ঈদ একটি পরম আনন্দের দিন। আল্লাহতা’লা মুসলিমদের যে দুটি উৎসব উপহার দিয়েছে ঈদ-উল-ফিতর তার মধ্যে একটি। দীর্ঘ ১ মাস রমজান পালন করে মুসলিম সমাজ এই উৎসব পালন করে থাকে। এ উৎসবে মুসলিমরা যেমন আনন্দ উপভোগ করে তেমনি তাদের পাশে বসবাসরত ভিন্ন ধর্মের মানুষও সেই উৎসবে যোগ দেয়। শান্তি ও সুখের মধ্য দিয়ে উদযাপন হয় ঈদ। মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ তা এই দিনে কুরবানী করা হয়। নতুন সমাজ নির্মাণে তারা শপথ গ্রহণ করে। জুলুম অত্যাচর মুক্ত একটি পৃথিবীর স্বপ্ন নিয়ে তারা ঈদগাহে যায়। আর তার জন্য মহান প্রভুর কাছে প্রার্থণা করে। প্রকাশ হলো ঈদ উল ফিতর সংখ্যা ২০২০ : পর্ব-২।
আফসার নিজাম, সম্পাদক

সূ চী প ত্র
ঈদ মোবারক :: আল মাহমুদ
করোনার ঈদ :: হাসান আলীম
ঈদের ছড়া :: নাসের মাহমুদ
আনতে হবেই চাঁদ :: ইসমাঈল হোসেন দিনাজী
ঈদের পথে লাশের সারি :: নাসির হেলাল
ঈদের প্রতীক্ষা :: মহিবুর রহিম
ঈদের লিরিক :: আবু তাহের বেলাল
তাক ধিনা ধিন নাচিরে :: মুস্তাফা ইসলাহী
অনুশোচনার বন্দরে :: মুহাম্মদ ইসমাইল
মামুনির ঈদের আবদার :: মোহাম্মদ আবদুর রহমান
ঈদের দিনে :: আশরাফ আলী চারু
ঈদের আগমনে :: কবির কাঞ্চন
স্বাগতম শাওয়াল চাঁন :: আনোয়ার আল ফারুক
আনন্দের বার্তায় আসুক ঈদ :: নূরজাহান শিল্পী
ঈদ কোলাহল :: মুন্সি আব্দুল কাদির
ঈদ মানে তো :: আ.ফ.ম. মোদাচ্ছের আলী
ঈদের চাঁদ :: মনিরুল হাসান
চাঁদরাতে :: আব্দুল আজিজ
করোনায় ঈদ আনন্দ :: রফিক মজিদ
গাঁয়ের ঈদ :: জুবায়ের দুখু

ঈদ মোবারক
আল মাহমুদ

ঈদের খুশি ঈদের খুশি
আমার ছোট্ট বক্ষে পুষি
নাই ভেদাভেদ আমার মনে
রাখি ধরে সঙ্গোপনে।
সবাই যখন দুহাত তুলে
মাতল মহা হুলস্তুলে
আমিও তাদের সঙ্গে আছি
খেলছি সুখে কানামাছি।
খুশির জোয়ার ভাঙলো দুয়ার
ছিটকে আসে গন্ধ কি তার?
এই সুরভি লাগছে নাকে
কে যেন ভাই আমায় ডাকে।
এই তো আমি দাঁড়িয়ে আছি
সবার মাঝে ছড়িয়ে হাসি
হাসির সাথে ঈদ মোবারক
বলছি ডেকে ছড়িয়ে পুলক
ঈদ মোবারক
ঈদ মোবারক

