ডাইয়ায় খামরায়

পরাণের সই,তুমি এসো বাদলের রিমঝিম বৃষ্টির অনুভূতি নিয়ে।এই ভরা বাদলে কুহক জমা গাওয়ালি মুতরাফুল,হিজলফুল,গেণ্ডাফুল,জারমনিফুল আর দুইফরি ফুলে ফুলে রাখিবো তোমারে ব্যাকুল।

আমার নিঃসঙ্গ মনের তৃপ্ত আয়োজনে, আগের ল্যাখান শরমের হাজ আর গায়ে মাখি না, এখলা-এখলা কোল বালিশের মিতালি কতো নিতাম আর?তোমারে সাক্ষী রাইখ্যা তোমার ল্যাখান জবজবা কোন এখ মনো খেউ দিমু, খলুইও ভরমো।

হাওরের বুক ছিড়ে বৈরাতীর নাও দেখলেই মন ঠিক রাখতাম পারি না,খতোদিন আর কোড়া শিকাড়ির মতো ফুস্কুনির মান্দারর গাছের তলে মাখালের মতোন খান্দাত না গিয়া থাকমু?

আমার সখ নাইনি কিতা,সোনাভাবী জেলাখান গোফরর মুইট্যা টিফাইন অউলাখান তোমারে টিফতাম।মনো নাইনি,গত এয়োতাত কোয়াশা ভাঙ্গিয়া আমরার গাঙর হাখমো উঠিয়্যাউ তুমি ডরাই গেছলায় আর আমি মুইট্যার লেখ্যান তোমার আতো ধরছিলাম।
অউদিন থাকি আইজ পর্যন্ত আমার জানকোর মাঝে
খালি ডাইয়ায় খামরায়, ডাইয়ায় খামরায়।
…………………………………………..

পৃথিবীর যত নিচতা তোমাকে ঘিরে

আমি যত আগাই তোমাকে নিয়ে
তোমার তত পিছুটান আমাকে নিয়ে।
তুমি চাও প্রীতিহীন যত মিছু
আমি ভাবি কেউ যেন থাকে না নিচু।

পৃথিবীর যত নিচতা তোমাকে ঘিরে,
তাই তুমি কারো শোকে চাও না ফিরে।
…………………………………………..

ঘুমন্ত মহাকাল

ব্যথাময় শিরোনাম
ব্যথাতেই যবনিকা
মাঝখানে কিছুকাল প্রিয়কিছু খুনসুটি,
জাগিয়ে রাখে ঘুমন্ত মহাকাল।
…………………………………………..

নজরানা

আমার জন্য প্রতিদিন নজরানা আসে
এক একটা আগুনের ফুল
নিঃস্ব আমি এতো এতো ফুল কোথায় রাখি,
রাখিবার সাধ্য নেই আর
তাই,ছিন্নভিন্ন আমি বুক সাগরেই জমা দেই;
কেউ দেখে না,তুমি ছাড়া!
…………………………………………..

প্রেমিকার অসুখ

রাত্রির সাথেই আমার প্রেম, তাই
আলেয়াতেই যতো অসুখ
আমার আকাশে ওড়ে বিদঘুটে কালো সংবাদ
নিত্য রচি লাস্যময়ী প্রেমিকার অসুখ!
…………………………………………..

মুচকি হাসে তারা

নিজের তেলে কুপি জ্বেলে আলো দিলাম যাদের
নিঃসঙ্গতার শোক মিছিলে পাইনা খোঁজে তাঁদের।
আমার পাঁজর পোড়া গন্ধে মাতাল যারা
দুঃখে আছি শুনে, মুচকি হাসে তারা।

আমার কোন ভয় নাই, ভয় নাই কোনো

আমার কেউ নেই, কিচ্ছু নেই, তুমি ছাড়া।
যে আছে,
যারা আছে
রক্তের গ্রুপ না জেনেও নেয়
কাজ হোক বা না হোক তবুও,
কেউ কেউ পায়ে পায়ে রাখার বড্ড স্পৃহা নিয়ে আসে

আমি তোমার কাছেই এ মস্তক অবনমিত করে রেখেছি,সেই কতোকাল থেকেই।
তুমি আছো বলেই আমি আছি
তোমার প্রিয়তায় আমি বাঁচি
দুঃখ-শোক ভুলে নাচি
আমার কোন ভয় নাই,ভয় নাই কোনো।
…………………………………………..

সবলতা দেখাবে কাকে

আচ্ছা! সবকিছুতেই রাগো কেন?
আমার মতো দূর্বল হতে যাচ্ছ?
জানো না দূর্বলরা সব কিছুতেই রাগে?
আমি দূর্বল হওয়ার কারণেই তো তুমি সবল।
কাছে গেলেই যদি দূরে ঠেলে দাও,তবেতো কাছে যাওয়া ছেড়ে দেবো।
তখন সবলতা দেখাবে কাকে?
…………………………………………..

চুমু রাজ্যের রাজ

হাওয়ার পোশাক গায়ে দিয়ে
ঝাপটে যখন ধরি
আহা মরি মরি!

গভীর রাতের ভূকম্পনে
খাটের জোড়ার কষ্ট
বুকে বিঁধে পষ্ট!

তখন তুমি ব্যস্ত থাকা
চুমু রাজ্যের রাজ
পূরণ হলো সুখ, নষ্ট হলো
আমার সকল সাজ।
…………………………………………..

