তোমার সবুজ

একদিন দেখো সবুজ ছায়া মেঘলা আকাশ থাকবে না
ঝর্ণা পাহাড় নদীর কায়া শিল্পী কোন আঁকবে না
আলোর কুসুম আনতে সেদিন দোয়েল পাখি ডাকবে না
বটের তরু আঁচল দিয়ে রোদের ধমক ঢাকবে না
শাপলা কমল হাসবে না
নৌকা ডিঙ্গি ভাসবে না
পানকৌড়ি আর আসবে না
এ দেশ ভালোবাসবে না।
কারণ তুমি তোমার সবুজ ধূসর করেই চলেছো
পাহাড় নদী খিদের জ্বালায় সাবাড় করেই ফেলেছো
কারণ তুমি নিজেই নিজের গলায় চেপে ধরেছো
কারণ তুমি নিজেই নিজের চলায় দেয়াল গড়েছো।
…………………………………………..

কোলাহল ভুলে যাও

মুহুর্তের জন্যে হলেও ভুলে যাও আমি আছি
অর্থাৎ আমার অস্তিত্ব ভুলে যাও
অথবা তুমি তোমার সব কোলাহল ভুলে যাও
অথবা আরো (ভালো হয়) থেমে যাও চিরকালের মত

তোমার সন্তানদের আঘাতে জর্জরিত আমি হাসতে ভুলে গেছি
অর্থাৎ আমি এখন রুক্ষ মরুর বালুরাশি
অথবা চৈত্রের মাঠে এক ঝলক শুষ্ক হাসি
অথবা তার চেয়ে রুক্ষতা আর শুষ্কতায় আহত

তোমার দেহের এক অঙ্গ গিলে খায় যেনো অপর অঙ্গ
রক্ত আর জীবনের ক্ষুধা নিয়ত হারায় অনুষঙ্গ

তোমার সন্তানদের প্রাণ ঝরে খুন ঝরে

এক সমুদ্র রক্ত খেয়ে লালে লালে লাল হয়ে যাও
সর্বসহা তুমি তোমার সব যাতনা তবু সয়ে যাও।
…………………………………………..

কেমনে তোমায় মানুষ বলি

মানুষ মরে নাতো যেনো কীটপতঙ্গ মরে
রক্ত ঝরে নাতো যেনো ঝর্ণাধারা ঝরে
আকাশ কালো করে যেনো বৃষ্টি-বাদল নামে
কোথায় বৃষ্টি অশ্রু নামে সাগর হলো জমে
কেউ কখনো মৃত্যু এমন দেখেছে কি আগে
এসব দেখে তোমার মনে আঘাত কিছু লাগে
তোমার হৃদয় কোমল নাকি শুকনো মরুর ধূ ধূ
তোমারও মন কাঁদে নাকি দেখেই চলে শুধু
চনমনিয়ে ওঠে নাকি তোমার বুকের বামে
তবু যদি নাইবা জাগে তোমার মনের কলি
তোমার সে মন সুস্থ আছে কেমন করে বলি
তবু যদি কন্ঠ তোমার কলম তোমার তবু
মজলুমানের পক্ষে কথা নাইবা বলে কভু
কেমনে তোমায় মানুষ বলি তোমার কাজে-কামে!
…………………………………………..

সহস্র গ্রহের কক্ষপথে

সহস্র গ্রহের কক্ষপথে আবর্তন করে একটি নক্ষত্র
গ্রহেরা নির্বিঘ্নে ঘুমায়
নক্ষত্রের চোখে ঘুম নেই
এভাবে আবর্তিত হতে হতে
সময়ের আকাশ গলে বেরিয়ে যায় সে নক্ষত্র
শতাব্দীরা পাড় হয়ে যায় চৌদ্দ বা তার কিছু কম
অথচ এ সুদীর্ঘ সময়ের আকাশে
সে নক্ষত্র ফিরে আসে না
দুনিয়ার আকাশে সূর্য আসে
আলো দেয় পৃথিবী হাসে
সময়ের আকাশ আঁধারে থেকে যায়।

ফিরে এসো হে দ্বিতীয় প্রতিনিধি!
ফিরে এসো নীতি আর সাহস নিয়ে
অকৃত্রিম দরদ আর ভালোবাসা নিয়ে
আজকের আকাশ তোমার প্রতিক্ষায় রাত্রি জাগে।
…………………………………………..

