১৯১২ সালে বাংলাদেশ সংস্কৃতিকেন্দ্রের সম্মানিত নির্বাহী পরিচালক কবি মতিউর রহমান মল্লিক একটি সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সাময়িকীর নাম নির্ধারণ করেন ‘প্রাঙ্গণ’। এই সাময়িকীর জন্য লেখা সংগ্রহ করার দায়িত্ব প্রদান করেন বন্ধু আহমদ বাসির ও আমাকে। আমরা বিভিন্ন লেখা সংগ্রহ করার সাথে সাথে একটি বিষয় নির্ধারণ করে কয়েকজন চিন্তুকের সাক্ষাৎকার গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করি। তার জন্য যে বিষয়টি নির্ধাণ করা হয় তা হলো ‘ইসলামি সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই’। এই শিরোনামে আমরা একটি প্রশ্নমালা তৈরি করি। প্রশ্নমালা নিয়ে মল্লিক ভাইয়ের সাথে আমরা আলোচনা করি। সর্বসম্মতির আলোকে নিম্নের প্রশ্নমালা নির্ধারণ করা হয়
১. আশির দশকের এদেশে নতুন উদ্যম নিয়ে ইসলামি সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুরু হয়েছিলো। গত ৩ দশকে এ আন্দোলনের নিরবচ্ছিন্ন কর্মকান্ড শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ইসলামী কাঠামো বিনির্মাণে কতোটা সফল হতে পেরেছে।
২. এ আন্দোলনের সাফল্যের পাল্লাটা ভারি হতে পারেনি কেনো?
৩. কেউ কেউ বলছেন ‘ইসলামি সাংস্কৃতিক আন্দোলনে উদ্যমহীনতার ঘুণপোকা প্রবেশ করেছে’ এ ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই।
৪. বর্তমান যুগটাকে ইমেজের যুগ বলে কেউ কেউ অভিহিত করেন, কেউ কেউ বলেন ডিজিটাল উমেজের যুগ। এ যুগে দাওয়াতি কাজের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে ইন্টারনেটসহ প্রযুক্তি নির্ভর ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়া। নি:সন্দেহে এসব প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হলে শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক তথা বুদ্ধিবৃত্তির ভিত্তিটা মজবুত হওয়া চাই। এই মজবুতির জন্য আদর্শিক শক্তির পক্ষে সৃজনশীল ও মননশীল মানুষদের যেভাবে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন অনেকে মনে করেন সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না বলে ইসলামি সাংস্কৃতিক আন্দোলন শক্তি অর্জন করতে পারছে না আপনার কি মনে হয়।
৫. অনেকের কথাই আমরা জানি, যারা আদর্শিক শক্তির ছায়াতলে ইসলামি শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতিভাবন কর্মী হিশেবে গড়ে উঠেছেন কিন্তু বেশিদিন অবস্থান করতে পারেননি। তাদের কেউ কেউ বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু কাজ করছেন, অনেকে সাবার উদ্যম হারিয়ে কর্ম তৎপরতাই বন্ধ করে দিয়েছেন, এর পিছনে কি কারণ থাকতে পারে বলে আপনি মনে করছেন।
৬. কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীরা অনুসন্ধিৎসু, চিন্তাশীল ও অনুভীতিপ্রবণ হওয়ায় তারা সাধারণের চেয়ে আলাদা। স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাদেরকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করেছেন। সমকালীন আদর্শিক শক্তি কী তা নিরূপণ করতে সক্ষম হয়েছে।
৭. শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা সম্মানজনক পৃষ্ঠপোষকতার মুখাপেক্ষী অন্তত ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ একটি সমাজ এসবের বিনিময় দেয়ার জন্য সর্বাত্ত্বকভাবে প্রস্তুত না হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব কতটা প্রকট?
উপরোক্ত প্রশ্নমালা নিয়ে আমরা হাজির হয়েছিলাম ৩জন কবির কাছে। তার মধ্যে কবি আল মাহমুদ অন্যতম। দুখের বিষয় আমরা প্রাঙ্গণ মানের সেই সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করতে পারিনি। কিন্তু লেখাগুলো যেত্নর সাথে সংগ্রহ করে রেখেছিলাম। সেই সাক্ষাৎকার থেকে আমরা কবি আল মাহমুদ পর্ব নিয়ে হাজির হলাম। আমরা আশা করি আপনাদের এই সাক্ষাৎকারটি চিন্তার উৎকর্ষ সাধনের সহায়তা করবে।
সাক্ষাৎকার গ্রহণে : আহমদ বাসির ও আফসার নিজাম

