ঈদ একটি পরম আনন্দের দিন। আল্লাহতা’লা মুসলিমদের যে দুটি উৎসব উপহার দিয়েছে ঈদ-উল-ফিতর তার মধ্যে একটি। দীর্ঘ ১ মাস রমজান পালন করে মুসলিম সমাজ এই উৎসব পালন করে থাকে। এ উৎসবে মুসলিমরা যেমন আনন্দ উপভোগ করে তেমনি তাদের পাশে বসবাসরত ভিন্ন ধর্মের মানুষও সেই উৎসবে যোগ দেয়। শান্তি ও সুখের মধ্য দিয়ে উদযাপন হয় ঈদ। মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ তা এই দিনে কুরবানী করা হয়। নতুন সমাজ নির্মাণে তারা শপথ গ্রহণ করে। জুলুম অত্যাচর মুক্ত একটি পৃথিবীর স্বপ্ন নিয়ে তারা ঈদগাহে যায়। আর তার জন্য মহান প্রভুর কাছে প্রার্থণা করে। প্রকাশ হলো ঈদ উল ফিতর সংখ্যা ২০২০ : পর্ব-৪।
আফসার নিজাম, সম্পাদক

সূ চী প ত্র
চাঁদতালাসি :: শুভ্রাশ্রী মাইতি
করোনা বন্দী ঈদ :: বনশ্রী বড়ুয়া
ঈদের ছড়া :: লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী
ঈদ মোবারক :: বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
খুশির ঈদ :: সুজন চন্দ্র দীপ্ত
ঈদের আনন্দ :: চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু
বাঁধন :: পঞ্চানন মল্লিক
অন্যরকম ঈদ :: অরনী চৌধুরী
ঈদের কথকতা ও অপূর্ণ স্বপ্নগুলো :: কমল কুজুর
ঈদের তিনটি ছড়া :: অশোকেশ রায়
শিক্ষিত হতে অরুচি :: রহমতুল্লাহ লিখন
আনন্দের বার্তায় আসুক ঈদ :: নূরজাহান শিল্পী
ঈদের চাঁদ :: হামীম রায়হান
ঈদে আড়ি :: শেখ একেএম জাকারিয়া
ঈদমেলা :: মালেক মাহমুদ

চাঁদতালাসি
শুভ্রাশ্রী মাইতি

শাবানের শেষে ইবাদতের আনন্দঘন উদযাপনে
চোখে চোখে নেমে আসে আকাশ দিগন্তের ব্যাকুল বুকে
বাড়ানো হাতের মুঠোয় আকাশ খুঁজে চলে হারানো শৈশব
শেকড় সন্ধানী মন ফিরে চলে মায়ের টানে মাটির বুকে
গলানো নীল মোমে মাতন লাগায় চাঁদতালাসির হুল্লোড়
ঈদগাহের রঙিন পতাকায়,সালাতের পবিত্র নামাজে
সুরমা আতরের মিষ্টি গন্ধে, সালামী নোটের চকচকে খুশিতে
নতুন পোশাকের কড়কড়ে ভাঁজে,লাচ্চা সিমাইএর মনমাতানো সুবাসে
চাঁদ আর চোখের লুকোচুরি খেলায় এক তারে বাঁধা হয় মন
ভেসে আসে চির পুরাতনী সুর-রমজানেরই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ…
শেষ হয় চাঁদতালাসি। আবেগের আলো ছড়িয়ে দুয়ারে কড়া নাড়ে উৎসবের চিকন চাঁদ
পৃথিবীর যে কোন কোণে যখন মানুষ টেনে নেয় বুকে মানুষকে ভালবেসে
অন্তরে অন্তরে ঠিক উঠে যায় খুশির ঈদের চাঁদ আলোর হাসি হেসে।
…………………………………………..

