কিশোর থিয়েটার এর প্রতিনিধিবৃন্দ কবি কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক সংগঠন যথা প্রতীকী ছড়া সংসদ,কথন শিশু পত্রিকা, উপমা সাহিত্য পত্রিকা, বাংলা উর্দু সোসাইটি, তমুদ্দিন মজলিস, বাংলা সম্মিলন, বন্ধন, সমকাল একাডেমি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতি, পোয়েটিকস,বন্ধন ইত্যাদির প্রতিনিধিবৃন্দ কবিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

আলোচনার সূচনা করে অধ্যাপক মুজিব রাহমান বলেন, ‘আমি কবির ভক্ত, অসম্ভব এক অনিয়ন্ত্রিত ভক্ত’। তিনি কবির রচনাকে কালের অভিজ্ঞান স্মারক’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তরুণ কবি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “যতদিন সভ্যতার পাতা মসিলিপ্ত হতে থাকবে, যতদিন কবিতার আলোকময় সুরভীযুক্ত বাতাস বইবে, ততদিন আমাদের মাঝে আল মাহমুদের কবিতা ও তাঁর মনুষ্যত্বের জয়পতাকা উড্ডীন থাকবে।”

মুখ্য আলোচক কবি অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বলেন,”আল মাহমুদ আমাদের সকলের আনন্দের, শ্রদ্ধার, ভালোবাসার কবি।” তার মনের আকুতি,”আল মাহমুদকে চট্টগ্রামে আবার যদি দেখতে না পাই, সে আশঙ্কায় আমি এখানে এসেছি।” তিনি বলেন, “এ কথা সত্য, বাংলা সাহিত্যের রাজধানী ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে যদি কারো কোনো অবদান থেকে থাকে, আমি বলবো, সে একক কৃতিত্ব একজনেরই। আল মাহমুদ।”

অনুষ্ঠানের এপর্যায়ে সংস্কৃতি কেন্দ্রের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা হিসেবে অতিথিবৃন্দকে প্রীতি উপহার প্রদান করা হয়। সম্বর্ধিত কবি আল মাহমুদ অসুস্থতার জন্য চেয়ারে বসে বক্তব্য রাখেন। শ্রোতাবৃন্দ অনেক আগ্রহ নিয়ে প্রিয় কবির কথাগুলো শুনেন। সম্বর্ধনার জবাবে তিনি বলেন,”এই শহরে এসেছিলাম কবিতার ভিখারির মত, আর রাজা হয়ে এ শহর থেকে ফিরে গিয়েছিলাম।”

কবি বলেন, “আমি আমার জীবন নিয়ে জুয়া খেলা খেলিনি। ধ্রুবসত্যটা আমি লালন করেছি। আমি লিখেছি এবং লিখে চলেছি সততার সাথে কিছু কবিতা, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি। সেটা দলিল হয়ে আছে।”

সাংস্কৃতিক পর্বে একক কবিতা, বৃন্দ কবিতা, কবিকে নিবেদিত কবিতা এবং গান পরিবেশন করেন চৌধুরী গোলাম মাওলা, মোসতাক খন্দকার, জহুর উশ শহীদ, ইকবাল করিম রিপন, মুহাম্মদ নিযামুদ্দীন, মাঈন উদ্দিন জাহেদ, মিজানুর রহমান শামীম, সৈয়দ আহমদ শামীম, আব্দুল্লাহ আল মাস উদ, সামিনা চৌধুরী মুন, ইমরানুল হক, সায়মা খানম রিচি প্রমুখ।

পরদিন ঢাকা-চট্টগ্রামের জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় অনুষ্ঠানের খবর ফলাও করে ছাপা হয়। কয়েকটি খবরের শিরোনাম :
১. মানুষকে ভালবাসলে তখনও খালি হাতে ফিরতে হয় না –সুপ্রভাত বাংলাদেশ
২. এসেছিলাম ভিখিরি হয়ে, চট্টগ্রাম আমাকে বানিয়েছে রাজা- প্রথম আলো।
৩. দেশের এই দুঃসময়ে জাতিকে স্বপ্ন দেখাতে হবে- নয়া দিগন্ত
৪. দেশের এই দুঃসময়ে জাতিকে স্বপ্ন দেখাতে হবে- আজাদী
৫. দেশের দুঃসময়ে কবিতার মধ্যে দিয়ে জাতিকে স্বপ্ন দেখাতে হবে। -পূর্বকোণ
অতিথিদের চুম্বক কথাগুলো শ্রোতাদেরকে উজ্জীবিত ও মুগ্ধ করে। সেই বক্তব্যগুলোর অনুলিখন পরবর্তীতে ‘নোঙর’ ষোড়শ সংখ্যায় ছাপা হয়। বেতার-ব্যক্তিত্ব মমতাজ আলী খান পরবর্তীতে কবি আল মাহমুদের ভাষণের উপর মূল্যায়নধর্মী লেখা ছাপেন যার শিরোনাম ছিল কবি আল মাহমুদের ভাষণ: একজন গভীর জীবনবোধের সংজ্ঞা।

পরবর্তীতে কবি আল মাহমুদ তাঁর নয়া দিগন্ত পত্রিকার নিয়মিত উপসম্পাদকীয় ‘দশ দিগন্তে উড়াল’এ এই বিষয়ে লিখেন যার শিরোনাম: অতীতকে চোখের জলে ভাসানো যায় না। কলামে তিনি লিখেন- “জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমার এই অনুভূতি হয়েছে যে লেখকের জীবন অত্যন্ত দুঃখপূর্ণ জীবন। যদি এটা জীবনের শুরুতে বুঝতে পারতাম তাহলে কিছুতেই লেখক হতে চাইতাম না।”