হায়রে অভিমানী

আর কতো অভিমান, হায়রে আমার অভিমানী, প্রিয় আমার,
তোমার অভিমানী তেজে জেনো ছিন্ন করে দিল!
শক্ত হৃদয় তোমার প্রখর তেজে কেঁপে ওঠে মন প্রাণ!
আমার শূন্য ভাসা ভারসাম্য হীন হৃদয়টাকে চলমান শিরা উপশিরাগুলো থমকে যাওয়ার অভিপ্রায়ে নিস্তব্ধ হয়ে আসছে!
জীবনের সাথে সংগ্রাম করে যাচ্ছি অনবরত, তুমি ও অভিমান করে চলছো অনবরত!
বেখেয়ালি আমি এক জাজাবর, কোন শূন্যতা ডুবে আছি আমি আজ একা!
জীবনের রঙিন স্বপ্ন ছিল অনেক, আজ আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, শ্বাষ নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, কোন খেয়ালিতে!
বড়ই অসহায় হয়ে ছুটে যাই দূর দিগন্তে, অবিরাম ছুটে চলেছি ধ্বিকদিক, অসহ্য যন্ত্রণার পাহাড় চাপিয়ে তুমি আড়ালে রয়ে গেলে লুকিয়ে!
নেই কোনো কুল কিনার নেই কোন ঠিকানা অস্তিত্ব আমার,
নির্মম প্রতিশোধ নিলে নিষ্ঠুর তুমি ছিলে ভাবেনি আগে!
আমার চরম দুর্দিনে তুমি চলে গেলে বহু দূরে মনের বেদনা নিয়ে একাই রয়ে গেছি আমি নিরালাতে!
ক্ষনিকের মায়াজালে বেধেছিলে তুমি, অভিমান করে কোথায় হারিয়ে গেলে!
সঙ্গ জীবন আমার একাই থেকে গেলাম জানি না পাব কি তোমার দেখা আর কোনদিন!
অভিমান ভুলে ফিরে যদি আসো, আমি আছি তোমার অপেক্ষায়!
…………………………………………..

চোখের সামনে ভেসে ওঠে

চোখের সামনে দূরে যখন সূর্য ডুবে যায়,
একলা এসে পায়ে পায়ে দাঁড়াই বারান্দায়!
ডুবতে থাকা সময় আমার ডুবতে থাকা আলো,
কী যেন কী বলতে চেয়েও কালোয় মিশে গেলো।

শেষ কথাটা বলতে ওরা পারলো না যে আর,
বলার আগেই নেমে এলো রাতের অন্ধকার।
সন্ধ্যা বেলায় এমন করে কেটে যায় আমার,
ভাবি মনে এমন টা কি হয় তার?

তোমার আকাশ মেঘলা করে তাকিয়ে আছো আমার প্রাণে,
আমার আকাশে বইছে বাতাস
তুমি এখন কোন খানে?

আকাশ ভরা জোছনায় ছুঁয়েছে আজ মনটি,
দেখবো পূর্ণীমার চাঁদ ধরো আমার হাতটি।

মিটি মিটি হাসছে তারা আমি কেন একা?
নয়ন ভরে দেখবো চাঁদ এসো হই দোকা।

তার ভাবনায় দিনকেটে যায় মনের গহীন ঘরে,
তার আশাতে বসে থাকি মনের ভিতর সুখের বৃষ্টি ঝরে।

তবু কেন হায়, হারিয়ে সে যায়, যায় না ধরা তারে,
যা পাখি যা উড়ে যারে দেখলে হৃদয় খানি নড়ে।

রয়েছি একা দাঁড়িয়ে পথ পাণে চেয়ে তার,
তোমার জন্যে তো জীবন নদী হবো পারাপার।
…………………………………………..

অভিমানী নারী আমি!

আমি সেই অভিমানী,
যে বুকভরা কষ্ট নিয়ে…
সবার সাথে হাসি।

আমি সেই অভিমানী,
যে সারাদিন হেসে খেলে…
মধ্যরাতে চুপিসারে কাঁদি।

আমি সেই অভিমানী,
যে রাগকে আড়াল করে বলে…
কোথায়! কিছুতো হয়নি!

আমি সেই অভিমানী
আমি কখনো অপমান করিনি
অপমান করেছো সোর্য ধরে সহ্য করেছি!

