সীমিত সাধ্যে

পৃথিবীর সমস্ত ভূমিতে মই দিতে চাই
মইয়ের আউয়ুজে আউয়ুজে ছড়িয়ে দিতে চাই ডলোচূনের পাহাড়,
ব্লিচিং পাউডার, সুগনন্ধা নেপথলের অগণন কনা
গেড়ে দিতে চাই নিম নিশিন্দার ডাল- আইলে আইলে
রোখে দিতে পৃথিবীর বিস্তীর্ণ ভূমির সমস্ত ভাইরাস।

পৃথিবীর সমস্ত বাতাসে কীটনাশক ছিটাতে চাই,
হরেকরকম কীটনাশক,
সাথে নিম নিশিন্দা পাতার থেঁতলানো রস
রোখে দিতে পৃথিবীর বাতাসে যত ভাইরাস আছে সব।
আকাশ সমুহ ভরে দিতে চাই কীটনাশকমেঘে- সাগর মহাসাগর সব,
রোখে দিতে তাবৎ পৃথিবীর সমস্ত ভাইরাস
আমার সীমিত সাধ্যে।

লকডাউন

তাবৎ দুনিয়ায় লকডাউন
সার্চ ইন্জিনগুলো হোম কোয়ারান্টাইনে
এখন সেখানেই সবার ঠাঁয়
পাশাপাশি বসে আছি তাবৎ দুনিয়ার রথী মহারথী সব
জপে যাচ্ছি করুনাময়ের নাম
কান তুলে অপেক্ষায় আছি
কানের ইথার কখন ধরে আনে কাঙ্খিত সুসংবাদ।

তাবৎ দুনিয়ায় লকডাউন
মনের দুনিয়ায় লকডাউন
বেঁচে থাকার আশায় একত্রিত আজ সবাই
বাঁচতে চাই, মিলেমিশে বাঁচতে চাই
বাঁচতে চাই, সব ভেদাভেদ ভুলে
ভেদাভেদ ভুলার এই আকুতি হোক আমাদের ভবিষ্যতেরও স্লোগান।
…………………………………………..

বসন্তবায়ু

পাটাতনের খুটিতে বাঁধা আমার বসন্তমন
অদয় সমীরণে ক্ষীণ দৃষ্টির মৌনতা হাঁকে
আকাশ গর্জনে -তাই
বসন্তবাহার খোঁজা এখন আমার বিরাট অনর্থপাত
তাই শীতের মকুল পুষি এই বসন্তদিনে।
আমার বসন্তমন এখন আ্যাস্প্যারাগাস
আমার বসন্তমন ছেয়ে গেছে মহামারী করোনায়
থেমে গেছে সে পাটাতনের মধ্যম খুটিতে
অনারত বৃষ্টির চুলকানি থামিয়েছে বসন্তবায়ু।
…………………………………………..

ভালোবাসি

ভালোবাসি,
যে আমাকে ভালোবাসে তাকেও ভালোবাসি
যে বাসেনা ভালোবাসি তাকেও হৃদয়ের গভীরতা মেপে
ভালোবাসি ভালোবাসাময় পরিত্যক্ত জীবনের কথা ভেবে –
শুধু ভালোবাসি আর ভালোবাসি।

মিত্রকে ভালোবাসি, সত্যকে ভালোবাসি
তিক্তকে ভালোবাসি, তাদেরও ভালোবাসি –
যাদের শেলে দগ্ধ হই প্রতিনিয়ত বারবার,
খোঁজে দেখি শত্রু নেই আমার, থাকলে তাদেরো ।

ভালোবাসি, আমি ভালোবাসি,
সূর্যকে ভালোবাসি, চন্দ্রকে ভালোবাসি
জাগতিক সমস্ত কিছুই ভালোবাসি
ভালোবাসি, আমি ভালোবাসি,
ভালোবাসার কুটিলতায়-বিদ্বেশভরা জাগতিক সমস্ত মন।

ভালোবাসি, আমি ভালোবাসি
তাই প্রতিদান পাই, ভালোবাসাময় কথায়
প্রতিদান পাই, হিংস্রতার ইথার থেকে
খোঁজে খোঁজে জড়ো করি তাই এক নক্ষত্র সমান ভালোবাসা।
…………………………………………..

