ঈদ মানুষের মৌলিক আনন্দের স্থান। সারা পৃথিবীর মানুষ এই সময় আনন্দ ভাগ করে নেয়। মুসলমানদের আনন্দ এহসান সবার মাঝে বিলিয়ে দেয়। পবিত্র রমজান শেষে তারা পবিত্র হয়। মানুষে মানুষে সৌহার্দ সৃষ্টির এই মহান দায়িত্ব তারা বহন করে সারা বছর। অন্যের অধিকার পুরোপুরিভাবে পুরন করার এই শিক্ষা সারা বছর মানুষের মধ্যে বিরাজমান থাকে। আমরা আশা করবো ভালোবাসার এই আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে যাক। আল্লাহ আমাদের কল্যাণ করুন। আমীন।
আফসার নিজাম, সম্পাদক

সূচিপত্র
শপথ :: সৈয়দ নাজমুল আহসান
ত্রিদিব বুকে ঈদের চাঁদ :: আফরোজা অদিতি
ঈদের দিনে আমার খুশি :: রানা জামান
ঈদ সংবাদ :: তৈমুর খান
দূরের শৈশব :: কাজী জহিরুল ইসলাম
ঈদের খুশি :: ফরিদ সাইদ
খুশির রঙিন আলো জ্বেলে :: ইসমাইল বিন আবেদীন
ঈদের দিনে হই ফুলের মত :: শওকত ইমতিয়াজ
শাওয়ালের চাঁদ :: সৈয়দা কানিজ রাসুল
বোঝায় সোজা হইনি :: মুন্সি আব্দুল কাদির
ঈদে আড়ি :: শেখ একেএম জাকারিয়া
ঈদের চাঁদ :: শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া জয়
ঈদের খুশি :: এম এস ফরিদ
আমি তেমন মানুষ নই :: আসাদজামান
ঈদুল ফিতর :: মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ
ঈদের খুশি :: রিয়াদ হায়দার
এলো ফের ঈদটা :: হুসাইন দিলাওয়ার
ইদ এলে :: দিল মুহাম্মদ
ঈদ উল ফিতর :: কমল কুজুর
আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি :: বেবী রাণী রায়
শরৎ রাতের চাঁদবালিকা এবং আমি :: দ্বীপ সরকার
…………………………………………..

শপথ
সৈয়দ নাজমুল আহসান

এসো আমরা শপথ নেই-
পাপাচার থেকে আসব ফিরে
যে পাপগুলো রেখেছে আমাদের ঘিরে।
এসো আমরা শপথ নেই-
কুরআন এবং সুন্নাহকে ধরে ভিত্তি
মজবুত করবো ঈমানী নিক্তি।
এসো আমরা শপথ নেই-
হারামকে করে বর্জন
মুসলমানিত্ব করবো অর্জন।
এসো আমরা শপথ নেই-
ধর্ম নিয়ে না করে তর্ক
পরকালের টার্গেট করি স্বর্গ।
এসো আমরা শপথ নেই-
পাঠ করে কুরআন
করবো সমস্যার সমাধান।
এসো আমরা শপথ নেই-
জীবনে জমেছে যত পাপ
স্রষ্টার কাছে চাই তার মাফ।
এসো আমরা শপথ নেই-
মানুষে মানুষে না রেখে বিদ্বেষ
বিশ্বকে গড়বো এক দেশ।
এসো আমরা শপথ নেই-
দূর হলেও বিপদ শত
যাব না ভুলে স্রষ্টাকে আগের মত।।
…………………………………………..

ত্রিদিব বুকে ঈদের চাঁদ
আফরোজা অদিতি

বাতাসের বুকে ঘুরছে করোনার মাইক্রৌব;
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক পরিধান করা!
লকডাউন! বর্তমান সময়ে অনেক ধারার
লকডাউন আর নিয়মের মাঝে পৃথিবীর
মানুষের বসবাস!

