ভয়ংকর রুপ

সৃষ্টির সেরা মানুষ নিখিলে
মরিবার আগে বাঁচিবার চায়
মানুষের বুঝি গৌরব আজ
ধূলায় মিশিয়া পাপ দাহে ছাই।

মানুষের ডাক শুনিয়া খালিক
কৃপার দুয়ার খুলে না তো আর
চারিদিকে ঘোর মানুষ ক্লান্ত
নাই কোন তরী খেয়া পারাপার।

মানুষ শুনে না মানুষের হাঁক
বধির হইয়া ছুটিছে সবাই
নীরব স্তদ্ধ চিনেও চিনে না
আপন স্বজন বিশ্ব সভায়।

সবাই মুখেতে মুখোশ পরিয়া
নিজকে রাখিছে কেন যে লুকায়
কেউ নাহি বলে হৃদয়ের কথা
নিজ ব্যর্থতা প্রকাশে ধরায়।

আহা! এ কী হলো আঁধারে নিখিল
এলোমেলো ঝড়ে ঢাকিয়া যে গেল
প্রেম বন্ধন ছিন্ন করিয়া
সকলি ঘর যে ভাঙ্গিয়া দিল।

করোনা এসেছে মরণ ছোবল
নিখিলে হানিয়া নিষ্ঠুর রুপে
মানুষের দেহ ঠাঁই নিয়াছে গো
দিবস রাত্রি ইন্দিরা কুপে।

তবু নাই কোন গভীর শব্দ
পাথরে বাঁধানো মানুষের বুক
চারিদিকে কে গো শুধিয়া রুধিবে
সাহসী চিত্রে মুছে মুছে শোক।

বাঁধিয়াছে স্বামী নিজ পিঠে বিবি
অশ্রু পড়িছে বাদল ধারায়
আহারে কখন যেন তার প্রেম
বন্ধন ছিড়িয়া শূন্যে পালায়।

পিতার শিয়রে মাতার শিয়রে
অবুঝ শিশুর অজানা বিলাপ
আজিকে তাহার শেষ বেলা দেখা
জননীর ছবি চির সংলাপ।

কত সন্তান আজ ইয়াতিম
হইল ভুবনে করোনা ব্যধিতে
ভাঙ্গিল প্রাণ সব মানুষের
রুখিবে মরণ কোন যে যাদুতে।

রক্ষা করো গো রক্ষা কর্তা
তোমার রহিম রহমান নামে
সকল মানুষ বাঁচি যেন আজ
সুখ শান্তিতে এই ধরাধামে।

শতক বছর পড়িবে গড়িয়ে
সব মানুষের স্মৃতিতে গো জল
বাক হারা হয়ে ভিজাবে বক্ষ
শক্তি বিলীন হবে দেহ বল।

তবু দাও প্রভু সব মানুষের
ধরায় বাঁচার তুমি অধিকার
নতশিরে কহি আঁখির জলেতে
অপরাধ দাও মুছিয়া সবার।
……………………………………………

মানুষ শ্রেষ্ঠ

শক্ত করে হাত ধরো হে মানুষ মানুষের
পূর্ণ করো প্রতিশুতি মানুষ ঐ আরশের।
মানব সেবায় আছে ঈশ্বরের ভালোবাসা
মনুষ্যহীন পৃথিবী আনে ডেকে সর্বনাশা।
কঠিন সময় বুঝি মনুষ্যত্বের পরিক্ষা
প্রকৃত মানুষ আজি দাও চির প্রেম দীক্ষা।
এ জনমের বন্ধন করিওনা ছিন্নভিন্ন
মানুষেরে অবহেলে লুটিওনা চির ঘৃণ্য।
দাড়াও মানুষ পাশে হোক মানুষ ভরসা
একটু সেবার তরে কাটিবে ভয় নিরাশা।
মৃত্যু যম যদি থাকে কপালে সত্যি লিখন
কে রে দিবে মুক্তি বল সখা করিয়া খন্ডন।
মৃত্যুর পূজা ছাড়িয়া মানুষের সেবা কর
মানুষের শ্রেষ্ঠ শির উঁচু করিয়া রে ধর।
কাপুরুষের মতন যদি থাকিস লুকিয়ে
কোনকাল নাহি পাবি চির সম্মান ঝুকিয়ে।
যা মানুষ গৃহ ছেড়ে মানুষের পাশে দাঁড়া
উঠিবে হাসিয়া প্রেম নাচিবে আনন্দে ধরা।
……………………………………………

