বাবা, তোমাকে আদর দিতে পারছি না এবং আমি তোমাকে ভালবাসি কিনা, তুমি যতই আমাকে সাধ যতই অনুরোধ করো আমি বলবই না।
শোন, মা বললো আমার বয়স এখন সাত, একবার ভাবো আমি এখন কতো বড়? খেয়াল করো আমি এখন ক্লাস টুতে ফার্স্ট গার্ল, এর আগে তোমাকে কতগুলো খাত লিখেছি, তুমি কিন্তু একটি চিঠিও আগে লিখনি, আমি লিখলেই শুধু উত্তর দাও।
বাবা, একটা গোপন কথা বলি, ছোট মামা ক্রমেই শায়ের হয়ে ওঠছে। পাখি নিয়ে, নদী নিয়ে কোন কবিতা লিখে না। তার কবিতায় নাকি মারামারি যুদ্ধটুদ্ধোই বেশী। বড়মামা এ জন্য ছোটমামাকে খুব ধোমকে দিয়েছে। ছোটমামা আমার মাথার চুল নিয়ে খুব তারিফ করেন, বলেকি, আমার মাথার চুল নাকি পর্বত হতে আছড়ে পড়া ঝর্ণার মতো কাঁধ বেয়ে ছুটে চলা সোনালী নদী, কবিদের কথাতো, তুমি হয়ত সব বুঝবে না।
বাবা, আমি তোমার উপর ভীষণ রেগে আছি, কারণ তোমার জন্য আমি একঝুড়ি চেরী ফল শুকিয়ে রেখেছি। আর একটিন ভর্তি কিসমিসও, কিসমিসের কথা লিখতে গিয়ে আমার জিহবায় পানি এসে গেছে, ফলগুলো খুবই মিষ্টি আর সুস্বাদু। তুমি তাড়াতাড়ি এসো বাড়ীতে আসলে সবগুলো ফল তোমাকে দেবো, প্লিজ বাবা, তুমি তাড়াতাড়ি আসো… তুমি কিন্তু আম্মুকে বলবে না সে শর্তে একটা কথা বলছি, আম্মু প্রায়ই কান্নাকাটি করে, আমাকে দেখলে দোপাটটায় মুখ ঢেকে চেহারা লুকিয়ে ফেলে। আমি মাকে জড়িয়ে ধরে বুকের মধ্যে মুখ সেধিয়ে খুব আস্তে জিজ্ঞেস করি, আম্মা তুম রতে কিউ?
মা আমাকে বলে কি জান?
বলে, বুকের মধ্যে খুবই ব্যথা, বাবা তুমি তাড়াতাড়ি আসবে তো? আর হ্যাঁ, আমার বান্ধবী গুলতেকিনের আব্বুকে ইন্ডিয়ান আর্মীরা ধরে নিয়ে মেরে ফেলেছে, কথাটা মনে হলে কান্না পায়, দেখো এইতো আমার চোখে পানি। আর শোন, যেদিন গুলতেকিনের বাবা মারা যান, সে দিন খবরটা শুনেই মা দারুণ কেঁদেছে তোমার বাঁধানো ছবির দিকে তাকিয়ে।
নিগার খাতাটা এ পর্যন্ত লেখার পরই চমকে ওঠে। কারণ, মা খুব কাছ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে। খাতাটা মনে হয় পুরোপুরি পড়ে ফেলেছে। পড়ে ফেলেছে বিষয়টা ভাবতেই লজ্জায় নিগারের ধবধবে সাদা বেহেস্তি চেহারায় এক পশলা মেঘ জমে ওঠে নিদারুণভাবে। মা মেয়ের বিব্রত হওয়া আন্দাজ করতে পেরে- নিগারকে প্রশ্ন করে। আমার পিয়ারা আম্মি কি সায়ের লিখছেন? ফাফড় হতে মুক্ত হবার মতোই নিগার ঝলমলিয়ে ওঠে। নিগার ধরে নেয়, মা চিঠি পড়তে পারেনি। পড়তে পারেনি ভাবতেই শরীরে অক্সিজেন প্রবেশ করে বিব্রতভাব কাটিয়ে দেয়, কথার খই ফুটে নিগারের চেরী রাঙ্গা নক্সা আঁকা ঠোঁটে, মুখ গোল করে ঝাঁজালো উত্তর দেয়। তোমাকে বলবো কেনো?
