লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্

সাহসীরা ক্রমান্বয়ে
হচ্ছে নিরুদ্দেশ
দুর্বলেরা দেখছে চোখে
ভয়ের পরিবেশ !
রুগ্ন-ক্লান্ত পথিকেরা
না-পায় পথের খোঁজ
বাঁচার জন্য বুকে তাদের
বিনীত আরজ !
মাথার ওপর মৃত্যু ওড়ে-
ক্ষুধার্ত শকুন
স্বপ্ন কেটে গুঁড়ো করে
রোগজীবাণু-ঘুণ ।
গোরস্থানে মড়া খোঁজে
পোকামাকড়-পাল ।
মাতালবনে গভীর রাতে
লাশ খোঁজে শেয়াল ।
শ্মশান-গোরে জোনাকিরা
ঘুমিয়ে যায় কেউ
জমাট বাঁধা অন্ধকারে
একলা জাগে ফেউ ।
রাত্রি শেষে সূর্য ওঠে
ঝাপসা ঝাপসা, ম্লান
টেনশনে কেউ আলো দ্যাখে
আঁধারি, নিষ্প্রাণ- !
মুহূর্মুহু কানে আসে
মরণের আওয়াজ
হায় কী হলো ! হায় কী হবে-
অশান্ত সমাজ ।
অপক্ষেমান পর্যুদস্ত-
রোগীরা বলহীন
জানছে না-যে ফিরবে কবে
আশার আলো, দিন !
দু:সময়ে বিশ্বাসীদের
কণ্ঠে শুনি গান
‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’তে
মুস্কিলে আসান।
…………………………………………..

হাতের বিচার

যুদ্ধযুদ্ধ চিন্তা বুঝি এ-মুহূর্তে বাদ
গুটিয়েছে দেশেদেশে যত মৃত্যুফাঁদ !
আক্রমণে না-গিয়ে
যা-নিয়েছে বাগিয়ে
তা-নিয়ে কী ক্ষান্ত হবে পাপিষ্ট-উন্মাদ ?

অত্যাচারীহাতে আছে জীবাণু, স্ব-পাপ-
বারেবারে বন্ধঘরে করে সে ‘চেকাপ’ !
শঙ্কচিত্তে তাকিয়ে-
নানা যৌগ মাখিয়ে
উল্টেপাল্টে ধুয়ে ধুয়ে হস্ত করে সাফ !

ছড়িয়েছে হস্তদুটো- বিশ্বজুড়ে ত্রাস,
শান্তিপ্রিয় গোত্রেগোত্রে ভীতি-নাভিশ্বাস !
রাজ্যসীমা মাড়িয়ে
সন্নিকটে দাঁড়িয়ে
ক্রমে ক্রমে যাচ্ছে ক’রে মনুষ্য বিনাশ !
…………………………………………..

অনেক দূরের যাত্রী

লক্ষ লোকের ভীড়ে আছি ভীষণরকম একা-
অদৃশ্য কে মুহুর্মুহু দিচ্ছে যেন ছ্যাঁকা !
মুক্ত-স্বাধীন পৃথিবী আজ হয়েছে জেলখানা
একলা ঘরে প্রবেশ করে অন্ধকারে- কানা !
দেশান্তরের কর্মী যারা- প্রশান্তি- প্রমোদে,
অজানা উৎকণ্ঠাতে কেউ চলছি নিরাপদে
জানি না-যে, কোথায় আছে কার কী বিপদ-বালা-
বাঁচার জন্য করছি সবাই জীবনকে সীলগালা।

এ জীবনের মূল্য কত ? করব কাকে শোধ ?
কী-বিনিময় দিলে হবে মরণ প্রতিরোধ ?
অর্থকড়ি-অট্টালিকা সবার-ই মুখ ভার
তাদের কাছে নেই যেন রে চাওয়ার অধিকার !
নিকটজনের অচেনাভাব , আতঙ্কিত সুর-
বলছে কিনা, কমসময়ে যাচ্ছি অনেক দূর?
…………………………………………..

মূর্খ মুরিদ

জান্নাতে সুখের গৃহ রয়েছে ও-পারে
এ-কথা তোমার মুখে শুনি বারে বারে !
তবে কেনো মৃত্যুভয়ে লুকাও আড়ালে?
মুমূর্ষু শিষ্যের পাশে নেই, হাসপাতালে?
শহীদীমর্যাদা তত্ত্ব জানাও আশেকে
মুর্দা দেখে থাকো কেনো, আঁধারে গা-ঢেকে!
মহল্লা অস্থির, ক্লান্ত; দুর্যোগে, মড়কে-
তোমার ছায়া’টি নেই ভয়ার্ত সড়কে !