মুখোশ

হঠাত মুখোশ মুখে, কে দিল পরায়ে
কম্পিত পরান হায়, ছুটিল ডরায়ে।
আনন্দিত ধরাখানি, লয়ে টানাটানি
পরিচিত পরিজন, করে কানাকানি।
মৃত্যুর মিছিল আহা, পরান ব্যথিত
হয়না যে দেখা লাশ, স্মরণে দন্ডিত।
মানুষের মনুষ্যত্বে, নাই প্রেম গান
অচিন পথিক যেন, গুহায় লুকান।
খুলেছে বিধির খাতা, রক্ষা নাই কারো
সাবধান হুশিয়ার, ভন্ডামিটা ছাড়।
……………………………………………

পৃথিবীর চিত্র

আমার পৃথিবী আজ,
আমাকে ফিরিয়ে দাও
আমি আর প্রার্থনায়,
অশ্রু পাত করবো না,
হে বিধাতা তুমি কেন?
এত অভিমানি হলে,
তোমার কী অভিমান সাঁজে।
তুমি অভিমান ভাঙ্গো,
আমি জানি তুমি সব দেখ,
এটাও জানি যে,
আজ তুমি দেখেও দেখনা।
পিতা ছুঁতে চাই না ছেলের লাশ
মাতা ছুঁতে চাইনা মেয়ের লাশ
ভাই চাইনা বোনের লাশ
বিবি চাইনা স্বামীর লাশ
বন্ধু চাইনা বন্ধুর লাশ
প্রতিবেশী চায়না প্রতিবেশীর লাশ,
দেশ চাইনা নাগরিকের লাশ,
মানুষ পালিয়ে যাচ্ছে,
মানুষ যে মানুষকে ভুলে যাচ্ছে
কেউ কার ডাকে সাড়া দেয় না।
বিশাল বাড়ির,
ভিতরে ভয়ের ঊর্মি,
কেউ কার সাথে, হাত মিলায় না
আগের মত কথা বিনিময় করেনা।
চায়ের আড্ডায় বসতে চাইনা,
নিস্তব্ধ সাজানো বাড়ি, আঙিনার ঐ বাগানে
কোন পাতা কুড়ানির আগমন নেই।
ফুল ফোটে ফুল ঝরে,
আমগাছ, জামগাছ, কাঁঠাল পাতার আবর্জনা
গাছ তলে টিবি টিবি,
পাকা বেঞ্চ টাও খালি পড়ে আছে
মানুষের কোন আনাগোনা নেই
বড় সাব বাহির হয়না,
লোহার বিশাল গেটে
প্রবেশ নিষেধ, ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে,
কারন বড় সাবের করোনা হয়েছে,
আজ এটি একটি বাড়ির চিত্র নয়
পৃথিবীর চিত্র।
……………………………………………

সংগ্রামী

মেঘের পরে রোদ হেসেছে
ঝিকিমিকি আলোয়
খারাপ দিনের পর আসে গো
ফিরিয়া দিন ভালোয়।

কষ্টের পরে সুখের বেলা
ফুটায় মুখের হাসি
শংকা নাহি জাগে প্রাণে
মুছিয়া দেয় নাশি।

কাল বৈশাখী ঝড়ে ভাঙ্গে
গরীব দুখির বাড়ি
আবার গড়ে সাহস লয়ে
সবাই তাড়াতাড়ি।

নদীর পাড়ের ভাঙ্গাগড়া
নিত্য দিনের খেলা
রাত্রি শেষে সকাল হাসে
দিনে আলোর মেলা।

জীবন সবার পথটি খুঁজে
সংগ্রামী যে হয়ে
হাজার লড়াই হাজার ত্যাগে
ফিরে ঘরে জয়ে।
……………………………………………

মৃত্যুর সাটিফিকেট পেয়েছি!