আমি তো সেই অভিমানী,
যে আজও তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি…
দিন রাত্রি সবখানে করে…!

আমি সেই অভিমানী
মন থেকে অনেক ভালোবেসে ছি…
যার মূল্য হীন বলে দূরে সরিয়ে দালে!

আমি সেই অভিমানী
সব কিছু আগলিয়ে রাখবো
বলে ভেবেই আমি এসেছি!

আমি সেই অভিমানী
যে টুকু সন্মান আমার ছিল
সেই টুকুতে তোমার নজর পড়েছে!

আমি সেই অভিমানী
আমার মনের আঙ্গিনায়
খুলে দিয়েছিলাম!

আমি সেই অভিমানী
কতবার কল্পদৃষ্টিতে ডেকেছি
বলেছি অনেক মান অভিমান থাকে
কিন্তু ভুলে যাবে আমার ভালোবাসা!

আমি সেই অভিমানী
অনেক কাছে চেয়েছি তোমাদের
আমার সব কিছু উল্টো মানি খুজেছো!

আমি সেই অভিমানী
পদে পদে তোমাদের খারাপ আচরণ
খুলো মেনে নিয়েছি অবশেষে পারিনি আমি!

আমি সেই অভিমানী
তোমার ছলনা- আমি বুঝে গেছি
আমি আমার সন্মান নিয়ে ফিরে এসেছি!

আমি সেই অভিমানী
পদে পদে বুঝবার চেষ্টা করেছি
আমি ব্যর্থ হয়েছি, তোমার জটিল মন ভাব দেখে!
…………………………………………..

কবি ছাড়া কবিতা হয় না

বারবার তুমি কবিতায় জড়াও কেন?
কবিতার সঙ্গে তোমার কিসের সখ্যতা?
লিখতে গেলেই কেন কলমের কালি হও
যেন তোমায় ছাড়া কবিতা না হয়?
নাকি চাও প্রতিটি অক্ষরে তিক্ততা ছড়াতে?
কেন আসো বলো!
কবিতা লিখি মনের আনন্দে যা সবাই বুঝে না
মনের সুখ দুঃখ প্রকাশ করি কবিতা লিখে,
কবিতা আমার জীবনের আলোর প্রদীপ
কবিতা লিখে প্রকাশ করি আমার মনের ভাষা!
যা মুখে বলা যায় না!
কবি কখনো চায় না তিক্ততা বাড়াতে, যদি
তিক্ততা থাকে কবির দোষটা কোথায়!
কবিতো ভাষা খোঁজে প্রতি নিয়ত ঘুরে ঘুরে!
যে যখন যেই ভাষায় লিখতে বলে সেই ভাষা ফুটিয়ে তোলে!
কলমের কালি ফুরিয়ে যাবে, কবির লিখা বন্ধ হবে না কোন ভাবে! কবি সুখে দুঃখে ছায়য়ার মতো কাছে থাকে ডাকে!
কবিকে অনেকেই গালাগালি করে, বড় দুঃখের বিষয়, কবির দোষ কোথায়, কবি দেখে তিক্ততা, কবি কি মিথ্যা লিখে যাবে!
কবিকে ভুল বুঝে ভুল করোনা!
কবির প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে কবি,
যে ভাবে সাজালে সত্য ঘটনা তুলে ধরা যায় এই
কবির চিন্তা ধারা, কবিতা লিখে যায়!
কবিতার সঙ্গে জীবন জড়িয়ে নিয়েছি, সত্য কথা লিখা আসবে কবির কলমে!
…………………………………………..

একদিন না হয় এসো তুমি

কাঁচের গায়ে বৃষ্টির জল”
জলছবি তো নয়- যেনো স্বপ্ন দেখা ভুলে,
জমানো অনেক কথা আছে মনের ঘরে,
একদিন তুমি এসো না হয় আমার কাছে!

আসবে তুমি আমার কাছে, মন
ভরিয়ে গল্প করে মন বুলিয়ে দিবো বলে, ডাকছি
আমি আদর করে!

কাঁচের গায়ে বৃষ্টি জল দেখতে এবার সবাই চল- ভালোবাসার ফুল দিয়ে বরণ করবো আমার করে!
আপন ভেবে আসবে তুমি ডাকবে আমার নাম ধরে!

