১৯৮৭ সালে অধ্যাপক আবদুল গফুর সম্পাদিত “আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম” নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৯০ সালে মোহাম্মদ আবদুল মান্নান রচিত “বাংলা ও বাংগালী : মুক্তিসংগ্রামের মূলধারা” নামে আরেকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এই দুটি গ্রন্থই কোনো অসাধারণ গবেষণাসমৃদ্ধ ইতিহাসগ্রন্থ নয়; কিন্তু দুটি বই-এরই একটি দৃষ্টিভঙ্গিগত সাযুজ্য আছে : দুটি বই-ই বাঙালি মুসলমানের স্বাদেশিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাসকে অবলোকন এবং প্রখ্যাত বাংলার ইতিহাসগ্রন্থসমূহের একটি নিঃশব্দ প্রতিবাদ। ১৮৭৪ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রামকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় প্রণীত “প্রথম শিক্ষা বাঙ্গালার ইতিহাস” পুস্তকের সমালোচনা প্রসঙ্গের সূচনাতেই মন্তব্য করেছিলেন, ‘সাহেবেরা যদি পাখী মারিতে যান, তাহারও ইতিহাস লিখিত হয়, কিন্তু বাঙ্গালার ইতিহাস নাই। গ্রীন-লন্ডের ইতিহাস লিখিত হইয়াছে, মাওরি জাতির ইতিহাসও আছে, কিন্তু যে দেশে গৌড়, তাম্রলিপ্তি, সগ্রামাদি নগর ছিল, যেখানে নৈষধচরিত ও গীতগোবিন্দ লিখিত হইয়াছে, যে দেশ উদয়নাচার্য, রম্ভূনাথ শিরোমনি ও চৈতন্যদেবের জন্মভূমি, সে দেশের ইতিহাস নাই। মার্শমান, স্টুয়ার্ট প্রভৃতি প্রণীত পুস্তকগুলিকে আমরা সাধ করিয়া ইতিহাস বলি; সে কেবল সাধ-পুরাণ মাত্র।’ বঙ্কিমচন্দ্রের এই আক্ষেপের পরে শতাধিক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে; ইতিমধ্যে রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়-রমেশচন্দ্র মজুমদার-যদুনাথ সরকার৪ নীহাররঞ্জন রায় প্রমুখ বাঙ্গালি-রচিত বাংলা ও বাঙালির অনেক ইতিহাস লেখা হয়েছে বটে, কিন্তু আমরা তাদের অনেকগুলিকে সাধ করে ইতিহাস বলি-এবং সে হয়তো সাধ পুরানো মাত্র; কেননা তাতে আমাদের প্রত্যাশিত নিরপেক্ষতা পাই না, আমাদের নিজস্ব ধারাবাহিকতারও পরিচয় পাই না। ঐ গ্রন্থালোচনায় লেখা বঙ্কিমচন্দ্রের কথাগুলি মনে পড়ছে: ‘ইতিহাসবিহীন জাতির দুঃখ অসীম। এমন দুই একজন হতভাগ্য আছে যে, পিতৃপিতামহের নাম জানে না; এবং এমন দুই এক হতভাগ্য জাতি আছে যে কীর্ত্তিমত্ত পূর্বপুরুষগণের কীর্ত্তি অবগত নহে। “আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম” এবং ‘‘বাংলা ও বাংগালী : মুক্তি সংগ্রামের মূলধারা” প্রসঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্রের উক্তিই প্রয়োগ করতে চাই : ‘অহংকার অনেক স্থলে মনুষ্যের উপকারী, এখানেও তাই’।