আমাকে কাঁদাতে তোমরা এসোনা,
আমার তো কাঁদিতে আর মন চায় না।
প্রতিদিন লাশ ঐ কবরে নামাতে নামাতে
আমিতো নিজেই কঠিন পাথর হয়ে গেছি,
শোক ঝরে পড়তে পড়তে
বুকের জল শুকিয়ে গেছে নদীর মতন,
তবু আমি কবরে লাশ নামায় –
প্রতিদিন সারি সারি,
সব নিয়ম ভেঙে একা একা কবরে,
কত লাশ রেখে যায় লাশের আপন জনেরা,
শুধু এটুকুই ভেবে ব্যথিত হই,
আহারে ! মুসাফির তোমার এমন বিদায়,
মুসাফির তুমি নিশ্চুপ থেকোনা-গর্বিত বুকে
একবার চিৎকার করে বলো,
আমার সম্পদ! আমার সম্পদ!
আমার বংশ আমার রক্ত,
এরাই আমার আত্মার আত্মীয় স্বজন।
মুসাফিরের কোন সাড়া শব্দ নেই,
যেদিকে রাখি আজ সে সেদিকেই শয়,
আজ দেখি চারদিকে লাশেরাও অসহায়।
কেউ স্বজনের দেখা পায় কেউ পায় না,
কেউ নিজ গৃহের বারান্দায়
কেউ হাসপাতালের ঐ নির্জন কক্ষেই
মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে,
নিঃশব্দে বলে যায়, শান্তনার স্বরে
জন্মেছি যখন মৃত্যুর সাটিফিকেট পেয়েছি তখনই।
বন্ধু বর দুঃখ করে কোন লাভ নেই,
তাই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছি নীরবেই।
……………………………………………

যুদ্ধে যাবার সময় নেই

যুদ্ধে যাবার এখন সময় নেই
আসলে যুদ্ধ নেই,
এখন সেবার সময়,
মানুষের পাশে দাঁড়াবার সময়
দেশটি গড়ার সময়।
অথচ আমরা আজকে উল্টো
পথেই হাঁটটি
এই মারামারি, এই ভাগাভাগি
মূল হতে দুরে,
যার যার মতো সরেই যাচ্ছি।
দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে অনেক
উন্নতির দিকেই,
শুধু উন্নতি- উন্নতি নেই, মানুষ নামক বিবেক নদীর,
একজন যদি জন্মভূমির মঙ্গল চায়
পিছনে পিছনে দশজনী চাই যে অমঙ্গল।
কেউ ভাবতেই চায়না দেশের
স্বার্থটা আগে,
মানুষের ভালো আগে,
নিজকে নিয়েই বেশি বেশি ভাবে
তাই লুটপাটের প্রতিযোগিতা
এমনটি যদি চলতেই থাকে
একদিন দেশ আবার রক্তাক্ত হবেই।
আমরা এখন ভুলেই যাচ্ছি আমাদের ইতিহাস
শহীদ মিনার স্মৃতিসৌধের গর্বিত কথা,
অতি ব্যস্ততা অতিলোভী মনোভাব
পরিবেশকে করছে দূষণ।
এখন যুদ্ধে যাবার সময় নয়
মিলেমিশে দেশ গড়ার সময়,
আসলে যুদ্ধ নেই,
আছি আমরাই।
……………………………………………