আল মাহমুদ এর জবাব
বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে আমাদের সাহায্য করতে পারে ইসলাম সম্বন্ধে রচিত বিপুল গ্রন্থসম্ভার। এই বইপত্র নি:সন্দেহে ইসলামি আন্দোলন এবং ইসলমি সংগঠনেরই অবদান। একই সাথে এ কথাও বলবো, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ক্রমাগত ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে এই পুস্তকাদি ঢালের কাজ করে চলেছে। এই পুস্তকাদির প্রভাবে এদেশের বামপন্থি আন্দোলনের সহায়ক যতো বইপত্র ছিলো তা এখন প্রায় নিশ্চিহ্ন। স্বীকার করতেই হবে, ইসলামি সংগঠন যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে ইসলামি বইপত্র প্রকাশের স্রোতধারাকে উজ্জীবিত রেখেছে। ইসলাম সম্বন্ধে যে কোনো প্রশ্নে জবাব দিতে পারে ঐসব ইসলামি সাহিত্যের ভান্ডার।

তবে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের জন্য বইয়ের যেমন একটা কার্যকর ভূমিকা আছে, তেমনি সৃজনশীল মানুষের সংখ্যাও বাড়ানো একান্ত দরকার। সৃজনশীল মানুষ কোথায় পাওয়া যায়? দেখা যাবে, এরা বহুদিন ধরে মূল সংগঠনের ছত্রছায়ায় আশ্রয় ও সমর্থনের আশায় ঘোরাফেরা করছেন। প্রশ্ন হলো, এরা কতো দিন ঘোরাফেরা করতে পারেন, যদি তাদের মূল্যায়ন করার জন্য নেতৃত্বের মধ্যে একজন মানুষও মুখ তুলে না তাকায়? বাংলাদেশের সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ইসলামি আন্দোলনকে সমর্থন করে এমন কবি সাহিত্যিকের কোনো অভাব নেই কিন্তু অভাব হলো তাদের সনাক্তকরণের। আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি, যারা ইসলামকে হৃদয়ে ধারণ করে সাংস্কৃতিক লড়াই শুরু করেছিলেন তাদের অনেকেই বহুদিন প্রতীক্ষায় থেকে শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। এখন তাদের অবস্থা হলো, তারা আর আগের স্বত:স্ফুর্ত তরতাজা অবস্থায় নেই। এখনো তারা ইসলামের কথাই বলেন, কিন্তু তাদের কণ্ঠস্বর অনুচ্চ। ভাষার সেই তেজ নেই, যাকে আমরা জোস বলি। অথচ অনেক অক্ষম লোক ক্ষুদ্রচিন্তা এবং ক্ষুদ্র আত্মম্ভরিতায় এদের অহরহ যাতনার মধ্যে রেখেই একদা সুখ পেয়েছে। যখনই এরা নির্দ্বিধায় ওই সব স্থান ছেড়ে চলে এসেছে, তখনই অনুভূত হয়েছে এক অপূরণীয় শূন্যতা। এই শূন্যতা আর পূরণ হয় না। সম্ভবত হবেও না।

ইসলামের সামনে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই একেবারেই গায়ের ওপর এসে পড়েছে। এখন এই যুদ্ধ করার মতো সৃজনশীল মানুষদের একত্র করবে কে?

ইসলামি আন্দোলনের সে মুরোদ নেই- একথা আমি বলবো না। নিশ্চয় আছে। কিন্তু ইসলামি আন্দোলনের সর্বোচ্চ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের যারা অহরহ গায়ে পড়ে পরামর্শ দেয়, তারা খুবই কৃপণ চরিত্রের ক্ষুদ্র আত্মার মানুষ। কখনো বড় কিছু এরা সহ্য করতে পারে না। ফলে বড়ত্বের মধ্যে এরা কখনো ইসলামকে অভিষিক্তও করতে পারে না।

সম্প্রতি আমি সংগীত ও চিত্রকলার যেসব অনুষ্ঠানে কিছু বলার জন্য আমন্ত্রিত হয়ে গেছি সেখানে দেখেছি তরুণ-তরুণীরা উপচে পড়ছে। তাদের উদ্ভাবনা এবং উদ্যম যেনো ফেটে পড়তে চাইছে। আমি যেহেতু ধর্মের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে থাকি, যে কারণে আমার অনুসন্ধিৎসা থাকে এরা নিজেদের ধর্ম ইসলাম সম্বন্ধে কী ভাবে? এরা কী ইসলামকে উপেক্ষা করে? ভয় পায়? কিংবা নিজেদের ঈমান সম্বন্ধে আলো-অন্ধকারের দুলুনিতে একেবারে দিশেহারা?