করোনা বন্দী ঈদ
বনশ্রী বড়ুয়া

এ কেমন ঈদ এলো রে
নেইকো নতুন জামা,
দেশের মানুষ ভয়ে মরে
করোনা দেয় হামা।
এক সারিতে দাঁড়িয়ে আজ
হয় না ঈদের নামাজ,
কোলাকুলি হারিয়ে গেল
রোগটা নাকি ছোঁয়াচ?
কোথা গেল সোনালী দিন
পায়েস জর্দা সেমাই?
ঈদের দিনে নেইকো আজ
আতশবাজি মিঠাই?
চিড়িয়াখানার প্রাণীর মতো
মানুষ গৃহে বন্দি,
হিংসা বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে
হোক না নব সন্ধি।
ঈদের খুশি হারিয়ে গেল
বাজলো বিষাদ সুর,
খুশির নায়ে ভাসিয়ে কবে
করোনা যাবে দূর?
…………………………………………..

ঈদের ছড়া
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

প্রতি বছর রমজান মাসে
মাসের শেষে ঈদ আসে।
এসেছে ঈদ বছর পরে
ঈদের খুশি সবার তরে।

মসজিদে আলোর বাহার
আজকে ঈদে খুশি সবার।
নতুন পোশাক পরে সবে
আজকে রাতে চাঁদ উঠবে।

ঈদের খুশি ভুবন ময়
কররো মোরা বিশ্বজয়।
হিংসা ঘৃণা নয়কো ভাই
আনন্দে সবে নাচি তাই।

ঈদ মোবারক সবাই বলে
হিংসা বিদ্বেষ সকল ভুলে।
মসজিদেতে নমাজ পড়ে
খুশির জোয়ার ধরণী পরে।

খুশির রঙে মাতলো ভুবন
খুশিতে ভরে সবাকার মন।
আজকে ঈদে খুশির দিনে
খুশির জোয়ার মনে প্রাণে।
…………………………………………..

ঈদ মোবারক
বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট

আকাশে বাতাসে ছুঁয়ে যাক মোদের খুশীর মোড়ক
সবাইকে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা ”ঈদ মোবারক ”
বিদেশে যারা আছি মোরা, আসেনা তো ঈদের খুশী
তবু অভিনয়ে শুভেচ্ছা বিলিয়ে দেই অনুরাগে ভাসি
প্রাণের হিল্লোল হৃদয়ের কল্লোল নিস্তেজ হয়ে ছুটে
পশ্চিম আকাশে ঈদ নামে যবে বেদনার চাঁদ ওঠে
প্রাণের বন্ধনে চাপিয়া ক্রন্দন বিলিয়ে দেই আয়েশ
নয়ন নীরে একাকী মোরা রান্না করি সেমাই পায়েস
দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে সুখ খুঁজি তবু পবনেতে
জীবনের গ্লানি দূর করিতে টেনে যাই ঘানী ভুবনেতে
আয়ু’টার দৈর্ঘ্য কেউ জানিনা তবু চলি অসীমে টানি
বিসর্জন দিয়ে সুখ শান্তি বাঁচিয়া রাখি জীবন খানি
রক্তের টানে প্রিয়জন ছলে তবু থাকি হাসি মুখে
যত হেসে যাই স্বস্তি নাহি পাই সুখ আসে না বুকে
তবু প্রিয়জনের মুখে হাসি ফুটাতে করে যাই অভিনয়
খুশীর ঈদ যেন উভয়ের মাঝে সমান ভাগাভাগি হয়
তোমাদের খুশী তো আমার খুশী খুশীতেই মাখামাখি
দেখেনা তারা আড়ালে থাকে নীরে ভিজে দু’টি আঁখি
সেমাই পায়েস শিরনি পোলাও লাগে যেন তোবারক
সবার মুখে হাসি ফুটাতে বলে যাই শুধু ঈদ মোবারক।
…………………………………………..

খুশির ঈদ
সুজন চন্দ্র দীপ্ত

রোজা শেষে বছর ঘুরে
এলো আবার ঈদ।
সেই আনন্দে সবাই খুশি
আসবে সুখের দিন।।
নীল আকাশে চাঁদ উঠেছে
কালকে খুশির ঈদ।
সেই আনন্দে খোকা-খুকি
গাইছে খুশির গীত।।
ঈদের খুশি সবার মনে
পায় যেন সবে।
মনেপ্রাণে চাইছে সবে
আল্লাহ্ তা জানে।।
ভালো থাকুক সবাই যেন
চাই যে শুধু তাই।
সবার কাছে আসুক ফিরে
নতুন নতুন ঈদ।।
…………………………………………..