মা বিষয়টা বুঝতে পেরে জিগরের প্রতি আরো প্রসারিত হয়ে ওঠে, আদ্রতায় ছেয়ে যায় আঁখি, চঞ্চল হয়ে ওঠে হৃদয়। ঠিক আছে আম্মী, বলতে হবে না। এবার বলো, তোমার জান্নাতী আঁখমে আসু কিসলিয়ে?
নিগার চটপট চোখের আসু মুছে ফেলে।
কই নাতো।
মা নিজের মেয়ের আচরণে কিছুটা বিস্মিত হয়ে ওঠে। তারই উদর হতে জন্মনেয়া এতটুকু মেয়ে অথচ সে কিনা তার কষ্টকে লুকোতে চায়? তার এ ছোট্ট মেয়েকি তার প্রতি করুণা করছে? বিষয়টা মাথায় আসতে কষ্টটা আরো উথলে ওঠে। পরক্ষণে নিজের প্রতি খেয়াল হতে লজ্জিত হয়ে ওঠে, সে নিজেওতো বারবার এতটুকু মেয়ের কাছ থেকে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে, কতদিন কতবার কান্না করায়, মেয়ের প্রশ্নের সম্মুখিন হয়েছে এবং সত্যি কথাটা, কখনই খোলাসা করে বলা হয়নি। নিগার সাত রাজ্যের গুপ্তধনের মতোই, খাতাটি পেছনে কটি হাতের মুঠোর মধ্যে লুকিয়ে রেখে, মায়ের দিকে এমন এক অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, যে তাকানোর মানে হলো,
আম্মা, তোমার পায়ে ধরি, তুমি একটু অন্য দিকে যাও। মা, মেয়ের চোখের আর্তি বুঝতে পেরে করুণায় আদ্র হয়ে ওঠে। ভেতরে দারুণ, তাকে এখন বাথরুমে গিয়ে অনেকক্ষণ কাঁদতে হবে।
মা চলে যাওয়ায় নিগার ঘনিষ্ঠ হয়ে চিঠি লেখায় আবার ব্যস্ত হয়ে ওঠে।
বাবা, আমাদের বিড়ালটা দুটো বাচ্চা দিয়েছে, খুব দুষ্ট, আমি হাঁটার সময়, গাঘড়ার ঝুলে থাকা লেইছফিতা খামছে ধরে। খুবই বোকা। ইঁদুর চুয়ে আলাদাই করতে পারে না। আমি কান মলে দিতে খুব লজ্জা পায়। লজ্জায় চোখ বন্ধ করে মাথা নীচু করে রাখে, গাধাটা আরো কি করে জানো?
