ঈদ একটি পরম আনন্দের দিন। আল্লাহতা’লা মুসলিমদের যে দুটি উৎসব উপহার দিয়েছে ঈদ-উল-ফিতর তার মধ্যে একটি। দীর্ঘ ১ মাস রমজান পালন করে মুসলিম সমাজ এই উৎসব পালন করে থাকে। এ উৎসবে মুসলিমরা যেমন আনন্দ উপভোগ করে তেমনি তাদের পাশে বসবাসরত ভিন্ন ধর্মের মানুষও সেই উৎসবে যোগ দেয়। শান্তি ও সুখের মধ্য দিয়ে উদযাপন হয় ঈদ। মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ তা এই দিনে কুরবানী করা হয়। নতুন সমাজ নির্মাণে তারা শপথ গ্রহণ করে। জুলুম অত্যাচর মুক্ত একটি পৃথিবীর স্বপ্ন নিয়ে তারা ঈদগাহে যায়। আর তার জন্য মহান প্রভুর কাছে প্রার্থণা করে। আফসার নিজাম, সম্পাদক

সূ চী প ত্র

ঈদ মোবারক :: কাজী নজরুল ইসলাম
ঈদ আসে ঈদ যায় :: সাজজাদ হোসাইন খান
প্রেমের মিনার :: আবদুল হালীম
লাল ফিতারই সাজ :: জয়নুল আবেদীন আজাদ
রাত পোহালে ঈদ :: আসাদ বিন হাফিজ
জন্মভূমির ঈদ :: ফারুক নওয়াজ
শাওয়ালের ঐ এক ফালি চাঁদ :: মোহাম্মদ রাফিকুর রহমান
ঈদের খুশি :: রিয়াদ হায়দার
ঈদ শব্দ টি অনেক খুশির ছিলো :: ফাহমিদা ইয়াসমিন
ঈদের স্বাধীনতা :: বশিরুজ্জামান বশির
ঈদের খুশি :: রবিউল খন্দকার
ঈদ হলো :: শাহীন খান
আমি আছি দৃশ্যমান হয়ে :: আশ্রাফ বাবু
ঈদুল ফিতর :: মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ
দর্পণ ও মানুষ :: আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন
ঈদ :: মুজাহিদুল ইসলাম
ঈদের শেষে :: সাকিব জামাল
চাঁদ উৎসব :: তাজিমুর রহমান
পথশিশুর ঈদ :: সৈয়দ ময়নুল কবরী
ঈদ মোবারক :: জহুরুল ইসলাম

ঈদ মোবারক
কাজী নজরুল ইসলাম

শত যোজনের কত মরুভূমি পারায়ে গো,
কত বালু চরে কত আঁখি-ধারা ঝরায়ে গো,
বরষের পরে আসিল ঈদ!
ভূখারীর দ্বারে সওগাত বয়ে রিজওয়ানের,
কন্টক-বনে আশ্বাস এনে গুল-বাগের,
সাকীরে ”জা’মের” দিলে তাগিদ!

খুশীর পাপিয়া পিউ পিউ গাহে দিগ্বিদিক,
বধু-জাগে আজ নিশীথ-বাসরে নির্নিমিখ্।
কোথা ফুলদানী, কাঁদিছে ফুল!
সুদূর প্রবাসে ঘুম নাহি আসে কার সখার,
মনে পড়ে শুধু সোঁদা সোঁদা বাস এলো খোঁপার,
আকুল কবরী উলঝলুল্!!

ওগো কা’ল সাঁঝে দ্বিতীয়া চাঁদের ইশারা কোন্
মুজদা এনেছে, সুখে ডগমগ মুকুলী মন!
আশাবরী-সুরে ঝুরে সানাই।
আতর সুবাসে কাতর হ’ল গো পাথর-দিল্,
দিলে দিলে আজ বন্ধকী দেনা— নাই দলীল,
কবুলিয়াতের নাই বালাই।।

আজিকে এজিদে হাসেনে হোসেনে গলাগলি,
দোজখে বেহেশ্তে ফুলে ও আগুনে ঢলাঢলি,
শিরীঁ ফরহাদে জড়াজড়ি।
সাপিনীর মত বেঁধেছে লায়লি কায়েসে গো,
বাহুর বন্ধে চোখ বূঁজে বঁধু আয়েসে গো।
গালে গালে চুমু গড়াগড়ি।।