ঈদের আনন্দ
চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

রোজার শেষে আকাশ কোণে
চাঁদ উঠেছে অই,
খোকা খুকু বড্ড খুশি
বাড়িতে হই চই।

পড়বে তারা রঙিন জামা
আজকে ঈদের দিনে,
দুস্হ যারা সেই শিশুদের
তাদের দেবে কিনে।

পড়বে নামাজ ঈদগা মাঠে
করবে কোলাকুলি,
বুকের ভেতর হিংসে বিদ্বেষ
সকল দুঃখ ভুলি।

এমন খুশির দিনটা সবার
ফিরে ফিরে আসুক,
সেই খুশিতে আনন্দতে
বুকটা সবার ভাসুক।
…………………………………………..

বাঁধন
পঞ্চানন মল্লিক

মায়ের হাত একটি সংসার সেলাই করে জুড়ে রাখতে চায়,
তবুও তা ভাগ হয়ে পড়ে কৃষকের ক্ষেতের তরমুজের মতো
খামারে খামারে।
দাদাগো জানে তা জানে চাচিমারাও,
তবু স্বার্থের ডালে ক্রমে ঢেকে যায় ঘাটের জগ ডুমুর গাছ
একপাশে পড়ে থাকে শালিকের ঘট।
আমাদের হাসি-কান্না, দুঃখ,বেদনার সব সেখানে লেগে থাকে,
সময়ের লাল রঙা ঘুড়িগুলো চিলেন হাসের মত ডানা পায়।
জলাঞ্জলি দেওয়া সেসব সুখের পায়রারা বাকুম বাকুম উড়ে যায়।
সেই শৈশব ভিজিয়ে রাখা বাড়িটির পুকুর চোখ তবু কেঁদে ওঠে
বলে,“আয় প্রাণে প্রাণে জড়াবো আবার সেই সুতোয় মাখা মমতায়।”
আমরা ভিতরের প্রাণতারে ঘুমঘোরেও তার রনণ শুনতে পাই
তাই সিয়াম সাধনার দিন শেষে মায়ের সেলাই উঠোনে
আবার এসে দাঁড়াই। খুশির গীত গাই।
…………………………………………..

অন্যরকম ঈদ
অরনী চৌধুরী

প্রতিবার ঈদ আসে আনন্দ নিয়ে
এবার ঈদের আনন্দটুকু গেছে হারিয়ে,
ঈদের নামাজ হয় না মসজিদে
সুবাসিত হয় না আকাশ বাতাস আতরের গন্ধে।

ঈদ আসে ভিন্ন রূপে,
ছোট্ট একটি ভাইরাস, সব আনন্দ নিয়েছে কেড়ে,
থমকে গিয়েছে সারা বিশ্ব
লকডাউন সৃষ্টি করেছে আপন জনের সাথে দুরত্ব।

মৃত্যুর মিছিল ছিলো রমজানের প্রতিদিন
ঈদের সকাল হয় না কারো যেন জানাজার দিন,
আবার আসবে ফিরে শান্তি পুরো বিশ্ব জুড়ে
ফিরে আসবে শান্তি ঈদ সাজবে আবার নতুন করে।
…………………………………………..

ঈদের কথকতা ও অপূর্ণ স্বপ্নগুলো
কমল কুজুর

এক বিকেল স্বপ্ন জড়ানো চাঁদ
অবশেষে দেয় উঁকি
একে একে ত্রিশটি দিন হয়েছে গত,
মহাশূন্যের ওপার থেকে ভেসে ভেসে
আসে সুবাতাস ঈদ হয়ে
জরা আক্রান্ত এ পৃথিবীর আনাচে কানাচে
দেয় বুলিয়ে প্রীতি সৌহার্দ্য আর পরশ
-ভালোবাসার।

হৃদয় পুলকিত আজ বহুদিন পর
শ্রেণি বৈষম্য পিছনে ফেলে এগিয়ে আসে
সমতার সংলাপ
অত্যাচারিত ভোলে কষ্ট নিমিষেই
ফেলে মুছে শরীরের আনাচে কানাচে বেড়ে
যাওয়া সব দাগ, ভ্রষ্ট নীতির নিদারুণ কষাঘাতে
জীর্ণতা আঁকড়ে থাকা জীবনে
উঁকি দেয় আশা
-পৃথিবী বদলের।