শান্তিগঞ্জের শান্তির আশ্রয়, নিরাপদ বটবৃক্ষ

জনতার নেতা, দীপ্ত মশাল, ন্যায়ের পিরামিড
ডুংরিয়ার ফুল, নেই যার তুল
সারাদেশ ঘ্রাণে ঘ্রাণে মুহিত,প্রাণে প্রাণে মিলনের সুর।
কোটি জনতার আস্থার চলন্ত বিদ্যালয়_
শতাব্দী দীপ্ত শান্তির পায়রা শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত সিপাহসালার,জনকের প্রিয় প্রতিনিধি
জনবন্ধু আলহাজ্জ্ব এম.এ.মান্নান
তোমাকে অভিবাদন।

সুনামগঞ্জের ধূলোকনা পুলকিত হয়ে আকাশের চৌকাটে উড়োউড়ি খেলছে
উন্নয়নের রোলমডেল জন্মেছেন তাঁর প্রিয় বুকে।

নৌকার পাল আজ খুশির
নোঙরে বাঁধা
তৃপ্তির ঢেকুরে বসে পড়া নয়-
নব উদ্যোমে এগিয়ে চলার প্রেরণা –
ভোর বিহানের কফি পানে
মন ও মননে যে সতেজতা অনূভূত হয়
ন্যায়ের অবিচল পাহাড়-
উন্নয়নের কবিতা,তোমাকে পেয়ে ভাটির চির যৌবন, অন্যুন মুজিবসেনা চির সবুজ।
…………………………………………..

ইতিহাস সাক্ষী!

বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা হতে
কালজয়ী বীর, শেখ মুজিবুর –
রাজনীতির শুদ্ধ পাঠকেই বেছে নিয়েছিলেন।

জনকের শিখিয়ে দেয়া পাঠে তোমার পথচলা
অন্যায়-অসত্যের সাথে তোমার নিয়মিত যুদ্ধ
পিতার আদর্শ বাস্তবায়নে হাটে-মাঠে-ঘাটে তোমার নিরন্তর পথচলা
দেশ মৃত্তিকার অবকাঠামো উন্নয়ন তোমার নেশা
দল-মত নির্বিশেষে প্রশ্নাতীত ভালোবাসা তোমার রাজনৈতিক আদর্শ
বেকারমুক্ত দেশগড়া তোমার দৃঢ় সংকল্প
হাওড় বেষ্টিত উন্মুক্ত সুনামগঞ্জকে অপরূপ সাজে সজ্জিত করে দেখিয়েছো আলোর মুখ,
খুলে দিয়েছো সম্ভাবনার দ্বার।
দূর্ণীতির এই ক্লান্তিকালে অকুতোভয় বিশ্বনেত্রীর শুদ্ধাচারে তুমি শুদ্ধপুরুষ!
সুনামগঞ্জবাসী বরাবরই ভাগ্যবান।
এখানের মাটি রাজনীতি চর্চার অভয়ারন্য।
আমরা বড় বড় নেতা পেয়েছি,বিশ্বসেরা কুটনীতিবিদ পেয়েছি,রাজনীতির সিংহসার্দুল পেয়েছি,পেয়েছি বিশ্বসেরা সাংসদীয় স্পিকার!পাইনি শুধু তোমারমতো কাজ পাগল কেউ।

যারা ভুল বুঝে,ভুল খুঁজে,ভুল পথে হেটে হেটে
ভুল শুনে,ভুল বলে,ভুলে গেছে শুদ্ধতা
তাহাদেরে খুঁজে তুমি দেখিয়েছো আলোর পথ
কাছে ডেকে নিয়েছো কিনে অমরতা।

তুমি বেঁচে থাকবে ততদিন যতদিন বাংলাদেশ থাকবে
তুমি বেঁচে থাকবে ততদিন যতদিন মানুষ থাকবে
তুমি বেঁচে থাকবে ততদিন যতদিন সুনামগঞ্জ থাকবে
তুমি বেঁচে থাকবে ততদিন যতদিন কবিতা থাকবে
তুমি বেঁচে থাকবে ততদিন যতদিন শুদ্ধতা থাকবে
কাজের লোক মরে না কাজে কাজে বেঁচে রয়
তুমি আমাদের কাজের লোক
শান্তিগঞ্জের শান্তির আশ্রয়, নিরাপদ বটবৃক্ষ।
…………………………………………..

ভেজাল দেখে দেখে নির্ভেজাল শিখে যায় মানুষ

তুমিও ভালোবাসো আমাকে যখন বলো,তখন বড্ড হাসি পায়।
মিথ্যারও একটা সীমা থাকে।
কোনো কিছুর সীমা অতিক্রম করা ঠিক নয়।
যেমন ঠিক নয়-চোখে চোখ রেখে শঠতার ভালোবাসি বলা।
তুমি জানো না?
মানুষের চোখ দুটো সুলায়মানের হুদ হুদ পাখির চেয়েও শক্তিশালী!
কেউ যখন মিথ্যা বলে,মুহুর্তেই আসল সত্য বলে দেয় এই দু’চোখ!
ভেজাল দেখে দেখে নির্ভেজাল শিখে যায় মানুষ।

যাপিত জীবনের হাসি-কান্না,আনন্দ-বেদনার মহা কাব্যও এই দু’চোখ!
তবে কেন? বাংলা গগণের মহাকাব্যের কালিমা লেপনকারী মস্তাকীয় ভালবাসা প্রচার করো
আমার প্রভুর দেয়া জ্যোতির্ময় চোখে চোখ রেখে।