দুঃখের পিঞ্জর

যখন তুমি এসেছিলে ভব
আমার হৃদয়ে-ওরে!
ভালোবাসা নিয়ে থাকবো দু’জন
জীবনের খেলা ঘরে।

মোরা থেকেছি দু’জন মিলেমিশে
সুখে দুঃখে একসাথে,
রঙ্গীন স্বপ্ন নিয়ে হেঁটেছি দু’জন
আঁকাবাঁকা রাজ পথে।

হায়-রে, হঠাৎ করে আসলো নেমে
দুঃস্বপ্ন শোকের ছায়া!
হারিয়ে গেলো মোর সুখের পাখি
থাকলো পড়ে মায়া!

বহুদিন ধরে দেখিনা তোমায়
চলে গেছো অন্তহীন!
ওরে-দুঃখ কষ্টে নয়ন আমার
কেঁদে কেঁদে অশ্রুহীন!

হায়-রে, আর কতকাল সইব আমি
বিষন্নতায় রাত্রি দিন!
ওরে-কষ্টে আমার জীবন তরি
বক্ষে বাজে ব্যথার বিন!

দোয়া করি প্রভু তোমার কাছে
ভালো রেখো সীমাহীন!
প্রভু আমায় তুমি ধৈর্য দিও
চাইনা কোন পাপের ঋন।
……………………………………………

সময়ের কাজ

সময়ের মূল্য যারা
দেয়-না খনে,
কখনো শান্তি তাঁরা
পায়-না মনে!

হতাশার গ্লানি নিয়ে
কেটে যায় দিন,
জীবনে বাজে শুধু
বিষাদের বীন!

সময়ের মুল্য তুমি
বুঝবে যখন,
সফলতা লাভ তুমি
করবে তখন।

সময়ের কাজ কখনো
অবজ্ঞা নয়,
সময় কে ফাঁকি দিলে
পস্তাতে হয়!
……………………………………………

মানুষ

কিসের আশায় ঘুরছো মানুষ
শূন্য হাওয়ায় বসে,
পরের বাসায় থাকছো মানুষ
দেখছো হিসেব কশে।

একটু খানি ভাবছ তুমি
আসছ তুমি মিছে?
এমনি করে ঘুরছ মানুষ?
এই দুনিয়ার পিছে।

রাজার রাজ্য করছো শাসন
একটুও কি ভেবে?
কখন তোমার রাজ্য শাসন
হঠাৎ কেড়ে নেবে।

রাজার নীতি ভঙ্গ করে
গড়ছ জীবদ্দশা,
থমকে যাবে রাজ্য প্রাসাদ
পণ্ড হবে আসা।

টাকার পিছে ছুটছ তুমি
নেইত কোন দিশা?
গড়তে হবে টাকার পাহাড়
এইত শুধু নিশা।

দিন দুনিয়ার মোহে পরে
সবই গেছ ভুলে,
মরন তোমার আসবে যেদিন
তোমায় নিবে তুলে।

ইহকালের জন্য মানুষ
ভাবছো অনেক কিছু!
পরকালের জন্য মানুষ
করছ আমল কিছু?
……………………………………………

বসন্তের আগমন

বসন্তের ওই বার্তা নিয়ে
ফাগুন এলো মাঝে,
থোকায় থোকায় ফুলের ছড়া
নতুন করে সাজে।

মৌ-মাছিরা ফুলের মধু
নিচ্ছে সুরের তালে,
ডাকছে কোকিল কুহু কুহু
কৃষ্ণচূড়ার ডালে।

ফুটলো আবার পলাশ টগর
জুঁই বকুল গন্ধরাজ,
পুষ্পফুলের মিলন মেলা
বসন্ত ঋতুরাজ।

আরও আছে শিউলি শিমুল
দেখ মাধবীলতা,
কাঁঠালচাঁপার মিষ্টি সুবাস
হলদে কনকচাঁপা।

হরেক রকম ফুলের সাজে
হৃদ্য করে প্রাণে,
মুগ্ধ করে হৃদয় আমার
মিষ্টি ফুলের ঘ্রানে।

এইসব কিছু কে দিয়েছেন
ভাবছো কি কেই কভ?
নিখুঁত নিপুণ সৃষ্টি তোমার
অদৃশ্য এক প্রভু।
……………………………………………