কিন্তু এই অহঙ্কার নিষ্কারণে নয়। “আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম” বইটি মূলত ১৭৫৭ থেকে ১৯৭১ অবধি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস; এবং “বাংলা ও বাংগালী : মুক্তি সংগ্রামের মূলধারা” গ্রন্থ আদিকাল থেকে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ অবধি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। দুই হাজার বছরের বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসের উত্তরখন্ড “আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম” আর পূর্বখন্ড “বাংলা ও বাংগালী : মুক্তি সংগ্রামের মূলধারা”। বঙ্কিমচন্দ্র আক্ষেপ করেছিলেন রাজেন্দ্রলাল মিত্র বাংলা ও বাঙালির পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস লিখলেন না বলে; আমরা আশা করে থাকবো, ঐ দুই হাজার বছরের অনুপুঙ্খ পূর্ণতার ইতিহাস কোনো একদিন কারো কলমে রচিত হবে। গ্রন্থদ্বয়ের লেখক বা সম্পাদকের হাতে হলে খুশি হবো আমরা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইতিহাস-বিভাগ বা ইতিহাসকেন্দ্রী সংস্থা-সংগঠনগুলোর কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই এ রকম কর্মের প্রত্যাশা করে আসছি আমরা। টুকরো-টুকরোভাবে হচ্ছেও। কিন্তু ষোলো খন্ডে যেমন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংকলিত হয়েছে মরহুম হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদকতায়, তেমনি এ বিষয়ে কোনো উচ্চাশী প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত বলে মনে হয় আমারÑযা হয়তো একদল বিশেষজ্ঞের হাতে পঞ্চাশ বা ষাট বা আশি খন্ডে প্রণীত হবে। হয়তো তিন বা চার খন্ডে তার একটি সংক্ষেপিত সংস্করণ প্রকাশ করা হবে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে আমাদের স্বকীয় শিকড়সন্ধানের ভিত্তি হিসেবে আমার এই স্বপ্ন আশা করি দুরাকাক্সক্ষা বলে বিবেচিত হবে না। স্বাধীনতার দুই দশক পরে বরং এই প্রত্যাশা সকলের স্বাভাবিক বলেই মনে হওয়া উচিত। “বাংলা ও বাংগালী : মুক্তিসংগ্রামের মূলধারা” এবং “আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম” তারই প্রাথমিক প্রত্যয়ী প্রত্যয়।

“বাংলা ও বাংগালী : মুক্তি সংগ্রামের মূলধারা” গ্রন্থের এগারোটি অধ্যায়ের প্রথমটি ‘নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমি’। পরবর্তী অধ্যায়গুলো একটি ধারাবাহী ইতিহাস। আর্য আগমনের পটভূমি থেকে পলাশীর বিপর্যয় পর্যন্ত ইতিহাস লেখক বর্ণনা করেছেনÑকিন্তু রাজশাসনের সূত্র ধরে ‘জনগণের আধিপত্যবাদ বিরোধী প্রতিরোধ ও মুক্তির লড়াই’-এর প্রসঙ্গই তিনি সবসময় নজর রেখেছেন। ফলত এদেশের মানুষ প্রথম থেকেই স্বাধীনতাকামী। ভারতবর্ষের অনেকখানি দখল করে ফেললেও ‘আর্যদের পূর্বমুখী এ অভিযান বাংলাদেশে প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। তারপর পর্যায়ক্রমে বৌদ্ধ শাসন (পালশাসন : চারশো বছর), হিন্দু শাসন (সেন-বর্মণ শাসন), মুসলিম শাসন (১২০৩-১৭৫৭ : তুর্কী আমল, স্বাধীন মুসলিম বাংলা, মুঘল আমল)। লেখক লক্ষ্য করেছেন, ‘পাল আমলে এদেশের জনগণের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবনে স্বস্তি এবং অর্থনৈতিক জীবনে সমৃদ্ধি ফিরে আসে। কিন্তু ব্রাহ্মণ্য আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এ যুগেও অব্যাহত ছিলো। এ ষড়যন্ত্র চলেছে বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও বৌদ্ধ ধর্মের সাথে হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির আদর্শিক সমন্বয়ের নামে। এ চতুর কৌশল অনেকাংশে সফল হয়েছিলো। বিশেষত পাল রাজত্বের অবক্ষয় যুগে ব্রাহ্মণ্যবাদী সংস্কৃতির ষড়যন্ত্র ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। পাল রাজত্বের পতনের জন্য তথাকথিত সমন্বয়ের আদর্শই অনেকাংশে দায়ী ছিলো।’ (পৃ. ৬৭) পরবর্তী সেন-বর্মণ শাসনামলে বৌদ্ধ প্রভাব মুছে ফেলা হয়, বাংলা ভাষা দেশান্তরিত হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির অবস্থা হয় শোচনীয় এবং তারপরই মুক্তির প্রতীকরূপে এলেন বখতিয়ার খিলজী। লেখক যথার্থই দেখিয়েছেন, ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে অষ্টাদশ অশ্বারোহী নিয়ে এসে বখতিয়ার খিলজী অকস্মাৎ বাংলা দখল করলেন, তা নয়- “বাংলার জনগণের মুক্তি সংগ্রামে ইসলাম প্রচারকগণ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।” (পৃ-২৬) একজন ইতিহাসবিদ লিখছেন, ‘ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজীর বাংলা বিজয়ের বহু পূর্বেই (সম্ভবত: অষ্টম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে) বাংলার সঙ্গে মুসলমানদের প্রাথমিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো। প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন, আরব ভৌগলিক ও বণিকদের লেখনী এবং বাংলাদেশে প্রচলিত কিংবদন্তী ও লোককাহিনীর ভিত্তিতে এই সম্পর্ক সম্বন্ধে ধারণা করা সম্ভব। মুসলমানদের সঙ্গে এই প্রাথমিক সম্পর্ক প্রধানত: বাণিজ্যিক সম্পর্কই ছিল। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্যের বাহক হিসেবে আরবদেশীয় মুসলমানেরা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং এই বাণিজ্যের সূত্র ধরেই যে আরব নৌ-তরী বাংলার উপকূলীয় অঞ্চলে আসা-যাওয়া করত, তাতে কোন সন্দেহ নেই। এমন হতে পারে যে, উপকূলীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে, কিছু কিছু আরব বসতি স্থাপিত হয়েছিল, যার ফলে এই অঞ্চলে আরব প্রভাবের বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া যায়। ত্রয়োদশ শতকের বাংলাদেশে মুসলিম রাজ্য স্থাপনের ফলে ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলের এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরো প্রসার লাভ করে। মধ্য-এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও উত্তর ভারত থেকে অসংখ্য মুসলমান ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতকে বাংলাদেশে এসেছিলেনÑকেউবা ভাগ্যান্বেষণে, কেউবা ধর্মপ্রচার করতে, কেউবা বাণিজ্য করার জন্য।’৫ বাংলাদেশের পরবর্তী দীর্ঘ সাড়ে পাঁচশো বছরের মুসলিম শাসন সম্পর্কে ডক্টর এম. এ. রহীমের উক্তি পুনরুদ্ধৃত করে সন্দেহাতীত সিদ্ধান্ত জানাতে হয় : ‘নিরপেক্ষভাবে বিচার করে বলা যায় যে, মুসলমান রাজত্বকাল ছিলো বাংলার ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা গঠনমূলক যুগ।’৬

