আমার কোনো দুঃখ নেই

আমার কোনো
দুঃখ নেই
বিচ্ছেদ নেই
প্রেমিকা নেই
তবুও কবিতা লিখি দুঃখের, বিরহের, প্রেমের!
কেননা আমি জেনেছি-
জীবন মানে সুখ-দুঃখ
বেদনা-বিরহ
আর প্রেম-ভালোবাসার মেলবন্ধন!
……………………………………………

১৭ মার্চ ১৯২০

সপ্ত আসমান বিঁধে তুমি নেমে এলে ধরণীতে
মানুষ্য রূপে, দ্যা ফাদার অব ন্যাশন
বঙ্গের আকাশ তখনো পরাধীনাতার মেঘে আচ্ছন্ন
শোষণের শোণিত লকলকে জিহ্বা চ্যাটে মায়ের তুলতুলে নরম মাংসপিণ্ড
হঠাৎ তুমি কোমল পায়ে দাঁড়ালে শক্ত মৃত্তিকার বক্ষে
উপমহাদেশে এঁকে দিলে দ্বিজাতিতত্ত্বের সীমারেখা।

এরপর কত-শত উচ্চবাচ্য; জেল-জুলুম
তুমিও কথা বলতে শিখেছো মায়ের ভাষায়
তোমার গর্জনের স্রোতে লাঠিসোঁটা সমেত বেরিয়ে এলো
এদেশের কৃষক, শ্রমিক ও স্বাধীনচেতা আমজনতা
উর্ধ্বমুখী তর্জনী বেয়ে উদিত হলো স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য
লাল-সবুজের পতাকায় ভেসে উঠে একটি নাম; বাংলাদেশ!
একটি নাম, শেখ মুজিব
সেই থেকে ১৭মার্চ একটি তারিখ নয়; একটি ইতিহাস।
……………………………………………

আয়না

প্রতিদিন সকালে বাতায়নে দাঁড়িয়ে দেখি-
সস্তা জুতো পায়ে এক দল গার্মেন্টস কর্মী হেটে যায় ভিড় ঠেলে
এসব গোরা কালো কিশোরী তরুণী যুবতীদের চোখ-মুখে ব্যস্ততা, ক্ষীণোজ্জ্বল হাসি
যে হাসি এদেশের চিরায়ত মেহনতী মানুষের প্রতীক
মধ্যবিত্তের নিত্যকার টানাপোড়ন ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মিশেল।

প্রতিদিন সকালে বাতায়নে দাঁড়িয়ে দেখি-
আশা ও প্রাপ্তির দোলাচলে দুরাশার হাতছানি
রাস্তার পিচে ক্ষয়ে যাওয়া জুতোর তলা
আর ঘামের দুর্গন্ধ সহ কোনো এক ব্যথাতুর হৃদয়ের দীর্ঘশ্বাস
উর্ধ্বকাশে যেতে যেতে আরুবায় নিরুদ্দেশ কিছু গোপন স্বপ্ন।
……………………………………………

বানোয়াট

কেন ছুটো পিছু ঐ ললনার পিছে
রূপ গুণ সবি যার বানোয়াট মিছে
পায়ে পরে হাই-হিল
কথা-কাজে নায় মিল
অন্যের ঘাড়ে চেপে রোজ ঘুরে বীচে!
কেন ছুটো পিছু ঐ ললনার পিছে?
……………………………………………

রাষ্ট্রের প্রতি

হে আমার রক্তে কেনা সার্বভৌম রাষ্ট্র
তুমি কেবল মানচিত্রে সাঁটানো সীমারেখা নও
নও কোনো কাঁটাতারের সীমানা প্রাচীর
তোমার আছে লাল-সবুজের একটি স্বাধীন পতাকা
সতেরো কোটি দেশপ্রেমিক বাঙালি
তুমি ভালো থাকলেই যারা ভালো থাকে
তুমি হাসলেই যারা হো হো করে হেসে উঠে উন্মুখ প্রান্তরে।
হে আমার ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের সার্বভৌম রাষ্ট্র,
তোমার জঠরে সুপ্ত জন্মব্যথা
হৃদয়ে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের আকুলতা
তবুও তুমি বন্দী কেন?
নীতিহীন নেতার কাছে, ভীতির কাছে
ভিনদেশি পুরোনো হায়েনার বেশী স্বদেশী হায়েনার কাছে।
……………………………………………

মরিতে বাধা কোথায়?