তবুও চাঁদ ওঠে! সূর্য ওঠে! দিন যায়;
বছরান্তে রমজান আসে রমজান যায়!

বিশ্বের এখন করুণ সময়! সীমাবদ্ধতা আর
নিষেধের মাঝেও রোজা-এবাদত-বন্দিগিতে
প্যানডেমিক সময় যাপনে নত মানুষ!
প্রকৃতির কাছে বড্ড অসহায় আজ!

তবুও মানুষ কষ্ট ভুলে হাসে!
বলে, ঐ দেখ রমজান শেষে দেখা দিয়েছে
চাঁদ-ঈদের চাঁদ! সব ভুলে আনন্দে মেতে
ওঠে মানুষ! তাঁদের কন্ঠে থাকে নজরুল-
“রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ”
বেজেছে ঈদের বাঁশি! প্রস্তুত হও নৃ-সমাজ!
শোন শোন ঐ শোনা যায় সঙ্গনিরোধ আর
সীমিতকরণের মাঝেও চলবে ঈদের জামাত!

ত্রিদিব বুকে শোভাণি¦ত ঐ ঈদের তরুণ চাঁদ।
…………………………………………..

ঈদের দিনে আমার খুশি
রানা জামান

তোমার গায়ে নয়া কাপড়
আমি চেয়ে খেলাম থাপড়
আমার বাবা গরীব
তোমার বাবার অনেক টাকা
বাবার নিষেধ আছে রাখা
যেতে তোমার করিব

ঈদের দিনে তোমরা খুশি
আমার খুশি ধানের ভুষি
থাকে পড়ে খোলায়
অতি আবদার করি যদি
মায়ের চোখে অশ্রুর নদী
কী করে সয় পোলায়

যা আছে তা নিয়ে সুখি
হই না বড়লোকের মুখি
বেশ তো আছি পান্তায়
যা আছে তা নিয়ে ঈদে
ভর্তা ভাতে মিটাই খিদে
মনটা রাঙাই রাংতায়।
…………………………………………..

ঈদ সংবাদ
তৈমুর খান

ঘর নেই, পর নেই হৃদয় আকাশে
এক টুকরো ঈদের চাঁদ উঠেছে হেসে।
তোমরা এসো, আমরাও আছি
আমরা সবাই সবার কাছাকাছি।
ঈমানের জ্যোতি আছে, তৌহিদের বাণী
এসো আজ বুকে বুকে রাখি বুকখানি।
মরমে মরমী হই, দরদে দরদী
বেহেশতী সুঘ্রাণে অন্তর জাগে যদি।
এজন্ম সার্থক করি মানববাগানে
আমরা ফোটাই ফুল দ্বীন-সন্নিধানে।
…………………………………………..

দূরের শৈশব
কাজী জহিরুল ইসলাম

জলরঙ দিয়ে যখন পাপড়ি আঁকি
কিছু কিছু আমি কালো মেঘ দিয়ে ঢাকি।

ফুলেরা তখন উঁচু হয়ে বলে, ভুল।
কে কবে ঢেকেছে মেঘের আড়ালে
দূর শৈশব থেকে তুলে আনা
এতো উজ্জ্বল ফুল?

মেঘেরা তখন স্বচ্ছ ঝালর
কত শত তার ফুটো
শৈশব স্মৃতি অনাবিল হাসে
মেঘ ভাসে খরকুটো।

ভেসে যেতে যেতে মেঘ হয়ে যায় নীল।
বসন্ত এসে খুলে দিয়ে যায়
দরোজার তালা-খিল।

হুড়মুড় ঘরে ঢুকে পড়ে কিছু হাওয়া।

ফিরে যেতে যেতে পিছু ফিরে দেখি
কোথাও হয়নি যাওয়া।
…………………………………………..

ঈদের খুশি
ফরিদ সাইদ

ঐ দেখা যায় দূর আকাশে
বাঁকা চাঁদের হাসি
ঈদ হবে কাল তাইতো মনে
ভাবনা রাশি রাশি!