মোহাম্মদ আবদুল মান্নান দেখিয়েছেন, ‘বাংলায় প্রথম পর্যায়ের ইসলাম প্রচারকগণ কোনও রাজশক্তির পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেননি। তাঁদের কার্যক্রমেই পরবর্তীকালে এখানে মুসলিম রাজশক্তি প্রতিষ্ঠার সহায়ক হয়েছে। … এদেশের জনগণ ইসলাম প্রচারকদেরকে পেয়েছিলো তাদের মুক্তিসংগ্রামে নেতৃত্বের ভূমিকায়।’ (পৃ. ১২৮) কেবল ধর্মপ্রচারকরূপে নয়Ñএদের ভূমিকা ছিলো সর্বতোমুখী। লেখক সংগতভাবেই এদের আখ্যায়িত করেছেন ‘মুক্তিসংগ্রামের মহানায়ক’ হিসেবে। স্বাধীন সুলতানী আমলের শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের নাম চিরস্মরণীয় এজন্যে যে, তাঁর সময়েই প্রথমবারের মতো ‘বাঙ্গালা’ ও ‘বাঙ্গালী’ শব্দ দুটি প্রযুক্ত হয় এই অঞ্চল ও তার অধিবাসীদের বোঝাতে। বাংলার এই স্বাধীন নৃপতিদের ভূমিকা বিরাট। এঁরা শুধু ইসলামকেই এদেশে স্থায়িত্ব দেননি, ‘এই সময়ে বাংলা সাহিত্য তাঁহাদের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ না করিলে, বনফুলের ন্যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে লুটিয়া পড়িত।’৭ ইসলামের এই প্রবল প্রতাপের সময় আবির্ভূত হন চৈতন্যদেব (১৪৮৫-১৫৩৩) : গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতের প্রতিষ্ঠাতা। এই গৌড়ীয় বৈষ্ণব মত যে কী পরিমাণ ইসলাম প্রভাবিত, তা দেখিয়েছেন ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক। তিনি লিখেছেন, ‘নামে রুটি ও জীবে দয়াÑইহাই গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতের মূলমন্ত্র। গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের এই ‘নামে রুটি ও জীবে দয়া’ মুসলিম সুফী সাধকদের “জিকর” ও “খিদমত” নীতির নামান্তর। ইহাতে ইসলামের সাম্য, উদারতা ও ভ্রাতৃত্বের ছাপও সুস্পষ্ট। … গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের “প্রেম” সুফীদের “ইফাক”, “রাধাকৃষ্ণ” সুফীদের “সাকী” ও “বুৎ” কিংবা “সামআ” ও “পরওয়ানা”; ‘‘ঐশ্বর্য” সুফীদের “কিরামত” ছাড়া আর কিছুই নহে।’৮ এই স্বাধীন মুসলিম বাংলার সময়কালেই প্রাচীনতম বাঙালি-মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের আবির্ভাব।

