নেংটি ইঁদুর ভেংটি ইঁদুর

নেংটি ইঁদুর ভেংটি ইঁদুর
হাজার ইঁদুর আজ
যুদ্ধে যাবে তাইতো তাদের
যুদ্ধ যুদ্ধ সাজ।
মারবে বিড়াল মারবে বানর
মারবে রে বাঘ হাতি
তাইতো তারা এক হয়েছে
তাদের সব জ্ঞাতী।
হঠাৎ করে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ
ডাকল ডুবায় ব্যাঙ
ভয় পেয়ে সব পালিয়ে গেল
ইঁদুর সেনার গ্যাঙ।
…………………………………………..

বুদ্ধি

শিয়াল বলে মোরগ ভাইয়া
যাচ্ছো কোথায় চলে
কাছে এসো গল্প করি
আসো দুজন মিলে।
পাকা গমের পাক্কা খবর আছে আমার কাছে
মোরগ বলে শোনব কথা থাকব যখন গাছে।

বাঘে ডাকে মিষ্টি করে
ওরে হরিণ ছানা
কোথায় সবুজ ঘাস আছে তা
আমার আছে জানা।
চল চল আমার সাথে খাবে পেটটি ভরে
হরিণ বলে না ভাই সরি যেতে হবে দূরে।

সাপে ডাকে আদর করে
ওরে ইঁদুর সোনা
পেয়ে গেছো ভাগ্যগুনে
মজার খানা পিনা।
এই যে দেখ দাঁতের ফাঁকে ধান গিয়েছে ঢুকে
ইঁদুর বলে কল করেছি বেজি ডাক্তারটাকে।
…………………………………………..

চাঁদের বুড়ি

চাঁদের বুড়ি চাঁদের বুড়ি
আমার পানে চাও
হাতের কাঁথা রঙিন সূতা
আমায় দিয়ে দাও।
বদলেতে দেব তোমায়
শাপলা শালুক তুলে
মালা গেঁথে দেব তোমায়
সাদা শিউলি ফুলে।
তাও দেবে না ? তবে দেব
প্রিয় পুতুল খানা।
এবার ওগো লক্ষী সোনা
এবার না বল না।
কী বললে! কি চাও তুমি ?
লাল সবুজ পাতাকা?
খামোশ বুড়ি বাদরমুখি
ওরে ডাইনি বুড়ি বোকা
জা-ন- না তুমি ?
এই পতাকায় লক্ষ রক্ত মাখা।
…………………………………………..

ধর্মশালা

গির্জায় বসে পাদ্রী করে
ঈশ^রের প্রার্থনা।
মন্দিরেতে পুরোহিত করে
ভগবানের আরাধনা।
মসজিদে বসে মৌলভি সাব
খোদার দিদার চাই ।
বৌদ্ধ ভিক্ষু ধ্যান করে
বসে প্যাগডায়।
যিষ্ণুর হাতে ছিল বাইবেল
মোহাম্মদের আল কুরআন
ত্রিপিটক ছিল বুদ্ধের হাতে
কৃষ্ণের ছিল বেদ পুরান।
…………………………………………..

বৃষ্টি

বৃষ্টি পড়ে ঝম ঝমা ঝম
মানের পাতার পরে
বৃষ্টি পড়ে রিম ঝিম ঝিম
লাল পিঁপড়ার ঘরে।
বৃষ্টি পড়ে টুপ টুপা টুপ
কদম ফুলে ফুলে।
বৃষ্টি পড়ে বন বাদাড়ে
শিয়াল মামার চুলে।
…………………………………………..

হরিণ ছানা

একদিন এক হরিণ ছানা
বাঘের তাড়া খেয়ে;
আশ্রয় নিল সন্নিকটে
বন্য কুকুর পেয়ে ।
কুকুর বলে আমার কাছে
ভয়ের কিছু নাই
মনে মনে বলে পরে
খাব যে তোমায়।
শাবক সব বুঝতে পেরে
মরণ দৌড় দিল
বন্য কুকুর ধরবে বলে
পিছু পিছু গেল।
বুঝল হরিণ সবার কাছে
দুঃখ বলতে নেই
দুষ্ট যারা থাকে তারা
দুঃখের সুযোগেই।
…………………………………………..

ঝড়

উড়ছে ঘুড়ি উড়ছে পাখি
উড়ছে কালো মেঘ;
গরু ছাগল চরছে মাঠে
কৃষানীর উদ্বেগ।
ঝড়ো হাওয়ায় বেণু ঝাড়ে
কুর্নিশ করে মাটি,
শীতল হাওয়ায় শিশু কিশোর
করছে ছুটাছুটি।
আম পড়েছে আম পড়েছে
ছুটছে আমের পিছে
দৌড়ে এসে পড়ে একজন
আরেক জনের নিচে।
এই পেয়েছি এই ধরেছি
অর্ধ খাওয়া আম
ধুত্তোরি ঐ বাদুরমুখি
কাঠবিড়ালীর কাম।
…………………………………………..

সাঝের গাঁ

ঠ্যালাজাল কাঁধে জেলে
চলে হেলে দুলে
জলে ঝপ ঝপা ঝপ
পা ফেলে ফেলে।
মেঘে মেঘে চাঁদ মেয়ে
ঢেকে ঢেকে যায়
হাসি হাসি মুখে মুখে
ফিরে ফিরে চায়।
বাদুরেরা ঝুলে ঝুলে
আছে ডালে ডালে
গাছে গাছে ফল খায়
পাখা মেলে মেলে।
পুঁই পুঁই করে উঁই
উড়ে উড়ে যায়
কালো কালো ফিঙ্গেরা
ধরে ধরে খায়।
…………………………………………..

শিয়াল

শিয়াল বলে আমায় যদি
বানাও বনের রাজা
পরম সুখে ঘুমিয়ে রবে
বনের সকল প্রজা।
শিয়াল বসেই সিংহাসনে
মুচকি মুচকি হাসে
তোদের খাব শাস্তি দেব
বিনা কারণ দোষে।
বন্যপ্রাণী যায় মারা যায়
যায় না কারণ বুঝা
শিয়াল বলে সবকিছুই তো
জলের মত সোজা।
প্রজা বলে রাজা মশাই
বলেছিলেন আমরা সবাই
সুখে ঘুমিয়ে রবো।
রাজা বলে মরা যারা
গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে তারা
চেতন কি তাদের কব ?
…………………………………………..

লড়াই

সাপে আর নেউলে চলছে লড়াই
গর্তের সোনালী ব্যাঙ নাকটা বাড়াই
ইঁদুর চেঁচিয়ে বলে ধানের ক্ষেতে
সাপ যেন নাহি পারে পালিয়ে যেতে
মুরগীর ছানারা কেঁদে কেঁদে কয়
ছোবল দাও বারংবার নেউলের গায়
সাপ ধরা চিলেরা আকাশেতে ভাসছে
কুকুরের দলবল এই দিকেই আসছে
সাপে আর নেউলে বিবাদ ভুলে
চোখের পলকে গেল বাড়ীতে চলে ।