পদ্মার চরে, হঠাৎ করেই বুনো স্যাঁত, সেঁতে অঞ্চলে কয়েক ঘর জেলেদের বসতি গড়ে উঠেছে। এরা এতোই দরিদ্র যে মাছ ধরার জন্যে নেই কোনো বড় মাপের নৌকা বা জাল। মহাজনের কাছে ভাড়ার নৌকায় আর বিশাল জালে চলে মাছ ধরা, ইলিশ, কাতলা, রুই। দিনের শেষে সমস্ত মাছের বিনিময়ে সামান্য কিছু হাতে আসে, তাতে কোনো রকমে এদের দিনপাত চলে।

রহিম মিয়ার অবস্থা এদের সবার তুলনায় খারাপ। রহিম মিয়ার বউ আমিনা বেগম। বড় মেয়ে আহ্লাদি, বড্ড খাই খাই বাতিক, পেটতো ভরে না, ভাই বোন মিলিয়ে আট জনের সংসার। মহাজনের টাকায় চাল আলুতে সীমারেখা টানতে হয়। আহ্লাদির খুব ইচ্ছে করে একদিন ইলিশ মাছ খাবে, ঐ কালো জিরে কাঁচালঙ্কা দিয়ে ইলিশ ভাপা। রাতেও স্বপ্ন দেখে ঐ ইলিশ দিয়ে গরম ভাত খাবে। সংসার নামক জাতাকলের তীব্র দহনে আহ্লাদির মায়ের নাজেহাল দশা। শাড়িতে শত পটি দেওয়া, কাঁধের কাছে ব্লাউজ ছেড়া আর তার বড় মেয়ের রোজ বায়না সে কি না ইলিশ খাবে। যে সংসার মোটা ভাতের সাথে শাক অার তার সাথে বড় পাওনা হিসাবে পুঁটি সেই বাড়ির মেয়ের কি না এত সাধ!

আহ্লাদির বাবা আজানের পরই বার হয় মাছ ধরতে , আহ্লাদির রাতে ঘুম আসে না তেমন ভাবে, ঘুম আসলে বাবার সাথে কথা কওয়া হবে না। প্রতিদিনই আহ্লাদি বলে, বাবা আইসার সময় ইলিশ মাছ লইয়া আইস, ইলিশ খাওনের লাইগা মন কেমন করে। মেয়ের মাথায় বিলি কেটে দেয়। আহ্লাদির মা বলে, “বাপ-মাইয়ার সোহাগ দেইখা আর বাঁচি না।” তবে মনে মনে বড্ড খুশি হয় সে।

দূরে ঐ যে বট গাছ দেখা যায়, তার পাশে রায় বাবুদের বিশাল পুকুর আর তার পরেই আম, জাম কাঁঠাল, লিচু, নারকেল গাছে ঘেরা তাদের বিরাট বাড়ি। এত বড় বাড়িতে মানুষ বলতে ওই বুড়ি পিসি আর অনুপ্রভা। আহ্লাদির সমবয়সি হবে আনুপ্রভা , বারো বছর বা তার কিছু মাস বেশি। আহ্লাদি তক্কে তক্কে থাকে কখন সবাই একটু আনমনে বা ব্যাস্ত থাকবে আর এই ফাঁকে পেয়ারা চুরি করে খাবে সে। আহ্লাদি পেয়ারা গাছে ওঠে। ফল গুলো এখনও পুষ্ট হয়নি কাঁচা। তারই মাঝে রায় বাড়ির রান্না ঘর থেকে ভেসে আসে কি সুন্দর গন্ধ— ভাঁপা ইলিশের গন্ধ, আহ্লাদির চোখ জলে ভরে যায়। সে বারবার রান্না ঘরে উঁকি দেবার চেষ্টা করে কিন্তু অত দূর থেকে সব কিছুই ঝাপসা মনে হয়।

আহ্লাদি সন্ধ্যে বেলায় বাড়ি ফিরে সানকিতে ভাত খেতে বসে। আউশ ধানের ভাত আর শাপলা ভাজা।রাগে দুঃখে খাবার না খেয়েই উঠে আসে। আহ্লাদির মা চিৎকার করে বলে ওঠে, “তুই কোন নবাব কইন্যা, এই সব খাবার তোর রোচে না। এতো লোভ কেন রে, ভালো মন্দ খাওনের”!