আলোচ্য লেখকের একটি মূল কৃতিত্ব এদেশের সাধারণ মানুষের ঘনিষ্ঠ উলামাদের ভূমিকা তুলে ধরায়। ইতিহাসে উপেক্ষিত একজন আলেমের ভূমিকা তো অবিস্মরণ মহিমা-খচিত। বাংলার সাড়ে-পাঁচশো বছরের (১২০৩-১৭৫৭) মুসলিম শাসনের মাঝখানে মাত্র চার বছরকাল (১৪১৫-১৮) বর্ণ-হিন্দুর শাসন চলেছেÑদুর্বল সাইফুদ্দীন হামজা শাহ ও শিহাবুদ্দীন বায়েজীদ শাহের পরে রাজা গণেশের অভ্যুত্থান। সে সময় ‘সমসাময়িক সর্বশ্রেষ্ঠ আলিম নূর কুতব-উল-আলম-এর অক্লান্ত চেষ্টাতেই মুসলিম শাসন পুন:প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিহাসে উপেক্ষিত নূর-কুতব-উল-আলম-এর অসাধারণ প্রয়াসের কথা আমাদের মনে হয় আরেকবার যখন দুর্বল নবাব আলীবর্দী খান ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার পর আমরা কোনো নতুন নূর কুতুব-উল-আলম-এর দেখা পেলাম নাÑদেশ চলে গেলো ইংরেজের হাতে।

বাংলায় মুসলিম শাসনের সাড়ে-পাঁচশো বছর মোটামুটিভাবে এভাবে বিভাজন করা যায় : তুর্কী আমল (১২০১-১৩৫০), স্বাধীন মুসলিম বাংলা (১৩৫০-১৫৭৫) এবং মুঘল আমল (১৫৭৬-১৭৫৭)। কালানুক্রম রক্ষা করেও আলোচ্য লেখক এভাবে বিভাজন করেননি। তিনি সামগ্রিকভাবে মুসলিম অবদানের মূল্যায়ন করেছেনÑনিছক রাজনৈতিকভাবে নয়। এর ফলেই ইতিহাসের সত্যকে তিনি যথার্থভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছেন। উলামা ও মুজাহিদদের ভূমিকা আর কোনো বাংলার ইতিহাস প্রণেতা এতো উজ্জ্বল সত্যনিষ্ঠভাবে দেখাননি। মুসলিম অবদানের মুল্যায়নের সারাৎসার তিনি ধরে দিয়েছেন এভাবে (আমি কয়েকটি মূল পয়েন্টই উদ্ধৃত করছি) :

১. শাসকদের তরবারী এদেশে ইসলাম প্রচারে কোন মুখ্য ভূমিকা পালন করেনি। প্রচারকদের কারামত বা অলৌকিক মাহাত্ম্যও এদেশে ইসলামের সাফল্যের কারণ ছিলো না। ইসলামের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য, সাম্য, মৈত্রী ও গণতান্ত্রিক আদর্শ এবং মানবিক মর্যাদার পথে ইসলামের উদাত্ত আহ্বানই এদেশের মানুষের ব্যাপকভাবে ইসলাম গ্রহণের কারণ ছিলো।

২. মুসলিম রাজ্য-বিস্তার, মুসলিম রাষ্ট্রের সংহতি বিধান এবং জনগণের ঈমান ও অধিকার সংরক্ষণে ইসলাম প্রচারক আলেম ও মুজাহিদদের ভূমিকা ছিলো অন্য সকলের ভূমিকার তুলনায় বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

৩. এদেশে শিক্ষার সার্বজনীন অধিকারের ধারণা ইসলাম প্রচারকদেরই অবদান।

৪. প্রচারকগণ প্রধানত গ্রাম এলাকায়, জনগণের মুখের ভাষায় ইসলামের দাওয়াত প্রচার করেন।

