যুবকের শত্রু

চোখ তুলে তাকিও না বিদ্যুতের প্রতি
বিদ্যুতে লুকিয়ে থাকে ধ্বংসাত্মক বাজ
হতে পারে বজ্রপাত অচম্বিত ক্ষতি
ঝরে যেতে পারে ভাই জীবনের সাজ।

অবনমিত কর তো তোমার নজর
পাপ থেকে মুক্ত হবে তুমি আজীবন
সুখী হবে তোমার ইশা তোমার ফজর
হতাশার ব্যথা ভুলে পাবে সঞ্জীবন।

প্রেমের যাতনা থেকে তুমি মুক্ত হও
তাতো তোমায় পরাবে লাঞ্চনার জামা
কাড়বে তো নিদ্রার সুখ তাই মুক্তি লও
সংসারে সুখের সওদা, ভরে নাও ধামা।

যুবকের শত্রু হলো খাহেশের বুক
প্রেমের অঙ্কুর হলো দৃষ্টির ধনুক।
…………………………………………..

কালো

আমার চির জনমের এক সাথী
সেতো ভীষণ কালো
বিশ্বাস করুন কিবা নাই-ই করুন
ভাই, সে বড্ড কালো
ও যে আমার অচিন ছায়ামূর্তি।

আমার প্রথম অস্তিত্ব যে কোহর
তাতো মায়ের জঠর
সংকীর্ণ এক অন্ধকারে সাঁতার
আরও ভীষণ কালো
আমার শেষের অস্তিত্ব যে গর্ত
গহীন মাটির কবর।

আমার প্রাণের কিবলা, কাবার গিলাপ
তাওতো পুতঃ কালো

দর্শনে হই কাতর
পাপের চুষনি খুবই কুঁচকে কালো
সেতো আসওয়াদ পাথর।

আমার সাদা চুলে খেযাব কালো
করি মেকি খেলা
কিংখাবে মোড়া রয় কালচে সতর
কালো পাত্রী তবু করি হেলা
বউয়ের কালো গতর।
…………………………………………..

অভাগিনী

ভিক্ষুক মেয়েটি শুয়েছে আজ অনাহারে
ছেঁড়া জামায় ভেসে উঠে বাড়ন্ত যৌবন
তবু যুবকের কামুক চোখ এক দৃষ্টির ধনুক
প্যান্ট পরা হাইহিল হুরেতে, ঐ এলোকেশী
আর সেই নিপ্তি নিষিদ্ধ ধনুকের ফলা
বেলাউজ ভেদ করে খোলে যায় কোন্ বুকের বন্ধন?

বুঝে নাতো আকাশ জুড়ে কে বসায় রন্ধন?
যুবক পায় যে গরম কড়াই মরণেই বড়াই
প্রেম নাই, নাই গো ভালোবাসা হয় চড়াই-উৎরাই
কেউ মানে না দৃষ্টির সীমা শুনে না ক্রন্দন
একজন মিন্নীর অধিকারী হয় রিফাত নয়ন!

আর এদিকে আকাশ মাথায় এক অভাগিনী
ভিক্ষুক মেয়েটি বসেছে গন্ধ ভাগাড়ে
মনেতে নেই কারো আফসোস, কে দেখবে তারে?
…………………………………………..

ক্ষুধার্ত বক

আপেল বৃক্ষের দীক্ষা নিয়ে
আইজ্যাক নিউটন বিজ্ঞানী হন
সর্ষে ফুলের দর্শন দিয়ে
তেলবাজিতে ডুবাই মনন।

ফুলেরাও আজ ধর্ষিতা হয়
বাগানে তুলে সডির ঘর
কুকুর মুখে ড্রেনের মলয়
খুঁজে সে তার প্রকৃত বর।

এক শহরের নতুন পথে
সাইনবোর্ড হলো পথপ্রদর্শক
নেমেছিলাম কোস্টার হতে
মানুষগুলোই ক্ষুধার্ত বক।
…………………………………………..

রহস্যের ঘুম

একটি দুঃস্বপ্ন আমাকে জাগিয়ে দিলো
অতঃপর খান বাড়ির মসজিদে ছুটে যাই
প্রভুর সান্নিধ্যে কাটাতে ফজরের সময়
তারপর কবরবাসীর জন্য শান্তির সৌগাতের প্রার্থনা করি
আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর
বাড়ি ফেরার পথেই মোবাইলটা বিলাপ করতে করতে
পৌঁছে দিল আরেকজন স্বজনের মৃত্যুর খবর
গৃহে গৃহে তখনও ঘুমের ভীড়।

কড়া নেড়ে ডাকছি
কই গো? জাগো, তুমি জাগোনি!
পৃথিবী ঘুমে ঢুলুঢুলু!
ভিুকের কোলে ঘুমন্ত শিশু
অথচ চারপাশে বিকট শব্দদূষণ
রহস্যের ঘুম তবু ভাঙ্গে না
ধুমধাম কামারের হাতুড়, হাইড্রোলিক হর্ণ
মানুষের অবিরত কোলাহল
তথাপি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন পৃথিবী
ঘুমের সাগরে ডুবে থাকা একটা বিড়ালছানা।

আহ! রহস্যের ঘুম, সবাই যেনো আসহাবে কাহাফ।
…………………………………………..