দাউ দাউ জ্বলে আজি স্ফুর্তির জাহান্নাম
শয়তান আজ বেহেশ্তে বিলায় শরাব-জাম,
দুশমন দোস্ত্ এক-জামাত!
আজি আরাফাত্-ময়দান পাতা গাঁয়ে গাঁয়ে,
কোলাকুলি করে বাদশা-ফকীরে ভায়ে ভায়ে,
কা’বা ধ’রে নাচে ”লাত্-মানাত”।।

আজি ইসলামী-ডঙ্কা গরজে ভরি’ জাহান,
নাই বড় ছোট–সকল মানুষ এক সমান,
রাজা প্রজা নয় কারো কেহ।
কে আমীর তুমি নওয়াব বাদশা বালাখানায়?
সকল কালের কলঙ্ক তুমি: জাগালে হায়
ইসলামে তুমি সন্দেহ।।

ইসলাম বলে, সকলের তরে মোরা সবাই,
সুখ-দুখ সম-ভাগ ক’রে নেব সকলে ভাই,
নাই অধিকার সঞ্চয়ের।
কারো অখিঁ-জলে কারো ঝাড়ে কিরে জ্বলিবেদীপ?
দু’জনার হবে বুলন্দ-নসিব, লাখে লাখে হবে বদনসিব?
এ নহে বিধান ইসলামের।।

ঈদ্-অল-ফিতর আনিয়াছে তাই নব বিধান,
ওগো সঞ্চয়ী, উদ্বৃত্ত যা করিবে দান,
ক্ষুধার অন্ন হোক তোমার!
ভোগের পিয়ালা উপচায়ে পড়ে তব হাতে,
তৃষ্ণাতুরের হিসসা আছে ও পিয়ালাতে,
দিয়া ভোগ কর, বীর, দেদারঅঅ

বুক খালি ক’রে আপনারে আজ দাও জাকাত,
ক’রো না হিসাবী, আজি হিসাবের অঙ্কপাত!
একদিন কর ভূল হিসাব
দিলে দিলে আজ খুনসুড়ি করে দিললগী,
আজিকে ছায়েলা-লায়েলা-চুমায় লাল যোগী!
জামশেদ-বেচে চায় শরাব।।

পথে পথে আজ হাঁকিব, বন্ধু,
ঈদ-মোবারক! আসসালাম!
ঠোঁটে ঠোঁটে আজ বিলাব শিরনী ফুল-কালাম!
বিলিয়ে দেওয়ার আজিকে ঈদ।
আমার দানের অনুরাগে-রাঙা ঈদগা’ রে!
সকলের হাতে দিয়ে দিয়ে আজ আপনারে—
দেহ নয়, দিল হবে শহীদ।।

ঈদ আসে ঈদ যায়
সাজজাদ হোসাইন খান

ঈদ আসে ঈদ যায় ঈদ থাকে ঝুলে
হৃদয়ের রেণু মেখে গোলাপের ফুলে।

আকাশের ছাদ ভেঙে ঈদ উঠে হেসে
ঈদ হাঁটে তারাদের গাঁও ঘেঁষে ঘেঁষে।
জাফরানি খুশবুতে ঈদ ঝুরঝুর
ঘরে ঘরে নাচে তাই খুশির দুপুর।

ঈদ আসে ঈদ যায় ঈদ অফুরান
ফজরের ঘুম হাওয়া দোয়েলের গান।
রঙমাখা প্রজাপতি জোনাকির বাতি
ঈদ যেন সাগরের ঢেউ মাতামাতি

সূর্যের দড়ি বেয়ে ঈদ নামে নিচে
উম উম্ ভালবাসা আসে পিছে পিছে।
সম্প্রীতি বন্ধন ঈদ তার নাম
স্নেহের সবুজ খামে মধু আনজাম।

প্রেমের মিনার
আবদুল হালীম

আমরা বিশাল এক ক্ষুধার শিকার
দিগন্ত প্রলম্বিত তার কালো হাত
পথ প্রান্তরে হিংস্র দন্ত নখর
মনজিলের পথে হাঁটা ভীষণ কঠিন।।