এই ইতিহাসগ্রন্থ পাঠ করে আমার মনে হয়েছে : বদান্যতা ও উদারতা অনেক সময় দুর্বলতারই ছদ্মবেশ। মনে হয়েছে : বদান্যতা ও উদারতার বিপরীতার্থক শব্দ সংকীর্ণতা নয়Ñআত্মপ্রত্যয়। মুসলিম শাসনের পতনের কার্যকারণ খুঁজতে গিয়ে তার কিছু দুর্বলতাও চিহ্নিত করেছেন- সাংস্কৃতিক তথা সাহিত্যিক দুর্বলতা। তিনি লিখেছেন, ‘সমসাময়িক দুনিয়ার সবচে সমৃদ্ধ ভাষারূপে পরিগণিত আরবিতে তখন তাফসীর, হাদীস, উসুল, তর্কশাস্ত্র, দর্শন, ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতি, কাব্য, সাহিত্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিপুল গ্রন্থরাজি মওজুদ ছিলো। মুসলমানদের সুষ্ঠু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন গঠনের একান্ত উপযোগী এ বিশাল জ্ঞানভান্ডার জনগণের সামনে তুলে ধরার কোন ব্যবস্থাই করা হয়নি। ফলে সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতায় জনগণের মুখের ভাষা বাংলা ভাষা যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করলেও তাদের তৈরী বাংলা সাহিত্য এমন একটি রূপ লাভ করলো, যেখানে মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মৃত্যু অবধারিত ছিলো।’ (পৃ. ২১২) দু’টি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই জেগে ওঠে আমাদের মনে : (১) পাল রাজাদের তো পতন ঘটার অন্যতম কারণ তাদের সাংস্কৃতিক অবক্ষয়- মুসলমান নৃপতিদেরও কি এ কার্যকারণ সাংস্কৃতিক বিচ্যুতি নয়? (২) যে তালিকা দিয়েছেন লেখক তা কি আজো বাংলা ভাষায় আনুপূর্ব অনুদিত হয়েছে?Ñযাই হোক, এখানে আমি মুসলিম নৃপতিদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন শতাব্দীতে সম্পন্ন প্রধান রচনাবলীর একটি বীথিবদ্ধ তালিকা পেশ করতে চাই পরিস্থিতি সম্যক অনুধাবনের জন্যে :

চতুর্দশ শতাব্দী
১. য়্যুসুফ-জলিখা : শাহ মুহম্মদ সগীর

পঞ্চদশ শতাব্দী
১. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন : বড়– চন্ডীদাস
২. রামায়ণ : কৃত্তিবাস ওঝা
৩. শ্রী কৃষ্ণ বিজয় : মালাধর বসু
৪. মনসামঙ্গল : বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস
৫. পদাবলী : বিদ্যাপতি ঠাকুর

ষোড়শ শতাব্দী
১. মহাভারত : কবীন্দ্র পরমেশ্বর, শ্রীকর নন্দী
২. চৈতন্য ভাগবত : বৃন্দাবন দাস
৩. চৈতন্য মঙ্গল : লোচন দাস
৪. পদাবলী : মুরারি গুপ্ত, চন্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দ দাস
৫. চন্ডীমঙ্গল : মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
৬. গোরক্ষ বিজয় : শেখ ফয়জুল্লাহ, শ্যামাদাস সেন
৭. লায়লী-মজনু : দৌলত উজীর বাহরাম খান
৮. মনোহর-মধুমালতী : মুহাম্মদ কবীর
৯. নবীবংশ : সৈয়দ সুলতান

সপ্তদশ শতাব্দী
১. চৈতন্যচরিতামৃত : কৃষ্ণদাস কবিরাজ
২. মহাভারত : কাশীরাম দাস
৩. রামায়ণ : অদ্ভুতাচার্য
৪. মনসামঙ্গল : বংশীদাস, কেতকদাস স্কমানন্দ
৫. ধর্মমঙ্গল : রূপরাম, রামদাস আদক
৬. শিবমঙ্গল : রতিদেব
৭. সতী ময়না ও লোর চন্দ্রানী : দৌলত কাজী
৮. পদ্মাবতী : সৈয়দ আলাওল
৯. ইউসুফ-জলিখা কারবালা : আবদুল হাকিম

অষ্টাদশ শতাব্দী
১. ধর্মমঙ্গল : ঘনরাম
২. শিবায়ন : রামেশ্বর চক্রবর্তী
৩. অন্নদা মঙ্গল : ভারতচন্দ্র
৪. কালিকামঙ্গল ও শাক্ত পদাবলী ঃ রামপ্রসাদ সেন
৫. মহারাষ্ট্রপুরাণ : গঙ্গারাম

