উপস্থাপনা:
উপস্থাপনা একটি শিল্প। কেউ কেউ একটু আধটু উপস্থাপনা করতে করতে সময়ে বেশ দক্ষ হয়ে উঠেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দর্শক-শ্রোতাকে মুগ্ধ করে রাখতে পারেন। এটি কোনো মায়াজাল বিস্তারকারী ব্যাপার নয়। যে কেউ খুব সহজভাবে উপস্থাপনা করতে পারেন। দিনযাপনে যেমন স্বাভাবিকভাবে কথা বলেন ঠিক তেমনভাবে বেশ সহজে উপস্থাপনা চালিয়ে যেতে সক্ষম। সাধারণভাবে উপস্থাপনা হলো সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য সামনে রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো তথ্য বা অনুভূতির প্রকাশ। এই তথ্য বা অনুভূতি নানান মাধ্যমের হতে পারে এবং তা একটি ধারানুক্রমের নিয়ম অনুসরণ করে সম্পাদিত হয়।
এটি মৌখিক হতে পারে। দর্শনযোগ্য হতে পারে, যেখানে ছবি বা চিত্র বিশ্লেষণমূলক বর্ণনা থাকতে পারে। এছাড়া উপস্থাপনা হতে পারে, লিখিত, সংগীত, আবৃত্তি, অভিনয় অথবা সার্বিকভাবে অডিও-ভিজ্যুয়াল। উপস্থাপনা একইসঙ্গে শোনা ও দেখার বিষয় হলেও বেতারে শুধুমাত্র শোনার বিষয়টি থাকে। মঞ্চ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে আপনার সঙ্গে দর্শকশ্রোতার সরাসরি যোগাযোগ ঘটে। আপনি একটু সতর্ক দৃষ্টি রাখলে তাঁদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া খুব সহজে অনুধাবন করতে পারেন। তাদের ইতিবাচক অবস্থান আপনাকে উৎসাহিত করে তোলে। বিপরীত অবস্থান হতোদ্যম করে দেয়। সেক্ষেত্রে আপনার চলমান উপস্থাপনা আরও খারাব হয়ে যেতে বাধ্য। যারা শিল্পসাহিত্য, আবৃত্তি, সংগীত, অভিনয়, রাজনীতি এমন কি শিক্ষকতা বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের কোনো না কোনো সময় মঞ্চে উঠতে হয়। লাইমলাইটে দাঁড়াতে হয়। মাইক্রোফোনে কথা বলতে হয়। এই কথা বলা বা উপস্থাপনা যদি দর্শক-শ্রোতাকে আকৃষ্ট বা মুগ্ধ করে তাহলে তো সমস্যা নেই। কিন্তু একটু অমনোযোগ বা সামান্য অসতর্কতায় যদি দর্শক-শ্রোতা বিরক্তবোধ করেন তাহলে সকল প্রস্তুতি ও উদ্যোগ প- হতে বাধ্য। তাই উপস্থাপনার ক্ষেত্রে পূর্বপ্রস্তুতি নেয়া ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

উপস্থাপনার উদ্দেশ্য:
যেভাবেই বিশ্লেষণ করা যাক না কেন প্রতিটি উপস্থাপনার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। এগুলোকে এভাবে বলা যেতে পারে। ১. কোনো ঘটনা, গবেষণা, আবিষ্কার কিংবা অভিজ্ঞতা শেয়ার করা। ২. কোনোকিছুর সেবা প্রদান উপলক্ষ্যে অর্থাৎ সার্ভিস ডেলিভারির বিষয় প্রতিপাদন করা। ৩. কোনোকিছুর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা এবং একইসঙ্গে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা। ৪. কোনো পণ্য সম্পর্কে বিক্রয় ও সেবার উপর বিস্তারিত ধারনা প্রদান। ৫. কোনো সংঘ বা দল বা এজেন্সি বা দপ্তর সম্পর্কে প্রতিনিধিত্বমূলক বক্তব্য প্রদান। ৬. কোনো বিশেষ বিশ্বাস ও মনমানসিকতার বিষয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু বলা। ৭. কোনো বিশেষ দাবি, সমাধান প্রস্তাব, চিন্তা বা কাজের পথ নির্দেশনার জন্য বক্তব্য প্রদান এবং ৮. কোনো বিনোদনমূলক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মনোজ্ঞ উপস্থাপনা। অনেকের ক্ষেত্রে উপস্থাপনা করতে গেলে নার্ভাস হয়ে যাওয়া অথবা ভয় পাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। আর এই ভয় কাটানোর জন্য অনেকে অনেক কিছু করেন। একটু সতর্ক হলে এই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। উপস্থাপক হিসেবে সফল হতে হলে প্রয়োজন সঠিক প্রস্তুতি। আর এই প্রস্তুতি শুরু করতে পারেন এখন থেকেই। একটু একটু করে প্রস্তুতি নিলে আগামীতে হয়তো আপনি হবেন একজন সফল উপস্থাপক। একাগ্রচিত্তে চর্চা বা অনুশীলন আপনার ব্যক্তিগত যোগ্যতাকে উন্নত করবে। অনেকে আবার আরও একধাপ এগিয়ে উপস্থাপনার জন্য প্রস্তুতি হিসেবে শুদ্ধ উচ্চারণ এর কর্মশালা করেন। এতে উপস্থাপনার আরও সুন্দর হয়।