করোনার ঈদ
হাসান আলীম

এবার ঈদ করবেনা
কোলাকুলি, মোছাফা বা হস্ত মিলন
করবে না
শালার বদমাশ, মোনাফেক মুসলিম বৃন্দ?
জোচ্চোর কাপালিক দস্যুরা
পৃথিবীর তাবত পুঁজিবাদী ধনিক শ্রেণীরা
তোদের ভাই বোন দের হত্যা করেছে,
নির্মম ধর্ষণ করেছে, শিশুদের গুলি করে মেরেছে
আর তোরা পরহেজগারি দেখাস,
তোরা খানকায় খানকায় মোরাকাবা করিস
তোরা মসজিদের খাদেমগিরী করিস
রাতে তাহাজ্জুদ পড়িস আর ভাবিস দারুণ মুত্তাকী
হয়েছিস,
কোরান তেলাওয়াত করতে করতে এক্কেবারে
হাফেজ বনে গোছিস
খোদাকে নরম করে হাত করে ফেলেছিস
শালারা ভাবসিছ বেহেস্ত তোদের জন্য ফরজ হয়ে গেছে
খোদা কি এতই বোকা খোদা কি ইবাদতের ঘুস খায়?
তার কড়া নির্দেশ জেহাদ করার
তার কড়া ধমক কেন সংগ্রাম করছনা ওইসব
অসহায় নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধের জন্য
যারা জালিমের জনপদে নির্যাতিত হচ্ছে
যারা রোনাজারি করেছে
যারা সাহায্যকারী নেতৃত্বের জন্য।
অপেক্ষায় দিন কাটে একজন সাহাবীর জন্য
অপেক্ষায় দিন কাটে একজন হাজ্জাজ বিন ইউসুফের
অপেক্ষায় দিন কাটে একজন গাজী সালাউদ্দিনের
অপেক্ষায় দিন কাটে একজন মোহাম্মদ ঘোরীর
অপেক্ষায় দিন কাটে একজন বখতিয়ার খলজির
হে মোনাফেকবৃন্দ তোর তো নেফাকের ময়লায়
হাবুডুবু খাচ্ছিস
তোরা তো আরব্য রজনী রাজহাস খাস
তোরা তো ফি জাদীদ হুর হুরমার হাম্মামে গুলজার
এই শয়তানবৃন্দ তোরা কি নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের
চিনিস না?
তোরা কি উই ঘুরদের নির্যাতনের কথা শুনিস নি?
তোরা কেন সিরিয়ায় যুগ যুগ ধরে লক্ষ লক্ষ বনি আদমকে নির্মম ভাবে হত্যা করছিস
কেন ইয়েমেনে রক্ত গঙ্গা বইয়ে দিচ্ছিস
তোদের ভাই ইরাকিরা
তোদের ভাই লিবিয়ার জনতা
অথচ আজ তোরা নিশ্চুপ
তোরা ঘাতকের বিপক্ষে নয়
তোরা আজ জালিমের বন্ধু
তোরাও অনেকে জালিম দুর্বৃত্ত
ঈদ এলেই জামাতে নামাজ পড়িস
ঈদ এলেই কোলাকুলি করিস
কোরমা পোলাও কোপ্তা কাবাব কালিয়া
ফিরনি জর্দা পায়েসে
দারুণ আয়েশ করিস
কেউ নারী সংগে ফুর্তি করিস,তাইনা?
এবার ঈদের কোলাকুলি কর না
হাত বাড়িয়ে দে হাতের জন্য
কেউ তোর ছোঁয়া নেবেনা
কেউ তোর কাছে আসবেনা
না স্ত্রী, না কন্যা না পুত্র, না ভাই না বোন
কেউ আসবে না
প্রেমিকারা আসাবেনা
এমন কি পতিতা নারীরও তোর ডলার রিয়েল
আর দিনারের লোভে বসন খুলে দেবেনা।
তুই ঘৃনিত তুই আতঙ্ক,তুই করোনার নিশানা হয়ত
কেউ তোর কাছে ঘেসবেনা
তুই ঈদ কর, নিসংগ একাকী তুই
তুই আজ একঘরে তুই উপেক্ষিত
তোকে স্রষ্টা পরিত্যাগ করেছেন
তিনি তোর ইবাদতের মুখাপেক্ষী নন।
করোনার ঈদ কর তুই।