নতুন কোনও জামাকাপড়
নেবো না এই ঈদে
কিনে দেবো কিছু খাবার
যাদের পেটে খিদে!

ঈদের খুশি দেই বিলিয়ে
গরিবদুঃখীর মনে
দয়ামায়া ভালোবাসা
থাকুক জনে-জনে!
…………………………………………..

খুশির রঙিন আলো জ্বেলে
ইসমাইল বিন আবেদীন

সম্প্রীতির এক পেখম মেলে
খুশির রঙিন আলো জ্বেলে
রোজার পরে ঘরে ঘরে
আবার এলো ঈদ ।।
ঈদ মুবারক ঈদ
ঈদ মুবারক ঈদ। [কোরাস]

আজ-
বিভেদ ভোলার দিন
সাদা কালো, ধনী গরীব
বংশীয় কুলীন।
মুছে ফেল মনের যত
অহমিকা জিদ।।

আজ-
ফিতরা যাকাত দাও
অনাহারীর মলিন মুখে
হাসির ফুল ফোটাও
সেই মিছিলে জাগাও তুমি
খোদায়ী তাওহিদ।।
…………………………………………..

ঈদের দিনে হই ফুলের মত
শওকত ইমতিয়াজ

বছর ঘুরে হাসির রেখা ঠোটের কোণে বাজে
আসলো আবার ঈদের খুশি, ধরা রুপে সাজে।
আজ নেই ভেদাভেদ, নেই কো বাঁধা যেন বারি এলো
সবার মনে ভালোবাসার দুয়ার খুলে গেলো।
শ্রমিক, চাষী, মজুর, মুটে রিকশাজীবী চলো।
সবাই মিলে এক হয়ে যাই এই খুশির মাঝে
‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিটা বুকের মধ্যে বাজে।
নামাযের সময় হলো ঈদ গাহে যাই সবে
আমরা সবে ছিলাম এক, ঝগড়া ছিলো কবে?
নামাজ শেষে কোলাকুলির যদিও খুব আশ
স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তো মোদের বসবাস।
আজ হবেনা কোলাকুলি, হবেনা তো গলাগলি
তবে আজ তো আর বাঁধা নেই হতে ফুলের কলি!
ফুলের মত তরতাজা, ঘ্রানে, হতে মাতোয়ারা
কে দিয়েছে বাধা? মোরা তাতে যে হই সারা।
…………………………………………..

শাওয়ালের চাঁদ
সৈয়দা কানিজ রাসুল

ফিরে যাও তুমি শাওয়ালের চাঁদ
নাই বা এলে ধূসর পান্ডুর পৃথিবীতে!
কি হবে এসে? কাকে বিলোবে
তোমার অঞ্জলি ভরা খুশি?
ফিরে যাও তুমি, এসো না এই
জরাগ্রস্ত বসুধার বুকে।
এখানে গোর খননে কোদালের শব্দে
আর শ্মশানের কালো ধোঁয়ায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন।
তোমার রওশোনিতে আলোকিত হবে না পান্ডুর পৃথিবী।
করোনার ভয়াল থাবায় বিপন্ন মানবজাতি,
জীবনের তাবৎ প্রফুল্লতা, হাসিখুশি
ভরে উঠেছে দুঃখ, যন্ত্রণা আর বিষন্নতায়।
তাদের চোখে লোনা স্বাদের স্বপ্ন
একমুঠো অক্সিজেন ফুসফুসে ভরে স্বপ্ন দেখে
শুধু বেঁচে থাকবে বলে। মুখে অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে
স্রষ্টার করুণা মাগে।
কে তোমায় সেলাম ঠুকে শোনাবে সেই চিরায়ত গান
‘এলো খুশির ঈদ’?
ফিরে যাও তোমার খুশির সওগাত নিয়ে
শাওয়ালের চাঁদ।
…………………………………………..