উপস্থাপনার বিভিন্ন দিক:
যে-কোনো উপস্থাপনার ক্ষেত্রে আয়োজনকারীকে কতগুলো বিষয় বিবেচনায় আনতে হয়। এগুলোকে পর্যায়ক্রমে এভাবে বলা যায় যে, উপস্থাপনাটি কেন বা কী জন্য নির্ধারণ করা হচ্ছে? সেটি কে বা কারা করবেন? উপস্থাপনাটি কাদের বা কোন লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর জন্য? কী বিষয়ে উপস্থাপনা? সেটি কোন সময়ে করা হবে? কোন স্থানে বা কোথায় এই আয়োজন? উপস্থাপনাটি কোন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের সামনে খুব সহজে একটি প্রেগ্রামের সার্বিক দিক দৃশ্যমান হয়ে উঠে। অনুষ্ঠানটির একটি নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করা থাকে যেমনভাবে কোথায় অর্থাৎ কোন ভেন্যুতে হবে সেটিও নির্ধারিত। অনুষ্ঠানটি কি সাধারণভাবে করা হবে নাকি কিছু অলংকরণ করা হবে? যেমন: ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড এফেক্ট, ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং অংশ্রগহণমূলক পদ্ধতি রাখা হবে কি না? বস্তুত একটি অনুষ্ঠান বা প্রোগ্রাম আয়োজন করার ক্ষেত্রে আয়োজকদের নিজস্ব মেধা পছন্দ-অপছন্দ, দক্ষতা ও দূরদৃষ্টি অনেক কাজ করতে পারে। দক্ষ আয়োজক বা উদ্যোক্তার জন্য যেমন একটি অনুষ্ঠান জনপ্রিয় হতে পারে তেমনভাবে একজন দক্ষ উপস্থাপকের মাধ্যমে দুর্বল অনুষ্ঠান বিশেষভাবে প্রশংসা কুড়িয়ে আনতে পারে ও জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