হ্রেষা হেঁকে ছুটছে কালের ঘোড়া
গ্রহে নক্ষত্রে উড়ছে তার পায়ের ধুলি
মাথার উপর শুধু বায়সের ডাক
বাজের ঠোঁটে কাঁপছে ভীরু তিতির।।

হিংসার শরে বিদ্ধ কামনার চাঁদ
আকাশে উড়ে না আর দোয়েল কপোত
কোথায় আযাদের সেই স্বপ্নের রুটি
ব্যর্থতায় ফিরে আসে খর্ব দুটি হাত।।

জীবন এখানে রূঢ় আগ্নেয় শিলা
চারদিক ধোঁয়ামগ্ন আঁধার আঁধার
আকাক্সক্ষার খড়কুটো গিয়েছে ভেসে
নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে শুধু বারুদের ঘ্রাণ।।

উর্ধ্বে আকাশে ঝোলে চাঁদের মোয়া
সম্মুখে ধুঁ ধুঁ করে হতাশার চর
কোন দিগন্তে জাগে ফেনিল বন্দর
কোথায় ভিড়াবো আজ কিস্তি প্রেমের।।

সুবহে সাদিকের যদি দাও হে খবর
কাঁধের গামছায় মুছে গতরের ঘাম
এ ঘাটে কয়দিন আরো বাইবো খেয়া
হাওয়ায় উড়াবো হেসে খুশির রুমাল।।

ভালবেসে যদি আজো দেয় কেউ চিঠি
মুঠি মুঠি দুহাতে ছড়াবো গোলাপ
প্রাণপণে সংসারের সরাবো জঞ্জাল
দিকে দিকে গড়ে তুলবো প্রেমের মিনার।।

লাল ফিতারই সাজ
জয়নুল আবেদীন আজাদ

রমজানের ঐ রোজার শেষে
চাঁদ-তারকার উজল বেশে
আসলো আবার ঈদ,
ঈদ যে খুকুর পরম মিতা
সাজতে যে চাই জরিন ফিতা
তাই ধরেছে জিদ।

জিদের পোশাক নয়তো ভালো
মন হয়ে যায় অনেক কালো
মা বলেছেন আজ,
তাইতো খুকু মিষ্টি হেসে
মেনে নিল অবশেষে
লাল ফিতারই সাজ।

রাত পোহালে ঈদ
আসাদ বিন হাফিজ

রাত পোহালে ঈদ
তাড়াও চোখের নিঁদ
খুশির ছটা বুকে নিয়ে
দূর করে দাও জিদ।

আজকে বাসো ভালো
তাড়াও মনের কালো
মিষ্টি চাঁদের হাসি দেখে
হৃদয় করো আলো।

নিজকে নিজে গড়ো
বিশ্বটাকে পড়ো
ঈদের খুশির খুশবু মেখে
হৃদয় করো বড়ো।

জন্মভূমির ঈদ
ফারুক নওয়াজ

সূর্য বিলায় আলো আমায়, আঁধার ঘোচে তাতে
স্নিগ্ধ-কোমল চাঁদের আলোয় মনটা নাচে রাতে।
ঝিকমিকানো জোনাকজ্বলা, ঝিনিক ঝিনিক ঝিঁঝিঁ
ঘুম এনে দেয়, স্বপ্নে আমি ঝুমদেয়াতে ভিজি।
ভোরটি হলে পাখির গানে দোরটি খুলে দাঁড়াই-
সবুজ মাঠের হাতছানিতে হাত দু’খানা বাড়াই।
মনটা তখন যায় হারিয়ে মানতে নারাজ মানা
পাখির মতো মনের তখন যায় গজিয়ে ডানা।
মাঠ পেরিয়ে নীলচে পাহাড়, মেঘ ছুঁয়েছে চূড়ো
ঠিক মনে হয় পাহাড় তো নয় আদ্যিকালের বুড়ো।
ডাক শোনা যায় নীল সাগরের, ঢেউরা ওঠে ফুলে
নোনতা পানির গন্ধ ভাসে হাওয়ায় দুলে দুলে।
এই তো আমার দেশরে আহা! মায়ায় মায়ায় মাখা
শীতল মাটির প্রাণের ছোঁয়া ছায়ায় ছায়ায় আঁকা।
ভাইবোনেরা মিলেমিশেই এই মাটিতে থাকি-
রাতটি এলে ঘুমিয়ে চোখে স্বপ্ন ধরে রাখি।
হাসিখুশির, স্বপ্ন দেখার প্রিয় স্বদেশভূমি-
বছর শেষে ঈদের খুশির বার্তা আনো তুমি।
সেই খুশিতে সবাই মাতি হারাই মনে-মনে
প্রজাপতির দুলদুলুনি ফুলের বনে বনে।
সবাই এদিন এক হয়ে যাই, কেউ থাকি না দু’টি!
লক্ষ গোলাপ সবাই তখন একটি বোঁটায় ফুটি।