বোঝায় সোজা হইনি
মুন্সি আব্দুল কাদির

একটি বছর কষ্টে পৃথি
করোনা নামের বোঝা
বাঁকা পথে চলছি দেখ
হইনি এখনও সোজা
রেখেছি আবার রোজা।

রোজা শেষে ঐ এসেছে
আধ ফালি চাঁদ ঈদ
কষ্ট আমি কী করেছি
কোথায় সওয়া ক্ষিধ
কেন যে বাঁকা হৃদ!

এমন যদি বিপদ এলে
হয় না আমার বুঝ
স্বার্থে শুধু মাতাল আমি
স্বার্থই করি খোঁজ
দুঃখ কি আর দূরে যাবে
সইবে যে রোজ রোজ।
…………………………………………..

ঈদে আড়ি
শেখ একেএম জাকারিয়া

একেমন ঈদ এলো
কেউ নই খুশি,
দুখের পাহাড়টাকে
মনে মনে পুষি।

নেই কোনো হইচই
এবারের ঈদে,
খুশি ছাড়া খুকুমণি
বসে আছে জিদে।

হয়নি তো কেনাকাটা
দুখে মন ভারি,
মুখে তার কথা নেই
দিয়েছে সে আড়ি।
…………………………………………..

ঈদের চাঁদ
শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া জয়

দূর আকাশে চাঁদ উঠেছে
হাজার তারার মেলায়,
খুশির আমোদ নামলো’রে ভাই
নামলো রঙ্গিন ধরায়।

রাত পোহাবে কত দেরি
সহেনা যে আর,
বছর ঘুরে আসে শুধু
উৎসব দু’টি বার।

স্লান শেষে নব বেশে
মেহেদী পড়া হাত,
সালাম পড়ে দোয়া শেষে
করবো মোলাকাত।

হিংসে-বিদ্বেষ ভুলে সবাই
এসো ভ্রাতৃত্ব করি,
দলে-বলে সবে মিলে
সুষ্ঠ সমাজ গড়ি।
…………………………………………..

ঈদের খুশি
এম এস ফরিদ

গগন চাঁদে ঈদের আমেজ
বাঁকা ঠোঁটের হাসি,
ঈদ এলোরে ঈদ এলোরে
খুশি মুসলিম বাসী।

ফিরনি সেমাই খাবে সবাই
প্রতি ঘরে ঘরে,
নমাজ শেষে কোলাকুলি
করবে বাহু ধরে।

সবার তরে সবাই মিলে
চাইবে মুনাজাতে,
রহম করো মালিক প্রভু
নাজাত মাগফেরাতে।

ঈদের খুশি ভাগাভাগি
করবে মুসলিম মিলে,
হিংসা বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে
শান্তি পাবে দিলে।

মহান প্রভু খুশি হয়ে
রহম দিবেন ঢেলে,
এমন খুশির জোয়ার মিলে
ঈদ যে ফিরে এলে।
…………………………………………..

আমি তেমন মানুষ নই
আসাদজামান

বেঘোর কান্নায় মাতে পৃথিবী
মৃত্যু মিছিল সাক্ষ্য বহন করে তার-ই
গুটিয়ে নিয়েছে ব্যবসা তার সমস্ত চোরাকারবারি।

কান্নায় উদ্যত হই-
আমি তেমন মানুষ নই!
ভাবিনি পৃথিবীর ভান্ডারে সঞ্চিত
এমনও সময় আছে
সমস্ত আনন্দ আজ মূর্ছা যায় কান্নার কাছে।

অস্থিরতায় বিচলিত হয় যারা তারাও মানুষ।
আমি আশাবাদীদের দলে-
আবার দেখবো কোন একদিন
পৃথিবীর বুক জুড়ে প্রেম প্রেম খেলা চলে।
…………………………………………..