নতুন বছরের আগমন

নতুন বছর আসছে আবার
ফুটবে হাসি কাটবে আধার,
একুশ এলো নতুন সবার
নতুন করে সপ্ন ভাবার।

অতীত কথা সব ভুলে যাও
ভুল গুলি সব শুধরিয়ে নাও,
প্রভুর কাছে মাফ চেয়ে নাও
পাপ গুলো সব দুর করে যাও।

সামনে কভু ভুল করোনা
পরকালে কূল পাবেনা,
সত্য পথে ভয় পেওনা
পাপের কাজে আর যেওনা।

সময় থাকতে জীবন গড়ি
চলছে তোমার জীবন ঘড়ি,
পরকালের সব চিন্তা ধরি
মোরা নতুন বছর শুরু করি।
……………………………………………

ফজরের ডাক

সুবহে সাদিক বলছে ডেকে
উঠো মুমিন ভাই,
অজু করে কাপড় পড়ে
মসজিদে চল যাই।

ফজর নামাজ পড়লে মুমিন
মন থাকে বেশ ভালো,
রোগজীবাণু দুর করে সব
হৃদয় করে আলো।

মুনাফিকের জন্য ফজর
বড় কষ্টকর,
মুমিনের ওই জন্য ফজর
বেশ প্রশান্তিকর।

ফজর নামাজ খোদার হুকুম
ছাড়বো নাকো কভু,
আল-কুরআনে নিষেধ করে
বলছে মোদের প্রভু।
……………………………………………

হঠাৎ মরনের ডাক

আলো আর আঁধারের
যত সব খেলা,
চক্ষু দিয়ে দেখি সবে
দু’দিনের মেলা।

তোমাদের মাঝে আজ
আমিও আছি,
হঠাৎ শুনবে কখন
চলেও গেছি।

তোমাদের ছেড়ে যেদিন
চলে যেতে হবে!
অতীতের কথা গুলি
শুধু পরে রবে।

ভুল গুলো যত আছে
ধরনা কভু,
পাপ গুলো ক্ষমা করে
দিওগো প্রভু।
……………………………………………

স্বাধীন দেশ

মোরা লক্ষ প্রানের বিনিময়ে
পেয়েছি স্বাধীন এই দেশ,
লাল সবুজের উড়ছে নিশান
দেখ বিজয়ের সেই বেশ।

বিজয় ছিনিয়ে ঠিক এনেছি মোরা
মোদের হয়নি সেই বিজয়,
মুক্ত বাতাসে প্রান ওজার করে
হাসতে পারেনা এই হৃদয়।

নয় মাস যুদ্ধ করেও
এখনো পাইনি সেই জয়,
বিজয় ছিনিয়ে এনেছি মোরা
তবুও কাটেনি সেই ভয়।

রক্ত দিয়েছি মোরা
তবুও কাটেনি রক্তের সেই রেশ,
বাকশক্তি রুদ্ধ করে
মোদের চলছে স্বাধীন এই দেশ।
……………………………………………

কুরবানির ঈদ

হাম্বা-হাম্বা বলে গরু
এসে বলছে ভাই,
ঈদের কিন্তু বাকি আছে,
আর কয়েকদিন তাই।

ধনি গরিব নেই ভেদাভেদ
সব মুসলমান ভাই,
ঈদের নামাজ এক কাতারে
পড়তে সবাই যাই।

ঈদের দিনে নামাজ পড়ে,
আসবে সবাই বাড়ি,
রোজ সকালে আমায় নিয়ে,
করবে জোরা-জোরি।

কুরবানি ও-ই করছো যারা
শুনছো সবাই এখন,
গোস্ত করবো তিন ভাগে ভাগ
বিলি দেবো তখন।

আত্তীয় সজন নিজের ভাগ
এই দুটি ভাগ মোদের,
গরিব দুঃখি নিঃশ্ব যারা
আসল হক তো ওদের।

সেদিন আমায় জবায় দিবে,
গোস্ত করবে ভুনা,
তোমরা সবাই খেয়ে করবে,
আমার জন্য দোয়া।
……………………………………………