অবুঝ-নাদান ধরে, তার কানে কানে
মানব কল্যাণ-ধর্ম শোনাও বয়ানে !
ওহে জ্ঞানী, ধর্মভীরু সাফল্যে বিশ্বাসী
কী করে-রে সিদ্ধি পাব আমি তীর্থবাসী?
দুস্থ দেখে যে-মুর্শিদ দাঁড়ায় তফাতে
মুখ্য সুখ্য ভক্তকূল কী পাবে দর্গা’তে ?
…………………………………………..

সেরা যোদ্ধা

সৃষ্টি থেকে রাগান্বিত
মৃত্যু মহারাজ-
দুর্বলেরে মেরে মেরে
ভরায় জাহাজ
মানুষ কী তার মতো
সেরা যুদ্ধবাজ ?

অন্ধকার-অগোচরে
ফুরায় হায়াৎ।
মরণ ঝড়ের বেগে
বাড়ায় স্ব-হাত।
নিরাপদ স্বপ্নদুর্গ
ক্ষণিকে ভূপাত।

বন্ধ হয় পৃথিবীর
হাজারো হিসাব
ভেস্তে যায় স্বার্থচিন্তা
বিত্ত-লাভালাভ
জব্দ হয় অহমিকা
ক্ষমতা- প্রভাব।

তার সমকক্ষ যোদ্ধা
প্রানীকূলে নাই
একবাক্যে সকলে-যে
তারে-ই ডরাই
পরাজয় জেনে করি
অসম লড়াই !
…………………………………………..

পাক্কা আড়তদার

আমি তো ভাই পাক্কা আড়তদার
ছক্কা মারি বছরে বারবার
খাদ্যশস্য মজুদ রেখে
দেশের পরিস্থিতি দেখে
ঠিক সময়ে টেক্কা’তে দেই মার !

আমার কিন্তু হিসেবে নেই ভুল
জা’গামতো ফুটিয়ে দেই হুল
ব্যথা নিজেই তৈরি করি
পরে বেচি ব্যথার বড়ি
অসময়ে ব্যবসা করি, ফুল !

সিন্ডিকেটে লম্বা আমার হাত
করতে পারি বাজার কুপোকাত
একটিমাত্র টেলিফোনে
মুক্তা ফলাই উলুবনে
বছরে না, দিনেই বাজিমাত!

আছে আমার শক্তিশালী ভীত
ঝড়োহাওয়া হলে উপস্থিত-
দেয়াল দ্বারা ধাক্কা দিয়ে
ঝড় ব্যাটাকে দেই থামিয়ে,
ধমক মেরে হাঁটাই বিপরীত ।
…………………………………………..

বিশ্বাসীদের পথ

বিশ্ব থেকে যাচ্ছে কমে সকল বিলাসিতা
দিকে দিকে বাড়ছে কেবল কবর এবং চিতা।
যে-সব রাস্তা ব্যস্ত ছিল ভোগ-উপভোগ দিতে
পথগুলো সব একে একে ঘুরছে বিপরীতে ?
অন্ধকারের বাড়াবাড়ি, দিনের আলো হরা-
কে ইশারায় পড়াচ্ছে সেই আঁধারকে হাতকড়া !
যে-সভ্যতা পঙ্কিলতার বিষাক্ত দংশনে
বিষে কাতর, আজ উপশম হচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে।

বিপদ এসে নুয়ে পড়া লক্ষ সাপের ফণা-
মানবজাতির একটুখানি স্বস্তি ও সান্ত্বনা।
ক্ষণস্থায়ী এই জীবনের সামান্য সময়ে
চিন্তাশীলে থাকবে কেনো আঁধার-অবক্ষয়ে !
সহজ সরল সত্য যে-পথ, যে-মোহনায় মিলে,
সেই মোহনায় রেহাই খোঁজে বিশ্বাসী, মুসকিলে।
…………………………………………..

ডাকহরকরা

কবির পেটে ভাত জোটে না, তাও লিখে যায় ছড়া
অভাবগুলো শিকেয় তুলে মন রাখে ঝরঝরা ।
যেখানে সে যেমন থাকে
দেশ ও দশের খবর রাখে
ছড়ায় লিখে জনে জনে পাঠায়- ডাকহরকরা ।
…………………………………………..

টমটম

কালবোশেখি
আকাশ দেখি
কলো মেঘে থমথমে
শহর’টা চাই
হাত-পা নাচাই
ছন্দতালে- ঝমঝমে।
শপিংমলে
চা-স্টলে
ব্যবসা চলে রমরমে।
তাক্ ধিনা ধিন্
যাই উদাসীন
সদরঘাটে, টমটমে।
দুষ্ট যারা
দিচ্ছে ভাড়া
দু-তিন টাকা কমকমে।