ভাবনার সাতকাহন

মাধবীলতার কম্পমান নৃত্য
মনের গোপন স্নানাগারে।
মেঘবালিকার শুভ্র কেশে
ক্ষনিকের আবেগ রেখে,
নাইবা হলো জোয়ার ভাটা
নষ্ট হৃদয়ে অচিন সুরের মুর্ছনা।

প্রজাপতি মন উড়ে দক্ষিণা জানালায়
সোনালী রোদের বিভোর ভালবাসায়
রক্তিম আকাশ গায় মেঘমল্লার
সুরে
সীমাহীন দিগন্তের নীল নীলিমা জুড়ে।

কৃষ্ণচূড়ার গাঢ় লাল রঙে রাঙা, লাল বেনারসি শাড়ির আঁচল
কল্পনায় সমাবৃত হয়ে বিলাসী প্রেম,
অর্থহীন জীবনে মুক্তিপত্রের খোঁজে।

নীলাাম্বর- একবার এসো,শুধু একবার।
শঙ্খচিলে নাইবা এলে
কৃষ্ণ মেঘের ভেলায় এসো।
জেনে যাও আমার ভালবাসার সাতকাহন।
…………………………………………..

দ্বিধাবিভক্ত

মর্মযাতণা বয়ে বেড়ানো যে কত কষ্টের, কত বেদনারা
প্রতিনিয়ত তা ভাবনায় করে চলেছে কড়াঘাত।
রঙিণ স্বপ্নের স্বপ্নজাল বুনন অতীত হয়েছে কুড়ি কুড়ি বছরর ওপাড়।

প্রকৃতি যখন উপহার দিয়েছিল অসহায়ত্বের বোবা কান্নার ভাষা!
স্বজনের চাপিয়ে দেয়া ভুলে বাস্তবতার কষাঘাতে করেছিলাম নতিস্বীকার।
সে ভুলের অযুত নিযুত অভিযোগ…
দুধের কাফনে প্যাঁচিয়ে মনের গহীণে করেছি দাফন।
জীবন সন্ধি নামের এ ভুলের জন্য কোন দুঃখবোধ নেই আর আমার।
খণ্ডিত এক একটি ভুলকে সাজিয়েছি একেক রংয়ে,
আর তাই দিয়ে গেঁথেছি আশ্চর্য এক মালা।
সে মালার রঙিণ ফুলের ঘ্রাণে ম্রিয়মাণ মধ্যবয়সী চাঁদ।

মেঘের ভেলায় ভেসে রাতের আঁধার ধীরলয়ে ঝাপসা হবে।
কিন্তু তা বলে সকালের রোদ কোনদিনও ঝলমল করে উঠবে না,
আমার মেনে নেয়া ভুলের সাজানো বাগানে।

কেউ কেউ কখনো ফেরে না,
তুমিও না হয় নাইবা ফিরলে
তোমার জন্য আমি দ্বিধাবিভক্ত হলে।
…………………………………………..

অবধ্য দেবতা

উচ্ছিষ্ট হৃদপিণ্ডের ক্ষতে
কত যজ্ঞ সাধন নিম রাজি অনুভূতির…
ভুল সময়ের নির্লজ্জ বিজ্ঞাপনে
মন খারাপের অবয়বে পিপাসিত দেনা!

অধোগত আত্মার নৈঃশব্দে নির্মাণ
ধ্বংসের ইমারত…
দরজায় দণ্ডায়মান পিপাসিত যম রাজ
মৃত্যুই যেন পরিত্রাণ।

রহস্যময় বর্তমানে ধুসর অতীত ধোঁয়া তোলে
দীর্ঘশ্বাসের সুদীর্ঘপথে জুঁড়ে অদ্ভূত বিরহ…
অশরীরী আত্মার যবনিকায় ভগ্নাংশের রহস্য,
উদাসী দৃষ্টির অনন্তলোকে ঋণগ্রস্থ প্রেম!

অমেয় দূরত্বে অন্তর্যামী, হৃদয়ে যার বাস
তবুও অবক্ষয়ে রক্তক্ষরণ
প্রার্থনার অর্ঘে লাঞ্ছনার কশাঘাত…
অতঃপরও,অবধ্য দেবতার উচ্ছিষ্ট ভোগ…
…………………………………………..