শাওয়ালের ঐ এক ফালি চাঁদ
মোহাম্মদ রাফিকুর রহমান

শাওয়ালের ঐ এক ফালি চাঁদ আকাশ ছুড়ে উঠলো রে
দুনিয়া হল কুসুম কানন খোশবু তার ছুটছে রে
ওই ফালি চাঁদ ভাঙলো বাঁধ এই দুনিয়ার সব কিছুর
আমির গরিব সমান হলো ভেদ মুছলো উঁচু নিচুর
মত্ত মানুষ বুক মিলালো ওই হেলালের পরশ নিয়ে
জাগলো মানুষ ভুখা ফকির বুকের ভেতর হরষ নিয়ে
মান অভিমান যুদ্ধ বিবাধ আজ সবাই ভুললো রে
খোদার রহম নেওয়ার জন্য সবাই হাত তুললো রে
পরম পাওয়ায় বুক ভরেছে সুখ জেগেছে বুকের ভিতর
না পাওয়ায়র দহন জ্বালা মুছে দিল ঈদুল ফিতর
দুনিয়া জুড়ে মিছিল চলে হরেক মানুষ একই পথ
হিংসা দ্বেষ মুছবে তারা কন্ঠে তাদের দৃঢ় শপথ
ক্ষত মুছলো পাগল কবি বুকে তার গোলাপ কেয়া
বুকে তার কুসুম কানন পরম পাওয়ায় দেয়া নেয়া
তার কলমে উঠলো ফুটে অলৌকিক ছড়া ছন্দ
তার কবিতা মুছে দেবে এই দুনিয়ার যুদ্ধ দ্বন্দ
মুখ শিল্পী মুখর হলো তার তুলি হলো সচল
সে আঁকে নতুন দুনিয়া দেখ কেমন আত্মা বিহ্বল
খোদার নূরে পথ ভরেছে বুক ভরেছে বিশ্বাসির
পরম পাওয়ায় আকুল মন অবনত তার হয় শির
সেজদা দেওয়ার তীব্র আকুতি ঈদগাহে মন কেবল ছুটে
বুকে তার হাসনুহেনা খোশবু নিয়ে কেবল ফুটে
হাত বাড়ালেই তারার আকাশ তার হাতের মুঠোয় আসে
আলোকময় এই পৃথিবী দ্যাখো তখন কেমন হাসে
আগল খুলে পাগল তখন পথ ধরে ছুটতে থাকে
আত্মাহারা পাগল পাড়া খোদার রহম লুটতে থাকে
দ্যাখ মুনিয়া ক্ষত মুছেছে পথ পেয়েছে মুস্তাকিম
হৃদয় তার উষ্ণ অধীর পলাতক কোথায় হাড়হিম
হৃদয় হল সোনার তোরি অথৈ দরিয়ায় চলতে থাকে
হৃদয় তার বাঙময় হলো কত কথা বলতে থাকে
শওয়ালের ওই এক ফালি চাঁদ মুছলো বাঁধা অবাধ দিন
ক্ষুৎ পিপাসার দিন শেষ বুকে বাজে খুশির বিন
খানা পিনার সব আয়োজন খুরমা সীমায় সামনে আসে
নতুন পোশাক গায়ে দিলেই মনটা তখন আকাশে ভাসে
দুখ মুছে অসুখ মুছে জীবন হল লক্ষ কুসুম
ক্রমাগত ফুটতে থাকে দ্যাখো তার ভাঙছে ঘুম
অষ্ট প্রহর মধুর স্বর কষ্ট নিনাদ হারিয়ে যায়
বন্দি মানুষ মুক্ত এখন অবাধ জীবন ফিরে পায়
ঈদগাহে মন ছুটতে থাকে জুটতে থাকে ফেরেস্তারা
মানুষের হাত ধরে তারা হয় এখন আত্মহারা
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানুষ হয়ে ওঠে সীসা প্রাচীর
সেজদা দেওয়ার আকুতিতে চোখে তাদের ঝরছে নির
তারার হরফ দিয়ে কে আনমনে লিখতে থাকে
ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ফুল যেন শাঁখে শাঁখে
তমশাকে মুছে ফেলে আলোকময় দুনিয়া গড়ে
প্রাণ এলো তার দেহে প্রেমের জন্য মানুষ লড়ে
ঈদুল ফিতর প্রেম দিয়েছে ঈদুল ফিতার দিয়েছে নূর
এই পৃথিবী বাঙময় হলো বুকে তার গানের সুর
বুকে বুক মিলিয়ে মানুষ দ্যাখো কেমন আত্মহারা
দুনিয়া হলো মিলন মেলা মুক্ত মানুষ ভাঙলো কারা
শ￰ওয়ালের ঐ এক ফালি চাঁদ আকাশ ছুড়ে উঠলো রে
দুনিয়া হল কুসুম কানন খোশবু তার ছুটছে রে