ঈদের ছড়া
নাসের মাহমুদ

নামাজ পড়ি না রোযাও রাখি না
কেবল রোজার ঈদ করি,
এ কাজ কেবল একলা করি না
আমিও ফরিদ করি।

গুণাহর খাতায় জায়গা নাই আর
পাপের সাগর-মহাসড়ক,
শাহবাগ আজিমপুরা হয়ে
সড়ক শেষে আগুন নরক।

আনতে হবেই চাঁদ
ইসমাঈল হোসেন দিনাজী

ঈদের খুশি কোথায় গেল কোথায় ঈদের চাঁদ
চতুর্দিকে ছড়িয়ে যেন ক্লান্তি অবসাদ।
দখিন হাওয়ায় বেসুর বাজে গায় না পাখি গান
নিঝুম কালো দীঘল রাতের হয় না অবসান।
জালিমশাহির কয়েদখানায় ঈদের হেলাল বন্দী
কালোর সঙ্গে আলোর কভু হয় না তো ভাই সন্ধি।
আঁধার এবং আলোর মাঝে চলছে তুমুল যুদ্ধ,
চাঁদ-সেতারা কার ইশারায় বিনা দোষেই রুদ্ধ?
গোমড়ামুখো আকাশকোণে মেঘের আনাগোনা
পায় না খুঁজে ঈদের খুশি নতুন চাঁদের সোনা।
নতুন জামা নতুন টুপি আতর আতর গন্ধ
সবই আছে তবু যেন স্তব্ধ খুশির ছন্দ!
ঈদের খুশি উড়ছে দেখ প্রজাপতির ডানায়
ঈদগাহে আজ খুশির মেলা চাঁদ ছাড়া কি মানায়?
খুশির দিনে সবার মাঝে চাঁদটা নেমে আসুক
সবকে ভালোবাসুক সকল দুঃখজ্বরা নাশুক।
ভাঙতে হবে জেলের তালা আনতে হবেই চাঁদ
চলতে পথে দলতে হবেই পাহাড় সমান বাঁধ।

ঈদের পথে লাশের সারি
নাসির হেলাল

ঈদটা এবার আসবে কেমন করে
লকডাউনে রাখবে নাতো ধরে?

ঈদের পথে লাশের সারি পড়ে
আসতে গিয়ে উঠলো বুঝি নড়ে।

যাদের কাছে আসার কথা, তারা
আকাশ পানে তুলবে মাথা, যারা।

পালালো কই কোথায় দিলো ডুব
পাইনা খুঁজে ভয় পেয়েছে খুব?

অন্য বারে অন্য রকম ঈদ
খুশির চোটে ছিলো নাতো নিদ।

নাকের ডগায় ঈদের সুবাস এসে
এসো এসো বলছে যেন হেসে।

কিন্তু তবু দিচ্ছে না কেউ সাড়া
কারো মনে পড়ছে নাতো নাড়া।

করোনাতে সব নিয়েছে কেড়ে
দুখের জোয়ার ভেসে গেছে তেড়ে।

ঈদের খুশি এবার মলিন মুখে
ধনী গরীব এক কাতারে দুখে।

ঈদের প্রতীক্ষা
মহিবুর রহিম

কোন সৌন্দর্যই আর এত সুর আকর্ষণ বহন কওে না
যেমনটা দেখা যায় ঈদেও চাঁদের ক্ষীণ আলোক প্রভায়
এভাবে কতনা দিন অবিরত আসে আর যায়
ঈদেও দিনের মতো রঙে রূপেতীব্রতর হয় না কোনটাই

