বৈরাগ্যের সাধনায়

নীল আকাশ আর ধূসর মাটিতে
এক দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে হয়েছি বিফল।
তোমার প্রতিদিনের অগ্রগমন হয়তো কারো
নজর কাড়ে না; কিন্তু আমিই দেখি।
কত দুঃখে কাটছে জীবন!
সকালের টাটকা রোদ্দুরে স্নাত হয়ে
মিশে গেছি হাজারো মানুষের ভিড়ে।

আমাদের ভার ত্যাগ করতে হয়-
সরল হবার, নির্মল হবার সাধনায়।
ওঠে বৈরাগ্যের ঝড়…
চেতনার জগতে আবার।
…………………………………………..

একটু ক্ষুধার দানা

কোন এক আতঙ্কে কাঁপছে বুক আমার,
জোয়ার- ভাঁটার মতো সব ওলোট-পালট হয়ে গেল।
শুধু সেল ফোনের অন্য রিং-টোনের ভাষায়,
বাক্যালাপে প্রকাশ পেল অদ্ভুত নির্ভীকতা।
তখন তোবড়ানো টিনের বাটি হাতে,
নোংরা সকাল আর এক ভিখিরি দাঁড়িয়ে আছে।
তাই দেখে অন্ধকার পিছনে মুখ লুকালো।

তাদের জন্য কী উপহার দেব ভাবছিলাম!
আলোকিত বলিষ্ঠ কবিতার পৃথিবী দেব,
নাকি, ‘আলো’; নাকি, একটু ‘ক্ষুধার দানা’?
…………………………………………..

আমার কবিতা পড়ে

বিশ্বাস করো-
আমি তো তোমাদের মতো বাঁচতে চেয়েছিলাম,
মোমবাতি নিভিয়ে পরিবারের কথা ভেবেছিলাম,
আর পৃথিবীকে জীবন্ত সবুজ সুন্দর গড়তে চেয়েছিলাম,
কিন্তু বৈঁচিমালা গলায় দিয়ে এখন ধিন ধিন করে নাচছি।
কারণ একটাই-
কেউ কথা রাখে নি।
সনাতন পাঠকরা জানবে, এ যুগে কেউ কথা রাখে না!
তবুও; একটা জিনিসের অপেক্ষায় আমি আজও…
আমার কবিতা পড়ে যদি ডাকাতও প্রেমিক হয়,
মঙ্গল গ্রহে যদি আমার ছোঁয়ায় মুক্ত বিশ্ব শুরু হয়,
আর আদিম সেই প্রথম গুহায় মোমবাতি জ্বলে ওঠে,
তবেই আমি- একবার নক্ষত্রের পানে-
একবার তোমার হৃদয়ে আমার কবিতা পড়ে শোনাবো।
…………………………………………..

ওমের শাবক

ক’দিন পরেই না আমার বিদায়…
কেটে যাচ্ছে ঘোর শীতকাল, জামাকাপড় ছেড়ে,
সত্যি আকাশ বাতাস আজ ভীষণ স্নিগ্ধ।
রাত জাগা পাখি ঠায় বসে আছে বৃক্ষের শাখায়।
সারা রাত দুপুর ঘুরি গলির এ-বাঁক ও-বাঁক,
ক’দিন বাদেই না আমার বিদায়…
নক্ষত্র খচিত নীড়ে আমি সেই ওমের শাবক।
…………………………………………..

বুভুক্ষুদের খবর

কার সঙ্গে কর তুমি শঠতার পরিহাস!
নাও একেই নিজের করে নাও;
তখন নীল আলোয় দেখল সে,
চাঁদনি রাতের আর এক দৃশ্য।
ঠিক যেমন….
ইংরেজদের নকল করা বিদ্যেগুলো।
ঐ পেটের উপর গঙ্গার জল ঢালছি,
শুনিয়াছি গঙ্গার জল নাকি অতি পবিত্র।
তাদের খবর কেউ রাখেনি কখনো,
এ সব জানে শুধু মৌমাছি ও আমি।
…………………………………………..

আমি জন্ম নিয়েছি

আমি তো ‘অরণ্যের অধিকার’ লিখতে পারিনি,
কিন্তু, অরণ্যকে যে বড়ো ভালোবাসি।
সেখানে ছিল কালো চামড়ার মানুষেরা,
যাদের কালো শরীরে রক্ত বড়ো লাল দেখায়।
তারা সবসময় মন্ত্রাবিষ্টের মতো বলে চলত,
আর আমি শুনতে শুনতে শুদ্ধশুচি হয়ে যেতাম।
তারা বলেছিল-
আমাদের বুক থেকে একটা সবুজ গাছ জন্ম নিক।
এখনো; দেখি সবুজ গাছ কাটলে, তাই…
তাদের সেই কালো শরীরের রক্ত বড়ো লাল দেখায়।
এখনো; আমার বুকের প্রত্যেক লোমকূপ থেকে,
একটা সবুজ ঘাসের জন্ম নেয়।
এখনো; তুমি আমার প্রথম ও শেষ ভালোবাসা
এখনো; তোমার মরণের ডাক অমূল্য আমাকে কাঁদায়।
তাই, তোমার বুক থেকে আমি জন্ম নিয়েছি, বিরসা।
…………………………………………..