এই পাঁচশো বছর ধরে মুসলমান কবিরা দেবমহিমার জায়গায় রোমান্স কাব্যের মাধ্যমে মানব মহিমা প্রচার করেন; কিন্তু সংখ্যায় আর প্রতাপে তা আর কতোটুকু।

দু-একটি জায়গায় এই লেখকের সঙ্গে সামান্য মতপার্থক্য আছে আমার। ১৪৭ পৃষ্ঠায় লেখক বলেছেন, “ইসলাম প্রচারকদের চেষ্টা-প্রচেষ্টা নওমুসলিমদের জীবন থেকে পৌত্তলিকতার প্রত্যক্ষ উপাদান মূর্তি প্রতিমা তথা মূর্তি পূজার বড় শির্ক দূর হয়েছিলো। কিন্তু তাদের অবচেতন মন থেকে শির্কের শিকড়গুলি সম্পূর্ণরূপে উপড়ে ফেলার জন্য যে যতœ প্রয়োজন, তা এখানে সম্ভব হয়নি।’’ কিন্তু স্থানিকতাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা অসম্ভব। ভারতবর্ষেও ইসলাম খানিকটা স্থানিকতাকে স্বীকার করে নিয়েছে, যেমন নিয়েছে পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও। ইসলামের ভিতরে চিন্তা বা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কিছু কিছু মতান্তর বা শাখা-উপশাখা আছে, মূল ইসলাম ধর্ম তাতে কিন্তু বিপন্ন হয়নি, এতোটুকু। দু’একটি মুদ্রণ ত্র“টি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে : ২১৬ পৃষ্ঠায় ‘বিমলবিহারী মজুমদার’ লেখা আছে, হবে ‘বিমান বিহারী মজুমদার’, ২৪২ পৃষ্ঠায় ‘কাস্ট’ লেখা আছে, হবে ‘কান্ট’। এরকম ভুল আরো আছে। ‘বিদ্বান’ কথাটি সবসময় ভুল বানানে আছে। ইতিহাসগ্রন্থে নির্ভুলতা জরুরী। গ্রন্থপঞ্জি ও নির্দেশিকা থাকলে বইটির ব্যবহার যোগ্যতা বেড়ে যেতো বহুগুণে।

লেখকের ভাষা স্বচ্ছ-সংযত-সরল : ইতিহাসগ্রন্থের উপযোগী। তাঁর প্রতিটি উক্তি তথ্য ও যুক্তি সমর্থিত। সমগ্র গ্রন্থটি সুবিন্যস্ত। লেখকের পথ ও গন্তব্য অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বক্তব্য কোথাও আবছা-ঝাপসা নয়। আমার মতো সাধারণ পাঠকও এই বই থেকে একটি সাফ ধারণা করতে পেরেছে। অনেক ইতিহাসগ্রন্থ লেখক পাঠ করেছেন; কিন্তু অতীতের ধারাবাহিকতাকে তিনি দেখেছেন নিজের চোখে, সজ্জিত করেছেন নিজের মতো করে। নতুন তথ্যের উপস্থাপনার চেয়ে নতুন বিশ্লেষণের উপস্থাপনাই এই বই-এর প্রধান গুণ।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষে বাঙালী-মুসলমান যখন আত্মসম্বিৎ ফিরে পেলো, তখনই তার ইতিহাস সন্ধিৎসা শুরু হয়ে যায়। মীর মশাররফ হোসেন থেকে কাজী নজরুল ইসলাম পর্যন্ত আমাদের সৃষ্টিশীল লেখকেরা, মওলানা আকরম খাঁ থেকে হাবিবুল্লাহ বাহার পর্যন্ত আমাদের চিন্তাবান লেখকেরা–যাঁদের হাতে বাঙালী মুসলমানের রেনেসাঁ বা নবজাগরণ ঘটেছে, তাঁরা সকলেই ইতিহাস-সচেতন। মওলানা আকরম খাঁ, মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী এবং প্রায় প্রত্যেক লেখকই কম-বেশী ইতিহাস চর্চার আবশ্যকতার কথা বলেছিলেন। মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর “মোছলেন বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস” তো এ বিষয়ে প্রাত:স্মরণীয় গ্রন্থ।