এই কথা বলে তার চুলের উপর সর্বত্র রাগ প্রকাশ করে। সবেগে চুলের মুঠি ধরে বেশ কিছুক্ষণ টানাটানির পর রাগ প্রশমিত হয়। আহ্লাদি কাঁদতে, কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়লো। সারারাত ধরে রূপালী ইলিশ, অনুপ্রভার রেশমের শাড়ি,দীঘির মতো স্বচ্ছ চোখ, সব কেমন যেনো ভালোলাগা নিয়ে রাত কেটে ভোর হয়। পরের দিন আহ্লাদি আর বলে না, আব্বু ইলিশ আইনও।

পরের দিন সকালে আহ্লাদি তার ছোটো ভাই, আব্দুলকে নিয়ে পদ্মার পারে বসে থাকে।পদ্মার জলের দিকে তাকিয়ে তার দু চোখ ফেটে জল আসে। সেই কোন ছোট বেলায় তার ফুফুর বাড়ির দেশে গেছিল। সেখানে ফুফুর সাথে এক বাড়িতে দাওয়াত খেতে গেছিলো সে, সব কিছু অস্পষ্ট… তেমন মনে পড়ে না, তবে ঐ ইলিশ ভাপার কথা বেশ মনে পড়ে। ছোট্ট, ছোট্ট আঙুল দিয়ে ইলিশের উপরের নরম অংশ পরম আনন্দে খেয়েছিলো আর বাকিটুকু সরু, সরু আঙুল দিয়ে নিখুঁত ভাবে ঐ টুকুন বয়সে কাঁটা বার করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলো। গরম ভাতে সেই ইলিশ এর স্বাদ আজও সে ভুলতে পারেনি। ছোট্ট ভাই দিদির চোখে জল মুছিয়ে দিলো। আধো, আধো গলায় দিদিকে চুমু খেয়ে, ছোট্ট দুই হাত দিয়ে দিদির গলা জড়িয়ে ধরলো। গরীব মানুষের আর কিছু না থাক স্নেহ টা সত্যি বড্ড খাটি।

পদ্মার বুকে যে বিশাল বিশাল নৌকা ভেসে বেড়ায়, আহ্লাদী সেইসব নৌকার জেলেদের উদ্দেশ্যে বলে, “ইলিশ কি জালে উঠলো”। কেউ সে ডাক শুনতে পায় কেউ পায় না। আহ্লাদী পদ্মার জলের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তারপর ছোট্ট ভাইকে কোলে করে পাখির বাসা দেখতে যায়। ময়না পাখির বাচ্চা দেখে ছোট্ট আব্দুল খিলখিল করে হেসে ওঠে। আহ্লাদীর খুব ইচ্ছে করে ময়নার বাচ্চা পুষতে কিন্তু মনে, মনে তার মাকে খুব ভয় পায়।

পরের দিন বৃহস্পিবার- লক্ষীবার। অনেকে হাটে পদ্মফুল কিনতে আসে, যেই ভাবা অমনি কাজ। বাড়ি থেকে খুব ভোরে গজনার বিলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিলের ধারে হিজল, ডুমুর, বন্যা গাছ। বন্যা গাছ একেবারে হেলে পড়েছে, ওর ফল গুলো জলে ভাসছে, কৎবেলের মতো লাগছে দেখতে। ডুমুরের ফল জলে ফুলে রসগোল্লার তো।

বিলের সে কি রূপ, যেন ভোরের বেলা নতুন বৌ এর মত সেজেছে, আহ্লাদি হেসে বলে বিল বউ। আহা কি ঢং, কী সেজেছে। বিলে শাপলা ফুল ফুটেছে।কচুরী পানার ফুলে বেগুনি রং এর ছটা। কত পদ্ম ফুটেছে। আহ্লাদী মুখ বেঁকিয়ে বলে, দেখ বিল বউ তোর কতো সাজার জিনিস!