ওর মায়ের লেজ নিয়ে সারাক্ষণ শিকারী শিকারী খেলে, সব কথা লিখে ফেললে পরের চিঠিতে আবার কি লিখবো, তাই শেষ করছি। তোমার মেয়ে নিগার ও হ্যাঁ, যা না বললেই নয়, চাচাজান সারাক্ষণ ঘুমিয়ে থাকে। কারো সাথে কথাও বলেন না। মাঝে মধ্যে, ভাইয়া ভাইয়া বলে চিৎকার করেন। তোমাকে অনেক দিন ধরে দেখেনাতো তাই।
আজ আর নয়, আল্লাহ হাফিজ। তোমার মেয়ে নিগার। দরসপুর, শ্রীনগর।
চিঠিটা খুব সাবধানে খামের মধ্যে ঢুকিয়ে যবের আটায় পানি মিশিয়ে খামের মুখ বন্ধ করে স্কুলব্যাগের গোপন পকেটে খুব যত্ন করে রাখে। নাস্তা খাবার পর স্কুলে যাবার আগে আরেকবার পরীক্ষা করে, চিঠিটা ঠিক মতো আছেতো। চিঠিটা প্রথম বার খুঁজতে গিয়ে বুকের মধ্যে ধক করে ওঠে, কষ্ট করে লিখেছে সে জন্য নয়, চিঠিটা অন্য কারো হাতে পড়–ক তা ওর কাম্য নয়।
নিগারের মা, মেয়েকে স্কুলভ্যানে তুলে দিয়ে সংসারের কাজে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। সংসারের কাজ আর কি দেবর, বুড়ো শাশুড়ি চোখে প্রায় দেখেনই না, দেবর দগদগে অসুস্থতা নিয়ে বিছানায় পরে থাকে, আপেলের বাগানে তাকেই কাজ করতে হয়, ফলের বাগান আর মাঝে মধ্যে গোপনে মুজাহিদ ভাইদের সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমেই সংসার চলে যাচ্ছে, খুড়িয়ে খুড়িয়ে …
খাওয়া খাদ্যের চেয়ে সারাক্ষণ ভীতির মধ্যে থাকতে হয় এই এক কঠিন আযাব। ইন্ডিয়ান আর্মীরা কখন কোন সময় ডেকে পাঠাতে পারে, সন্দেহ হলেই অত্যাচার আর নির্যাতন, নিজের মাতৃভূমিকে আপন করে ভাবতেই দিতে চায় না। এ কাশ্মীরে হঠাৎ করেই যেন আমরা নাজিল হয়েছি। অপ্রত্যাশিত যেন আমাদের উপস্থিতি। জোয়ান মরদদের ভয় খুবই, সন্দেহ হলে ধরে নিয়ে যায়। গোপন তথ্য জানার জন্য মারধর করে।
সে রকম এক সন্দেহের শিকার হয়ে দেবর আজ পঙ্গু। এখন এই পঙ্গু সংসার নিয়ে ফাতেহাকে চলতে হচ্ছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে।
অবশ্য, পৃথিবীর অধিকাংশ ফাতেহা, ফাতেহার ভাই, দেবর, স্বামী ও বোন সবাই বিকলাঙ্গদের মতো খুড়িয়ে খুড়িয়ে এগোচ্ছে, হামাগুড়ির মধ্যে খাবি খাচ্ছে, দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলিম দেশই এখন ক্রমেই কাশ্মীর হয়ে ওঠছে। পৃথিবীতে বিরল প্রাণী রক্ষা করার মানবিকতা দেখা গেলেও মুসলিম নিধন হয়ে উঠছে ঠুনকো বিষয়।
ফাতেহা হঠাৎ করে চমকে ওঠে, নিজের প্রতি খেয়াল করে দারুণ অবাক হয়, সে যে ক্রমেই রাজনীতিক হয়ে ওঠছে।
মনের ভেতরের এ ভাবনা তো ছিয়াছাতই-বাবা তাবলীগ করেন, তার মুখে বহুবার শুনেছে ছিয়াছাত্ বড় গান্ধাচিজ্ অথচ তার মেয়ে হয়ে সে কিনা…। ফাতেহার ঠোঁটে অপুষ্টির এক চিলতে হাসি ঝলকে ওঠে। এ হাসির অর্থ ও নিজেও উদ্ধার করতে সক্ষম হয় না। এ হাসি কি তার বাবার উদ্দেশ্যে, নাকি সমগ্র মুসলিমদের বোকামী আর অযোগ্যতার উদ্দেশ্যে কে জানে।