কত কিছু ক্ষয়ে যায় ঈদেও প্রতীক্ষা নিয়ে মন জেগে থাকে
একটি বছর শেষে আসে ঈদ উচ্ছ্বসিত চাঁদের সংকেতে
কিংবা কোটি হৃদয়ের স্বপ্ন নিয়ে সহসাই নামে পৃথিবীতে
অপার্থিব আনন্দের দায়ভার মানুষেরে দিতে

হয়তোবা তাই অন্তর্গত প¬াবনের ধারা নামে সব জনপদে
আকাশের সংগোপন রঙগুলো জন্ম নেয় মানুষের মনে
প্রাচীন বৃক্ষের সুর ফিরে আসে অনাদি গানের অভিধানে
একটি দিনকে দেয় বিশেষ মহিমা তার সুরে আর ঘ্রাণে

ঈদ এলে যেন সব ফুলের পাঁপড়ি পায় নিজের স্নিগ্ধতা
ঈদ এলে রাত্রি পায় সমাকীর্ণ প্রকৃতির নম্র সজীবতা
দিবসের অঙ্গশোভা হয়ে ওঠে আনন্দের সকল কবিতা
বুভুক্ষের বুক থেকে নেমে যায় হাহাকার চিতা !

ঈদের লিরিক
আবু তাহের বেলাল

বিমল খুশীর ঢেউ খেলে যাক
কদম কেয়ার বনে,
মন হয়ে যাক দুধের বাটি
বুক হয়ে যাক শীতলপাটি
ভালোবাসা জমাট বাঁধুক
নিবিড় আলাপনে।।

বিষাদ গীতি গাইতে মানা
সুরের পাখি মেলুক ডানা,
অনুরাগের আলিঙ্গনে-
জোয়ার জাগুক মনে।।

সাম্য প্রীতির সুগন্ধিতে
সমাজ হলে সুরভীত,
ঈদ আয়োজন হয়যে সফল
হয় জনপদ পুলকিত।…

বে ইনসাফের বদলাতে চাই
ন্যায় ও নীতির পৃথিবীটাই,
ত্যাগের চেরাগ নাও জ্বেলে নাও
মনের আঁধার কোণে।।

তাক ধিনা ধিন নাচিরে
মুস্তাফা ইসলাহী

কাল হবে ঈদ
চোখে নেই নিঁদ
গল্পেতে জেগে থাকি রাতিরে
আলো যেই ফোটে
নদে যাই ছুটে
সাঁতারেতে খুব বেশি মাতিরে।

ঈদগার মাঠে
ইমামের পাঠে
সালাতের শেষে সবে দাঁড়িয়ে
বুকে টেনে ধরি
কোলাকুলি করি
ভালোবেসে হাত দেই বাড়িয়ে।

ভাই বোন মিশে
দুখ ব্যথা পিষে
মন থেকে ঘৃণা ভয় নাশিরে
জামা ঈদি পেয়ে
নানা পিঠা খেয়ে
একসাথে গাঁয়ে ঘুরে হাসিরে।

কত রঙ বেশে
নানা বাড়ি এসে
কত কিছু কত ভাবে যাচিরে
আদরেতে নেয়ে
কোন কিছু পেয়ে
তাক ধিনা ধিন তাক নাচিরে।