ঈদুল ফিতর
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

ঈদুল ফিতর সাওম শেষে খুশির আমেজ আনে
সবার মনে ঢেউ টলোমল ঈদের গানে গানে।
খোকাখুকুর নতুন জামা ঈদের কেনাকাটা
করোনাতে খুশির আমেজ পড়ছে যেন ভাটা।

ঈদুল ফিতর আনন্দে মন নীলাকাশের ঘুড়ি
ছোট বড় সবার মনে খুশিতে সুর সুরি।
কিন্তু বেজার খোকাখুকু লকডাউনের দেশে
ঈদের খুশি না জানি ফের এমনি যাবে ভেসে।

ঈদুল ফিতর সাওম শেষে বাঁকা চাঁদের হাসি
সবার ঘরে সবাই মিলে ভালোবাসা বাসি।
ভিন্ন স্বাদের রান্না হবে খুশির লুটোপুটি
খোকাখুকুর একই চিন্তা বাঁধবো কেমনে জুঁটি।
…………………………………………..

ঈদের খুশি
রিয়াদ হায়দার

একফালি চাঁদ আকাশ জুড়ে
ঈদের খুশি আনে,
উপবাসের শেষ দিনেতে
আনন্দ তাই প্রাণে!

বিশ্ব জাহান আলোকিত
রমজানের ঐ শেষে,
ঈদের খুশি ছড়িয়ে পড়ুক
সবার ভালোবেসে!

ঈদ মানে তো এগিয়ে চলা
একসঙ্গে থাকা,
ভায়ে – ভায়ে বিভেদ ভুলে
হাতটা ধরে রাখা!

ঈদের চাঁদে জ্যোৎস্না ঝরুক
আজকে সবার ঘরে,
শপথ থাকুক দীন দুঃখীর
পেটটা যেন ভরে!
…………………………………………..

এলো ফের ঈদটা
হুসাইন দিলাওয়ার

সিয়ামের দিন শেষে এলো ফের ঈদটা
হাসি খুশি কোলাহলে ভরে গেল হৃদটা।

রোজা শেষে এলো দিন রকমারি ভোজনের
নিতে হবে খোঁজ তাই অসহায় স্বজনের।

ঈদ এলে খোকা খুকি আনন্দে গীত গায়
সুরমা খুশবু মেখে ছোটে তারা ঈদগা’য়৷

নামাজের আগে আগে চেয়ে নেয় ঈদিটাও
হাত পাতে পুঁচকে সাবিকুন দিদিটাও।

দিলখোলা হাসিখুশি আমাদের রিদি’টা
দিয়ে দেয় নিঃস্বতে চেয়ে পাওয়া ঈদি’টা।

অসহায় কত শিশু ভালো জামা জুতো নেই
অবহেলা ছাড়া তার খুনসুটি গুতো নেই।

আছে যত পথকলি দাওয়াতের সাদরে
ডেকে নাও তাদেরও খেতে দাও আদরে।
…………………………………………..

ইদ এলে
দিল মুহাম্মদ

রমজানের শেষ দিকে
পবিত্রতার ঘ্রাণে,
চাঁদ মামা দেয় উঁকি
নীলাকাশের পানে।

মন চাঙা সাজ রাঙা
ছোট-বড় ভেদহীন,
চারদিকে লোকজনে
আনন্দ সীমাহীন।

ছোট-বড় সব্বাই
খেতে পায় সুস্বাদু,
খুব মায়া মিল মেশা
মহিমায় ইদ যাদু!

ইদ এলে গীত চলে
হাসিখুশি মনে,
মান ভুলা বোল তোলা
কোলাকোলি ক্ষণে।

পৃথিবীর একি রং
শান্তির ছায়াতলে,
মানুষের জয়ে গান
সৃষ্টির সেরা বলে।
…………………………………………..