নিগার, পোস্ট অফিসের কাছে অতি সাবধানে চিঠিটা বের করে। পোস্ট অফিসটা ওদের স্কুল-লাগায়ো, পোস্ট মাস্টারের সাথে নিগারের দারুণ একটা ভাব, নিগার প্রতি মাসেই একটি খাত্ লেখে এবং মাসের শেষের দিকে, উত্তরের জন্য ছুটে আসে, পোস্ট মাস্টার ফোরকান মাজিদ, খুব মনোসংযোগসহ খাত্টি পড়েন-পড়তে গিয়ে বার বার বয়স্ক চোখ দু’টি মেঘে ছেয়ে যায়, চশমার নীচ দিয়ে উষ্ণ অশ্র“ ছলাৎ করে গড়িয়ে পড়ে। সামান্য শ্বাসকষ্টও বোধহয়, চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে বুকের গভীরে হাতুরী পেটায় দাপদুপ। এর সহজ ভাষায় যতে্নর মাধুরী মিশিয়ে একটি উত্তর লিখে দেয়। নিগার এ বিষয়টি জানে না, ও মনে করে বাবাই উত্তর লিখে পাঠায়।
নিগার আজ পোস্ট অফিসে ঢুকতেই পোস্টমাস্টার চঞ্চল হয়ে ওঠে, চোখ আর্দ্রতায় ছেঁয়ে যায়। কথা-বার্তাও অগোছালো হয়ে যায়। এতটুকুন খুকী হলে কি হবে, তার নিয়মানুবর্তিতা সরলতা দুর্বল করে দেবার মতোই। প্রতি মাসে চিঠি লিখে প্রতি মাসের ঠিক একই তারিখ মতো উত্তরের জন্য চলে আসে, এই নিয়ম তার ভাঙ্গেই না।
পোস্টমাস্টার বয়োবৃদ্ধ, মিথ্যে বলার অভ্যেস নেই, কিন্তু এ খুকীর পাল্লায় পড়ে, পাল্লায় ঠিক বলা যায় না, মায়ায় পড়েই বানিয়ে বানিয়ে প্রতি মাসেই তাকে একটি চিঠি লিখতে হয়।
কিন্তু, নিগারের ইদানীংকার প্রায় প্রতিটি চিঠিতে বাবাকে বাড়ীতে আসার তাগিদ বুড়োকে চঞ্চল করে তোলে। এতোটুকু বেহেস্তী বালিকার সাথে এ অম্ললুকোচুরি আর মানানসই মনে হয় না। প্রথম দিকে মনে হয়েছিলো এক দুটো খাত্ লিখেই খুকী ক্লান্ত হয়ে যাবে, বাবাকে এক সময় ভুলে যাবে। কিন্তু বিষয়টা ক্রমেই গভীরতরো হয়ে সমস্যা ফুলে-ফেঁপে ওঠছে। এখন এই নিষ্পাপ কোমলমতিকে সত্য কথাটা কি করে প্রকাশ করবে? কি করে রুঢ় সত্য প্রকাশ করবে? বুড়ো নিগারকে বিদায় দিয়ে খাত্ লিখতে বসে। দুপুরের এ সময়টা অফিসে তেমন ভীড় থাকে না। লোকজন আজকাল তেমন চিঠিপত্রও লেখে না। মুসলিমদের লেখা প্রায় অধিকাংশ চিঠিই নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে খুলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। অতএব সঙ্গত কারণেই চিঠি লেখা কমে গেছে।
বুড়ো ভারি চশমা চোখে তুলে, গোটা গোটা উর্দু হরফে খাত্ লিখে, আজকের ভাষাগুলো কিছুটা মমতাহীন, ইনিয়ে-বিনিয়ে শূন্য, উপেক্ষার সূচালো ক্ষুর যা হয়ত খুকী পুরোপুরি বুজবেই না।
মা নিগার, তোমার পত্র পড়ে, তোমার পোষা বেড়ালের কথা পড়ে খুবই আনন্দ বোধ করেছি। তোমার বান্ধবীর বাবা মারা যাবার কষ্ট আমাকেও দুঃখিত করেছে।
কিন্তু মা, তুমিতো জানো, না জানলেও সমস্যা নেই, আমি তোমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছি, না থাক, তুমি এবং তোমার পোস্টমাস্টার দাদুর কাছ থেকে, তোমার বান্ধবী গুলতেকিনের বাবাকে মেরে ফেলার কারণ এবং তোমার আমার অবস্থান সম্বন্ধে জেনে নিও। আমার অবস্থান তোমার ঐ দাদু বুঝিয়ে দেবেন- অনেক কষ্টের হলেও মেনে নিও।