অনুশোচনার বন্দরে
মুহাম্মদ ইসমাইল

ঘুণ ধরা হৃদয়ে মর্মরধ্বনি
ভাঙা নৌকার চালে সাজানো
সামনের অজানা গন্তব্যস্থল।
উথাল পাথাল দাঁড়ি পাল্লায়
পাপ -পূণ্যের ওঠানামা।
দূর হতে ভেসে আসছে সতর্কবার্তা-
‘ধেয়ে আসছে মহামারী’
সাইরেন ভাসছে দশ নম্বর
কিন্তু বধির, অন্ধ, বোবা হৃদয়
বুঝবে সেকি শুনি!
সীমাহীন রেখায় আল্পনা এঁকে
সপ্তসিন্ধু পেরিয়ে বাঁচার আশা
ছুটে চলে দিক হতে দিকশূণ্যে।
অকস্মাৎ মেঘ ঢাকা অন্ধকারে
সুনামির গর্জন ফেনার আস্ফালনে
টালমাটাল তরণী, ছিন্ন দাঁড়, ছিন্ন পাল
ও রে ধর্ সামনে রয়েছে এখনো বন্দর
অনুশোচনার অশ্রু ধারায় ফিরিয়ে নে সে ভাঙা ঘর
সপ্তাকাশ ছাড়িয়ে রয়েছে যে বন্দর
অনন্ত সে সীমাহীন শান্তির আধার
চালা সে পথে নৌকাখানা পুনর্বার !

মামুনির ঈদের আবদার
মোহাম্মদ আবদুর রহমান

আসছে ঈদ গাইছে গীত
আবিদা মামুনি
নতুন জামা আর পাজামা
চাই সে এখনি।

হাতের পলা গলার মালা
লাগবে নতুন
সারা বেলা করেনি খেলা
করছে গুন গুন।

মেহেন্দি নিবে হাতে দিবে
সাজবে নতুন করে
ঈদের দিনে নিবেই কিনে
খেলনা দুহাত ভরে।

হাত বাড়িয়ে বুকে জড়িয়ে
আশ্বাস দিলাম তাকে
তুমি আমার রূপের বাহার
তাই সাজাব তোমাকে।

হৃদয় ভরে গালের উপরে
চুমু খেলো বার বার
বুকের ভেতর ঈদের স্বর
জাগিয়ে দিল আবার।

ঈদের দিনে
আশরাফ আলী চারু

ঈদের দিনে খাচ্ছো সেমাই
কোর্মা, পোলাও
হাওয়ার গাড়ি যাচ্ছ হেঁকে
উড়ছে ধুলাও।

চারপাশে কি দেখছো খোঁজে
একটুখানি
চোখ ফেরাতে-পারবেনা ভাই
আমি জানি।

ওদের মুখে সেমাই তো থাক
পান্তা পেঁয়াজ
ঈদের দিনেও দুঃখ ওদের
খায়নিকো আজ।

এবার ঈদে দাওনা তাদের
একটু হাসি
নিরাশ প্রাণের আশা ফোটাও
একটু আসি।

ঈদের আগমনে
কবির কাঞ্চন

ঈদের খুশি বয়ে আনুক
সবার মুখে হাসি
কষ্ট ক্ষয়ে সবাই জানুক
ভালোবাসাবাসি।

হিংসা যত দূর হয়ে যাক
ঈদের আগমনে
বুকের সাথে বুক মিলে থাক
মনের জাগরণে।

আঁধার মনে আলো জ্বলুক
সব ভেদাভেদ ভুলে
ধরার বুকে সোনা ফলুক
প্রণয় দুয়ার খুলে।

স্বাগতম শাওয়াল চাঁন
আনোয়ার আল ফারুক

শাওয়াল চাঁন দেখো আকাশের গায়
মানবের মনে তাই সুখ দোল খায়,
নেই আজ কারো মনে ছিটেফোঁটা ঘিন
বাতাসেও বেজে উঠে সুখ বীনা বীন;
স্বাগতম স্বাগতম শাওয়াল চাঁন।।

খোশ খোশ ভাব আজ মানবের মুখ
যাক কেটে অবশেষে পৃথিবীর দুখ,
ঈদ হোক ঈদ হোক সারা বারোমাস
মানবের ঘরে হোক সুখ বসবাস;
ঈদ তুমি বয়ে আনো মমতার বান।।

ভাই ভাই সবে আজ রেখো কাঁধে কাঁধ
উপচে যে পড়ে যেনো জোয়ারের বাঁধ,
হোক তবে আজ ভবে ভালোবাসা চাষ
দুখগুলো আজ থেকে হয়ে যাক হ্রাস।।