ঈদ

ঈদ মানেই হাসিখুশি মুখে উল্লাসে মেতে উঠা,
ভোর আঁধারে সজ্জা ছেড়ে ঘুম থেকে জেগে উঠা।
ঈদ মানেই খুব সকালে ফিরনি পায়েস মিঠাই মিষ্টি মুখ,
মনের দুঃখ কষ্ট ভুলিয়ে হৃদয়ে আনে সুখ।

ঈদ মানেই দল বেধে হেঁটে হেঁটে ঈদ গাহেতে যাওয়া,
সবাই মিলে এক কাতারে জামাতে শামিল হওয়া।
ঈদ মানেই খতিবের খুতবাতে ওই দ্বীনের কথা শোনা,
সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে নতুন সপ্ন বুনা।

ঈদ মানেই খোলা মাঠে সকলে ঈদের নামাজ পড়া,
নামাজ শেষে একে অপরে কোলাকুলি করা।
ঈদ মানেই সব দুঃখ কষ্ট ভাগাভাগি করে নেওয়া,
গরিব দুঃখী সবার মাঝেই শান্তি বিলিয়ে দেওয়া।

ঈদ মানেই পথের ধারের বঞ্চিত শিশুর মুখে হাসি,
তাদের দুঃখের সাথি হয়ে আনন্দ শত রাশি।
ঈদ মানেই শুধু হাসিখুশি মুখ আনন্দে একাকার,
সবারই মাঝে নতুন করে সুখ-শান্তি বিলাবার।

ইদ আসে প্রতিটি বছর শেষে খুশির বার্তা নিয়ে,
বিদায় জানাই আমরা সবাই দিনেরই শেষে গিয়ে।
ঈদের আমোদ ছড়িয়ে পড়ুক দূরে থাক কষ্টহেতু,
সবারই মাঝে অটুট থাকুক শান্তি সুখের সেতু।
……………………………………………

বসন্ত

বসন্তের ওই বার্তা নিয়ে
ফাগুন এলো মাঝে,
থোকায় থোকায় ফুলের ছড়া
নতুন করে সাজে।

মৌ-মাছিরা ফুলের মধু
নিচ্ছে সুরের তালে,
ডাকছে কোকিল কুহু কুহু
কৃষ্ণচূড়ার ডালে।

ফুটলো আবার পলাশ টগর
জুঁই বকুল গন্ধরাজ,
পুষ্পফুলের মিলন মেলা
বসন্ত ঋতুরাজ।

আরও আছে শিউলি শিমুল
দেখ মাধবীলতা,
কাঁঠালচাঁপার মিষ্টি সুবাস
হলদে কনকলতা।

হরেক রকম ফুলের সাজে
হৃদ্য করে প্রাণে,
মুগ্ধ করে হৃদয় আমার
মিষ্টি ফুলের ঘ্রানে।

এইসব কিছু কে দিয়েছেন
ভাবছো কি কেই কভু,
নিখুঁত নিপুণ সৃষ্টি তোমার
অদৃশ্য এক প্রভু।
……………………………………………