উপস্থাপনার প্রস্তুতি:
যে-কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে উপস্থাপকের পূর্বপ্রস্তুতি থাকে। এটি করা থাকলে উপস্থাপনার গুণে প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও সফল হয়। উপস্থাপনার সাতদিক বিবেচনায় এনে আমরা যদি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি একটু দৃষ্টি দিই তাহলে উপস্থাপনা সাবলীল হবে এবং যে-কোনো ভঙ্গুরতা এড়ানো সম্ভব। যেমন:
১. নিজের পোশাক ও অন্যান্য বিষয়গুলোর প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। কোন ধরনের পোশাক পরবেন, আপনার হাঁটাচলা, নড়াচড়া, কথা বলা সবকিছুতে স্বাচ্ছন্দ্য আছে কি না পরখ করুন। গলা শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে পানি খেয়ে নিন। অহেতুক উষ্ণতা বা গরমবোধ যাতে না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিন। উত্তেজক খাদ্য পরিহার করুন। অতিরিক্ত মেকআপ না নেয়া সবচেয়ে ভালো। আত্মবিশ্বাসী থাকুন। তবে কখনো জ্ঞানীর ভূমিকা নিতে যাবেন না।
২. যে বিষয়ে উপস্থাপনা করবেন সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নিন। যদি অতিরিক্ত গবেষণার আবশ্যক হয় তা সম্পন্ন করুন। সময় সম্পর্কে সচেতন থাকুন অর্থাৎ কতটুকু সময় ধরে কথা বলা দরকার তা ঠিক করুন। এই উপস্থাপনার মাধ্যমে আপনি কি একটি অথবা তারও বেশি বার্তা পৌঁছুতে আগ্রহী?
৩. কারা এই অনুষ্ঠানের দর্শক শ্রোতা হয়ে এসেছেন? কী জন্য এবং কিসের আগ্রহে তাঁরা এসেছেন? সংখ্যায় তাঁরা কত হতে পারে? তাঁরা কি আপনার ভাষা ও কথা সহজভাবে বুঝতে পারেন অর্থাৎ আপনি কি তাঁদের কাছে আপনার বক্তব্য সঠিকভাবে নিয়ে যেতে সক্ষম?
৪. প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠানটি কোথায় আয়োজিত হচ্ছে? সেখানের আসন ব্যবস্থা ও মঞ্চ কেমন? দর্শক-শ্রোতাদের প্রতি আপনার বক্তব্য সঠিকভাবে পৌঁছুনোর সুব্যবস্থা আছে কি না? বিদ্যুৎ ও আনুষঙ্গিক সহযোগুলো আছে কি না? উপস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যমগুলো সচল বা কর্যকর আছে কি? প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠান ঘোষিত সময়ে আয়োজন করা গেলে দর্শক-শ্রোতাকে বিরক্তির হাত থেকে রক্ষা করে যা একজন উপস্থাপকের জন্য একটি ইতিবাচক সুবিধা।
৫. অনুষ্ঠানের সঙ্গে আপনার উপস্থাপনার বিষয়টি মানানসই আছে কি এবং কিভাবে তা ভেবে দেখা দরকার। দর্শক-শ্রোতা যাতে ক্লান্তিবোধ না করেন তা দৃষ্টিতে রাখা। যদি তেমন হয়ে থাকে তাহলে তাঁদের উজ্জীবিত করার জন্য অনুষ্ঠানের সঙ্গে মিলে যায় এমন বিকল্প উপস্থাপনার প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।
৬. কিভাবে উপস্থাপনা করছেন? মাইক্রোফোনে? কোনো ওভারহেড প্রজেক্টর বা অন্যকোনো অডিও-ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করে থাকলে আগে থেকে তার অপারটিং পদ্ধতি শিখে রাখুন।
৭. দর্শক-শ্রোতাদের কাছ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করছেন তার একটি আনুমানিক চিত্র মনে মনে আঁকতে পারেন। অথবা তাঁদের মাঝে যে প্রতিক্রিয়া তৈরিতে উপস্থাপনা করছেন তা অনুমান করুন ও উদ্বুদ্ধ হোন। এছাড়াও রয়েছে;

বিষয়বস্তু সম্বন্ধে ধারণা:
কোন বিষয় সম্বন্ধে ধারণা না থাকলে উপস্থাপনা করা খুবই কঠিন হয়ে পরে। যে বিষয়ে উপস্থাপনা করতে হবে সে বিষয়ের দরকারি সব তথ্যই সংগ্রহ করতে হবে। আরোহিত জ্ঞান যদি ১০০ ভাগ হয় তাহলে তার থেকে হয়তো ২০-৩০ ভাগ উপস্থাপন করতে হবে। কম তথ্য আরোহণ করলে উপস্থাপনার ক্ষেত্রে হয়তো প্রয়োজনীয় তথ্যটি সরবরাহ করা যাবেনা। ফলে উপস্থাপনা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

বলা বা বক্তব্য উপস্থাপন:
বিষয়বস্তু সম্বন্ধে ধারনাতো তৈরি হল। এবার কাজটি হল তা দর্শক-শ্রোতার সামনে যথাযথ ভাবে উপস্থাপন করা। এই কাজটি সুচারুরূপে করতে পারলে উপস্থাপনা অনেক অংশে সার্থক হবে। মনে রাখতে হবে বক্তব্য কোনক্রমেই যেন বিষয়ের বাইরে না চলে যায়। আর যা বলা হবে তা যেন শ্রোতার কাছে বোধগম্য হয়। কোন ক্রমেই যেন তা শ্রোতার বিরক্তির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। উপস্থাপনের জন্য কয়েকটি বিষয় আয়ত্তে আনা জরুরী: ক. শুদ্ধ উচ্চারণ, খ. উচ্চারণে স্পষ্টতা, গ. কণ্ঠস্বরের স্তর নির্ণয়, ঘ. স্বরের ওঠানামা, ঙ. আবেগ, চ. ছন্দ, এবং ছ. গতি।