হিংসারা যাক চলে দুর থেকে দুর
থাক শুধু বেচে থাক মমমতার সুর,
কেটে যাক শোষকের কুট যত ছল
ঘরে ঘরে বয়ে যাক সুখ কোলাহল;
হোক শুধু পৃথিবীতে সাম্যের গান।।

আনন্দের বার্তায় আসুক ঈদ
নূরজাহান শিল্পী

ঈদ মানে- শেষ প্রহরে নতুন চাঁদ দেখা
মেহেদী রাঙা হাতে আল্পনা আঁকা
ঈদ মানে- তন্দ্রা ঘোর অবসান ভোরের প্রথমা আলোকচ্ছটা
ঈদ মানে- সাত সকালে শুদ্ধজলে নতুন কলি ফোঁটা

ঈদ মানে- নতুন শেরওয়ানি সুগন্ধি আতর
ঈদ মানে- হিংসা বিদ্বেষ ভুলে পরস্পরের বন্ধন
স্রষ্টার প্রশংসায় মুখরিত জয়গান
শিশু কিশোর নারী পুরুষ কণ্ঠে কণ্ঠে তাকবীর তাহমিদ আত্মার মেলবন্ধন
ঈদ মানে- কোলাহলে মেতে থাকা ঈদগাহে লক্ষ গোলাপ ফোঁটা সমীরণ
ঈদ মানে- নতুন জামা
সেমাই পায়েস ফিরনি
মোরব্বা পোলাও বিরিয়ানি।

ঈদ মানে- ভেদাভেদ ভুলে
মানবতার সাঁকো পাড়ি দেয়া
প্রীতির বন্ধন।
ঈদের খুশি হারিয়ে গেলো আজ করোনা অবসাদে ,
ঈদগাহ ফাঁকা তিমির রাত্রি গ্রাস করেছে পৃথিবীর চাঁদে
নিখিলের বুকে মানবের মিলন আজ রুদ্ধ
শুভাশীষ-স্পর্শে মানা দূরত্বে সবকিছু স্তব্ধ
দুঃখ জ্বরা নাশ হোক
আনন্দের বার্তায় আসুক ঈদ
পৃথিবী হোক নির্মল
বিশুদ্ধ হাওয়ায় হাওয়ায় পরিমল
ঈদ আসুক ঈদের মতোই
মন মাতুক মন আনন্দেই।

ঈদ কোলাহল
মুন্সি আব্দুল কাদির

আমাদের ঈদ ছিল ভরা কোলাহল
মনে হতো সকলেই পেয়ে গেছি মাফ
করোনা এসে আজ ভেঙ্গে দিল ভুল
উল্লাস উচ্ছাস সব হয়ে গেছে সাফ।

চিন্তার ভাটা ছিল ঈদ ফিতরের দিন
আমোদে আহলাদে কেটে যেত বেলা
বিকালে গ্রামবাসী এক সাথে হয়ে
মেতে যেত প্রোগ্রামে কত জাত খেলা।

মুক্তি পেয়ে গেছে আজ খোদ ইবলিশ
তাই তো চারিদিক বেড়ে যেত পাপ
করোনা এসে আজ তুলে চিন্তায় ঝড়
আশা করি ফিকিরে পেয়ে যাব মাফ।

মল গুলো আজ দেখ বড় তালা ঝুলে
হল গুলো খালি কেনো ধু ধু বালু চর
প্রমোদের তরী গুলো ভিড়ে আছে কই
রাজা প্রজা ধন জন হারিয়েছে ভর।

এমন ফিতর কভু দেখি নাই আগে
এই দিন প্রিয়দের কান্নার রোল
শত শত বছরে সে ভুলে গেছি কাঁদা
করোনার ঈদে আজ ভেঙ্গে যাক ভুল।