গ্রন্থের প্রবেশকে লেখক জানিয়েছেন, ‘ইতিহাস চর্চার সরল অর্থ হচ্ছে অতীত সম্পর্কে গবেষণা ও অনুসন্ধান।’ খুব ঠিক। কিন্তু অন্য সব বিদ্যাচর্চার মতো ইতিহাস চর্চাও অর্থহীন যদি না তা বর্তমানকে সম্মুখগতির সন্ধান দিতে না পারে, সমকাল যদি শব্দহীন ইতিহাস বিদ্যুতে আলোকিত হয়ে না ওঠে, একালে যদি অতীতকাল থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণে সক্ষম না হই। লেখক মুসলিম শাসনের পতনের কার্যকারণ খুঁজতে গিয়ে প্রথম পয়েন্টেই সঙ্গতভাবে জানিয়েছেন, ‘রাষ্ট্রগঠনের পাশাপাশি জাতিগঠনের কাজে সম্যক সচেতনতার অভাবে এবং সাংস্কৃতিক অসচেতনতার কারণে’ মধ্যযুগের সাড়ে-পাঁচশো বছরের মুসলিম শাসনের অবসান ঘটেছিলো। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতেও এই চেতনা জরুরী বলে মনে হয়েছে আমার। আমি তো মনে করি, এখানেই লেখকের সার্থকতাÑইতিহাসকে এই বর্তমানে যুক্ত করে দেওয়ায়।

একটি কবিতার কথা মনে পড়ছে আমার। কবিতাটি বাংলা ভাষায় নয়- জার্মান ভাষায় রচিত। ইতিহাস বিষয়ে অসাধারণ এই কবিতাটি লিখেছিলেন জার্মান কবি নাট্যাকার বেরটোল্ট ব্রেখট। কবিতাটির নাম ‘জনৈক শ্রমিক ইতিহাস পড়ছে’। কবিতাটি এখানে উদ্বৃত করছি:

কারা বানিয়েছিল থিব্স-এর সাতটা তোরণ?
বইগুলি তো শুধু রাজাদের নামে ছয়লাপ!
রাজারাই কি বিরাট পাথরের চাঁই
পাহাড়-পর্বত ভেঙ্গে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল?
আর ব্যাবিলন, কতবার যে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে;
কারা শহরটাকে প্রত্যেকবার আবার নতুন করে বানিয়েছিল?
সোনায় ঝকমক করা লিমা শহরের কোথায় কি রকম বাড়িঘরগুলিতে
তারা বাস করতো, যারা ঐ শহরটাকে সাজিয়ে গুছিয়ে ধোপদুরস্ত করেছে?
চীনের প্রাচীরের শেষ ইটটি যেদিন গাঁথা হলো
সেই সন্ধ্যায় রাজমিস্ত্রীরা কোথায় তাদের আস্তানা খুঁজতে গিয়েছিল?
সার্বভৌম রোমে তো বিজয় তোরণের ছড়াছড়ি
কারা তাদের বানিয়েছিল? কাদের ওপর সিজারেরা মাতব্বরি করতো?
বাইজেনটিয়ামকে নিয়ে কত গান, কত প্রশস্তি,
সেখানকার বাড়িঘরগুলি সবই কি প্রাসাদবাড়ি ছিল?
আর, এমনকি উপকথার অ্যাটল্যান্টিস-এ
যে-রাত্রে সমুদ্র তার সংহারমূর্তি ধরেছিল
ডুবন্ত মানুষগুলি তখনও ষাঁড়ের মতো চিৎকার ক’রে
তাদের ক্রীতদাসদের ডাকছিল। কিন্তু কেন ডাকছিল?

যুবক আলেকজান্ডার ভারত জয় করেছিল।
সে একাই?
সিজার গ-ল-দের যুদ্ধে হারিয়েছে।
তার সেনাবাহিনীতে কি একজন রাঁধুনীও ছিল না?
স্পেনের যুদ্ধ জাহাজগুলি একটার পর একটা জলে ডুবে যাবার পর
যখন আর তাদের কোন চিহ্নই রইলো না,
রাজা ফিলিপ তখন খুব কান্নাকাটি করেছিল।
সে কি একাই কেঁদেছিল?
সাত বছরের যুদ্ধ ফ্রেডারিক দি গ্রেট-এর গলায় জয়ের মালা পরিয়ে দিয়েছে।
ঐ যুদ্ধে আর যারা জিতেছিল, তারাই বা কিরকম মানুষ?
প্রতিটি পৃষ্ঠা একটি করে জয়ের কাহিনী,
কাদের বিনিময়ে ঐসব বিজয় উৎসব?
প্রত্যেক দশ বছরে একজন করে মহাপুরুষ
কীর্তনীয়দের পাওনা মিটিয়েছে কারা?