আসবে তুমি আঁচল পেতে নিবো মায়ার বাঁধন খুলে দিব
আদর সোহাগে আমি দিবো, মনের
ঘরে জায়গা করে থাকবে তুমি তেমনি চিরদিন
আমার ঘরনী হয়ে!

কাঁচের গায়ে হাত দিয়ে জেনো, হাত কেটো না তুমি কিন্তু?
অবাক হয়ে তাকিয়ে রবো, তোমার চোখে চোখ রেখে,
মুচকি হাসির বায়না ধরে, কাছে এসে বসে যাবে!
কত কথা জমে আছে, ঠান্ডা মাথায় বলবো বসে!

আকাশ জুড়ে রঙ প্রলেপে, ঘেরা তোমার চারিপাশে!
আসবে যখন তুমি, শুনতে পেলাম আমি, মনের
আনন্দে ভরে গেলো আমার মনটা!
সেই জেনো এক জলছবি আঁকা, ভেসে ওঠে চোখের পাতায় !
…………………………………………..

আমার দুঃখের নেই শেষ

দুঃখের চোখের পানি হবে নীলা,
দুঃখ যত বেশি হবে নীল রঙ ততো গারো হবে!
রাগ এবং ক্রোধের অশ্রু হবে লাল!

দুঃখ এবং রাগের মিলিত কারণে যে চোখের পানি
তার রঙ হবে খয়েরি…
নীল এবং লাল মিশে খয়েরি রঙই তো হয়প্রতিটি জ্বলন্ত বাতির আলোর নিচে, অন্ধকার থাকে…,

প্রতিটি রাতের পরে সুন্দর একটি সকাল থাকে,
কিছু মানুষ জীবনে সমস্যা দেখে ভয় পেয়ে যায়,
প্রতিটি সমস্যার পিছনেও একটি সমাধান থাকে,
মনের জানালা ধরে উঁকি দিয়ে গেছে …!

যার চোখ তাকে আর মনে না রাখে
চেয়ে চেয়ে কত রাত দিন কেটে
গেছে অন্ধকারে ডুবে!

আর কোন চোখ তবু মনে ধরে না,
কতো ভাবে পড়ে চোখের জল!
দুঃখের নেই কোন শেষ!

জলন্ত মোমবাতি জ্বালিয়ে দিলে
হাত খানি পুড়ে যায় আমার,
দুচোখ বেয়ে পড়ে জলের স্রোত বয়ে !
…………………………………………..

শুভ রজনী

তুমি কি সেই কেয়া রেণু ?
বাতাসে ছড়ায়ে সুবাস ,
হৃদয়ে কি বাজাও বেণু ?

তুমি সেই মৃদঙ্গ লয় ?
তটিনী-বুকে রঙ্গ ভঙ্গে
যেথা, তরঙ্গ কথা কয় !

তুমি সেই মধু যামিনী —?
চন্দ্র যেথা লাজে আকুল,
শুকতারা হল কামিনী ?
কেয়া ফুলের পাপড়ি ভরা!

তুমি কি সেই রেনু,
কবিতার সাজাও কথায় আসে প্রতিবাদে…
যার কবিতার রূপ ধারণ করা যায়…
সুরে সুরে সুর মিলিয়ে!

যার ত্রিপ্ততায় প্রতিধনী
বাজে সুরে ঝংকার
মনের গহবরে চেয়ে দেখি

তারে অপরূপ সৃষ্টি তার
তুমি কি সেই রেনু?
যার ত্রিপ্ততায় কেয়া পাতার
আড়ালে লুকিয়ে থাকে!
…………………………………………..