শীশমহল

শূণ্যপুরানের ঘোরলাগা সন্ধ্যায়
পুন্ড্রনগরের পন্ডিতরা কি জেনেছিল, অন্দরে তার প্রাগৈতিহাসিক সংসার!
স্মৃতির সংলাপ বিমুখতার ধ্যানে অকস্মাৎ পিছুডাকে কিছু উপভোগ্য গল্প,
খেরোখাতায় যা সঙ্গিবিহীন সময়ের ঋণ।
আগোছালো জীবনের ভাঁজে ভাঁজে
প্রাণোচ্ছল রমনীর শিরোনামহীন খবর
নিগুঢ় রূপালী জোছনায় ভেসেছিল কালের স্রোতে।

সোনার ছিটকিনিতে পিতলের প্রলেপ দেয়া কপাট,
ভেতরে কাঁচের দেয়াল বেষ্টিত
ভারি বাতাসে আটকেছিল দম,
শীশমহলের নগ্ন মেঝেতে জ্যামিতিক ছকে যে অপ্সরী দেহভাঁজে পড়ে ছিল, তাকে দেখে লাগছিল সে যেন ঠিক
স্থাপত্য মননে স্থপতি।
আর নেপথ্যে …
চৌম্বকীয় কক্ষপথের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে
তন্ত্রের সাধক উচ্চশিরে সিদ্ধপুরুষ।
…………………………………………..

সুনীল সাদৃশ্য

যদি তুমি আমায় ভালোবাস …
বিশ্ব সংসার তন্নতন্ন করে খুঁজে আনা সুনীলের ১০৮ টি নীলপদ্মে তনু ঢেকে নেব।
সময় ফেরত সূর্যটাকে আমার অধিকার ভেবে নেব,
জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাজবে বোষ্টুমীর একতারার সুর ।

যদি তুমি আমায় ভালোবাস…
বরুনার সুগন্ধী রুমাল ছুঁয়ে কপোলে
বুকে ভরে নেব তোমার নামে বিশুদ্ধ বাতাস,
চির বসন্তের অনুভূতিতে তোমার প্রণয়িনী হব
অবিরল রঙের ধারার মধ্যে
খুঁজে পাবে আমাকে তোমার ভালোবাসার বৃত্তে ।

যদি তুমি আমায় ভালোবাস …
নাদের আলীর তিন প্রহরের বিলে তরীতে ভাসবো দু’জন,
পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমরের খেলা দেখবো।
তোমার বুকে চোখ লুকিয়ে রাসের রঙে রাঙ্গানো আমি,
হাতে পুরে নেব চৌধুরী রমণীর সুবর্ণ কংকন।
…………………………………………..

আবছায়ার অন্তরালে

রাত্তির ঘন আঁধারে
নির্জনতার শব্দগুলো…
মন খারাপের বৃষ্টিতে
চুপিসারে গড়ায় …

গহীন সে চোখের তারায়
আছে এক সমুদ্র জল,
আর সে গহ্বরে
একরত্তি আকাশ।

করতলে রাখি সুখ
ঠোঁটের কোণে চাঁদের হাসি,
আবছায়ায় থাকে ছায়ার কঙ্কাল
ফের রাত পেরুলেই অন্য আমি।

বহমান জীবনের চোরাস্রোতে
ভেসে থাকে বিরল প্রত্যাশা,
জমে থাকে যোগবিয়োগের
অমিমাংসিত ভুল হিসেব।

রাত পোহালেই
কফির বাদামী রঙে চুমুক দেই,
ভুলে যাওয়ার অভিনয়েপারদর্শি
মধ্যরাতে অলৌকিক ধোঁয়া…

আরোগ্য সাধনে ব্যস্ত জীবন
চোখ ভর্তি ঘুমের পিপাসা,
তামাটে আকাশের স্বপ্ন বাঁচে
আমার বিষণ্ণ জীবন…
…………………………………………..

অন্তহীন মহাকাল

বিচ্ছুরিত আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখে
শ্মশানের পোড়া গন্ধ শুকে শুকে
জেগে আছে আমার ব্যাকুল হৃদয়,
আদিঅন্তহীন মহাকাল।

আমি আমার এ বুকে
শ্মশান কিংবা গোরস্থান চাই না,
দগদগে ক্ষতের জ্বালা আর চাই না…
আমি তোমার সবটুকু অধিকার চাই।

ভালবাসার পথে হেঁটে হেঁটে
আমি কিংবদন্তী হতে চাই।
প্রতীকী প্রেমের গীতাঞ্জলি চাই না
আমি শুধু অমিয় ভালবাসা চাই।

যে পথ তোমার গন্তব্যহীন
আমি সে পথে হাঁটতে চাই না…
শুদ্ধ হও, শুদ্ধতা চাই
স্বর্গীয় আশীর্বাদে তুমি শুধু পরিশুদ্ধ হও।
…………………………………………..

