প্রকৃতি

সবুজের পাকস্থলিতে একটি ক্ষত
মহাবিশ্বের সেরা হাসপাতালে ভর্তি।
কুঠারের ধার ক্ষয়ে ক্ষয়ে
অপরূপ প্রকৃতির ক্ষত চিহ্ন এঁকে দিয়েছে ।
প্রতিদিন পোড়া কাঠের মুখোশ পড়ে
নিশ্বাস আসা যাওয়া করে
আর আগুনের আত্মস্বর হয় কাঁপা
ভারী হয়ে ওঠে বিপন্নতা
আমি অপেক্ষা করছি সেই প্রকৃতির
যে কোনো একদিন
আধুনিকতার চৌবাচ্চায় স্নান করবে ।
……………………………………………

মৃত্যু

শক্ত এবং মজবুত সারা শরীর
বিদ্যুৎ কেন্দ্রেরর মত
জীবনের দৌড় কতদূর?
জন্ম থেকে মরণ পয্যন্ত।
কিছু সময় আগে ছিল যুবক
যখন সে তার ক্ষমতা বিস্তার করেছিল
আজ রাতে জীবন
মাটি থেকে আকাশে
এটি একটি সার্কাশ মাত্র
যদিও কোনো ক্ষমতা ছিলো না আটকাবার—
কেউ ফিরে আসতে পারেনি
মৃত্যু সব ক্ষমতার ইতি টানে
……………………………………………

যুদ্ধ থামা

শান্তি যারা চাই না দেশে
অস্ত্র দিয়ে কলজে পেশে
বৃদ্ধ থেকে কতো অনাথ শিশু
রক্তচোখে হিংসা শুধুই দেখে।
শান্তি কী সে চাইনা মোটে
শান্তি বাণী নাই যে ঠোঁটে
পিশাচ ওরা নাই যে তাদের লাজ
কেন নিত্য দিনে এত মৃত্যু ঘটে?
আজ রক্ত শুষে নিচ্ছে তারা
ছুটছে তাদের অস্ত্র ঘোড়া
চলছে নাকি ধর্ম নিয়ে রাজ
তাই দেখে কেউ হচ্ছে আত্মহারা!
যারা শান্তিবাদী নীরব হয়ে গেছে
ওরা ছুঁড়ছে বোমা মানুষ বেছে বেছে
ওরা হিংস্র হলো ক্ষিপ্ত পশুর মত
প্রতিবাদ কেউ করছে মিছে মিছে।
……………………………………………

শিক্ষা পোড়া

পোড়া গন্ধ। পড়ার জন্য
আর কাটেনা ঘুম ক্লাসশুদ্ধ
বধ করতে এসেছে কংস যেন
হতে যাচ্ছে আগামীর পথরুদ্ধ।
খোলামেলা কোনো নেই তবু
রোগ, যা ছিল গেছে চলে
শঙ্কাটা নেই আর কোনো
শুধু সংকট রয়েছে পাঠ কলে।
জানেনা ওরা শিশু ছাত্র
চাইনা পড়া হোক জ্ঞ্যানি হোক
প্রগতির পথ হোক সুগম,
চাই শুধু সব কিছু বিনোদন হোক।
পোড়া গন্ধ নাকে একটা
পুড়ছে শিক্ষা, পোড়ার গন্ধ বটে
উদোম করছে যেনো বস্ত্র সব
শিক্ষার নৈতিকতা বাড়ছে না মোটে।
……………………………………………

অনুভূতি

নদীর স্রোতের টান
ফসল কাটা বদ্ধ ভুমির টান
জেগে ওঠা স্বপ্ন !
আকাশে সবুজ আলো
নিভৃতে কেঁদেছিল।
রুগ্ন হাতটি বাড়িয়েছিল।
ফাগুনের প্রথম হাসি,
কড়া রোদ্দুর
সুন্দর কোনো নদীর
ধীর-স্থিরতা!
কাক ডেকেছিল…
একফালি আকাশের মেঘ
হেমন্তের পেঁজা তুলো হয়ে ওড়েছিল।
একটুখানি আলো
ছুরি বিদ্ধ হৃদয়কে করেছিল উজ্জ্বল!
……………………………………………