মানুষের গান

বক্ষ দুয়ার খুলিয়া দাওগো কঠিন বেলায়
উঠুক হাসিয়া মানুষের গান পরশ দোলায়।
হিংসার নাই আজকে সময় বাঁধো বাঁধো ঘর
বহিছে সবার পরান গহীনে বৈশাখী ঝড়।
বাকহারা ভবে কাহারো যে নাই কিছু বলিবার
সকল হিংসা ভুলিয়া গড় হে আজি সংসার।
বাঁচার স্বপন দেখিতেই হবে শপথের গানে
যাকনা যতই ভাঙ্গিয়া ঘর ভয়াল তুফানে।
ভাঙ্গা গড়ায় অবনীর খেলা খেলিছে গো তাই
কম্পিত মন পেয়েছে কোথাও কী একটু ঠাঁই।
তোমারি সাজাতে হবে গো নিখিল জোয়ার ভাটায়
তুমি যে মানব পড়িয়াছো তাজ শ্রেষ্ঠ মাথায়।
অাগুন পুড়াবে এটাই তাহার জনম স্বভাব
অলস অবোধ নাহি পাবে সুখ ভুগিবে অভাব।
সাহসী বীরেরা আনে যে মুক্তা সমুদ্র হতে
কঠিন লড়াই শ্বাস প্রশ্বাসে তারি দিবারাতে।
তবু নাহি চাই ভবে পরাজয় লজ্জা আসন
গড়ে গো সেজন লড়ে হিম্মতে ধরায় শাসন।
আজি মুছে ফেল আঁখির বিরহী ফোঁটা ফোঁটা জল
একতারায় গো বাঁধো তুমি গান প্রেমেরি গজল।
……………………………………………

সেবকের নয় অবহেলা

সেবা করে যেইজন, তারে কেন? দাও অবহেলা
একবার ভেবে দেখ, কে আপন এ কঠিন বেলা।
মানুষের ব্যবহার, থাকে বেঁচে মানুষের মনে
তাই ভালো হও সবে, সদাচার মনুষ্যত্ব গুণে।
ভুল হলে তুমি তারে, দাওগো শুধিয়ে বারবার
চির ঋনী রবে সেও, তোমার হৃদয় দরবার।
তাহার সেবক রুপ, যদি হতো তোমার আচার
তাহলে করিতে কীগো, ভুল খানি বাজারে প্রচার।
সব কিছু টাকা দিয়ে, মনে রেখো নাহি যায় কেনা
তোমার মতন আছে, তাহার বাঁচার সাধ খানা।
সব ত্যাগে করে সেবা, বুঝিলে তাহার মত কেবা
কঠিন সময় পাশে, তার ঋন কী দিয়ে শুধিবা।
সাবধান হও সবে, জ্ঞানেগুণে গড় পরিবেশ
সুন্দর কল্যাণ রবে, এই বিশ্ব পরিবার দেশ।
……………………………………………

মান্যবর

হে মান্যবর তোমার অত্যাচারে
আমি আজ অভিশপ্ত হলাম,
তোমাকে আবার বাঁচাতে যেয়ে
দরিদ্রতার ভাগ নিলাম।
হে মান্যবর তুমি কখন থামবে
বিলাসিকতার রঙিন মহলে
তোমার লাশ দেখে তোমার কী ভয় জাগে না।
তুমি এটম বোমা বানাও
তুমি সাবমেরিন বানাও
তুমি ভূখন্ড দখল কর
তুমি পথিককে রক্তাক্ত কর
তুমি লটপাট করো
এটা কী তোমার কাজ।
হে মান্যবর মানুষ তোমার স্বভাব তুমি জাগ্রত কর
তুমি মানুষের পাশে দাঁড়াও
তুমি মানুষের কথা বল
তুমিও তো একজন মানুষ
তোমার ভাল মন্দ বুঝার শক্তি আছে।