মনে হতো ঈদ শুধু খুশি উতসব
উপবাস ছাড়া পেয়ে আজ শুধু খানা
চারিদিকে আজ যেন খুশি খুশি রব
শত শত উল্লাসে নেই কারো মানা।

উল্লাস তার তরে যে পেয়ে গেছে মাফ
পাপ কাজে যার মনে এসে গেছে ঘৃনা
সওয়াবের কাজে যার মনে সুখ আনে
অন্যরা আজ যেন সব হয়ে গেছে তৃনা।
আমাদের ঈদ ছিল ভরা কোলাহল
মনে হতো সকলেই পেয়ে গেছি মাফ
করোনা এসে আজ ভেঙ্গে দিল ভুল
উল্লাস উচ্ছাস সব হয়ে গেছে সাফ।

চিন্তার ভাটা ছিল ঈদ ফিতরের দিন
আমোদে আহলাদে কেটে যেত বেলা
বিকালে গ্রামবাসী এক সাথে হয়ে
মেতে যেত প্রোগ্রামে কত জাত খেলা।

মুক্তি পেয়ে গেছে আজ খোদ ইবলিশ
তাই তো চারিদিক বেড়ে যেত পাপ
করোনা এসে আজ তুলে চিন্তায় ঝড়
আশা করি ফিকিরে পেয়ে যাব মাফ।

মল গুলো আজ দেখ বড় তালা ঝুলে
হল গুলো খালি কেনো ধু ধু বালু চর
প্রমোদের তরী গুলো ভিড়ে আছে কই
রাজা প্রজা ধন জন হারিয়েছে ভর।

এমন ফিতর কভু দেখি নাই আগে
এই দিন প্রিয়দের কান্নার রোল
শত শত বছরে সে ভুলে গেছি কাঁদা
করোনার ঈদে আজ ভেঙ্গে যাক ভুল।

মনে হতো ঈদ শুধু খুশি উতসব
উপবাস ছাড়া পেয়ে আজ শুধু খানা
চারিদিকে আজ যেন খুশি খুশি রব
শত শত উল্লাসে নেই কারো মানা।

উল্লাস তার তরে যে পেয়ে গেছে মাফ
পাপ কাজে যার মনে এসে গেছে ঘৃনা
সওয়াবের কাজে যার মনে সুখ আনে
অন্যরা আজ যেন সব হয়ে গেছে তৃনা।

ঈদ মানে তো
আ.ফ.ম. মোদাচ্ছের আলী

ঈদ মানেতো নতুন জামা
নতুন জুতো নতুন আশা,
ঈদ মানেতো সবার মাঝে
দাও ছড়িয়ে ভালোবাসা।
ঈদ মানেতো নয় শুধু তাই
এক পরিবার সুখ
ঈদ মানেতো দাও ঘুচিয়ে
অন্য সবার দুখ।
ঈদ মানেতো দেশের তরে
ভালোবাসার পণ
ঈদ মানে তো করবো জয় আজ
সব মানুষের মন।
ঈদের জামা দিলেন মামা
নুরুন্নাহার শিরীন
খুকুর মামা আঁকেন ভালো।
কাক আঁকতে ভাবেন- কাকটা কেন কালো?
তাইতো তিনি সাদা পাতার বুকে
রঙিন সে এক কাক আঁকেন ঝুঁকে।
দেখতে সে হয় মস্ত যেন প্যাঁচা।
দেখেই খুকু বলে- ও মামা, কিনে আনো খাঁচা।
খাঁচা কিনতে মামা গেলেন হাটে।
হাটে গিয়ে চড়ে বসেন খাটে।
দোকানিরা যতই বলে নামেন
ততই মামা খেপে বলেন- থামেন ভাই থামেন।
অবশেষে দোকান থেকে একটা লাল জামা
খুকুর জন্য কিনে আনেন মামা।
আকাশে তখন ঈদের বাঁকা চাঁদ।
আনন্দে খুকু ধরে মামার হাত।
ছবির প্যাঁচা পড়েই থাকে পাতার বুকে।
আঁকাঝোঁকা ভুলে মামা সেমাই খান সুখে।