দিয়েন বিয়েন ফু

এখানে ভয়ঙ্কর হত্যালিলার
ইতিহাস কথা বলে এখনো
শতাধিক মানুষের বাসস্থান পোড়া গন্ধ নাকে এসে লাগে এখনো
তাদের দাদু পিতার বেঁচে থাকার লড়াই ছিল
দ্বিমেরুর নির্লজ্জতা।
হাসি তখন ঝড়ের গতিতে উড়ে যেত।
শুধু কান্নার সুরে সুরে তার মাটি ভরাট হত
প্রাণের দাবি ছিল এক মুঠো অন্ন
আর আশ্রয়
হোচিমিন যখন কান্ডারী হলো
পাশ্চাত্যের গালে কষে থাপ্পড় দিয়ে
অন্নের সন্ধান করেছিল ।
সর্বপরি;
দিয়েন-বিয়েন-ফু”র কান্না মুছে ফেলা হয়।
……………………………………………

যেতে যেতে

যেতে যেতে পায়ে কত কাটা ফুড়লো?
মাটি ফেড়ে জোক?
তীক্ষ্ণ তীরের ফলায় বিদীর্ণ হল পিঠ
তবুও পিছু পা হইনি!
নিভৃতে একাকী হেঁটে যাই
এক হাত বুকে
আরেক হাতের মুঠোই ঐশী বাণী!
দুর্গম পথ প্রশস্ত করে দিল।
আমি দেখি,
চাঁদটি আকাশের ডানায় ঝাঁপটাই
অসুন্দর হল
আবার ডানা ঝাপটালো
আবার রূপসী হল
যেতে যেতে পথ ছোট হল
স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে একটি জয়ধ্বনি!
……………………………………………

সুখ

দুপুর গড়িয়ে আশ্বিন বেলা
মিলেনা কিছুতো নয়নে!
আমারও হৃদয়ে চুমেচি আকাশ
দেখেছি অবাক শয়নে।
মানুষর তানে কল্লোল পৃথিবী
মিঠা রোদে পুড়ে পিঠ
কাহারো প্রাণেতে দুঃখের ঢাক
অবিরাম চোষে কীট ।
আদর স্নেহ তে পুষিনু পাখি
খাচার ভেতর রেখে
চিড় ধরিয়ে উড়িয়া পালাল
আদর স্নেহ মেখে।
দূর্বার হয়ে ছুটিলাম কত
পাইনা ছুঁতে তাহারে
আষাঢ়ে ভাদরে নানা মাস ধরে
দিয়েছিনু সুখ যাহারে ।
……………………………………………

ভেতর থেকে

তুমি জানো বন্ধু,
একবার মনে করি গ্রীষ্ম
একবার হিমালয়!
চৈত্রের পেঁজা তুলো
তোমার চোখের আড়ালে
বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
রৌদ্রদগ্ধ এই চোখ
মরুভূমির রুগ্ন চেহারা দেখে
সিন্ধুর পরিবার উদ্বিগ্ন।
অন্তরে পরিখা খাদ,
এর ভেতর থেকে তুমি
একজন নিত্যযাত্রী।।
……………………………………………

এই দৌঁড় সবচেয়ে ভয়ানক খেলা

প্রতিদিন যাওয়া আসা করে একটি পাখি
প্রাণের বাঁশি বাজিয়ে গান গায়
মোহ আর দুখ নাড়ে কড়া
আমি চিরন্তন এই পৃথিবীর স্বাদ পেয়ে গেছি।
সবুজ মাটি ভরাট হলো উষ্ণতায়
লাল নিয়ে প্রতিদিন হয় তরজা।
দৌঁড় থেকে শোনা যাচ্ছে কত মৃত্যু
সরব হয়ে উঠছে সবুজ মাটি।
জীবন নির্জনতার পাশে আছে
শত-সহস্র কাঁটায় ক্রুদ্ধ হয়ে আছে।
লালসার মিশ্রণে কখনো বেঁচে থাকা যায় না
কেননা এই জীবন পিপাসার্ত চাতক।
আমি তোমার পিছনে ছুটছি শত সহস্র যুগ ধরে,
এই দৌঁড় সব চেয়ে ভয়ানক খেলা।