টুকরো

আমার বুকের স্বপ্ন গুলো তোর জন্যে রাখিস।
আমার চোখের জল টা যে তুই বড্ড ভালবাসিস
আমার হাতটা যখন হাতে ছিলো তোর।
বুকের মধ্যে জড়ানো সেই সর্বগ্রাসি ক্ষণ।
এখন কি তোর মনে পরে বল?
ছিলো তোর চোখেতে আমার চোখ যখন
শ্বাসে তে শ্বাস মিলে ছিল তখন।
মনে পরে আমার কথা এখন?
আমার বুকের স্বপ্ন গুলো তোকে দিলাম আজ।
রাখিস কিন্তু, যত্ন করে রাখিস।
না হয় আমায় মিথ্যা করেই একটু ভালোবাসিস।
…………………………………………..

পরজন্ম

পরজন্মে যখন আবার দেখা হবে তখন আমরা প্রেমে পড়বো।
সত্যি বলছি তুমুল প্রেমে ঝড় উঠবে উথাল পাথাল।
তোর বাড়ির ছাদ থেকে দেখা যাবে আমার বাড়ির ছাদ।

তোর শোবার ঘরের আলো এসে পরবে আমার বিছানায়।
আমি তখন হয়তো ২০
তুই তখন ঠিক ২৩
বা উল্টো টা আমি ২৩ আর তুই ২০
কি বা এসে গেলো তাতে।
সব নিয়ম মতো হতেই হবে তাই বা কে বলছে।
হোক না একটু বাঁধা গতের বাইরে একটা ছন্নছাড়া প্রেম।
এ জন্মে হলো না তো, পরের জন্মে হতেই পারে।
এজন্মের সব না পাওয়া পরের জন্মে পুষিয়ে যাবে।
পরের জন্ম সত্যি আছে!
তোকে পাবো আপন করে!
সত্যি আছে!
থাক বা না থাক ,আছে বলেই ধরে নিলাম।
সেই জন্মে তুই আর আমি সদ্য ফোঁটা কুঁড়ি হলাম।
আকাশ হলাম, নদী হলাম।
খর স্রোতে ভেসে গেলাম ।
সত্যি হবে এর সব গুলো, ভেবেই নিলাম।
পরজন্মে আমার প্রেমিক হবি এটা আমি ধরেই নিলাম।
বাড়ি হবে কাছাকাছি।
এক পাড়াতেই।
এক দুপুরে তোকে নিয়ে পালিয়ে যাবো।
যাবি কিন্তু আমার সাথে, কোনো প্রশ্ন না করে।
পরের জন্মে মেয়েই হবো,
তোর থেকে একটু বড়।
সব নিয়মই পাল্টে দেবো তোকে নিয়েই পালিয়ে যাবো।
যাবোই যাবো।
পরজন্মে এসব হবে?
তুই আমার প্রেমিক হবি ? এক পাড়াতে জন্ম হবে?
ইচ্ছা গুলো মনের মধ্যে এমনি ভাবেই ডানা পাবে?
…………………………………………..

কৃষ্ণকলি মেয়ে

চোখ দুটো তার টানা হলেও
গায়ের রংটি চাপা।
তাকে কেও বলেনি আজ ও সে কৃষ্ণকলি মেয়ে।
লেখেনি কেও কবিতা তার জন্যে একটিও
ভ্রূ টি তার ধনুক হলেও, গায়ের রংটি কালো।
বয়েস কচি নয়তো, ধাড়ি ই সবায় বলে
পাত্র সব দেখতে আসে, বলে বড্ড কালো মেয়ে ।

পাত্র গুলো বেজায় ভালো তুলনা তাদের নাই।
কেও মোটা, কেও খাটো কেও বা নিকষকালো।
পেটে কালির ছিঁটে নাই,তবু তারা পাত্র ভালো।
তাদের ফর্সা মেয়ে চাই।

কালো মেয়ে গুনের আধার, মিঠে গানের গলা।
লেখার হাতটি খাসা।
পড়াশোনায় তুখোড় বটে, সবার সেরা মাথা।
সব গুনই তার চাপা পড়ে গায়ের রং এর কাছে।
কালো মেয়ে জেদি বড়, তোয়াক্কা নেই তাতে।
এগিয়ে চলে কালো মেয়ে জীবন পথ বেয়ে।

মেয়ে আমার এগিয়ে যায় আগে পিছে গাড়ী।
আরদালি রা স্যালুট দেয় মেমসাহাব বলে।
পাত্ররা সব পড়িমরি যায় কালো মেয়ের বাড়ী।
ফিরিস্তি সব দিস্তা দিস্তা কে যে সবার চেয়ে ভালো।
কালো মেয়ে বলে তখন, এখনো আমি কালো।
কিন্তু তবু লাগছে না কাওকে আমার ভালো।
…………………………………………..

