আল-কুরআন

বহু গ্রন্থ ও বহু কিতাব দেখেছি ও পড়েছি আমি ওতি,
কোনটা সত্য ও মিথ্যা, কোনটা ভুল সেটাও জানি ও মানি।
আল- কুরআন হলো সেই গ্রন্থ যাহা হলো আল্লাহর বাণী,
যাহা নাজিল হয়েছে প্রিয় মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রতি।

যাহা পেয়ে নবী ছড়িয়ে দিয়েছেন সত্যের বাণী ও জ্ঞান,
তাহা পড়ে করতে হবে গবেষণা ও সত্যের অনুসদ্ধান।
কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান ও দাওয়াত প্রচার করিয়াছে প্রিয় নবী,
মুশরিক ও কাফেরেরা নবীজিকে বলেছে গণক ও কবি।

কুরআন হলো আল্লাহর নবীর প্রতি বিশেষ নিয়ামত,
কুরআন পাকে বর্ণিত আছে ইহকাল, পরকাল ও কিয়ামত।
আল-কুরআন হলো আল্লাহ তা’আলার দেওয়া ঐশী গ্রন্থ,
পৃথিবীর মহাজ্ঞানী তারা, যারা কুরআন বুঝেছে ও করেছে কণ্ঠস্থ।

আল-কুরআন হলো মুসলিম উম্মহর লিখিত ঐক্যের সংবিধান,
তবে কেন মুসলিমেরা মেনে নেয় মানুষের তৈরী মনোবিধান?
এখনো সময় আছে মেনে নাও কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক রাজ,
যাহাতে পাবো আমরা চিরসুখী ও চিরস্থায়ী একটি সুন্দর সমাজ।
……………………………………………

দুঃখ ও হতাশা

জানি দুঃখ ও হতাশা আমাদের সাথী,
তবুও এগুলো আমরা আমাদের মনের মাঝে পুষি।
কারণ দুঃখ ও হতাশা আমাদের শিখিয়েছে বসবাস,
এগুলো মাঝে রয়েছে সুখের আভাস।

দুঃখ ও হতাশাকে পুঁজি করে আমাদের এই পথ চলা,
আমাদের উচিৎ নাহি দুঃখ ও হতাশাকে ভোলা।
এগুলো আমাদের ভয় দেখিয়ে নিজেরাই চলে যাবে,
আমাদের প্রশ্ন করতে হবে না, এগুলোর জয় হবে কবে।

দুঃখ ও হতাশার মাঝে সৃষ্টিকর্তা দিয়েছেন এক আশির্বাদ,
তবে কেন আমরা মেনে নেয় না এই মহান মতবাদ?
দুঃখ ও হতাশাকে আমাদের করতে নেয় কোন ভয়,
এগুলোকে মনের মাঝে পুষিয়ে নিয়ে করতেই হবে জয়।

যদি না থাকত দুঃখ ও হতাশা, আমরা পেতাম না সুখের দেখা,
দুঃখ ও হতাশার ছবি হলো সুখ ও আনন্দের বিপরীতে আঁকা।
আমরা সকালেই সৃষ্টিকর্তার কাছে চায় আনন্দ ও পরিপূর্ণ সুখ,
যাহা নিয়ে আসুক আমাদের জীবনে আশির্বাদ ও সুখের মুখ।
……………………………………………

ঈদ

ঈদ এলোরে, ঈদ এলোরে, খুশির বাণী নিয়ে,
মনটা আমার ভরে গেল আনন্দেরই প্রাণে।
ঈদগায় যাবো নতুন জামা পরে ও খুশবু দিয়ে,
সবার সাথে করব দেখা আপন মনের টানে।

ঈদ হলো মুসলিম উম্মাহর আনন্দের মেলা,
ঈদ আনন্দ ভাগ করতে সবার মাঝে নেয় হেলা।
তাইতো আমরা খোজখবর নেব প্রতিবেশি পাড়া,
সবচেয়ে আপনজন ও ঘনিষ্ঠতম বন্ধু হলো তারা।