এর সদুত্তর খুঁজে বের করা খুবই কঠিন কাজ। তবে আমার কাছে অর্থবহ বিষয় হলো, এরা কেউ নিজেদের ধর্ম সম্বন্ধে একেবারেই উদাসীন নয়। প্রত্যেকেই তাদের মুসলমানিত্ব নিয়ে নিজের মধ্যে নি:শব্দ গর্ব বহন করে চলেছে। তারা একেবারে অজ্ঞও নয়। আবার অন্যদিকে অভিজ্ঞও নয়। এ অবস্থাটি তখনই সৃষ্টি হয় যখন ইসলাম চিন্তাশীল মানুষকে আর অগ্রসর হয়ে আশ্বাস শোনাতে আসে না। অর্থাৎ দাওয়াতের কাজ বন্ধ করে দেয়। শুধু সংগঠন, শুধু আনুগত্য এবং শুধু সন্দেহের দৃষ্টি চতুর্দিকে ঘেরাও করে রাখলে যে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই আমরা শুরু করেছি তা আর চম্বুক ক্ষেত্রে প্রবেশের পথ খুঁজে পায় না।

এদেশের ইসলামি আন্দোলন কখনো এদেশের ঈমানদার বুদ্ধিজীবীদের সম্পৃক্ত করতে পারেনি। এটা একজন কবি বললে সেটা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দেয়া যায় কিন্তু সাংস্কৃতিক ইতিহাসের মধ্যে যে দুর্বলতা রয়েছে, সেটা দূর করার সাধ্য নেতৃত্বের মধেই খুঁজে পাওয়া যায় না।

কবি সাহিত্যিকরা সংসার-ধর্ম সম্বন্ধে উদাসীন মানুষ হলেও দ্বীন-ধর্ম সম্পর্কে উদাসীন নন। তারা সব সময় ইসলামের বিজয়ের জন্য স্বপ্নের সেতু নির্মাণে ব্যস্ত। যদি রাজনীতিবিদরা তাদের মূল্যায়ন না করেন তাহলে দেখা যায় যে, তারা নিজেরাই এমন সমর্থক সৃষ্টি করে নিয়েছেন যা রাজনৈতিক নেতৃত্ব অনেক সময় কল্পনাও করেননি। এটা সৃষ্টি হয়ে যায় অবজ্ঞা ও অবহেলার এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাম্ভিকতার কারণে সম্মানীত ব্যক্তিকে সম্মান না দেয়ার ফলে। এই জনপ্রিয়তা শেষ পর্যন্ত দ্বীন-ধর্মেরই কাজে লাগে। যদি একজন নি®প্রভ রাজনৈতিক নেতৃত্বের চেয়ে একজন সপ্রতিভ কবিত্ব শক্তি ইসলামের গুণ গেয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উপনীত হন তাহলে তার মূল্যায়ন হওয়া উচিত। যদি তিনি সে মূল্য না পান তাহলে জনগণ তাকে অবিশ্বাস্য পুরস্কারে ভূষিত করবেই।

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কয়েকদিন আগেও যে উদ্দীপনা ছিলো, অন্তর্বিরোধের কারণে তা মুষড়ে পড়েছে। যারা লেখক-শিল্পী-সাহিত্যিক, তারা সাধারণত সব বিষয়েরই বিশ্লেষণ পছন্দ করেন। কিন্তু এদেশের দক্ষিণপন্থী রাজনীতি আত্মসমালোচনা একেবারে সইতে পারে না। যা হোক, এর মধ্যেই এদেশের দক্ষিণপন্থী সৃজনশীল স্বপ্নপ্রবণ মানুষরা আদর্শের জন্য লড়াই করে চলেছে। এ লাড়াই প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে ইসলামকে মহিমান্বিত করতে শুরু হয়েছিলো। এখন এদেশে ইসলামি আদর্শ ও মূল্যবোধ শিক্ষিত পরিবারগুলোর বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এটুকু সাফল্যের কৃতিত্ব অন্তত বিশ্বাসী কবিদের দেয়া উচিত।

চরম নাস্তিক্যবাদী সুশৃঙ্খল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিপক্ষে এক-আধ জন বিশ্বাসী মানুষ তার কবিত্বশক্তিকে উচ্চে তুলে ধরতে দ্বিধা করেননি। এটা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি অকুতোভয় প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত। কিন্তু যাদের জন্য এই লড়াই বা প্রতিরোধ তৈরি করা হয়েছে তারা কখনো এর জন্য প্রতিরোধকারীকে কোনো মূল্যায়ন করেনি। এই মূল্যায়ন না করার জন্য কবি ও কর্মীর মধ্যে যে বিচ্ছিন্নতা ও দূরত্ব তৈরি হয় তার দায়ভার কে নেবে?