ঈদের খুশি
রিয়াদ হায়দার

ঈদের খুশি ছড়িয়ে পড়ুক
সকল প্রাণে,
ঈদের খুশি তোমার আমার
হৃদয় টানে!

ঈদের খুশি লাচ্চা শিমাই
সবার পাতে,
ঈদের খুশি মেলাবো বুক
হাতে হাতে!

ঈদের খুশি জ্বালুক আলো
গোপন তিলে,
ঈদের খুশি মন ভরাবো
সবাই মিলে!

ঈদ শব্দ টি অনেক খুশির ছিলো
ফাহমিদা ইয়াসমিন

আকাশ পানে চেয়ে থেকে চাঁদ দেখতাম,
কোনো কোনো বছর খুশির বার্তা না পেয়ে
মনটা বিষন্ন করে ঘরে ফিরলে, মা বলতো-
মন খারাপ করিস নে, একটা দিন তো মাত্র
এভাবে একটা দিন আমাদের বন্ধু মহলে
একটা বছরের লাহান মনে হতো। তারপরে-
নতুন দিনে আবার চাঁদ দেখার উৎসবে ইশকুল মাঠে মিছিল করতাম।
মৃত্যুঘুম থেকে জেগেই সেলামি লড়াই করতাম বলেই,
তখন ঈদ শব্দটি অনেক খুশির ছিলো।

ঈদের স্বাধীনতা
বশিরুজ্জামান বশির

ঈদের স্বাধীনতা আমাদের কারো মাঝে নেই
ঈদের দিনও আমরা আমাদের স্বাধীনতা হারাই-
খুন রাহাজানি জুলুম অত্যাচার চলে ঈদের দিন।
ঈদের স্বাধীনতায় বেশি বেশি লেনদেন হয় ঘুষের
ঈদের দিন অসৎ কর্মে মিলিত হই যতো অমানুষ
ঈদের স্বাধীনতায় বেশি বেশি চলে ছিনতাই
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শক্তিশালী হয় দুর্নীতির স্বাধীনতায়
আমি স্বাধীনতা চাই মানুষের স্বাধীনতা
ঈদের স্বাধীনতা; স্বাধীনতার ঈদ।

ঈদের খুশি
রবিউল খন্দকার

রিতাজ মনি,আয়েশা মনি
কই রে তোরা কই,
চাঁদ উঠেছে, ফুল ফুটেছে
দেখনা চেয়ে ঐ।
আলোর মিনার,নদীর কিনার
ঈদ মোবারক, ঈদ এলো,
মেহেদী পাতা,রঙিন হাতা
তাহসিনের ঐ নিদ গেলো।
নতুন পথে,এক শপথে
বুক মিলাতে বুকে,
ধনী গরীব এক কাতারে
থাকবো সুখে দুখে।
ঈদ আনন্দে ছন্দে ছন্দে
আলোর কথা বলি,
খোকা খুকু আয়রে তোরা
দ্বীনের পথে চলি।