আর আমার কিছু নেই, আর আমার চুল বাঁধার ফিতেও নেই, বিচুলির ফিতে দিয়ে চুল বেঁধেছি। মনের অজান্তেই টপ টপ করে চোখ থেকে জল পড়তে লাগলো আহ্লাদির। দু’হাত দিয়ে চোখের জল মুছে আর ভাবে— নাহ্, সময় নষ্ট করার মতো সময় তার নেই।

সাঁতার দিয়ে কিছু পদ্ম ফুল তুলে আনে। ভিজে জামা থেকে জল নিংড়ে বার করে নেয়, শরীরে জল শুকিয়ে যাবে। এমন অনেক বার হয়েছে।সেই ভেজা শরীর নিয়েই হাটের উদ্দেশে রওনা হয়, বিরাট হাট কত কী বিক্রি চলছে। এক কোনায় কাচুমাচু হয়ে ফুল গুলো বিক্রি করতে বসে , বেচা কেনা মন্দ হয় না। হাতে টাকা আসে। তার প্রথম উপার্জিত অর্থ দিয়ে, ইলিশ কিনবে বলে দৌড়ায়। বড়, বড় মানুষের ভিড়, আহ্লাদি উঁকি মারতে থাকে, ইলিশের দাম শুনে আঁতকে ওঠে। ঐ বড় মানুষদের শরীর থেকে কি ভীষণ দামী গন্ধ ভেসে আসে, কিন্তু তার বমি পায়, লজ্জায় , ভয়ে সে কোনক্রমে হাট থেকে বাড়ি ফিরে আসে। আহ্লাদীর আর ইলিশ কেনা হলো না।

পথের ধারে নীলু ময়রা জিলাপি ভাজছে। আহ্লাদির পেটে এমনিতেই বড্ড খিদে, সাঁতরে পদ্মফুল তোলা, সব মিলিয়ে পেটে যেনো ছুঁচো দের দৌড় প্রতিযোগিতা চলছে। সে মুখখানা একটু বাড়িয়ে, কড়াই এর গরম তেলে সাদা ময়দার প্যাঁচানো নকশা থেকে জিলাপী গুলো কীভাবে এমন হলদে রূপসী হচ্ছিলো তাই ভেবে বেশ আনন্দ উপভোগ করছিলো। নীলু ময়রা জিলাপি গুলো পিতলের রেকাবিতে সাজিয়ে রেখেছে। তার মুখ জলে ভরে গেলো, ঢোক গিলে জিলাপি কিনতে যাবে, ঠিক সেই সময় তার মনে হলো— না এই পয়সা থাক, এ পয়সা তার ইলিশের জন্যে জমানো, পয়সায় কোনো মতেই হাত দেওয়া চলে না। আহ্লাদি হাঁটতে থাকে, পথের ধারে বেশ কিছু করমচা তুলে আঁচলে বেঁধে নেয়।

আর কিছু মুখে পুরে চিবোতে চিবোতে, রাস্তার পাশে কালো ছাগল এর শিং নাড়িয়ে, বিড়ালের বাচ্চার লেজ টা টেনে সে যে কি খুশী হলো সেটা স্বয়ং সেই বলতে পারে। একটু দূরে বেতের ঝোপ দেখতে পেলো। পায়রা নাচন পাখি কুলোর মতো লেজ তুলে কী সুন্দর নাচছে। আদুরী পাখির সাথে মিষ্টি স্বরের কি যেন বলতে লাগলো। বেত বন থেকে কিছু বেতের ডগা তুলে নিয়ে এলো, এর সেদ্ধ খেতে বেশ লাগে।