চাঁদের মুখ

সোনার হাসি ঝিঁলিক দেয়া একটি চাঁদের মুখ
সে মুখেরই ভাষা হতে ফলতো অনেক সুখ।
সে সুখ এখন কোথায় পাব খুঁজছি মাঠে বনে
কেমনে তুমি কোথায় গেলে প্রশ্ন জাগে মনে।
…………………………………………..

আগুনে জ্বলি

বার বার আগুনে জ্বলি – প্রতিবার
অনন্তকাল আগুনে জ্বলি কাঠকয়লার আগুন স্তুপে।
প্রতিবার বিনা প্রতিযোগিতায়।
…………………………………………..

বিখ্যাত হতে আসিনি

বিখ্যাত হতে আসিনি
তোমার বিখ্যাত তুমিই থাকো।

অখ্যাতি ঘোঁচাতে আসিনি
তোমার সুখ্যাতির ছায়া মেখে।

তবু কেন
খেলে যাও
আলোছায়া খেলা।

তুমিই বটগাছ
বাকিরা তেতো তিতে নিম।

অথচ নিমের ছায়া
পাতার বাতাস
ঠিক ডাক্তারের মতো।

তুমি ভুলে যাও নাম
তুমি হুশে হুশে বেহুশ
এই বুঝি গেলো
সিংহাসন
মুকুট বিহীন তুমি তবু মহাদামি খুব।

নিমের ভালোবাসায়
ভালোবাসা খেলি
নিশিন্দার গুন বেশি নয় বলে।

বিখ্যাত হতে আসিনি
তোমার বিখ্যাত তুমিই থাকো
শরমিন্দা নিশিন্দার তুমি যে বট।
…………………………………………..

শ্রেষ্ঠ উপহার

ভালোবাসতে বাসতে আজ আটত্রিশ বছর,
বেহুদা কাঙাল আমি তোমার পেছনে ছুটে;
অথচ ঠিকমতো চেয়েও দেখনি তুমি!
নিজেকে এখন চেয়ে দেখে চমকে উঠি হঠাৎ ;
এ তোমার কেমন উপহার!
গুচ্ছ গুচ্ছ শুভ্র-সাদা চুল
গুচ্ছ গুচ্ছ শুভ্র-সাদা দাড়ি…

এ উপহারে কেমন খুশি হয়েছি তা জানো?
খুউব খুউব খুশি; খুশি হয়েছি ভীষণ…
উদ্বেল খুশিতে আনন্দিত উদ্বেগ,
সুবিশাল উপহার দিয়ে আরো খুশি করো
কবে যেনো, জন্মের মতো!
আর সেই শ্রেষ্ঠ উপহার নিয়ে
অবশেষে মর্মান্তিক লাইনে দাঁড়াই।
…………………………………………..

ফতোয়া

ফতোয়া ফতোয়া খেলায় অস্থির মন
এসব এখন বুকের শেল
একত্রে থাকা সমুহ দূরহ
স্বার্থের মোহে কেউ প্রকৃত অবস্থানে নেই।
সমালোচনায় দগ্ধ সরল প্রাণ
বলির পাঠা গাঁয়ের সাধারণ মানুষ।

যে যোগ্যতা অর্জনে শিক্ষা নিতে হয় বছরের পর বছর ,
সে যোগ্যতা অর্জনের দাবিদার মাত্র কয়েক ঘন্টায়।
এখন ঘরে ঘরে ফতোয়াবাজ
আর, তাদের ফতোয়া কারবার- লগ্নি করার মতো।
এদের ফতোয়া ফতোয়া খেলায় উচ্ছন্নে সমাজ।
কি চায় এরা ? সমাজে বিভক্তি?
…………………………………………..

ভালোবাসি

মেঘকে ভালোবাসি বলেই অশ্রুমেঘের বৃষ্টি ঝরায়
রোদকে ভালোবাসি বলেই ভেতরের পৃথিবী খাক করে প্রতিদিন
আমার অকূত্রিম ভালোবাসায়
তোমাদের কটাক্ষ উল্লাস- হাততালিতে বধির হই প্রতিক্ষণ,
ভুলে যেতে হয় ভালোবাসা ভালোবাসা
নৈশব্দ নিশব্দের খেলা।
তাই ভালোবাসার ঘরে এখন বিদেশি তালা
চাবির খুঁজে ব্যাস্ত ও পাড়ার বৈদ্য কাকা,
শত ব্যাস্ত সে-
ভালোবাসার ভালোবাসাময় থেরাপি দিবে আমায়।
…………………………………………..