ঈদ হলো
শাহীন খান

ঈদ হলো ঝিলমিল স্বপ্নীল দিন
মন বাজে বেজে চলে সুখের বীণ।
নতুন জামা প্যান্ট খুশি মনে পরা
ঈদগাহে যাওয়াটাওয়া নামাজ পড়া।
দ্বিধা ভুলে হাতে হাত নিমেষে ধরা
শত্রুর সাথে ঠিক কোলাকুলি করা।

ঈদ হলো ডানা মেলে ঘুরে ঘুরে আসা
সহসা ঘুঁচে যায় মনে বাঁধা আশা।
বাড়ি বাড়ি খাওয়া হয় শিন্নি পায়েস
নিমেষে পুরা হয় হৃদের খায়েস।
সেলামিটা দিয়ে দেয় কাকা বাবা মামা
মন মাঝে ধরা দেয় সুর সারেগামা।

ঈদ হলো কষ্টের পথকলিদের
বুক দিয়ে দুঃখ খুব হয় বের!
চাওয়াটাওয়া হয় না পূরণ তাদের
তার ঘরে যাও যদি পাবে ঠিক টের!
দু’বেলা দু’মুঠো খাওয়া হয় না
ওদের সাথে ধনী কথা কয় না!

আমি আছি দৃশ্যমান হয়ে
আশ্রাফ বাবু

কাক উড়া রাতের অবিন্যস্ত মনের ভিতরে
আমি শিখেছি,দেখেছি ক্লান্তিকর অপেক্ষা।
হৃদয়ে দূর যাত্রাপথে চোখের জলে
নির্ঘূম কষ্টের সাথে এক হয়ে মিশে থাকে।
বুননের প্রক্রিয়া–সুখের ভাষা বেদনা-জড়িত কী করুণ !

অতিক্রম করে যাবে,
আর সেই খন্ডিত মুহূর্ত অনুভবে অবলুপ্ত হবে ।
শুষ্ক চোখে স্বচ্ছ দেহ শায়িত ;
তাকিয়ে আছে, সঠিক জানে না নগ্ন পায়ের অনুভব!
যেন এখানেই আমরা শায়িত রেখেছি পরিশ্রান্ত সূর্যকে।

উদ্ভাসিত রাতের গভীরে ফুল ফোটে অর্থহীন হয়ে ।
একজোড়া সশস্ত্র প্রহরী ;আওয়াজহীন রাতে
একটি শব্দের জন্য ভাবনায় উজ্জীবিত
যে শব্দ পুণ্যতর, কিন্তু একান্তই দুঃচিন্তা।

বাতাসের ভারে নতো ক্রমশ উষ্ণ হয়ে উঠি
রাত যতো হয় গতো পেরিয়ে যাবে কি মহাকাল?
কোথাও সূর্য জেগেছে লাল চোখের বিছানায়,
দুঃশ্চিন্তা নেই মোমবাতি নিভে যায় সূর্য দেখে
কিন্তু তুমি দেখবে না সেই রাতের সূর্যকে,
আমি আছি দৃশ্যমান হয়ে চোখের জলের মতো ।

ঈদুল ফিতর
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

রোযার শেষে ঈদুল ফিতর
আসছে ফিরে ভাই,
ভুখা থাকার কষ্ট ভুলে
স্বাগত জানাই।

আজকে হবে খাওয়া-দাওয়া
রোযা রাখা বাদ,
ছোট বড় এক হয়ে সব
দেখছি ঈদের চাঁদ।

সবাই খুশি সবাই হাসি
রোযার শেষে ঈদ,
প্রতি ঘরে আসুক আবার
আসমানী তাকিদ।

দর্পণ ও মানুষ
আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন

দর্পণ মানে নিজেকে নিজে দেখা,
দর্পণে নিজকে খুব দেখা যায়,
নদীর স্রোতের মতো নিজের ক্ষয় দেখার আশ্চর্য প্রতিবিম্ব,
বট বৃক্ষের মতো ছায়া দানকারী নাকি-
হিংস্র পশুর মতো অহংকারী আর অত্যাচারী?
শতাব্দীর সাক্ষী করোনা এসেছে দর্পণ হিসেবে।
নিজ গৃহে আলো কিবা অন্ধকারে,
নিজের বেড়ে ওঠা গোঁফ- দাড়ি দর্পণে দেখে,
নিজেকে বিচারের সময় এটি।
তাকাও হে মানুষ তাকাও-
চিনে নাও নিজেকে;
জগতের শ্রেষ্ঠ সম্পদ এখন দর্পণ ও মানুষ।