ঈদ আনন্দ ও ত্যাগ তিথীক্ষা থেকে শিক্ষা নেব তাই,
ঐক্য, ভ্রাতৃত্ত ও সহমত ছাড়া মুসলিমের জয় হবে না ভাই।
……………………………………………

মা

মা কথাটি শুনতে ভারী মিষ্টি
মাকে মা ডেকে পায় আমি সন্তুষ্টি।
মা কথাতে লেগে আছে মধু মাখা
মন বলে মায়ের দিকে নেক নজরে তাকা।

মা না থাকলে দেখতাম না এই ধরণীর মুখ
মা না থাকলে পেতাম না এতো সুখ।
যদি কেউ জান্নাত দেখতে ও যেতে চাও
তবে তোমরা মাকে সেবা কর ও দেখে নাও।

সন্তানের সুখ হলো মায়ের চির চেনা সেই সুখ
সন্তানের সুখ আনন্দে ভরে ওঠে মায়ের বুক।
মা হলো আমাদের চিরচেনা সেই সুখ
মা হলো জান্নাত প্রবেশের সেই মুখ।
……………………………………………

অপেক্ষা

এক রাশি কষ্ট নিয়ে আমি বেঁচে আছি
আজও আমি তোমায় ভালোবাসি।
আমায় ভুলে তুমি আজও আছো সুখে
আজও তোমার নাম আছে হৃদয় ও মুখে।

আজও আমি তোমার নামে লিখি কবিতা
আজও তুমি রয়েগেছে আমার সেই ছবিটা।
মনে কি পড়ে আমায়, তোমার সেই দিনের কথা?
আমি ছিলাম তোমার মনের হৃদয়ের পাতা।

আজও আমি আছি তোমার অপেক্ষাতে বসে
কবে আসবে তুমি? কবে বসবে আমার পাশে।
জানি আর আসবেনা পাশে, ভাসবে না ভালো
রয়ে যাবে তুমি মনের মাঝে দুঃখ, বেদনা ও কালো।

আজও আছো তুমি আমার মনের মাঝে হয়ে রাণী
আজও তোমার কথা আমি কল্পনার মাঝে টানি।
আজও আমি তোমায় ভালোবাসি মনে মনে
আজও আমি আছি তোমার পাশে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে।
……………………………………………

বৃষ্টি

বৃষ্টি, বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টি
এতো মহান রবের সৃষ্টি।
যাহা মৃত্তিকার উপর পড়ে
মৃত্তিকার প্রাণ গেল ভরে।

প্রকৃতি ছিল খুবই শুষ্ক
বৃক্ষেরা পেল তাদের পুষ্প।
বয়ছে সতেত আবহাওয়া
এইতো প্রকৃতির বড় পাওয়া।

বৃষ্টি আসলে কৃষকের হাসি
কৃষক বলে বৃষ্টিকে ভালোবাসি।
বৃষ্টি আনল কমল ঠান্ডা হাওয়া
এইতো মানব-প্রকৃতির চাওয়া।

প্রতিক্ষীত বৃষ্টি এসে দিল দোলা
মানব-প্রকৃতির জীবনে উতলা।
……………………………………………

মাতৃভাষা

আমি বাংলায় কথা বলি, আমি সহজ পথে চলি।
আমি বাংলার কথা বলি, আমার কাছে বাংলা ফুলের কলি।
বাংলা আমার মাতৃভাষা, বাংলা আমার আশা।
বাংলা আমায় শিখিয়েছে রং বেরঙ্গের ভাবপ্রকাশের ভাষা।

যে জাতি জীবন দিয়ে রক্ষা করেছে বাংলা মাতৃভাষা
যাদের জীবনে ছিল না কোন ভয় ও জীবন হারানোর নিরাশা।
বাঙালি জাতি বীরের জাতি জীবন দিতে নাহি করে ভয়
মাতৃভাষা বাংলা রক্ষার্থে বাঙালিরা জীবন দিয়ে করেছে জয়।