একটু দূরেই অনুলেখাদের বিশাল বাড়ি। চোখের সামনে ভেসে উঠলো নারকেল গাছ, সবেদার গাছ, বকুল গাছ আর আনুলেখার মিষ্টি হাসি, রেশমের শাড়ি, কাচের চুড়ি মন যেন কেমন শূন্যে ভাসতে ভাসতে মেঘেদের সাথে মিশে গেলো। হঠাৎ আহ্লাদির ছোট্ট ভাই এর কথা মনে পড়ে গেলো, বুকের মধ্যে একটা চিনচিনে ব্যথা অনুভব করলো। নাহ, আজ আর আনুলেখার বাড়ি যাবে না, বাড়ি ফিরতে হবে খুব তাড়াতাড়ি।

বাড়ি ফিরে দেখে তার আম্মু পাশের জলা জায়গা থেকে কলমির শাক তুলছে আর বেশ উচ্চস্বরে আহ্লাদির দোষ কীর্তন করছে। কি আর করা, সে চোখ ছলছল করে, কোমরে গুঁজে রাখা টাকা গুলো, পুটলিতে বেঁধে বারবার জায়গা পরিবর্তন করা সত্বেও মনের স্বস্তি মিললো না। শেষে অনেক ভাবনা চিন্তা করে চৌকির তলাতেই পুটলীর নিরাপদ আশ্রয় মনে করলো।

মনে স্বস্তি পেয়ে ছোটো ভাইকে কোলে নিয়ে মুখখানা কেমন গোবেচারা করে মায়ের পেছনে দাঁড়ালো। আমিনা বেগমের এই অপদার্থ মেয়েকে দেখে পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত জ্বলে গেলো, বেশ জোরের সাথে হাতের পাঁচ আঙুল বসিয়ে দিলো, আহ্লাদির টোল খাওয়া গালে। ঘরকন্যার সমস্ত কাজকর্ম দায়িত্ব তকে দেওয়া হলো, কারণ হিসাবে এটাই বলা হলো যে আমিনা বেগম পনের বছর বয়সে, আহ্লাদির জন্ম দিয়েছে। আহ্লাদি, শান্ত নরম গলায় বলল, “আজ কি পাক হইবো কইয়া যাও”। আমিনা বেগম গলায় মাখন লাগিয়ে বললো, মা আমার তুমি নবাব জাদীর কন্যা, ঘরে কত কি আছে দুধ, দই, ঘী, মাংস আর কত কি, তোমার যা মনে লয় করো।” এই বলে আমিনা বেগম তার আর এক কন্যা ফুলির হাত ধরে বললো চল বিলে। বিল থেকে ঢ্যাপ নিয়ে আসতে। ঢ্যাপের খই ওর বেশ লাগে।

আহ্লাদি মাটির কলস থেকে আউস ধানের লাল চাল ধুতে, ধুতে ঐ অনুলেখাদের বাড়ির সাদা ফুরফুরে জুঁই ফুলের মতো ভাতের কথা তার মনে পড়ে গেলো। ঐ যে সেইবার অনুলেখাদের জামরুল গাছে খুব জামরুল হলো, স্তব্ধ দুপুরে আহ্লাদি চুপ করে বসে থাকতো আর মনের স্বাদে জামরুল খেত। একদিন আহ্লাদির চোখে এক নান্দনিক দৃশ্য ধরা পড়লো। অনুলেখাদের বাড়ির বামুন ঠাকুর বিশাল পিতলের রেকাবীতে, সাদা জুঁই ফুলের মতো ভাত আর তার পাশে হলুদ রঙের ভাত আরো কত কি সাজানো বাটিতে। দূর থেকে অত বোঝা গেলোনা। অবশ্য বোঝা গেলেও তার সাথে আহ্লাদির কতটুকু বোঝা পড়া সেটা সহজেই অনুমেয়।