অনেক-কিছু জানার।
অনেকগুলি প্রশ্ন।

হ্যাঁ, আমাদের ‘অনেক-কিছু জানার’ আছে। ‘অনেকগুলি প্রশ্ন’ জেগেছে। এই কৌতুহল ও জিজ্ঞাসার জবাব চাই। ঐতিহাসিক নীহাররঞ্জন রায় তাঁর অসাধারণ “বাঙালির ইতিহাস : আদি পর্ব’’ মহাগ্রন্থে রাজরাজড়ার ইতিহাস নয়-সাধারণ মানুষের ইতিহাসই রচনা করেছিলেন। কিন্তু সেই অসাধারণ গ্রন্থেও সাধারণ বাঙালী-মুসলমানদের ইতিবৃত্ত কি তেমনভাবে পেয়েছি আমরা? আমাদের সচেতন বর্তমান লেখক প্রকৃতপক্ষে জনগণেরই ইতিবৃত্ত রচনা করেছেন। বারংবার লেখক আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, রাজরাজড়া নয়, কারা ছিলেন এদেশের ইমেজ গড়ার করিগর। এই ইমেজ গড়ার কারিগরদের কথা প্রচলিত ইতিহাস গ্রন্থাবলীতে অনুপস্থিত। বাঙালী যে মুক্তিপিপাসু চিরকাল, বাঙালী-মুসলমানই তা বারবার প্রমাণ করেছে। কিন্তু যথার্থ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস-রচয়িতার অভাবে আমরা তা সবসময় জানতে পারিনি। বর্তমান গ্রন্থে মোহাম্মদ আবদুল মান্নান কিছু কিছু জানিয়েছেন, কোন-কোন প্রশ্ন জাগিয়ে দিয়েছেন। বাংলা ও বাঙালির মূলধারা বিষয়ে আমরা ক্রমশ: সচেতন হয়ে উঠছি। আমরা খানিকটা অবাক হয়েই দেখছি, আমরা অতীতের ধারাবাহিকতার ভিতর দিয়েই বিকশিত হয়েছি-কোন আকস্মিক উদগম নই। আমাদের আছে দীর্ঘদিনের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য- কোন হীনমন্য জাতি হওয়ার কারণ নেই আমাদের। মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের বইটি তাই শুধু ইতিহাসগ্রন্থ নয়-ইতিহাস চেতনারও গ্রন্থ।

দোহাই

১. ‘আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম’ : অধ্যাপক আবদুল গফুর সম্পাদিত। ডিসেম্বর ১৯৮৭। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা।
২. ‘বাংলা ও বাংগালী : মুক্তি সংগ্রামের মূলধারা’ : মোহাম্মদ আবদুল মান্নান। ফাল্গুন ১৩৯৭ সৃজন প্রকাশনী লিমিটেড, ঢাকা।
৩. প্রথম প্রকাশ : ‘বঙ্গদর্শন : ১২৮১’। বাঙ্গালার ইতিহাস নামে ‘বঙ্কিম রচনাবলী’র দ্বিতীয় খন্ডে সংকলিত। সাহিত্য সংসদ, কলকাতা।
৪. যদুনাথ সরকারের নাম উল্লেখ না করে একজন ঐতিহাসিক তার সম্পাদিত গ্রন্থ সম্বন্ধে লিখেছেন : THE HISTORY OF BENGAL VOLL. II Published by the University of Dacca in 1948 of course deals with the period of Muslim rule in Bengal; But it was written from and together different point of view. Moreover, it totally ignores, the socio-cultural aspects of the history of the Muslims (Preface, History of the Muslims of Bengal, Vol-1 A: Muhammad Mohar Ali, 1985, Imam Muhammad Ibn Saud Islami University, Ri“adh).

৫. ‘বাংলার ঐতিহাসিক পরিচয়’ : শাহানারা হোসেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান-সম্পাদিত “বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস” (প্রথম খন্ড) ৯৮৭ বাংলা একাডেমী, ঢাকা।
৬. “বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস” (প্রথম খন্ড) : ডক্টর এম এ রহীম
৭. “মুসলিম বাংলা সাহিত্য” : ডঃ মুহাম্মদ এনামুল হক, ১৯৫৭। পাকিস্তান পাবলিকেশনস, ঢাকা।
৮. “প্রাগুক্ত”।
৯. ‘বের্টোল্ট ব্রেখট : কবিতা সংগ্রহ’ : সুব্রত রুদ্র-সম্পাদিত, ১৯৮৯। নাথ পাবলিশিং কলকাতা। ব্রেখটের ‘জনৈক শ্রমিক ইতিহাস পড়ছে’ কবিতাটির অনুবাদক : বীরেন্দ্র চট্টোপধ্যায়।