অঙ্গভঙ্গি:
উপস্থাপনার ক্ষেত্রে অঙ্গভঙ্গি ২০-৩০ ভাগ ভূমিকা রাখে। বক্তব্যের সাথে সঠিক অঙ্গভঙ্গি উপস্থাপনার একটি অংশ।

উপস্থিত জ্ঞান:
উপস্থাপনার ক্ষেত্রে উপস্থিত জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপস্থিত জ্ঞান দ্বারা উপস্থাপনার সময় ঘটে যাওয়া যে কোন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা সহজেই এড়ানো যায়। ধরা যাক, কারো উপর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি দেখলেন অনুষ্ঠান সূচি অনুযায়ী যার পারফর্ম করার কথা তিনি আসতে দেরি করছেন। তখন উপস্থাপক কে উপস্থিত জ্ঞান দ্বারা তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সাধারণ জ্ঞান:
সাধারণ জ্ঞান নামে সাধারণ হলেও কার্যক্ষেত্রে তা অসাধারণ। জীবনের প্রতিটি মূহুর্তে এর প্রয়োজনীয়তা লক্ষণীয়। সাধারণ জ্ঞানের কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। সাধারণ জ্ঞান যে কোন বিষয়ের হতে পারে। এর জন্য নিয়মিত চর্চা করে সাধারণ জ্ঞানের ভা-ার বৃদ্ধি করতে হবে। রাতারাতি সাধারণ জ্ঞানের ভা-ার বৃদ্ধির কোন উপায় নেই। এর জন্য দরকার কঠোর অধ্যবসায়। মূলত যিনি উপস্থাপনা করবেন তাকে সবদিক থেকে চিন্তা করে সাবলীল হতে হবে। নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আনতে হবে। মঞ্চে এমনভাবে দাঁড়ানো যাবে না যাতে আপনাকে বোকা বোকা লাগে আবার খুব বেশি অহংকারি মনে হয়। সাধারণত উপস্থাপনার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয় যে, মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ শোনা যাচ্ছে, নিজেকে বোকা দেখাচ্ছে বলে ধারনা হতে থাকে, অহেতুক তাড়াহুড়োভাব এবং ভুল হয়ে যায়। সর্বোপরি দর্শকশ্রোতা বিরক্তবোধ করছেন বলে মনে হতে থাকে। সেক্ষেত্রে আপনি নিজের জন্য আত্মবিশ্বাস ফেরাতে এই ব্যবস্থা নিতে পারেন: ১. আপনি যোগ্য এবং দক্ষ বলে উপস্থাপনার কাজটি করতে এসাইন্ড হয়েছেন। ২. দর্শক-শ্রোতা আপনার কথা শুনতে আগ্রহী। ৩. তাঁদের মধ্যে আপনার চেয়ে অনেক জ্ঞানী ও দক্ষ ব্যক্তি থাকলেও আজ তাঁরা আপনার পক্ষে আছেন। ৪. কোনো বিষয়ে মতদ্বৈততার মানে এই নয় যে, তাঁরা আপনাকে আক্রমণ করছেন।

যা করণীয়:
১. মঞ্চে উঠে সবচেয়ে আগেই দর্শকশ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে খুব আন্তরিকতার সঙ্গে প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠানের বিষয়ে দু’টো কথা বলবেন।
২. যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী এবং ইতিবাচক মনোভঙ্গীর প্রকাশ করবেন।
৩. শুরু করার আগেই মনে মনে একটি ধারানুক্রম সাজিয়ে নিন যে, কী কী বিষয় এবং কখন কখন বলবেন।
৪. মূল অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ সময়ের কতটুকু অংশে নিজের উপস্থাপনা রাখবেন তা পরিমাপ করে নিন।