ভাগ্যের চাকা

ভাগ্যের চাকা ঘুরছে তোমার
ঘটবে তোমার ইতি,
পণ্ড হবে ভবের খেলা
থাকবে পড়ে স্মৃতি।

টাকার পিছে ছুটছ মানুষ
বিলাসবহুল গাড়ি,
সাজ সজ্জা আর পোশাক আশাক
বিলাসবহুল বাড়ি।

জীবন যৌবন সবই গেল
ব্যাস্ত আজীবন,
কখন জানি আসবে যে হায়
এই বুঝি মরণ।

আসছ একা যাইবা একা
কিছুই নাহি রবে,
আমল ছাড়া সেদিন তোমার
লাভ কি সেথায় হবে।

দাম্ভিকতার খেয়াল ছেড়ে
ন্যায়ের পথে চলি,
ঈমান আমল সংজ্ঞে নিয়ে
সত্য কথা বলি।

লাভ হবেনা সেদিন তোমার
থাকলে অর্থনীতি,
চলার পথে রাখবো সদা
আল্লাহ তায়া’লার ভীতি।
……………………………………………

কলা

সারি সারি চোখে পড়ে
কলা গাছে দৃষ্টি,
কাচা কালে কষে ভড়া
পাকিলে তা মিষ্টি।

রোগি ব্যাধি নিয়ে যারা
দেহ আজি নষ্ট,
নিয়মিত কলা খেলে
দূরে যাবে কষ্ট।

কাচা পাকা দু সময়ে
যে, আছে গুন পুষ্টি,
খেতে লাগে ভাড়ি মজা
যে, অল্পতে তুষ্টি।

খোদার অপার দানে
ফেল তব দৃষ্টি,
শুকরিয়া হে প্রভু
অসাধারণ সৃষ্টি।
……………………………………………

ঈদের খুশি

নীল আকাশে তারার মাঝে
চাঁদের মুচকি হাঁসি,
ঈদ এসেছে সবার মাঝে
বাজছে সুরের বাঁশি।

নতুন কাপড় কিনছ সবাই
মনের মতো করে,
হাসিমুখে শপিং নিয়ে
ফিরছ সবাই ঘরে।

দামাদামির নেই কোন মিল
কিনছ ইচ্ছে মতো!
রিকশা ওয়ালার কলার ধরে
বলছ ভাড়া কতো?

দশ বিশ টাকা ভাড়ার জন্য
কেন লড়াই করো?
ওইটা না হয় বাজার করা
শপিং করাই ধরো।

তাদের ও-তো শপিং করতে
বড্ড ইচ্ছে করে,
দুই মুঠো ভাত জোগান দিতে
হুমড়ি খেয়ে পরে!

আমরা সবাই হাসিমুখে
দিচ্ছি সবাই পাড়ি,
দিন শেষে ওই শুন্য হাতে
যাচ্ছে ওরা বাড়ি!

তোমরা তো সেই শপিং করে
ফিরছো সবাই ঘরে,
অনাথ শিশু পথের ধারে
কাঁদছে অনাহারে!

আমরা তো সেই ব্যাস্ত সবাই
ঈদের শপিং ঘিরে,
বঞ্চিত ও-ই মানুষ গুলো
ডাকছে পিছন ফিরে!

তাদের খুশীর জন্য সবাই
একটু হাতটা বাড়াও,
অভাবীদের সাথী হয়ে
একটু পাশে দাঁড়াও!

ঈদের খুশি সবার প্রানে
উঠুক জেগে আবার,
খুশির জোয়ার আসুক বেয়ে
কাটুক দুঃখের আঁধার।
……………………………………………

শীতের আভাস

হেমন্তের শেষে আসে
শীতের আভাস,
বয়ে চলে নিরবতা
হিমেল বাতাস।

কুয়াশায় ঢেকে থাকে
শীতের সকাল,
আলসে কেটে যায়
শীত ঋতুকাল।

শীতের সময়ে আসে
হরেক রকম সব পুলি পিঠা,
খাইতে ভিশন লাগে
ঠান্ডা-গরম সুষাদু সব মিঠা।

মিষ্টি রৌদ্রে বসে নষ্ট সময়
কাটে যে এক দুপুর,
উষ্ণ গরমে মোর রুদ্র ছায়ায়
আহ্ কি যে মধুর।