শরৎ যখন আসে

দিঘির জলে পদ্মকলি ফোটে
খিলখিলিয়ে হাসে
দুষ্টু খুকি বকুলতলায় ছোটে
ফুল কুড়ানোর আশে।

ভোরের শিশির টুপটুপাটুপ পড়ে
সবুজ দূর্বাঘাসে।
মিষ্টি বাতাস মনটা শীতল করে
ঢেউ তুলে যায় কাশে।

জুঁই কামিনী হাসনাহেনার ঘ্রাণে
মন বসে না ঘরে
দোলনচাঁপা চাপ দিয়ে কয় কানে
“শিউলি ফুলও ঝরে।”

নীল আকাশে মেঘশিশুরা ওড়ে
দিগন্তের ঐ পাশে
ফুলের বনে মৌমাছিরা ঘোরে
শরৎ যখন আসে।
…………………………………………..

শরতের হাসিতে

সাদা বক উড়ে যায় আকাশে
নীলিমায় মেলে দেয় পাখা সে।
নদী কূলে দোলে কাশ বাতাসে
জোছনার আলো নিয়ে রাত আসে।

মৎসরা খেলা করে নদীতে
মাছরাঙা বসে থাকে ছোঁ দিতে।
রাখালেরা সুর তোলে বাঁশিতে
রূপরানি শরতের হাসিতে।
…………………………………………..

শরতের রূপ

পেজা মেঘ দোল খায় আকাশের কোলে
নদী তটে কাশফুল মৃদু হাওয়া তোলে
ঝাঁকে ঝাঁকে ডানা মেলে পাখিসব ওড়ে
শিশিরের ফোঁটাগুলো টুপটুপ ঝরে

আলো আর আঁধারের লুকোচুরি খেলা
ফুলবনে অলিদের কী দারুণ মেলা
মাঝি বসে গান গায় পাল তোলা নায়
সবুজের ছড়াছড়ি প্রকৃতির গাঁয়

সাদা বক উড়ে যায় দূর নীলিমায়
শরতের রূপ দেখে মন ভরে যায়।
…………………………………………..

ফুল প্রকৃতির সাথে

শরত এলো ধরায় আবার
রূপের পেখম তুলে
কাশের বাহার ঐ দেখা যায়
শান্ত নদীর কূলে।

ফুল পাখি আর প্রজাপতি
বলছে খবর এসে
মেঘপরীরা উড়ছে নাকি
সুনীল আকাশ ঘেঁষে।

ছোট ছোট পাল তোলা নাঁও
যায় ছুটে দূর গাঁয়ে
ভোরের শিশির দেয় চুমু দেয়
ঘাসের সবুজ পায়ে।

ক্লান্ত দুপুর উদাস বিকেল
শিউলি ঝরা রাতে
ঋতুরানি শরত এলো
ফুল প্রকৃতির সাথে।
…………………………………………..

রূপের পেখম মেলে

শুভ্র সাদা মেঘের ভেলা ওড়ে
ঘাসের ডগায় শিশিরফোঁটা পড়ে।
নদীর তীরে কাশফুলেরা দোলে
মেঘ ছুটে যায় বৃষ্টি নিয়ে কোলে।

হিম বাতাসে মনটা শিতল করে
বিহান বেলা শিউলি বকুল ঝরে।
মুচকি হেসে সূয্যিমামা ওঠে
ঝিলের বুকে শাপলা শালুক ফোটে।

শ্রাবণ শেষে বর্ষা ঋতু গেলে
শরতরানি রূপের পেখম মেলে।
…………………………………………..

মোহনীয় রূপ

ঝকঝকে নীলাকাশ
শরতের দিন
কী দারুণ সুনশান
প্রকৃতির সিন।

ডাহুকের কোলাহলে
মুখরিত বন
ধরণীতে ছেয়ে যায়
মৃদু সমীরণ।

মেঘমেয়ে ওড়ে ঐ
সাদা শাড়ি গায়
নদীপাড়ে কাশফুল
দোল খেলে যায়।

আঁধারের বুক চিড়ে
ঝলমলে চাঁদ
অপলক চেয়ে দেখি
নেই কোন খাদ।

শিশিরের ফোঁটা পড়ে
করে টুপটুপ
ঋতুরানি শরতের
মোহনীয় রূপ।
…………………………………………..

শরতে

ঋতুরানি শরতে
নীলিমার পরতে
সাদা মেঘ ভেসে যায় আকাশে

সবুজাভ ধরাতে
মিঠে রোদ ছড়াতে
ভোর হলে সুরুজের ডাক আসে।

বকুলের গন্ধে
মধুময় ছন্দে
নেচে ওঠে ফুলবনে ভোমরা

নদী নালা পাহাড়ে
কত রূপ আহারে
চোখ মেলে চেয়ে দেখো তোমরা।

তটিনীর দু’ধারে
কী দারুণ সুধারে
কাশফুল দোল খায় বাতাসে

ফোটে ফুলকলিরা
মধু নেয় অলিরা
ডানা দিয়ে নেড়ে যায় পাতা সে।
…………………………………………..

শরৎকাল

বর্ষা শেষে ধরায় এলো
শরৎকাল
গগনজুড়ে উড়ছে দেখো
মেঘের পাল।

নদীর তীরে শুভ্র সাদা
কাশের ফুল
ভোরের হাওয়ায় মেলছে ডানা
পাখির কুল।

দিবস শেষে ঝিল্লিমুখর
সন্ধ্যাকাল
বৃষ্টি এসে ভেজায় হঠাৎ
টিনের চাল।

বৃদ্ধ যুবা কারো চোখে
নেই তো ঘুম
পাকা তালের মিষ্টি পিঠার
পড়ছে ধুম।
…………………………………………..

নেই শরতের রূপ

শরৎ আসে আগের মতোই
নেই শরতের রূপ
ফুল পাখিরা সবাই যেনো
হয়ে থাকে চুপ।

নিবিড় ঘন সবুজ ছায়ায়
ভরতো হৃদয় মন
ঝিলের বুকে শাপলা শালুক
ফুটতো সারাক্ষণ।

খোকাখুকি করতো খেলা
হিজল গাছের ছায়ে
মৃদু হাওয়ায় কাশফুলেরা
দুলতো ডানে বায়ে।

ঝকঝকে বেশ সুনীল আকাশ
শুভ্র মেঘের ভেলা
সন্ধ্যা হতেই দেখতে পেতাম
ঝিঁঝি পোকার মেলা।

ইট পাথরের এই শহরে
মন বসে না আর
গাঁয়ের স্মৃতি মায়ের প্রীতি
ডাকছে বারেবার।
…………………………………………..

শরৎ এলো

শরৎ এলো হিজলবনে
পদ্মদিঘির জলে
দল বেঁধে সব যায়রে ছুটে
বকুল গাছের তলে।

শরৎ এলো কাশেঘেরা
শান্ত নদীর তীরে
মেঘের দেশে রোদ্র হাসে
দিগন্তের ঐ নীড়ে।

শরৎ এলো দূর্বাঘাসে
শিশির ভেজা ভোরে
ফুলবাগানে মাতাল হয়ে
মৌমাছিরা ঘোরে।

শরৎ এলো সবুজ মাঠে
পাকা তালের ঘ্রাণে
মুক্ত বিহগ পেখম মেলে
দূর নীলিমার পানে।