আমার কথা হলো, যারা হতাশা থেকে আশার দিকে আসতে চায় তাদের আশ্রয় দেয়ার ছাতা আমাদের পরিবেশের মধ্যে যে কোনো মূল্যে তৈরি করতে হবে। যারা দাওয়াতের কাজ করেন, আমি বিষয়টি তাদের বিবেচনার জন্য পেশ করতে চাই। এখন এমন একটা সময়, যখন ইসলামের আদর্শিক আন্দোলনে এবং সাংস্কৃতিক চৌহদ্দিতে বিপুলসংখ্যক তারুণ্যের আগমন দরকার। আমি যতুটুকু জানি, অনেক তরুণ ইসলামি আদর্শের ছাতার নিচে মাথা গুঁজতে একান্ত আগ্রহী। তারা হয়তো পদ্ধতিগতভাবে আদর্শের সিঁড়ি অতিক্রম করতে সুযোগ পায়নি। শুধু এ কারণেই তাদের আগ্রহ প্রত্যাখ্যান করলে মারাত্মক ভুল হবে।

বাংলাদেশে এখন যে সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে একজন সৃজনশীল মানুষ নিজেকে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে চাইছে কিংবা বিচ্ছিন্নতার রোগ তাকে পেয়ে বসেছে। এর দাওয়াই অবশ্য আমারও জানা নেই। তবে আমি দীর্ঘদিন সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করে চলেছি বলে আমার খানিকটা অভিজ্ঞতা আছে। আগ বাড়িয়ে মানুষেকে বিশেষ করে দীপ্তিমান তারুণ্যকে ইসলামের পক্ষে টেনে আনতে না পারলে তারা নিজে থেকে এগিয়ে আসে না। আর আমাদের মধ্যে মিথ্যা অহংকারী দাম্ভিক বুদ্ধিজীবীর সংখ্যাই অপেক্ষাকৃত বেশি। তারা নিজেদের স্বার্থের তাগিদেই ইসলামের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আসন অলংকৃত করে আছেন। তাদের মধ্যে কোনো উদ্যম নেই। আশার ছিটেফোঁটাও তাদের মধ্যে স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করে না। কারণ, এরা এখন পর্যন্ত তাদের আদর্শের জন্য কোনো বিপর্যয়কর ধাক্কা খায়নি। কিন্তু সামনে এমন ধাক্কা আসতে পারে যে, তারা আচম্কা নিজেদের নিশ্চয়তা থেকে ছিটকে পড়তে পারে। এ কথা এজন্যেই বললাম- ইসলামি সাংস্কৃতিক আন্দোলন একটি সচেতন সচকিত আন্দোলন। এখানে উদাসীন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সর্বদা বুদ্ধিমান ও প্রতিভাদীপ্ত মানুষকে নিজের দিকে টানতে হবে। নিজের মধ্যে চৌম্বকশক্তি না থাকলে অন্যকে টানা যায় না। এ কথা বিস্মৃত হলে চলবে না।

চিন্তাশীল মানুষ গড়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই পরিবেশ তৈরিতে একান্ত দরকার উদ্ভাবনপ্রিয় মননশীলতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। স্বপ্নের বীজ বপন করতে হবে এ দেশের মাটিতে। তা না হলে বাস্তবের রূঢ়তা এ মাটির উর্বরা শক্তিকে বন্ধ্যা করে রাখবে।

ইসলামি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্যে উদ্যমহীনতার ঘুণপোকা প্রবেশ করেছে। আত্মতৃপ্তিতে পরিপূর্ণ হয়ে বসে থাকার মধ্যে কোনো উদ্ধার বা মুক্তি নেই। কঠোর পরিশ্রম এবং আদর্শের আলোকে নিজকে উদ্ভাসিত রেখে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রটি বিস্তৃত করতে হবে। মনে রাখতে হবে আপনি ছাড়াও এদেশে ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে কিছু কবি-সাহিত্যক কাজ করে চলেছেন। তাদের উদ্যম বৃথা যেতে পারে না।