সাদা সংসার

কবিতায় দেখো শরতের রূপ
তা আমি বলছি না
বৈবকালিক স্নিগ্ধতায় আসো শান্ত নদীর ধারে
দেখো সাদাদের সফেদ সঙ্গম
সাদা মেঘ
সাদা কাশফুল
সাদা শাপলা
সাদা বকুল
সাদা পদ্ম
সাদা শিউলী
কচুরিপানার সাদা ফুলে পানকৌড়ির বাসর
সাদার সংসারে যেন শরতের প্রজনন।
…………………………………………..

ডাকবাকসো

ডাকহরকরা আলাউদ্দিন খলিফা আজ আর নেই
হাড্ডিসার ইবরাহিম? সেও বেঁচে নেই
ডাকবাকসো তাহলে কী করে বাঁচবে বলো?

ডাকপিয়ন মানিক ভাই চিঠি নিয়ে আসেন
আজ তিনি অবসরে। অচম্বিত পত্র পেলে ফোন করে
নতুন এক পিয়ন : একবার আয়া লইয়া যাইন যে
গোস্যায় ফেটে পড়ি, কেন যে এখন আর
টুন টুন করে বেল বাজে না, সেই চির চেনা-
আব্দুস সালাম পিয়নের সাইকেল আসে না
আজ তাই চিঠিও আসে না, আমিও লিখি না।

চিঠি ছাড়ার চিরায়ত চিত্র আজ ধোলায় মলিন
মুখ থুবড়ে পড়ে আছে কালের স্বাক্ষী, স্মৃতির ঘর
পক্ষীকূল বাঁধোক না বসত-বাড়ি, বিশ্রামাগার
তোমাতে জড়িয়ে আছে শব্দের শত ভান্ডার-
ডাক টিকিট, ইনভেলাপ, খাম, মানি ওর্ডার …..
জানো? তোমাকে দেখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে
ওহে ডাকবাকসো, তুমি বেঁচে থাকো হাজার বছর।
…………………………………………..

নজর ফোটা

আরাকানের শিশুর ভালে নজর ফোটার দাগ
তবু কী আর থেমেছিলো বর্মী সেনার রাগ?
নবজাতক প্রসূতি মা’র কপাল জুড়ে খুন
ফোটার দাগে উঠবে জেগে বাঘের উপর টাগ!

কন্যাদায়ী বাবাও দিতেন ললাট মাঝে টিপ
তাইতো নজর পড়ছে না তো দিলেও সাথে জীপ
টিপের সাথে লিপিস্টিকের দিলেন এবার মিল
মাথার চুলে বেঁধে দিলেন তাবিজ সমেত ক্লীপ।

শিশুর মুখে বদ নজরের পড়লে কোনো চাপ
মায়ের বুকে ধপ্-ধপা-ধপ্ দেহ জুড়ে তাপ
দুআ-দরূদ পড়লে সেসব হবেই হবে দূর
কাজল-কালি, কবজ-কড়ি মিথ্যে সবই পাপ।
…………………………………………..

মায়াবী কুকুর

রাস্তায় পড়েছিলো প্রসূতি মা
প্রসব ব্যথায় কাতর
কেউ কাছে নেই।
ডাক্তার সিজার সেবিকা
আধুনিকতা মানবতা কিচ্ছু নেই তার পাশে।
রাত পালিয়ে গেছে
ফজরের ফর্সা বুকে নিয়ে
দিবসও হেঁটে চলছে ধীর পায়ে।
কারো ছোঁয়া ছাড়া
কোন ধাত্রীর পবিত্র হস্তের স্পর্শ ছাড়াই
জোদা হয়ে যায় মা ও সন্তান।
…………………………………………..

চোরের লোভী দুটো চোখ

সদ্য প্রসূত সন্তানের কচি দেহে
ধনুক থেকে নিপ্তি তীরের মত বিদ্ধ হতেই
মা সচকিত হন সমস্ত কষ্ট ভুলে।
নিথর দেহে ইশারা করতে থাকেন
একটা দয়ালু পৃথিবীকে।
কিন্তু না, কেউ বুঝেনা তার ইশারার ভাষা
অথবা বুঝেও ঝর্ণা ঝরে না কোন পাথর বুকে।
বিপদে কখনো কখনো কুকুরও আপন হয়ে যায়।
তখন রাস্তার বেওয়ারিশ একটা কুকুর
মায়াবী চোখে দাঁড়িয়ে যায় কিতমির হয়ে
নিঃস্ব এক মায়ের নিষ্পাপ শিশুর পাহাড়ায়।
মা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েন সন্তান বুকে নিয়ে
সবুজ চাদরে আবৃত এক উন্মূক্ত পৃথিবীতে।
…………………………………………..