ঈদের চাঁদ
মনিরুল হাসান

মা, বাবা আর চাচা, ফুফু
এবং খালা, মামায়,
সন্ধ্যা হওয়ার শুরু থেকেই
খুঁজছে কেবল আমায়।

মন্ত্রী, নেতা, পুলিশ, ডাকাত,
চোর, ভিক্ষুক, মুচি-
সবাই মিলে আমায় শুধু
করছে খোঁজাখুঁজি।

ধনী, গরীব নেই ব্যবধান
খুঁজছে আমায় সব,
কোথাও কী কেউ দেখলো
আমায় ছুটছে কলরব।

চাইছে না কেউ আসতে কাছে
কিংবা ছুঁতে গায়ে,
আমায় কেবল খুঁজছে শুধু
শহর এবং গাঁয়ে।

রাজধানীরই মানুষ যারা
কিংবা কোনো চাষী,
দেখলে আমায় ফুটবে জানি
সবার মুখেই হাসি।

ছোট বড় সবার মনে
আমায় দেখার সাধ,
মেঘের পিছে লুকিয়ে আছি
আমি ঈদের চাঁদ।

চাঁদরাতে
আব্দুল আজিজ

খুশির ঢল এল নেমে
দুখের কথা গেল থেমে
কিসের তরে জাগে সবে
কেমন তর অনুভবে
হারিয়ে সবে নিদ,-
জাগছে সবে দিবা-নিশি
জাগছে দূরে রবি-শশী
ধরার শিশু “চাঁদ রাতে”
নিজের ঘরে সবে মাতে
সকাল হলে ঈদ।

নিদ হারাল বনে কেয়া
নিদ হারাল ঘন দেয়া
নিদ হারিয়ে রাতে কবে
পিঠা-পায়েস রাঁধে সবে
দু’চোখে নেই ঘুম-
পাহাড় নদী ঝর্ণাধারা
আঁধার রাতে জাগে সারা
অপার সুখ অনুভবে
চাঁদের পানে চেয়ে সবে
খুশিতে দেয় চুম

করোনায় ঈদ আনন্দ
রফিক মজিদ

কি আনন্দ লাগছে প্রাণে
খুশি যে না আর ধরে
অবশেষে খুলছে দোকান
দীর্ঘ দিন পড়ে।

সকাল সকাল উঠেই যাবো
ঈদের বাজার করতে
সারাদিন তাই ব্যস্ত থাকবো
ব্যাগ-বস্তা ভরতে।

করোনার ভয়ে তাই বলে কি
বাদ দেয়া যায় আনন্দ
যতই বলুল অমুক-তমুক
যতই বলুক মন্দ।

মার্কেটেতে গিয়ে যদি পাই
কোন বন্ধু দেখা
ঈদের দাওয়াত দিবো তাকে
রইবো না আর একা।

করোনাকে ভাসিয়ে দিবো
ঈদ আনন্দের জোয়ারে
আর কতকাল বন্দি রবো
ঘর নামের খোয়ারে।

গাঁয়ের ঈদ
জুবায়ের দুখু

সবার মুখে চাঁদের হাঁসি
ঈদের দিনে ঝুলে
কোলাকুলি সবাই করে
শত্রুতা সব ভুলে।
খোকন সোনা নতুন জামা
গায়ে দিয়ে হাটে
নামাজ পড়তে যাবে সে আজ
বাবার সঙ্গে মাঠে।
খুকু-মণি দু’হাতে নেয়
মেহেদী রাঙিয়ে
মায়ের পাশে বসে বসে
রান্না ঘরে গিয়ে।
সেমাই পোলাও রান্না করে
খোকা খুকির মায়ে
ঈদের দিনে খুশির জোয়ার
বয়, ধবলপুর গাঁয়ে।