গন্ধমকুমারী

হৃদয়হীন পাথরের নির্মম আঘাতে ক্ষত বিক্ষত রক্তাক্ত বুকের জমিন।
যে পাথর সঙ্গমে আমি নারী হয়েছি,
বিজ্ঞানের কল্যাণে জরায়ুতে বীর্য ধারণে পেয়েছি নারীত্বের পূর্ণতা।
ডিম্বাণু শুক্রাণুর সে মিলনে যৌবনের উন্মাদনার জৈবিকতা,
যেখানে তোমার বীভৎসতায় ক্ষণকালের ভোগ বিলাস।
ক্রমেই বুকের দেয়ালে জমতে থাকে শেওলা।
না, সে শেওলা ছেঁচে ধুয়ে চুনকাম হয়নি কখনো..
আগাছা জমে জমে পঁচে ফাটল ধরেছে আজ দেয়ালের ধুসর শরীর।
কখন যে ভেঙে পড়বে রিখটার স্কেলে নিম্ন মাত্রার ভূমিকম্পে।
দেয়ালের সে ফাটল ঠেসে হেলান দিয়ে দাঁড়ানো গন্ধম ফলের বীজে গজিয়ে উঠা
চারাগুলো মহিরুহ হবার জন্য দিন মাস বছর গড়িয়ে যুগ আরো যুগের অপেক্ষায়…
বড় একঘেয়ে হয়েছে আজকাল একই হালচালের নির্মমতা,
বয়সের ভারে নয়- শরীরটা আজ ক্লান্ত অবসন্ন,
আঘাতের ক্ষতচিহ্ন দেয়াল জুড়ে আর হৃদয় অতলে…
প্রত্যাশিত জীবনের স্বপ্নরা ধুলোয় মিশে তোমার পদতলে।
সহিংস্র থাবা জমা হিংস্রতার চর্বিতে তাণ্ডবের গর্জন শোনায়।
চলে বেসাতি বুভুক্ষু কষ্টের হাইফেনে দুরূহ দিনাতিপাত।
অসুস্থ ক’ফোটা নষ্ট বীর্যের পাপের প্রায়শ্চিত্ত …
পৃথিবীর সমান ভালবাসার আয়ুরেখায় আত্মার আত্মজরা।
…………………………………………..

অভিপ্রায়

তোমার সাক্ষাত চাই-
কবে আসবে?
শুক্র না শনিবার?
আচ্ছা তোমার মনে আছে,
কোন মাসে বৃষ্টি হয়?
কোন ঋতুতে কদম ফোটে ?
গর্ভফুলে কখন সাজে নারীবৃক্ষ?

বলতো গাছবাগানে পাখির বাসা দেখতে কেমন?
ভালোবাসায় জড়িয়ে বৃষ্টিস্নান কেমন লাগ?

তুমি যখন আসবে-
শুভ্র কেয়াপত্রে লেখা-হৃদয়ের বিকেলগল্পে সময় গড়িয় যাবে কদমফোঁটা বৃষ্টিরাতে।
আষাঢ় ভাসা তারাবনে গুনগুনিয়ে গাইবো সুরে…

ভালোবাসায় ভিজে যখন স্নাত হবে বকুলমন,
তখন আষাঢ়ের শান্তজলে গভীর রাত নামবে,
দুচোখ ভিজে যাবে বৃষ্টিপাগল মাতাল জলে
হাতে হাত রেখে…
…………………………………………..

অপরিত্যাজ্য আত্মা

ভীষণ মন খারাপের বেলাভূমিতে
ঘৃণার নিকষ কালো মেঘে ছাওয়া
আঁধারে ঢাকা স্বপ্নিল প্রান্তর।
আবেগের ভয়াবহ মত্ততায়
অসমাপ্ত স্বপ্নেরা নিহত।
অনুর্বর মগজের
সন্ন্যাসী ভালবাসা
অন্ধকারের ফুল হয়ে ফোটে।
ধূসর নিঃস্তব্দতায়
নীরবে, নিভৃতে, সংঙ্গোপনে স্পর্শের অনুভবে
অপরিত্যাজ্য দু’টি আত্মা।
অংকুরিত ক্ষোভে
কষ্টের কালো রঙ,
কবিতার আশ্রয়ে
ক্লান্তিতে হেলান দিয়ে
বিবেকের কাঠগড়ায় বন্দি।
মুক্তোর মত স্থির সুখ
বেদনা হয়ে লুটায়
ছায়াহীন পাহাড় চূড়ায়।
হৃদয়ালক্ষে…
শব্দ,বাক্য,অক্ষরে
বিন্দু বির্সগে
প্রকৃতির মতো অকৃত্রিম হই।
অতঃপর
হৃদয়ে বজ্রপাতের কম্পনে,
নির্জন দ্বীপের মত নিঃসঙ্গ হই।