বাংলা ভাষার রয়েছে হাজারো বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাস
তবে কেন বাঙালি জাতি মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে করে উপহাস?
যে ভাষার জন্য বাঙালি জাতি বীরের মতো দিয়েছে জীবন
করেছে সংগ্রাম, রেখেছে জীবন বাজি ও করেছিল দৃঢ়ভাবে পণ।
……………………………………………

আমাদের সংগ্রাম

আমরা বায়ান্ন থেকে একাত্তর পারি দিয়ে এখানে এসেছি।
তবে কেন আমরা আজ থেমে গিয়েছি?
আমারদের নেয় কোন ভয়,
আমাদের হবেই হবে জয়।
আমাদের বসে থাকলে চলবে না, আবার জাগতে হবে,
আমাদের আত্মাকে জাগ্রত করতে হবেই তবে।

আমাদের ভাঙতে হবে পরাধীনতার গ্লানি,
আমাদের আবার আনতে হবে স্বাধীনতার সেই অম্লান বাণী।
আবার ফিরিয়ে আনতে হবে পূর্ণ স্বাধীনতা
যেখানে ধনী, গরিব, সাদা ও কালো সবাই পাবে সমতা।
আবার আসুক সেই বায়ান্ন ও একাত্তর, ভেঙ্গে ফেলো পরাধীনতা,
দিয়ে যাও সেই স্বাধীনতা যেখানে থাকবেনা কোন অপারগতা।

হে সাহসী বীরেররা আজকে তোমরা সবাই কোথায়?
তোমাদের দরকার, যেখানে অনিয়ম, জুলুম ও নির্যাতন হেথায়।
আরেকবার জেগে ওঠো, প্রতিবাদ করো ও ভেঙে দাও সেই হাত
যে হাতে লেগে আছে রক্ত ভেঙ্গে ফেল সেই হাত কর প্রতিঘাত।
ঘৃণা করো সেই মন, যে মনে লেগে আছে পশুত্বের ছাপ,
রয়ে গেছে ঐ মনে হিংসা, অহংকার ও পরিপূর্ণ পাপ।
……………………………………………

স্বাধীনতা

স্বাধীনতা! হে স্বাধীনতা! তুমি কি আছো আমার দেশে?
না হয় তুমি হারিয়ে গেছো অন্যায়ের সাথে মিশে।
কি জন্য তুমি এসেছিলে আমাদেরই মাঝে?
কেনইবা হারিয়ে গেছো তুমি আমাদের অগোচরে।

স্বাধীনতা তোমার জন্য বাংলার দামালরা দিয়েছে জীবন
তোমার জন্য করেছে সংগ্রাম আজীবন, আমরণ।
তুমি ছিলে আমাদের মুক্তি সংগ্রামের চাবিকাঠি,
তবে কেন স্বাধীনতা আজ হয়েগেছ নিঃস্ব, ধূলিসাৎ মাটি।

স্বাধীনতা, তুমি আবার ফিরে এসো বাংলাদেশের বুকে
কেন আমরা পায়না তোমার দেখা মরি ধূকে ধূকে।
আবার এসো ফিরে ৭১এর মতো ভেঙ্গে ফেল অন্যায়
রবেনা কোন বাধা, বিগ্ন, অনিয়ম, জুলুম ও অত্যাচার প্রশ্রয়।
……………………………………………

যৌবন কাল

আমার যৌবনকাল ছিল টকবগে
বুঝতে পারিনি ভালো ও মন্দটাকে।
যেটা চেয়েছে মন করেছেই সেটা
করেছে মনটা আমার যৌবনের ওটা।

যৌবনকাল ছিল বীরৌত্বপূর্ণ গাথা
যৌবনকালে ছিল যতসব আশা।
যৌবনের তাড়নায় করেছি আমি সব
বুঝতে পারিনি আমি পুণ্য ও পাপ।

যৌবন হলো রবের বিশেষ নিয়ামত
এটা হলো রবের পক্ষ থেকে আমানত।
যৌবনকালের কর তুমি সদ্য ব্যবহার
যৌবনেরই সবল দিক শুধু তোমার।