কষ্টেরা জড়ো হও

কষ্টেরা এসো জড়ো হও
বুকের চারপাস জুড়ে
ব্যথা জমে মেঘলা হয়ে যাক
বুকের আশমান
তারপর বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ুক
কবিতার অশ্রু
সে অশ্রুতে ভিজে যাক
কোন ব্যথিত মনের শুকনো জমিন
ধুয়ে যাক তার পুরনো কোন ব্যথা
চাষ হোক সেথা নতুন জীবন
সার্থক হোক আমার কবিতারা।
…………………………………………..

এখন আমি নইতো একা

আমি আছি একলা জেগে সবাই ঘুমিয়ে,
চাঁদটা সাথে রয় জেগে তার জোছনা বিলিয়ে
আরো কারা জেগে আছে খুঁজতে গিয়ে দেখি
হাসনাহেনা কামিনীরা করছে চখাচখি
চলতে চলতে নদীর জলের খোশগল্প চলে
গাছের পাতা ফিসফিসিয়ে গোপন কথা বলে
তারই মাঝে বাতাশেরা শনশনা শনশন
কি জানি কি কানের কাছে শোনায় সারাক্ষণ
আসমানের অই মঞ্চে চলে বিরাট আয়োজন
আবছা আলো আঁধারিতে তারাদের নাঁচন
এমনি করেই মহাবিশ্বে রাতদিনা দিনদিন
জেগে থাকার কমপিটিশন চলছে বিরামহীন
এখন আমি নইতো একা সঙ্গে ওরা সব
তাদের সাথে চলবে আমার কথার মহোৎসব।
…………………………………………..

লুঠতরাজ

রাত নেমেছে চারদিকে
ঘুমের আবেশ করছে বিরাজ
চোরের দল সব তেল মেখে
সাজলো এবার চুরির সাজ
হাল নিয়েছে পাল নিয়েছে
বাশন-কোশন থাল নিয়েছে
গোলা ভরা ধান খেযেছে
শিনদুকেও হাত দিয়েছে
এবার ত রে সব হারাবি
জান মান তর সব খোয়াবি
আর কত বল ঘুম ঘুমাবি
জাগলি না তুই পেলিনা আন্দাজ।
…………………………………………..

সময় বয়ে যায়

সময় বয়ে যায়
সময় সেতো নয়
যেনো জীবন ক্ষয়ে যায়

জীবনের মতো সময়
সময় সম জীবন
সময়ের মতো জীবনের এই
মোমবাতি গলে যায়

সময় বয়ে যায়
জীবন ক্ষয়ে যায়
এক নিমেষে ফেলে আসা পথ
ইতিহাস হয়ে যায়।

জীবনের কতো সময়
সময়ের মাঝে জীবন
হিসেব মেলার আগেই ওরা
পরষ্পর ছেড়ে যায় ।
…………………………………………..

আমার সাথে কেউ না এলে

আমার সাথে কেউ না এলে একাই চলি
আমার জ্ঞানে ঠিক মনে হয় সেটাই বলি
শুধরে দেয়ার থাকলে কেহ শুধরে দাও
তোমার কথার সমর্থনে যুক্তি দাও

পথ জানা আছে
আর সাহস আছে

কাউকে না খুঁজে পাই
কেউবা না এলে তাই
রবো কি বসে!

বসে থাকা ভীরুতা
যার নেই দৃঢ়তা
সে থাকে বসে

পথে নেমে এসে ঠিক
পেয়ে যাবো পথের দিক

সময় এলে যেনো সাথিও পাবো
সেই সাথে প্রয়োজন যা খুঁজে নেবো
পথের যা প্রয়োজন পথেই আছে
মঞ্জিলটা আমার চোখে গেঁথেই আছে।
…………………………………………..

পরিবার

অনেকগুলো হৃদয়ের দানায় গাঁথা এক তসবিছড়ার নাম পরিবার
অথবা অনেকগুলো বকুলের গাঁথা এক সুদৃশ্য মালা
অনেক সুসংবদ্ধ পঙক্তির
অনবদ্য এক কাব্য

অনেকগুলো ভালোবাসার সহাবস্থান
অনেকগুলো সতর্ক চোখ
অনেক আদর কিঙবা শাসনের দৃষ্টি
অনেক অধিকার এবঙ সেই সাথে
অনেক দায়বদ্ধতা
অনেক স্মৃতির যাদুঘর

অনেক যত্নের সুরক্ষিত বাগান যেখানে জীবনের চারাগাছ বেড়ে ওঠে
আর ভালোবাসার সুবাস ছড়িয়ে দেয় বিশ্বময়।
অকলুষ ভালোবাসার সুবাসে সুরভিত পৃথিবীর সন্ধানে
অনিন্দ এ পৃথিবী ছেড়ে অন্য কোথাও যেওনা।