ঈদ উল ফিতর
কমল কুজুর

ঈদের আহ্বান ও কালের টান
কী এক নিদারুণ যন্ত্রণায় পুড়ছে পৃথিবী
অদৃশ্য শত্রুর থাবায় ক্রমে সংহারের পথে
মনুষ্য সকল,
ভেঙে ভেঙে পড়ে সূর্যের দাগ
থেমে থেমে আসে সমুদ্রস্রোত আর অকারণ
হতাশায় নিশ্চিহ্ন হয়ে সবুজ বন।
এত দুর্ভিক্ষ সময়ের বালিয়াড়িতে
হাহাকার করে ফেরে মুমূর্ষু মানুষ
যেন আজন্ম অপেক্ষায় থাকে

ন্যূনতম ভালোবাসার।
দূর আকাশের রংধনু তবু স্বপ্ন জাগায়
সপ্তর্ষিমণ্ডলের আঁধার ভেদ করে বিচ্ছুরিত
আলোর আভা পথের দিশা দিয়ে রাখে,
চকিতে চাহনির মতো বাঁকা চাঁদ দেয় উঁকি
আকাশের কোলে;
যেন রুপালি মায়ার আবেশ ছড়িয়ে যায়।
ধনী গরীব মালিক শ্রমিক সবার মনে খুশির ঈদ
সুখের পরশ দেয় বাঁচার সাহস যোগায়।
…………………………………………..

আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি
বেবী রাণী রায়

আমাদের সংস্কৃতি অতি পবিত্র
পৃথিবীর বুকে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
সারাবছর উৎসব আমেজের বাহার
আমার সংস্কৃতি, আমার অহংকার।
বৈশাখে হালখাতা দিয়ে নতুন বছর শুরু
রূপকথার মত যেন সবি কল্পতরু।

শ্রাবনে বর্ষার রাতে হাতে বাতি নিয়ে
মাছ ধরা কি যে মজা যদি পার নিতে,
চাপা আর শিদলের আহা কি স্বাদ!
বিদেশীরা কয় তোরা এতে কি যে পাস।
মোদের খাবার মোরা কত মজা পাই
নেয়ে খেয়ে পান চিবে পুতুল নাচে যাই।

দূর্গা পুজার দশমীতে হালযাত্রা দিয়ে
বসে থাকা লাঙ্গল, আবার মাঠে চলে।
আযান হতেই পল্লীবধু সবার আগে উঠে
স্নানটি সেরে কলস ভরে জল তুলে ঘরে,
বাড়ীর বাইরে স্বামী যখন কোথাও চলে যায়
নিরাপদে ফিরে এসো মনে মনে চায়।

গানে ও গজলে সুশিক্ষার নীতি
বিয়ে বাড়ী বৌ ভাতে কত আছে রীতি।
একে অন্যের দেখা হলে কুশল জানা চাই
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিম সবেতে ভাই ভাই।
জারি সারি ভাটিয়ালী পালা কীর্তন গান
চিরদিন বাংলাকে দিয়েছে সুনাম।
…………………………………………..

শরৎ রাতের চাঁদবালিকা এবং আমি
দ্বীপ সরকার

গ্রামের মেঠো রাস্তায়
আমি চলছি হেঁটে হেঁটে-সাথে হেঁটে যাচ্ছে চাঁদের অদৃশ্য পা
চাঁদ যেনো আমার পুরনো দিনের চাঁদবালিকা
বালিকার হাত ধরে আছি যেনো চাঁদ ধরে আছি
আকাশের চাঁদ আমার হাতে মথিত হচ্ছে

দূর্বাঘাসের জাজিমে বসে ‘তুই তুই’ করে ডাকছিলাম পরস্পরে
নিতম্ব ছুঁয়ে শিশির নেমে আসলে আমরা আলিঙ্গন করি
সাঁই সাঁই শব্দে বাতাসের অবাক সন্তরণ
আমি আড়চোখে তাকিয়ে দেখি তাকে- থৈ থৈ করে ঝড়ে পড়ছে বেশ

চাঁদবালিকাটি হাতবাড়ালে অনুভবের আসর থেকে আমি উঠে পড়ি দ্রুত
ভীষণ ছায়াবিথী রাত-আশালতা চোখ তার
পাশে দীঘির জলে আমাদের ছায়া নড়ে উঠলে ধাক্কা লাগে বুকে
আমরা বুঝি মরে যাচ্ছি।