যা করবেন না:
১. কখনো ওজর তুলবেন না। দুঃখ প্রকাশ করবেন না। কিংবা নিজের দুর্বলতা বা সবলতা সম্পর্কে বলবেন না। নিজেকে হাস্যকর রূপে হাজির করবেন না।
২. এলোমেলো এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে কথা বলবেন না।
৩. দর্শক-শ্রোতাদের প্রতি কোনো অভিযোগ করবেন না। তাঁদের কোনো কৃত কাজের উল্লেখ করবেন না।
৪. সমাজে বলা অসঙ্গত এমন কৌতুক বা উপকরণ পরিবেশন করবেন না।
৫. এভাবে উপস্থাপনা শুরু করবেন না যে, ‘প্রিয় দর্শক-শ্রোতা এবার আমি আপনাদের সে বিষয়টি বলতে যাচ্ছি যা আমাকে বলতে বলা হয়েছে যে,… ইত্যাদি ইত্যাদি।’
৬. এমন ভাব নেবেন না যাতে বোঝানো হয় যে, আপনি সবকিছু জানেন। এমন কি যে-কোনো যুক্তিতর্কে আপনি অবশ্যই বিজয়ী হবেন।
৭. দর্শকের সারিতে থাকা সুধিসমাজের প্রতি কোনো প্রশ্ন বা উক্তি ছুঁড়ে দেবেন না যা অত্যন্ত বিব্রতকর ও বিরক্তিকর।

যবনিকা:
সুন্দর উপস্থাপনার জন্য যেসকল বিষয়ের উপর নজর দেয়া উচিৎ। আমরা কমবেশি সকলেই উপস্থাপন এর সাথে জড়িত কোন অনুষ্ঠান একজন উপস্থাপকের কারনেই হয়ে উঠে প্রাঞ্জল এবং মুখরিত । ছোটবেলা থেকেই উপস্থাপনা ব্যপারটাকে খুব পছন্দ করতাম। স্কুল-কলেজ এ পড়ার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করে খুব ভাল লাগত। এখন অবশ্য সেটা আমার ছোটবোন করে, যাই হোক আজ এই বিষয়ে আমার কিছু টিপস জানিয়ে দিতে এলাম। অনেকদিন ধরেই বিষয়টা নিয়ে লিখব লিখব করছিলাম কিন্তু সময়ের অভাবে করে উঠতে পারিনি । চলুন মূল আলোচনায় যাওয়া যাক:

১। সুন্দর বাচনভঙ্গি (সুন্দর করে কথা বলার ক্ষমতা)
২। শুদ্ধ উচ্চারণ
৩। যথাসম্ভব গুরুচ-ালী ভাষা পরিহারের চেষ্টা করুন।
৪। কথা বলার সময় মাইক্রোফোন মুখ থেকে সামান্য দূরে রাখুন। কখনই মুখের সাথে মাইক্রোফোন লাগিয়ে কথা বলবেন না এতে কথা স্পষ্ট না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৫। কখনও মাইক্রোফোনে ভারী নিঃশ্বাস ফেলবেন না।
৬। স্টেজে যথাসম্ভব হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন।
৭। মুখে হাত দেয়া, ঘনঘন নিঃশ্বাস ফেলা, নাক চুলকানো, ভয় পাওয়া এধরনের অভ্যাস থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন ।
৮। মাইক্রোফোন হাতে স্টেজে অবস্থান করলে সাধারণভাবে দাঁড়ানো অবস্থায় থাকুন ও সঠিকভাবে মাইক্রোফোন ধরুন।
৯। কখনও ব্যান্ডের ভোকালিস্টদের মত করে মাইক্রোফোন ধরবেন না এবং সেই স্টাইলে কথা বলবেন না ।
১০। সর্বোপরি প্রয়োজনের সময় স্ক্রীপ্ট এর বাইরে কথা বলার প্রয়োজন হলে তা গুছিয়ে উপস্থাপনের চেষ্টা করুন। (অনেক সময় এধরনের সমস্যায় পড়তে হয় তাই আগে থেকে সাবধানতা অবলম্বন করুন)
সার্বিকভাবে বলা যায় যে, উপস্থাপনার বিষয়টি চমৎকার এবং উপভোগ্য। শুধু একটু সতর্ক প্রস্তুতি ও নিয়ম রক্ষা করলে যে-কেউ একজন সফল ও জনপ্রিয় উপস্থাপক হতে পারেন।