ছোট্ট খুকু নতুন লাল জামায় হয় মাতোয়ারা খোকাও দিশেহারা ভিডিও গেম পেয়ে
মা চোখ মুছতে মুছতে বোকা হাসি হাসেন
তার নতুন শাড়িখানা দেখে
বাবা হন প্রীত আত্মতৃপ্তিতে, সংকল্পবদ্ধ
চোয়াল আবারও দেখে স্বপ্ন
পৃথিবীর সমস্ত ধংসস্তুপ একদিন হবে
-ফুলের বাগান,
মানুষে মানুষে রবে না ভেদ
সবাই পাবে তা যোগ্য সম্মান।
…………………………………………..

ঈদের তিনটি ছড়া
অশোকেশ রায়

ঈদ এলে

ঈদ এলে হেসে ওঠে
ফুল পাখি দল,
হেসে ওঠে নীল আকাশ
নদী তরু ফল।

সবুজে সবুজে ছাওয়া
মাঠ হেসে ওঠে,
হেসে গেয়ে নদীগুলো
দূর পানে ছোটে।

খোকা হাসে খুকি হাসে
চাঁদ হাসে রাতে,
ঘাসের বুকেতে ফুল
হাসে সাথে সাথে।

ধনীতে গরিবে হাসে
হাসে দুখী নিঃস্ব,
আজ ঈদ তাই বুঝি
হাসে সারাবিশ্ব।

এবার ঈদে

ঈদের দিনে খাচ্ছো তো বেশ
যাচ্ছো তো বেশ বেড়াতে,
কিন্তু যদি চারপাশেতে
একটুকু চোখ ফেরাতে-
পারতে না তো মলিন মুখের
করুণ চাওয়া এড়াতে।

নতুন জামা নতুন জুতো
রঙে রঙিন খুশির বান,
কিন্তু তোমার চারপাশেতে
কষ্টে ভরা নিরাশ প্রাণ।
চোখ ফিরিয়ে দেখতে যদি
বুঝতে পেতে মনের টান।

এবার ঈদে একটি করুণ
মলিন মুখকে হাসতে দাও
একটি নিরাশ প্রাণে আশা
খুশির জোয়ার আসতে দাও।
চোখকে ফেরাও চারপাশেতে
মনকে ভালোবাসতে দাও।

ঈদের দিনে

ঈদের দিনে দুখী যারা
ওদের কাছে ডাকতে হবে,
দুঃখ ওদের ঈদ নামের এক
সুখের রেশে ঢাকতে হবে।

ওদের নিয়েও ঈদের দিনে
খুশির ছবি আঁকতে হবে,
তা না হলে নামটা ঈদের
অন্য কিছু রাখতে হবে।
…………………………………………..

শিক্ষিত হতে অরুচি
রহমতুল্লাহ লিখন

আমি পুরো অধ্যায় ঝুকে ঝুকে
মুখস্থে ফেনা তুলতে আর চাই না
আমি বছরে তিন বারের বেধড়ক
পরীক্ষা দিতে আর চাই না
আমি বইয়ের ভারে নুইয়ে পড়া কাঁধ
দেখে গর্বিত হতে আর চাই না
আমি স্বপ্নে রোজ পড়া শেষে
দলান গড়া, গাড়ি চড়ার সাধ নিতে আর চাই না
আমি সব বন্ধ কেতাবের ধূলো ঝেড়ে মুছে
প্রতিনিয়ত তেল মাখতে আর চাই না
আমি মধ্যরাতে গুনগুনিয়ে লাইনে লাইনে
সামাজিক আশা জাগাতে আর চাই না
সমৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় দলে দলে
মিথ্যার হাসি হাসতে আর চাই না

বৈষম্যের মূল যখন কাগজ লিপি
তখন আর শিক্ষিত হতে চাই না
খ্যাতির বশে তুচ্ছ যখন রাস্তার অলি গলি
তখন বছর বছর দাঁত কেলিয়ে পাস দিতে আর চাই না
প্রবাদে আপদে লেখা পড়া করে
শুধু গাড়ি ঘোড়া চড়াই যখন শখ
তখন শব্দকোষে ভারী চশমায়
ঠোঁট ভিজিয়ে জ্ঞান নিতে আর চাই না।
…………………………………………..