ফিলিস্তিনিরা, মরো, মরো, আরো মরো
রক্ত দিয়েই দেশের মাটি স্বাধীন করো
ভুলে যেয়ো না, “মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীরের পতন”
স্বীয় দেশের জন্য ” যতই মরিবে ততই স্বাধীন হইবে “
মরিতে বাধা কোথায়? মরো, মরো, আরো মরো!

ফিলিস্তিনিরা মারো, মারো, আরো মারো!
তোমাদের শহীদী সংখ্যার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি মারো
অস্ত্রের সম্মুখে বুক পেতে, ঝাপিয়ে পড়ো শত্রুর উপর
ইমানী শক্তিতে বলিয়ান হয়ে মুখে বলো, ” আল্লাহ আকবর”

ফিলিস্তিনিরা, মরো, মারো, আরো মারো, আরো মরো
মরিতে মরিতে স্রাষ্টার আরাধনা করো
উর্ধ্বাকাশে তাকিয়ে বলো, “প্রভু আমাদের মৃত্যুকে সহজ ও সুন্দর করো”
একদিন তোমাদের রক্ত স্রোতই এঁকে দেবে স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিনের সীমারেখা।
……………………………………………

রক্তের দামে কেনা নদী

একুশ নামে-
আমার একটা নদী আছে
রক্তের দামে কেনা!
সে নদীর জন্য মিছিল হলো মিটিং হলো
নদী চাই নদী চাই নিজস্ব এক নদী চাই
মায়ের মতো বোনের মতো
চঞ্চলা এক নদী চাই।

আমার একটা নদী আছে
রক্তের দামে কেনা!
যার জন্য কারপিউ হলো গুলি হলো
রাজপথ হলো রক্ত রাঙা শিমূল-পলাশ
সে নদীতে এখন মনের সুখে সাতার কাটি
সে নদীতে মাছ ধরি মিলেমিশে।
……………………………………………

কালো মেঘ

হঠাৎ হঠাৎ একটা কালো মেঘ এক খন্ড গগন গিলে খায়
আমি ভেবে নিই, এটা অসুখ
দমকা হাওয়ায় সেরে যাবে, সেরেও যায়
তখন ফের হেসে উঠে আমার নিখাঁদ অখণ্ড আকাশ।

যামিনীর অন্ধকারে অবহেলায় ঝরাপাতা মাড়ায় পা
আমি ভেবে নিই পা জোড়া অন্ধ
কামিনী এলেই সব ঠিক হয়ে যাবে
কামিনীও আসে; পা তখনো থাকে অন্ধ।
……………………………………………

দুঃখের কথা মুখে

জগৎ মাঝে সকল হৃদে
শূন্যতা হাহাকার
হৃদয় পেতে এসব ব্যথা
কে শোনে গো কবে কার?
যে হৃদে রোজ দুঃখ বিলাও
সে হৃদয়ও দুঃখী
ভাবছো যারে মহাসুখী
সে-ও-তো নয় সুখী!
কান পাতিলে শোনা যায় না
চোখ মেলিলে দেখা
ভীড়ের মাঝে কত মানুষ
থাকে বড়া একা!
রাজ প্রসাদের দুঃখ জানে
রাজ-দালানের ইট
গরীব লোকের দুঃখ জানে
মশা মাছি ও কীট!
তবুও হও ভাই সুখী মানুষ
মনের গোপন সুখে
দুঃখ পুষো আপন মনে
বিলাইও না মুখে।
……………………………………………

মৃত্যুচিন্তা

মুসাফির বলেই প্রতিদিন মৃত্যু দেখি
অলিতে-গলিতে দেশে-বিদেশে ভয়ংকর সব মৃত্যু দেখি
এসব সাদা-কালো মৃত্যুরাই আমাদের প্রতিবেশী
চারিদিকে জীবনের অগণিত শোরগোল ছাপিয়ে
কোনো একদিন মলিন যোদ্ধার কাতর কন্ঠে বলবো,’আমি দুঃখিত’
একটানা সাইরেন বাজিয়ে সফেদ গাড়ির রোদনে
কিংবা এক অন্ধকার নিশুতি রাতে খুব গোপনে চলে যাবো
এই শহর ছেড়ে, এই শহরের প্রিয়তম সব মানুষ ছেড়ে
অস্ফুট স্বরে বলবো, “কুল্লু নাফসিন যাইক্বাতুল মাউত”।