পরিপূর্ণ কেউ নয়

পৃথিবী সবচেয়ে অসহায় সে,
যে নিজের রাগ, অভিমান কষ্ট…
কাউকে দেখতে পারে না!
একটু চিৎকার করে কাঁদতে ও পারে না!
শুধু হাসির আড়ালে চোখের জল লুকিয়ে
ভালো থাকার অভিনয় করে যায়
এরই নাম জীবন!
পৃথিবী কম বেশি প্রতিটি মানুষের কিছু না, কিছু
জায়গায় ঘাটতি অভাব থেকেই যায়, পরিপূর্ণ
কখনো হয় না!
কেউ নয়-এই পৃথিবীতে পরিপূর্ণ,
এই ভাবে সমাজের মাঝে বেঁচে থাকার আশা করে !
ফুল অনেক সুন্দর ফুলের ও কাঁটা আছে!
চাঁদ অনেক সুন্দর জোৎস্না রাতে চাঁদের আলোতে বসে কত গল্প করি !
সেই চাঁদের ও কলন্ক আছে, মানুষের তো পদে পদে ভুল,
মানুষের আদর্শ মানুষকে উচ্চ আসনে স্থান দেয়, সন্মান পায়, সন্মানের যগ্য বলে!
…………………………………………..

হায়রে অভিমানী

আর কতো অভিমান, হায়রে আমার অভিমানী, প্রিয় আমার,
তোমার অভিমানী তেজে জেনো ছিন্ন করে দিল!
শক্ত হৃদয় তোমার প্রখর তেজে কেঁপে ওঠে মন প্রাণ!
আমার শূন্য ভাসা ভারসাম্য হীন হৃদয়টাকে চলমান শিরা উপশিরাগুলো থমকে যাওয়ার অভিপ্রায়ে নিস্তব্ধ হয়ে আসছে!
জীবনের সাথে সংগ্রাম করে যাচ্ছি অনবরত, তুমি ও অভিমান করে চলছো অনবরত!
বেখেয়ালি আমি এক জাজাবর, কোন শূন্যতা ডুবে আছি আমি আজ একা!
জীবনের রঙিন স্বপ্ন ছিল অনেক, আজ আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, শ্বাষ নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, কোন খেয়ালিতে!
বড়ই অসহায় হয়ে ছুটে যাই দূর দিগন্তে, অবিরাম ছুটে চলেছি ধ্বিকদিক, অসহ্য যন্ত্রণার পাহাড় চাপিয়ে তুমি আড়ালে রয়ে গেলে লুকিয়ে!
নেই কোনো কুল কিনার নেই কোন ঠিকানা অস্তিত্ব আমার,
নির্মম প্রতিশোধ নিলে নিষ্ঠুর তুমি ছিলে ভাবেনি আগে!
আমার চরম দুর্দিনে তুমি চলে গেলে বহু দূরে মনের বেদনা নিয়ে একাই রয়ে গেছি আমি নিরালাতে!
ক্ষনিকের মায়াজালে বেধেছিলে তুমি, অভিমান করে কোথায় হারিয়ে গেলে!
সঙ্গ জীবন আমার একাই থেকে গেলাম জানি না পাব কি তোমার দেখা আর কোনদিন!
অভিমান ভুলে ফিরে যদি আসো, আমি আছি তোমার অপেক্ষায়!
…………………………………………..

গোধূলি সন্ধায বেলায়

এক সুন্দর এই গোধূলি সন্ধা বেলায়
স্নিগ্ধ হাওয়া বয়ে চলে
সূর্যের মতো একটু হেলে দুলে
দিগন্তে মুখখানি আড়াল করে,

চেয়ে থাকবো তোমার মিষ্টি মুখে.!
আকাশের প্রাণে চেয়ে দেখ…
কত না সুন্দর আকাশের নীলিমায়!
সেই নীলিমায়…

হারিয়ে যাবো তোমায় নিয়ে
যাবো দূরে বহুদূরে…
কেউ পাবে না খুঁজে থাকবো, চোখের
আড়ালে, আহা- ভুলেই তো গিয়েছি
গোধূলি বেলায় চেয়ে থাকবো? না

তোমায় ছুঁয়ে দিবো মধু লগ্নে,
পরশ-পাথর হয়ে থাকতে চাই বলে,
তোমাকে দিয়ে স্বপ্ন বোনাবো
সে- ই স্বপ্ন পূরণের সোরথি হবে বলে!

দেখেছি কত স্বপ্ন মেঘে ডাকা পড়ে গেছে আজ
দূর আকাশের নীল যাবো হাওয়ায় ভেসে
তুমি আমি দুজনেই, সেই মধু পূর্ণিমা রাতে,

চেয়ে থাকবো আমার আঁখি মেলে চেয়ে,
তোমায় আপন করে কাছে পেতে…
স্বপ্ন আমার পূরণ হবে এই গোধূলি সন্ধায়!