সরলীকরণ

পরশু থেকে বিশ্বাসগুলো হাঁটতে শিখেছে,
তাদের ডানা আছে, সুযোগ পেলে উড়ে,
বিশ্বাস বনাম প্রেম দু’পক্ষ একতাল,
ফলত একটি সংসার।
যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন মহামান্য জীবন
(ডেঞ্জার জোন)
আপনি একনিষ্ঠ সেবক
হেরফের হলে ফাটিবে
রেফারি বনাম অভিজ্ঞতা
হাতবোঝাই ক্ষেত্রফল।
সমান্তরালে সরলরেখা
মাইনাস জিরো ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়
বিশ্বাস ক্রমাগত ভাঙছে।
…………………………………………..

মৃত্যু ও জোনাকিপোকা

যতদূর চোখ যায়-
মানুষের স্রোত দেখি;
ভিন্নরুপে আলাদা বৈচিত্র্য নিয়ে
ফাটিয়ে দিচ্ছে তুমুল প্রেম
রক্তের সখ্যতা ভেঙে দিচ্ছে
আশ্রয়হীন তাসেরঘর।
ছুঁয়ে দিলে ছড়িয়ে পড়ছে,
যাদুমন্ত্রের মতো মিলছেনা বিশ্বাস
মানুষ হতে পারিনি
মৃত্যু হওয়া উচিত
ট্রামে ও রেলে –
দাবী দাওয়া ফিরিয়ে নিলাম
বন্ধকী দলিল কোনোদিন ছিলোনা
বেঁচে থাকার বাহানায় ক্লান্ত ভীষণ
মৃত্যু আসুক বজ্রপাতে
শাপে চাপে পাপে ও তাপে
এ জগতের কেউ নিয়মের শৃঙ্খল ভাঙ্গেনা
আমি ভেঙে দেখেছি কালো অন্ধকারে
একদল জোনাকিপোকা।
…………………………………………..

যে আঙুলে স্বপ্ন হাঁটে

অতঃপর খুলে দিলাম সবকটি জানালা
পূর্ব থেকে পশ্চিম উত্তর থেকে দক্ষিণ
সাই গতিতে ধেয়ে যাচ্ছে বয়সী ট্রেন;
এধার ওধার পায়ের আওয়াজ
মৃত নদীটাও বোঝে
একমাত্র কাঁকড়াই জানে পায়ে জীবন বেঁধে
হেঁটে চলার নামই বেঁচে থাকা।
…………………………………………..

বেলা শেষে

বেলা শেষে অনন্তকাল শুয়ে থাকে
সিঁথি কাটায় ঢেউ ঢেউ আর্তনাদ
বুকের ব্যাথা নিয়ে শাওন মেঘ ফিরে ফিরে আসে
ভাটির উপরে যেটুকু দাগ লেগে আছে
প্রজাতির ডানায় জলডাঙ্গার ঘুঘু
ইতিহাস খুঁটেখুঁটে খায়।
দৃষ্টি ও দৃশ্য
ইলা লিপি
যতদূর দৃষ্টি যায় কেবল মার্কারি ইতিহাস
বুক ভেঙে ফসকে যাচ্ছে ঘুমের মিনচক্র
যে পাখিটি কুট কুট ডেকে ফেরে
শুধু সে বোঝে সঙ্গী হারিয়ে
নোনা জলে সিদ্ধ হয় বৈকালিক যাপন।
…………………………………………..

ডেডলাইন

মানুষ দেউলিয়া হয়
খরস্রোতা নদীর মতো
অথবা অবরুদ্ধ জনপদের মতো
খুব গোপনে-
একা!
কিছুটা ধ্বংসস্তুপের মতো
কেটে কেটে বিলিয়ে দেয়
ক্লান্ত ইতিহাস।
ভাঙ্গনের গানে বৈরিনয়
দুর্বল সৈনিকের না ফেরার মতো,
একজন প্রতারক পথিক
ঘুমের মুদ্রায় নির্মান করে
পলিমাটি চর,
বিসস্থ কাশবন
তখনও হাজার জলের ফোঁটা
শিরা উপশিরায় পৃথিবীর পৌড়হাত
কাফনে মোড়ানো ঠিকানায়
উড়িয়েছি কতশত বিকেল,
অথচ এইসব সফেদ ফেনায়
তুমি এক গুপ্ত চোরাবালি
এবং অসুস্থ প্রেমের নায়ক।
…………………………………………..

