পৃথিবীর বয়স কত হলো এনিয়ে নতুন কথা বলার অবকাশ নেই। নানা যুদ্ধ-বিগ্রহ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যদিয়ে পৃথিবী ৫০০০ হাজার বছর অতিক্রম করে ফেলেছে। অনেক নগর, সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে,অনেক ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেক অতিকায় বৃহৎ প্রাণি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মায়ান সভ্যতা, মেসোপোটেমিয়া সভ্যতা এখন পাঠ্যবইয়ের অংশ।মানুষের কর্মের ফলে এসব ঘটছে। প্রতিটি শতাব্দীতে মহামারী, অতিমারী হানা দিয়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রাণ হরন করেছে।এর একটা প্রতিক্রিয়া আছে,একটা কার্যকারণ আছে।কোনো ঘটনাই কার্যকারণ ছাড়া ঘটে না।সবকিছুর মধ্যে একটা সংযোগ আছে, একটা সমন্বয় আছে।বিধিবহির্ভূত কিছুই ঘটছে না।

নানাভাবে পৃথিবী তার ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে।মানুষের আধিক্য পৃথিবীকে বাসের অনুপযোগী করে তোলেনি।প্রাক যুগ হতেই ইকো সিস্টেম বলবত ছিলো। এই সিস্টেম শুধু প্রাণি নয় উদ্ভিদ জগতেও বিরাজমান। একুশ শতকে এসে এ সত্য আরও বেশি প্রতিভাত হয়ে উঠেছে। দেশে দেশে বিভিন্ন মারণাস্ত্র, বিভিন্ন রাসায়নিক দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের ফলে বাস্তুসংস্থানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।এ থেকে রক্ষার জন্য আয়োজন করা হয় ধরিত্রী সম্মেলনের। নানা বাধ্যবাধকতা আর শর্ত আরোপ করা হয় পরিবেশ রক্ষার জন্য।দেশে দেশে গড়ে উঠে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন। এরা গাছ বাঁচাও,নদী বাঁচাও,মাঠ বাঁচাও নিয়ে শ্লোগান তুলতে থাকে।জাতিসংঘ পরিবেশ বাঁচাতে অর্থ তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়।দেশগুলো ব্যাপক পরিমাণে অর্থ ঢালতে থাকে।তহবিল দিয়েও পরিবেশ বাঁচানো যাচ্ছিল না এর কারণ উন্নত দেশগুলো ধরিত্রী সম্মেলনের কোনো ধারাই মানছিল না।যুক্তরাষ্ট্র,চীন,রাশিয়া ব্যাপক পরিমাণে কার্বন পোরাচ্ছে।তারা অতি মাত্রায় কার্বন নিঃসরণ করছে।এতে করে মিথেন গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে।

সেবাদানকারী সংগঠনগুলোর কোনো আয়োজনই পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টি ঠেকাতে পারেনি।MDG, SDG গঠন করেও পৃথিবীর বিপর্যয় আটকে রাখা যায়নি।নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছে, জিবেরিলিনের প্রভাবে দ্রুত পেকে যাচ্ছে খাদ্যদ্রব্য। পচনশীলতার হাত থেকে ব্যবহৃত ফর্মালিন ব্যবহৃত হচ্ছে খাদ্যে।পিজারভেটিব দিয়ে জুস তৈরি হচ্ছে।নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে।খালগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে।অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি,খড়া,বন্যা,ঝড়,সাইক্লোন,টর্নেডো,বিভিন্ন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীতে বড় ধরনের কোনো যুদ্ধ সংগঠিত হয়নি।দেশে দেশে যে মানুষ মরছে সেটা হয় গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব, সংঘাত,ধর্মীয় আগ্রাসন প্রভৃতির কারণে। বিজ্ঞান চরম উৎকর্ষের সময় অতিক্রম করছে। বিজ্ঞানের ডিজিটাল উন্নয়নের ফলে মৃত্যু হার বহুগুণ কমে গেছে।শিশু মৃত্যু হার,মাতৃমৃত্যু হার কমে গেছে। অন্যদিকে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে গেছে।ভেজাল খেয়েও মানুষ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকছে।দেশে দেশে বৃদ্ধ সিটিজেন বেড়ে গেছে।ত্রিকালদর্শী লোক প্রতিটি পরিবারেই আছে।শিক্ষা,স্বাস্থ্যের চরম উন্নতির ফলে দুনিয়া মানুষের ভারে নুজ্ব প্রায়।এতে করে প্রাকৃতিক পরিবেশের মতো মানুষের মধ্যেও ইকো সিস্টেম ব্যাহত হচ্ছিল।এই ইকো সিস্টেমের ব্যালেন্স রক্ষা ধরিত্রীর জন্য জরুরী হয়ে উঠেছিলো।পরিবেশের ইকো সিস্টেমের মতো ভালো স্বাস্থ্যসেবার কারণে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে জনবৃদ্ধি দ্রুত হচ্ছিল।এতে করে ক্রমেই পৃথিবী বাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছিল।আর সে কারণেই ইকো সিস্টেমের ব্যালেন্স রক্ষায় মানুষের ক্রম বিবর্তন জরুরী হয়ে উঠে।তারই ফলশ্রুতিতে অতিমারী করোনার অনাহূত আগমন। জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় পৃথিবী ইকো সিস্টেমে ব্যালেন্স আনার মিশন নিয়েছে।

টিকে থাকার প্রতিযোগিতায় মানুষ অসহায় অংশ নিয়েছে। কোনো বিধিবিধান না মেনে পৃথিবী ভার অপসারণ করছে।জনসংখ্যার আধিক্য বিভিন্ন সংগঠনকে চিন্তিত করে তুলেছিলো। সে বিষয়ে একটা স্থায়ী সমাধান মানুষ দেখছে।এই অসম প্রতিযোগিতায় মানুষের লড়ে যাওয়ার কোনোই সুযোগ নেই।ইকো সিস্টেমে পড়ে গেছে মানুষের উপস্থিতি।