একটা ঘটনা হঠাৎ আহ্লাদির মনে ভীষণ নাড়া দিলো। সেই সময় পৌষ মাস। অনুপ্রভার বাড়িতে পিঠের আয়োজন চলছে, সেদিন ওদের বাড়িতে প্রচুর নামি দামি লোক এসেছে। আহ্লাদি তাকিয়ে দেখছে কত দামী দামী গাড়ি। এমন সময় অনুপ্রভার বুড়ি পিসি বলছে, এই মেয়ে ঢেঁকি একটু পাড় দিয়ে দে, নেপার মা এখনও আসে নি। তোকে দুপুরে খেতে দেবো। আহ্লাদি মনের আনন্দে ঢেঁকি পাড় দিয়ে দিলো। দুপুরে ঢেঁকির বারান্দায় ভাত দেওয়া হলো। সাথে ডাল আর পুঁটি মাছের ঝাল। আহ্লাদি যে কি খুশি হলো। ভাতের অর্ধেক ডাল দিয়ে মাখিয়ে মুখে তুলবে— এমন সময় রান্না ঘরের ভেতর থেকে অনুপ্রভার পিসির গলা শুনতে পেলো, বললো ডিম ভর্তি ইলিশের পেটি আছে ভাপা রান্না হয়েছে। একটু মুখে দাও বৌমা, মিহি গলায় বললো, না ইলিশে বড্ড কাঁটা, খাওয়া যায় না।

আহ্লাদির এই কথা শুনে গলার কাছে কি যেন শক্ত হয়ে এলো। চোখের জল টপটপ করে ভাতের উপর পড়তে লাগলো। কতো দেরি হলো এইসব ছাই পাশ ভাবতে ভাবতে। তাড়াতাড়ি চাল ধুয়ে ভাত বসিয়ে দিলো। কলমির শাকের কলমির শাকের ঘন্ট করবে। হঠাৎ বেড়ার ফাঁক দিয়ে দুটো চোখ দেখা গেলো। আহ্লাদি নদীর ওই পারে যাবিরে, ময়নার বাচ্চা আছে নিয়ে আসি। বুঝলো ঐ পাড়ার পুঁটি এসেছে। আহ্লাদী বললো না, কিন্তু পুঁটি নাছোড় বান্দা। নদীর ঐ পারে পাখির প্রচুর বাসা করেছ, চল নিয়ে আসি। তারপর বলল, ঐ বাড়িতে বাছুর হয়েছে, ওর নাম কাজলী। ওর মা মরেছে- বাছুরটা জোলা, জোলা চোখে চায় এদিক ওদিক আর ওর মাকে খোঁজে। যাবি দেখতে? কিন্তু কিছুতেই কাজ হলো না, সমস্ত প্রলোভন ব্যার্থ হলো। বেশ কিছুটা বিরক্ত হয়ে ভেংচি মেরে পুঁটি রওনা দিলো।

সন্ধ্যার দিকে আমিনা বেগম আর ফুলি ফিরে এলো শাপলা আর ঢেপ নিয়ে। আহ্লাদির ছোটো ভাইটার শরীর ভালো নেই। গায়ে জ্বর, জ্বর ভাব। গায়ে কাঁথা দিয়ে শুইয়ে রেখেছে ভাইকে। মাথায় জল পট্টি দেওয়া হলো কিন্তু জ্বর নামে না। হঠাৎ ভোরের দিকে তীব্র শ্বাস কষ্ট, যমে মানুষে টানাটানি কিন্তু ঘরে একটাও পয়সা নেই। আহ্লদির হঠাৎ মনে পড়লো পুটলির কথা।টাকার পুঁটলি বাবার হাতে তুলে দিয়ে বললো, “তাড়াতাড়ি ডাক্তার লইয়া আইস বাবা।” আহ্লাদিকে জড়িয়ে ধরে বুকের কাছ নিলো, মা তুই আমার সবচাইতে বড় সম্পদ। আহ্লাদির চোখের জল এলো, সব ঝাপসা হলো। ইলিশের গন্ধ কোথায় মিলিয়ে গিয়ে— এক নতুন স্বর্গীয় সুখ অনুভব করলো।