টোটোপাড়ায় একদিন

কেন আমার লাগে না আর ভালো,
তাই বেড়াতে গেলাম টোটোপাড়ায় একদিন।
সেদিনের পর থেকে খুঁজে চলেছি তোকে,
তোকে কী লিখবো? একটুও জানি না আমি।
মুখটা ‘পর দিকে করা, সারাটা মুখে-
হিংসাবিহীন হংসের ন্যায় ফুল ফোটা হাসি।
তাই তুমি, চুক্তিভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত রবাট-ক্লাইভ।

যে মেয়েটি সারাজীবন পায় না আদর কারোর কাছে,
অথচ অন্ধকার হলে যে সে সবার প্রিয়।
তাই, তার কাছে তো তুমি অসহায় যীশু?
তবুও এই জীবনে ভালোবাসার একটা মানে আছে,
মৃত্যু সোপান বেয়ে একখাট নীচে নেমে গেছে!
এসো, আমার জীবনে বধু বেশে পরাজয় প্রিয়া হয়ে।
…………………………………………..

অহমিকা

সারারাত ধরে জেগে আছি
ডুমুর ফুল ফোটে দেখবো বলে
ছড়িছড়ি আবিরের রং ঘুমভাঙা আকাশের কোলে।
কী লাভ হয়?
সেই তো শেষে একূল ওকূল দুই-ই হারালাম!
হাতের ক্যামেরাটা চোখ থেকে দূরে সরালাম,
এবারই আমি পরিস্কার দেখতে পেলাম
লালরক্ত আর শূলে বেঁধা মাংস খেলাম।
ঠিক সেই সময় মনে পড়ে কোনো স্মৃতি
ভাবতে ইচ্ছে করে– কেমন করে সে বিস্মৃতি!
ঝলসায় আগুণের পাশে মরা হাড়গলা অনামিকা,
সারারাত ধরে খোলা আকাশে ভাবি এই অহমিকা।
…………………………………………..

আমি চাই দ্বিতীয় পৃথিবী

কিছুই আমি চাই না,
শুধু তোমার শ্রদ্ধেয় মুখখানি দেখতে চাই।
কোন সাহসে বুক বেঁধেছি তাও জানি না,
তবুও আমি আমার সরলরেখায় বাঁচতে চাই।
প্রত্যাশিত সেই সকাল এলে,
আমার স্বপ্ন কেটে; সত্য দেবে উঁকি।

তুমি আমার কোলে তুলে নিলেও,
আমি তোমার দু’পা জড়িয়ে ধরবো।
তবুও তুমি সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলে,
সেই রাজ্যের রাজমুকুট মাথায় চড়াতে।
সেখানে গিয়ে তুমি গল্প লিখবে, কবিতা লিখবে?
নাকি, সবাইকে হা-অন্ন, হা-ভাতে মারবে!

সেখানে গিয়ে আর যাই করো,
ধ্বংসের সন্ত্রাস ছেড়ে, সৃষ্টির উল্লাসে মেতো।
আর একটা ছবির মতো দ্বিতীয় পৃথিবী তৈরী করো,
যেখানে লজ্জাহীনা নগ্ন ধর্ষণের বিকৃত ছবি না থাকে।
…………………………………………..

আমার সোনার স্বদেশ

লিখতে বসলেই ভুল হয়ে যায় আমার যে উত্তর চেনা,
জানি না শুধিতে হবে আর কতদিন এই দেনা।
রঙটাও কেমন বদলে যাচ্ছে; হলুদ
আমি জানি এই মুহূর্তে তোমার বিকল্প নেই।
তুমি এখন কোটি টাকা ঋণী এবং স্বদেশী,
নিজেকে নিজের মধ্যে তাই খুঁজে চলেছি।
যদি শেক্সপিয়ারের মতো কোন অলীক কাঁটা পাই
তখন তো আনন্দে মেতে উঠবে জীবন।

শেক্সপিয়ার পেয়েছিল এক কৃষ্ণকালো যুবতীকে,
আর আমি পেয়েছি আমার সোনার স্বদেশকে।
…………………………………………..

পৃথিবীর মতো বর্ণময়

উপহার চেয়েছিলি তাই তোকে দিলাম-
তোর শ্রদ্ধেয় দাদার তুলসিপাতা মুখ।

ঠিকানা কই, তোর দাদার ঠিকানা;
তাই এডাল থেকে ওডাল ওড়া পাখির ঠিকানা দিলাম।
পাখিদের ভাষালিপি পথ ও প্রান্তর,
পান্থনিবাসের ভিড়ে রাখালিয়া গান দিলাম।
গাছেতে ওড়া পাখিদের সঙ্গ থেকে গ্রহণ করেছি,
তোর সঙ্গে তোর দাদার ভালোবাসার কথা।
প্রেমিকার হাত থেকে কেড়ে নিতে পারিস ভালোবাসা,
কেননা তোর ভালোবাসার অলিন্দ তার চেয়েও বেশি,
সেই ভালোবাসার চিহ্ন কবিতায় সাধ্যমতো প্রতিপদে,
তাই প্রত্যেক কবির শব্দ পৃথিবীর মতো বর্ণময়।