ঈদ
মুজাহিদুল ইসলাম

গগন ছাদে সন্ধ্যাকাশে
চাঁদনী হাটে একা
হাসির ছলে নদীর ঘাটে
চুপটি দিলো দেখা

পায় নূপুরে বাজনা শুনে
জোনাক উঠলো হেসে
মজার খবর পড়লো ছড়ে
হাওয়ায় ভেসে ভেসে

ঈদের খুশি পড়ছে ঝরে
শহর পাড়া গাঁয়
ফুল কুঁড়িরাও স্বপ্ন বুকে
চায়ছে যেন ঠাঁই

সাদা কালো বিভেদ ভোলে
সুখের পোষা বুলে
স্বর্গ দুয়ার খুলবে ধরায়
নবীন দলে দলে।

ঈদের শেষে
সাকিব জামাল

ঈদের শেষে খানিক পরে
ভুলিস নারে মন
জেগেছিল আজ সবার তরে
যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন।
ভালোবেসে রাখিস ধরে
আজকের দিনের ভাব
ধনী গরিব ভেদাভেদ হীন
এ সময়টুকুর ছাপ।
ঈদের শেষেও থাকুক মম
এ আত্মার বন্ধন চিরদিন
পুরো বর্ষ থাকুক হর্ষ
দু:খ করে লীন।
ভালোবেসে থাকরে মন
সদা আজকের ন্যায়
বয়ে যাক শান্তির বাতাস
তব তামাম দুনিয়ায়।

চাঁদ উৎসব
তাজিমুর রহমান

সমস্ত উপোসের ভেতর একটা মেধা থাকে,
মননও আছে
আমি মননের কাছে যাই একাকি, নিভৃতে
আর জানু পেতে বলি
বেহেশত নয়, আমাকে বল সেই মগ্নতার কথা
যার স্পর্শে পড়শি আঁধারও জোৎস্না হয়ে যায়

পড়ে থাক বিপন্ন প্রদেশ, অহমিকা কিংবা পুঞ্জিভূত ক্লেদ।
মানুষের প্রসন্ন হাত এগিয়ে এসে ধরুক
সকল মানব-মানবীর উষ্ণ করতল
বৃক্ষও নীরবে ভরে উঠুক আদিম স্নিগ্ধতায়
আর ফসলের গানে গানে লেখা থাক বিনীত ভোর

প্রতিটি উপোসের মাঝে একটি ছন্দ আছে
তাকে মুদ্রায় জড়ালে বিনত আঁখিতে দীপ্ত হয়
আত্মার বিকাশ আর
নিসর্গে ডানা মেলে চাঁদ উৎসব।

পথশিশুর ঈদ
সৈয়দ ময়নুল কবরী

ঈদ এসেছে, আকাশ পানে
দেখি নতুন চাঁদ
ঈদ খুশিতে ঝলমলে সব
আনন্দে নেই বাঁধ।
রাস্তার পাশে পথশিশুদের
দেখছি চোখে জল
ঈদের আমোদ কি বুঝিবে
পায়না ঠাঁই কোল।
নেই দেখি কেউ হাতটি ধরে
করবে একটু আদর
পঁচা ভাসি খাবার খেয়েও
বাঁচায় জীবণের ধর।
পথশিশুদের চোখের জলে
ভাসছে রেলের চাকা
তাদের বেলা মনবতা’র কৌটা
হয়ে যায় ক্যান ফাঁকা?
দেখছি কত দেখছি চেয়ে
দেখেছি রাজার কীর্তি
সব রাজারাই বিড়াল গোত্র
নেই মমতা ও প্রীতি।

ঈদ মোবারক
জহুরুল ইসলাম

নিকটবর্তী ঈদ
তাই তো কেমন খুশি খুশি
প্রাণী বা উদ্ভিদ।

ঈদ আর দূরে নয়
মধ্যবিত্ত পরিবারে
এ নিয়ে খুব ভয়।

যার যা কিছুই হোক
দুঃখ ভুলে ঠিক জানাবেই
ঈদ মোবারক।