আনন্দের বার্তায় আসুক ঈদ
নূরজাহান শিল্পী

ঈদ মানে- শেষ প্রহরে নতুন চাঁদ দেখা
মেহেদী রাঙা হাতে আল্পনা আঁকা
ঈদ মানে- তন্দ্রা ঘোর অবসান ভোরের প্রথমা আলোকচ্ছটা
ঈদ মানে- সাত সকালে শুদ্ধজলে নতুন কলি ফোঁটা।

ঈদ মানে- নতুন শেরওয়ানি সুগন্ধি আতর
ঈদ মানে- হিংসা বিদ্বেষ ভুলে পরস্পরের বন্ধন
স্রষ্টার প্রশংসায় মুখরিত জয়গান
শিশু কিশোর নারী পুরুষ কণ্ঠে কণ্ঠে তাকবীর তাহমিদ আত্মার মেলবন্ধন
ঈদ মানে- কোলাহলে মেতে থাকা ঈদগাহে লক্ষ গোলাপ ফোঁটা সমীরণ
ঈদ মানে- নতুন জামা
সেমাই পায়েস ফিরনি
মোরব্বা পোলাও বিরিয়ানি।

ঈদ মানে- ভেদাভেদ ভুলে
মানবতার সাঁকো পাড়ি দেয়া
প্রীতির বন্ধন
ঈদের খুশি হারিয়ে গেলো আজ করোনা অবসাদে
ঈদগাহ ফাঁকা তিমির রাত্রি গ্রাস করেছে পৃথিবীর চাঁদে
নিখিলের বুকে মানবের মিলন আজ রুদ্ধ
শুভাশীষ-স্পর্শে মানা দূরত্বে সবকিছু স্তব্ধ
দুঃখ জ্বরা নাশ হোক
আনন্দের বার্তায় আসুক ঈদ
পৃথিবী হোক নির্মল
বিশুদ্ধ হাওয়ায় হাওয়ায় পরিমল
ঈদ আসুক ঈদের মতোই
মন মাতুক মন আনন্দেই।
…………………………………………..

ঈদের চাঁদ
হামীম রায়হান

নতুন জামা গায়ে সবার
আজকে খুশির ঈদ
খোরমা, পোলাও খাচ্ছে সবাই
গাইছে নতুন গীত।
বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে সবাই
করছে কত মজা
এমন দিনে সবাই আপন
আমরা সবাই রাজা।
ঈদ সেলামি ক’জন দিলো
কত হলো টাকা
রাস্তা-ঘাঠে বন্ধু সবার
সাথে হল দেখা।
ঈদের দিনে নেই ভোদাভেদ
সবকিছু আজ বন্ধ
ঈদের চাঁদে ভেসে যাবে
বিশ্বের যত দ্বন্দ্ব।
…………………………………………..

ঈদে আড়ি
শেখ একেএম জাকারিয়া

এ কেমন ঈদ এলো কেউ নেই খুশি
দুখের পাহাড়টাকে মনে মনে পুষি।
নেই কোনো হইচই এবারের ঈদে?
খুশি ছাড়া খুকুমণি বসে আছে জিদে।
হয়নি তো কেনাকাটা দুখে মন ভারি
মুখে তার কথা নেই দিয়েছে সে আড়ি।
…………………………………………..

ঈদমেলা
মালেক মাহমুদ

সূর্য ঘুমাতে যায় চোখ করে লাল
চাঁদ হাসে ঈদ হবে রোজা নয় কাল।
চোখের পাতাতে দেখি চাঁদছবি বাঁকা
ঈদরঙে রাঙা ভোর রাত হলে ফাঁকা।

সূর্য কিরণ যতো আলোকিত হয়
আঁধারের ছোঁয়া ততো দূরে সরে রয়—
রকমারি সাজে সাজে খোকা খুকী যতো
মনে হয় শত ফুল নাম বলি কত!

হাসিছড়া নিয়ে ঈদ এল নেমে মাঠে
ঈদগাহে যেতে সবে পাশাপাশি হাঁটে।
হিংসা বিভেদ যতো ভুলে যেতে আজ
মমিনের মনে চলে সুখময় সাজ।

ধরণির বুকে চলে হাসি খুশি খেলা
ফুলের বাগান যেনো ঈদরঙা মেলা।