কবিতার প্রহরী

আমি এক কবিতার প্রহরী
আমাকে যে ঘুমোতে বলো ওহে অপ্সরী
তুমি কী জানো?
হাজারো ছন্দের ফুলঝুড়ি সাজিয়ে
আমার শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকে
আরেকজন কবিতার হুরী।

কবিতা কি কখনো হারায়?
না গো না, হারায় না।
তবে কেনো?
শুনো বন্ধু শুনো
পৃথিবী যখন ঘুমিয়ে যায়
কবি তখন জেগে থাকেন কবিতার প্রহরায়।
…………………………………………..

অবাক ধ্যানের যোগী

বৈশাখী কবিতার ছন্দ সাজাবো আজ
বসি একা নিরব সদনে, সুরের তানে
ঢোল-করতাল বাজে অচম্বিত, বাহারি ঝড়
ভেঙ্গে দ্যায় যে কবিতার ঘর, তান্ডব হানে।

বিহানে ঐ মঙ্গল মেলায় মিছিল হবে
প্যাঁচা, সিংহ, বাঘ, ভাল্লোকের এই স্বাগতম,
অচেনা মানুষগুলো দৌড়ে পালায় : ভয়
বনেতে দ্রুত গোটায় সে ময়ূর পেখম।

আমি একরাশ সুখের আশায় ঘুরে বেড়াই
নিতে যাই বাগানে বিশ্রাম : শান্তি পরম,
দেখি ভাদ্র কুকুরের বেলাজ ন্যাকামি
হি হি হি হি… অবিরত বিজগীর গরম।

গালে গালে আল্পনার রং-নষ্ট চি‎‎‎‎‎‎হ্ন
নগ্ন বক্ষে বৈশাখি ঝড় হঠায় শরম,
কপালে যন্ত্রণার লাল টিপ, অগ্নি-প্রদীপ
নমরূদের নাপাক যাত্রী, ইবরাহিমের যম।

লাউড স্পীকারে ভূমিকম্প, লম্প-জম্প
পাগলা বাতাসে বাজে ডাগর ডুগডুগি,
নাচে বাজনার তালে কাঁচা পাকা বেলুন
হাতে কয়লা পুড়া, অবাক ধ্যানের যোগী!
…………………………………………..

বিবেকের দুয়ার

রক্ষিত আমার হৃদয়াকাশে তুমি উজ্জ্বল শশি
প্রকাশিলে শেষ বেলায়, এক্ষুণি হবে ভোর
তোমার কোমল উত্তাপ আমাকে স্পর্শ করেনি
সূর্যের প্রখর খরতাপ কর্ণে বিঁধে দেয় বড়শি।

সুপারমলে খোঁজে বেড়াই দামী উপহার
মেগাশপ কিবা বই বাজারে তোমাকে দেবার
হর্ষিতে মনে পড়ে বারবার একটি কবিতাই-
আলগোছে লুকানো আমার ‘বিবেকের দুয়ার’।

সতীত্বের বাগানে ফুটেছে এবার নিষ্পাপ রেণু
ফেয়ার এন্ড লাভলী কিবা কিউটের লাবণ্য নয়
তথাপি নিষিদ্ধ আঁধারে আমার গোলাপ কুড়ানো
যেনো আমি হলাম তোমার মনের গোরখোদক।

মস্তিষ্কের কতক সিন্ধুতে যত্নে রাখা তোমার ছবি
ঝিমিয়ে পড়া মনে হঠাৎ দহনের দ্বীপ-শিখা
ভাবি, বিড়ম্বনাপূর্ণ পুরাতন সংসারের গলা টিপে
সখি, চলো যাই কোনো এক অজানার দ্বীপে।

সইতে হবে জিল্লত-লানত, ক্ষতস্থানে রক্ত
জাগে চৈতন্য, রাস্তায় মিলে নাকি রামধোলাই!
ধ্যান ভেঙ্গে দীর্ঘশ্বাস, মিনারে ফজরের ওয়াক্ত
চোরের মতো চলে যাই জায়নামাযের জলসায়।
…………………………………………..

বরইতলা বধ্যভূমি

স্টেশন বিহীন ট্রেন থামাবার শব্দে
শিশুরা এগিয়ে আসে, চেনে না গ্রেনেড
বগি থেকে নামছে বুট একাত্তর অব্দে
বুকে বুকে হামলে পড়ে বেয়নেট ব্লেড।

এইতো শহিদ নগর মাসজিদে নামাযি
আখ ক্ষেতে কত প্রাণ মৃত্যুর পরশে
নদীতে লাশের ভেলা, ডাকাতিয়া মাঝি
মায়ের দুলে ডোমেরা, পাকিরা হরষে।

স্লিপারের মত লাশ স্লিপার হয়েছে
খয়েরি ট্রেন চলেছে লাশের উপর
বিকট শব্দে শূন্যতা, দূর্গন্ধ রয়েছে ….
কাঁদে নিহতের বউ বাঁধে ব্যথার চুপড়।

বরইতলা বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ হয়ে
স্তম্ভে লেখা প্রিয় হারা কষ্ট যাচ্ছে বয়ে।