স্বাধীনতা

গর্জে উঠেছিলো
বাকসো বন্ধি বারুদ কাঠিরা।
গর্জনের ধ্বনি – প্রতিধ্বনিত হয়ে
কাঁপিয়েছিলো হিমালয়।
বেরিয়ে এসে জ্বলেছিলো-নিজেরা,
আত্বহুতির রক্তের দাবানল নেভাতে পারেনি
বঙ্গোপসাগর।
জ্বালিয়েছিলো- প্রেতাত্বাদের দুরভিসন্ধি।

অতঃপর
বাঙালীরা পেলো
বারুদ কাঠিদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত
একটি পতাকা, একটি সূর্য,
একটি মা-মাতৃভূমি এবং কাঙ্খিত স্বাধীনতা।
…………………………………………..

এই বসন্তে

মেঘ বড় ভালোবাসি বলেই চোখের আকাশ বৃষ্টি ঝরায়
রোদ খুব ভালোবাসি বলেই ভেতরের পৃথিবীকে খাক করে প্রতিদিন
অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখে
তোমাদের কটাক্ষ উল্লাস- আর হাততালিতে বধির হয়েছি ঢের,
ভুলে যেতে হয় ভালোবাসা ভালোবাসা
নৈঃশব্দের আর নিশব্দের খেলা।
তাই ভালোবাসার ঘরে এখন বিদেশি তালা
চাবির খুঁজে ব্যস্ত ও পাড়ার বৈদ্য কাকা,
শতব্যস্ততায় মুগ্ধ মন-
ভালোবাসার ভালোবাসাময় থেরাপি দেবার তার সময় এখন…
…………………………………………..

বসন্ত

হলুদ খামেই লালিত স্বপ্নরা
ভরা ছিলো শেফালির ডালে
অধীর ছিলো দিনের পর দিন
বসন্তের অপেক্ষায় ।

আশাহত হবার ভয় ছিলো
মরীচিকার বাস্পে বাস্পিত হয়ে
সাহস করেনি বের হতে
যদি ধরা পড়ে যায় পৌষের কোয়াশায় ।

নিজেকে মেলে ধরে অবশেষে
মেলে ধরে ভেতরের লুকোনো লালিত স্বপ্নগুলো
প্রকাশ করে হলুদ খাম ভেদ করে
বসন্ত ভুলানো রুপে ।
…………………………………………..

প্রতিদিন ভোর হয়

ভোরের আলোরা করে- নিশব্দে আহব্বান
আহরণ করার যন্ত্র জীবন নেমে যায় মাঠে
সাফল্য অসাফল্য খেলা চলে প্রতিদিন।

সফলতায় ব্যার্থ জীবন ডুব দেয় কান্নাজলে
হাবুডুবু খায় ব্যার্থতার জলে
কচি মুখ ভেসে উঠে উপোষের ছায়া মেখে।

প্রতিদিন ভোর হয়
ভোরের আলোরা দেখে সমস্ত বৈভব
সাফল্যের সাথে মিশে দেয় করতালি
দুফোঁটা জলের অভাব তাদের
জড়েনা চোখে
কর্মক্ষম বাবাদের দেখে।
…………………………………………..

তোমার চোখে আমি

মনের পৃথিবী আমার ধুধু বালুচর
এখানে তারাদের সমুহ ফলন
ঝিঁকিমিঁকি আলো জলে
নিভিয়ে জীবনের আলো,
ঠিক যেনো আমার চোখের
মণিকোঠার মতোই।

বেদনার নীল ঢেউ
আমাকে ভাসায়,
ভেসে চলি আমি পাহাড়ের গায়ে
খোঁজে ফেরে দেখি তোমার চোখে আমি
ভুলে যাই সব,
ভুলে যাই গ্লানিময় বেদনা গুলো।