বিকারগস্ত অনুযোগ

রোজকার মতো কয়েন ফেলে দেই,
যদি আকাশটা নিজের হয়!
খুচরো জীবনভেঙ্গে যে পাখিটি ফিরে যায় শূন্যে,
ছটফটে একচল্লিশ অনুযোগ;
তথ্যের বুকে গোপন হয়ে ঢুকে,
তালুর রেখায় বিভ্রান্তের নথি নিয়ে
সেবিকার চামুচ হারিয়ে ফ্যালে সুখের খিলি…
কার দেয়া কথায় বিকিয়ে দিবি সবটুকু নীল!
ছয়শ মিলিয়ন ভালোবাসা নিয়ে
দরিয়ার পাড়ে হেঁটেছি বহুকাল
সে আসেনি জমাটবদ্ধ অন্ধকারে,
সে আসেনি সাঁওতালি মুদ্রায়,
বার-বার পালিয়ে গেছে।
…………………………………………..

বাঁশি

বাঁশি বারেবার কেনো বাজে
রাজ কাকড়ার জীবন আমার
আঘাত পেলে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসে কবিতার শব্দ।
শোষণের বেড়াজালে খিলখিল হাসি
ঢোলের তালে অন্তর বাজেনা
ঠুনকো স্বভাব গ্রাস করে রাষ্ট্রের সীমানা
কার হাতে দেখোছো রংয়ের তুলি?
সে যে শিল্পী নয়
সে যে শিল্পী নয়
আজন্ম কানা এক নারী
পড়শীরাও জানে।
…………………………………………..

প্রেম সিরিজ-৫

চামড়া ঝুলে গেলেও প্রেম হয়
গুঞ্জনে যে মানুষ গ্রীবা উচিয়ে সবকটি বোতাম খুলে
ইশারায় কৌতূহল ঝাড়ে তুমুল সন্তপে
ফেটে পড়া হাসির আড়ালে ককিয়ে ফেরে বাউরি বাতাস
কাকতাড়ুয়া অপেক্ষা নিয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে কপাটের খিল
একমুঠ ঝকমক নখের জমিনে কুটকুট কাটে ঘাস সমেত ভূঁই
দঙ্গল ডাকাত মানুষচক্রে খুলে মুখোশ সকাল
আলসেমি চোখ ঘুমের চিরকুটে হানা দেওয়া বোধ
ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে চিবুক শহরে
কার পাশে প্রেমের নহর! কে ওড়াতে পারে এইসব বিশুদবার
প্রেমের দপ্তর খুলে যে নথিটি বারবার হাওয়া হয়ে ঘুরে আসে বাড়ির জনপদ
ফুসফুস ডেলিভারি করে জোসনার মিসডকল
নাগরিক পোশাক তখনও প্রার্থনা সেলাই করে।
…………………………………………..

কবিতা দিবস

তুই কবিতার মহারাণী-
ছাগলেরা তোকে কাঠাল পাতা ভেবে ভুল করছে না তো!
বিশ্বাস কর আমার তাই মনে হচ্ছে!
বর্তমান প্রেমিক, সাবেক প্রেমিক ও প্রাণের বন্ধুরা
তোকে দেখলেই গলা থেকে পা অবধি জিহ্বা ঝুলিয়ে দিচ্ছে –
তুইও আনন্দে আটখানা হয়ে মাথা দোলাচ্ছিস ;
জগতের সব দেখা পুরুষ তোকে কাঠাল পাতাই ভাবে,
তাই নয় কি?
দেখ বনশ্রী তোর লেখা কবিতায় আগাছায় ভরপুর –
প্রতিটি শব্দ তন্নতন্ন করে খুঁজেছি ধ্যানস্থ ঈশ্বর,
দহনের মুক্তা!
হাহাকার দেখেছি নাভিকমল ও তলপেটের ত্বকে ;
তোকে সলতে ভেবে উসকে দিতে চাইছে!
অথচ সেদিন তুই বললি দলিল ব্যাতিরেক প্রেমে
অভ্যস্থ প্রেমিকেরা ঘৃণায় বাঁচুক!
তোর পরামর্শ মোতাবেক সবকটি বলায় ভেঙে দিলাম,
গুটিয়ে নিলাম ইজেল সমেত ইরেজার ;
বন্ধ করে দিলাম হাওয়ার কপাট,
তোর কবিতায় কাঠাল সমেত পাতার চাষাবাদ চলুক
কাঠালের কোষে ও রসে সমৃদ্ধ হোক সেই সব ছাগলেরা…