এত ঘনো ঘনো পত্র দিও না, সময় হলে ফিরে আসবো। … … আল্লাহ হাফিজ।
নিগার খাত্টি পড়ে খুশী হলো, আবার দারুণ একটি কষ্টও পেলো, খুশীর কারণ দাদুর কাছে বাবার অবস্থানসহ সব খবর জানা যাবে, আর দুঃখ পাবার বিষয় হলো, বাবা ঘনো ঘনো চিঠি লিখতে বারণ করেছে। আর সারা চিঠির মধ্যে একটুও আদর নেই। নিগারের ঠোঁট উল্টে কান্না আসতে চায়। অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত করে, খাত্টি চোখে ছোঁয়ায়, আরেক বার পড়তে হবে, তাই খুব ধীরে সুস্থে ছবি আঁকার বইয়ের পাতার পৃষ্ঠা নাম্বার দেখে খাত্টি রেখে দেয়। কাল স্কুলে গিয়ে আবার পড়তে হবে, তার পর দাদুর কাছে গিয়ে চিঠি ছিঁড়ে ফেলতে হবে। কারণ চিঠি জমিয়ে রাখলে নাকি বিপদ। খুবই বিপদ। পোস্টমাস্টার দাদুই এ গোপন তথ্যটি বলেছে। দাদুর সব কথাই মূল্যবান এবং বিশ্বাসে ভরপুর। এতো ভাল মানুষ নিগার দ্বিতীয়জন দেখেনি।
বিকেলের অন্ধকার তখনো পুরোপুরি নামেনি, ঠিক এমনি সময়ে ইন্ডিয়ান আর্মিরা বাড়ীটি ঘিরে ফেলে। মাগরিবের আজান হচ্ছে। চার-পাঁচজন আর্মি বাড়ীর ভিতর ঢুকে নিগারের পঙ্গু চাচাকে লাথি মারে। ঘরের এটা সেটা উল্টে-পাল্টে কি যেন খোঁজা-খুঁজি করে। ওদের কি হারিয়েছে, কি খুঁজছে ভেবেই পায় না নিগার।
একজন সেপাই হঠাৎ করে নিগারের ছবির বইটিতে হাত রাখে, নিগার ছোঁ-মেরে বইটি ছাড়িয়ে নেয়, ছাড়িয়ে নেবার সময় চিঠিটি মেঝেতে পড়ে, অন্য একজন সেপাই পত্রটি কুড়িয়ে চোখের সামনে খুলে নতুন গ্রহ আবিষ্কারের খুশিতে বাগবাগ।
নিগার চিৎকার দিয়ে চিঠি ফেরৎ নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, নির্দয় একটি বুটের আঘাতে ওর ঠোঁটের সামনের অংশ কেটে খুন ঝরতে থাকে। লাথির ধকল সামলাতে না পেরে মেঝেতেই পড়ে থাকে ঠিক তখন অন্য একজন সৈন্য নিগারের মায়ের চুলের মুঠি ধরে দেয়ালের দিকে ছুঁড়ে ফেলে। বৃদ্ধা দাদীকে কিছু না বললেও শুয়ে থাকা মৃত্যুপ্রায় চাচাকে লাথি মারে। আর দু-তিন মিনিটের মধ্যেই পোস্টমাস্টার লোকটিকে নিয়ে আসে। তার পেছনে হাত বাধা, লোকটি সবকিছু বলবে বলেও মার থেকে রেহাই পাচ্ছে না। নিগার নিজেকে খুবই অসহায়ভাবে আবিষ্কার করে। পোস্টমাস্টারের কথা না শুনে ভুল হয়েছে, এ চিঠিটার জন্যেই আজ এমন বিপদ। চিঠি না ছিঁড়লে বিপদ হবে এ কথা আগেই বলেছিলেন।
একজন সৈন্য বুড়ো লোকটিকে পেছন হতে লাথি মারে। বুড়ো গড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন ধরে বুড়োর নিথর দেহ গাড়ীতে তোলে। অন্য কয়েকজন সৈন্য নিগারের মাকে আলাদা ঘরে নিয়ে যায়। সে ঘর হতে মায়ের চিৎকার ছুটে আসে। চিৎকারের ধ্বনিগুলো অন্য রকম! নিগার অজ্ঞান হয়ে যায়।