ডিওড্রেন্ট

খুব ভালো লেগেছিল গন্ধ টা
তোর গা থেকে আসছিল মিষ্টি ডিওড্রেন্ট এর গন্ধ।
ঝিম ধরা কেমন ভালোবাসা ভালোবাসা গন্ধ।
নামটা জানা হয়নি সেটার।
সময় বড় কম ছিল যে আর কথা অনেক বেশি।
অনেক কিছু জানতে ইচ্ছা করছিল ।
কিছুই তো জানা হলো না।
তুই যে টুকু বলেছিলি শুনেছিলাম শুধু ।
বুঝিনি মিথ্যা তা সবটাই।
আজ জানতে চাই খুব কি দরকার ছিল ওই মিথ্যার!
মিথ্যা জাল যে জড়িয়ে নেবে একদিন তোকেও ভেবেছিস সেটা।
সব মিথ্যা হলেও সত্যি ছিল তোর গায়ের ওই ডিওড্রেন্ট এর গন্ধ টা।
এখনো চোখ বুঝলেই পাই ওই ঝিম ধরা গন্ধ।
…………………………………………..

পরকীয়া

জানলাটা বন্ধই আষ্টেপৃষ্ঠে।
দরজাটার খিলও ছিল দেওয়া।
তবু ,তবু কেন এতো আকুলতা একখানি দখিনা বারান্দার।
শীতল হাওয়ার বুঝি খুব প্রয়োজন এ মরুর বুকে।
উষ্ণতার প্রয়োজন এক ফালি জলে ভেজা মেঘ।
এলো চুল চায় কোমল আঙুলের ছোঁয়া।
যে ছোঁয়ায় ধুয়ে যাবে রোঁয়া ওঠা অপ্রেমের গতনুগতিকতা।
…………………………………………..

পথ

একলা পথে হাঁটতে গিয়ে, ক্লান্ত হই যদি।
বাড়িয়ে দিয়ে কাঁধ, বলবি কি, একটু দাঁড়া।
মুছিয়ে দিয়ে ঘাম, জড়িয়ে ধরে বুকে,
বলবি কি, বস পাশে, হাঁটিস কেনো একা?
যদি বলিস, বসবো তোর পাশে,
রাখবো কাঁধে মাথা,এলিয়ে দিয়ে শরীর।
হাঁটবো না আর একা, ধরবো তোর হাত।
চলবো দুজনে, একই পথে, অনন্ত কাল ধরে।
…………………………………………..

গরম ভাতের গন্ধ

গরম ভাতের গন্ধ মাগো
বড়ই সন্দর রে মা,
অই সঁন্দা সঁন্দা গন্ধ।
তোরা সব পেম পিরিতের কবতে লিখিস
প্যাটের জ্বালা তো লাই রে।
কলমে তোদের পিরিত ঝরে
আমার ছিঁড়া ন্যাতা নাই রে।
পূজায় তোদের লতুন জামা।
আমার বাছার ছিঁড়া জামা সার রে।
ভাত নাইরে প্যাটে মোদের।
দুটা চালের ল্যাগা ঘুরিI
প্যালে দুমুঠ দুয়ারে ঘুরে।
তোদের অই কবতে দিয়া
আগুন জ্বালি।
পিরিত দিয়া চাল ফুটাইয়া
প্যাটের ভিতর পুরি।
…………………………………………..

পসরা

মনের মাঝে হাট বসেছে
যেমন খুশি পসরা সাজিয়ে গুছিয়ে বসার।
ইচ্ছা করে বেচে দিই সব যা কিছু ছিল একান্তই আমার।
আমার একান্ত সময় ,একান্ত মুহূর্ত ,একান্ত ভালোলাগা সব ,সব গুলোই বাজার দরে বেচে দি।
ভালোবাসা, যা ছিল এক কালে খুব খুব মহার্ঘ।
আজ তার কানা কড়ি দাম নেই।
শরীর, যা ছিল পুজোর অর্ঘ।
তা আজ বড়ই এক ঘেয়ে এক যান্ত্রিকতা।
মন, আজ মরা মাছের মতো ।
রক্ত হীন ,ফ্যাকাসে কনোকো যেমন।
এই মরা মন, শরীর, আর মরা মুহূর্ত গুলো জমিয়ে রেখে ভার বাড়িয়ে লাভ কি।
তার চেয়ে বরং এসো পসরা সাজাই ।
বিকিকিনির হাটে সুখ, দুঃখ , মুহূর্ত আর ভালোবাসা সব বেচে দি।
…………………………………………..

একাকীত্ব

একলা হোতে হোতে,
কখন যেনো একাকীত্ব টাই
অভ্যাস হয়ে গেছে।
আর ভয় পাই না অন্ধকারে।
আলোতেই কেমন
গা ছমছম করে এখন।
মনে হয় যদি দেখে ফেলি
নিজের ছায়া কে।
চিনে ফেলি যদি
অন্তঃসার শুন্য জীবন কে।
…………………………………………..

হঠাৎ বৃষ্টি

হঠাৎ করে বৃষ্টি এসে
ঝাপায় বুকের মাঝে
ভিজিয়ে দিয়ে যায় যে সে,
মাঝ দুপুরে এসে।

মন খারাপের জানলা গুলি,
দিলাম খুলে যেই
সেখান দিয়ে এলি ঢুকে,
মনের মাঝে তুই।

বৃষ্টি ভেজা সোঁদা গন্ধে
মন ভরেছে ওই।
ভালোবাসার গন্ধ আমি,
বুকের মাঝে বই।
তোরই বুকে আমি,
কেবল বৃষ্টি হয়ে রই।