মেয়েটি শর্ট স্কাট পরা। হিল জুতায় খুট্খুট্ শব্দ তুলে ডাক্তারের চেম্বারে প্রবেশ করে। দিনের এভাগে রোগি থাকে না। এ সময় চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী পড়ে সময় কাটান তিনি।
বয়স প্রায় চল্লিশ হলেও বিয়ে করেন নি। মোটা অংকের ইয়েন পান। বেতনের ইয়েন সারা মাস খরচ করেও ভাল একটা অংশ ব্যাংকে জমা করেন। সুখে আছেন তিনি। ঠোঁট গোল করে শীষতুলে সুখের গীত গেয়ে ওঠে লা…লা…
হিল জুতার খুট্খুট্ শব্দে ডাক্তার চুপ হয়ে যায়। অন্যদের সামনে একান্ত সুখের গীত-গাওয়া অনুচিৎ। হিবিকুতো গালে টোল ফেলে, বার কয়েক মাথানিচু করে। হাতের গ্লাভস খুলে ঝকঝকে হাত এগিয়ে দেয়। তুলতুলে হাতের লৌকিক মাদক ডাক্তারকে উষ্ণ করে। অথচ প্রথম দিকে মেয়েটি এলেই, শীতল এক টুকরো বিরক্তি ফুাঁস উঠতো। যদিও স্ন্দুরী হবার কারণে প্রকাশ করতে দ্বিধা হতো। এরপরও দ্বিধা উপচে সুতানালী সাপের মতো বিরক্তির কায়া ফুটে উঠতে চাইতো। কিন্তু তিরিশোর্ধ যুবতীর টোলপড়া হাসির কাছে ডাক্তারের ব্যক্তিত্ব একসময় নূয়ে পড়ে। পশ্চিমা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকুরী করা মেয়েগুলোর পতিতা সুলভ স্থুল আচরণ, খুব একগেয়েমী। সব খুইয়ে হলেও একটি পলিসি করাবেই। বিরক্তিকর উৎপাত। কিন্তু এ মেয়েটির আচরণে বিরক্তির রেশকেটে ভাল লাগতে শুরু করছে- টাই আশ্চর্যের বিষয়।
মেয়েটি চেম্বারে ঢুকলেই হিজল ফুলের হালকা সৌরভে ঘরটি নেচে ওঠে। প্রানহীন রোগীর বিছানা, রোগীর বসার চেয়ার আমোদে প্রানবন্ত হয়। কিন্তু ‘স্টেফ শো’ দেখার পর কোন নারীকেই আর সম্মান করতে ইচ্ছে করে না।
সারা ইউরোপের সেরা সুন্দরী মেয়েরা শুধু মাত্র টাকার জন্য ‘স্টেফ শো’তে নগ্ন হয়ে নৃত্য করে। মাং-ইয়েনের জন্য স্টেজে লাইফ সেক্স করে। এসব কারণে, নারীর প্রতি ঘৃনার ফনা, ধারালো ফলা হয়ে মুখিয়ে থাকে। মেয়েদের লোভ, আর ভোগের বিষয়টিই ডাক্তারের চোখে দৃশ্যমান হয় ক্রমাগত।
তবে হিবিকুতু তার এ আন্ধাজ সম্পূর্ণ গোপন রেখে ডাক্তারের অঙুলের প্রশংসা করে। এ প্রশংসা আসলে হিবিকুতুর বিষঁমাখা টোপ।
ডাক্তার রলিকাতো, তুমি জান তোমার হাতের আঙুলগুলো কতোটা রূপবান? আমার ইচ্ছে করে কি জান? ইচ্ছে করে তোমার হাতের আঙুলগুলো আমার মুঠোয় নিয়ে বসে থাকি।
এ কথায় ডাক্তারের ভেতর একটি সুক্ষ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলো। মুখমন্ডলে অহংকারের রেখাচিত্র মূর্ত হয়ে উঠলো। ঠোঁটের কোনায় সুক্ষ্ম হাসি চেপে ধরে শরীরের একটি বিশেষ ভঙ্গিমায় বুঝিয়ে দেন, না আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ, আমি সত্যিই কিছু জানি না। তাছাড়া প্রায় চারদশকে আমার খুইয়ে যাওয়া আঙুলের প্রশংসা কেউ করে নি।
আর তুমিওতো বিগত একবছরের মধ্যে এই প্রথম আমার আঙুলের প্রশংসা করলে। হিবিকুতু সামনে আগানোর প্রশ্বস্ত রাস্তা পেয়ে গেল। আচ্ছা ডাক্তার, আমি কি তোমার আঙুলগুলো ছুঁয়ে দেখতে পারি? আশ্বাসের হাসি হাসতেই ডাক্তারের হাত যুবতীর হস্তগত হয়। এবং বুনো চোখের উপর আলতো করে হাত বুলিয়ে দেয়, দুজনেই গোপন উত্তেজনা অনুভব করে।
ডাক্তার মুগ্ধতায় চোখ বন্ধ করে। কিন্তু শেষপর্যন্ত যুবতীকে কমার্সিয়ালই মনেহয়। হিবিকুতু ধৈর্য্যরে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এতদিনেও সে ইন্স্যুরেন্সের ব্যাপারে কথা বলে নি। বরং সে চিকিৎসা বিজ্ঞান ঔষধের কার্যকারীতা, সাইড এফেক্ট ইত্যাদি বিষয়ে খুবই আগ্রহী শ্রোতা।
ডাক্তার রলিকাতু মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং মেডিক্যাল কলেজের লেকচারার হওয়ায় লেকচার দেবার বাড়াবাড়ি বাতিক আছে তার তাই কথা বলেও মজা পান বেশ।
হিবিকুতুর নিয়মিত যাতায়াত ডাক্তারকে মহোবিষ্ট নিয়েছ।
ডাক্তারের হতাশা ঠোঁটে চু চু শব্দ তোলে। আশ্চর্য হয় চোখ, জাপানের মেয়েরাও এখন পিছিয়ে নেই! পশ্চিমা সংস্কৃতির নীলআগুনে আত্মহুতী দিচ্ছে নির্দ্বিধায়। স্বকীয়তায় কেউই আর আবিষ্ট নয়! ডাক্তার বিরক্ত দ্বিধা এবং ঘৃনা থেকে বিয়ে না করে একাই জীবন পার করে দেবে বলে স্থির করেছে।
কিন্তু নারীর প্রতি ঘৃনা থাকলেও, মাঝে মধ্যেই পতিতাদের সাথে থাকা হয়। নিজেকে শতত শুভ্র রাখা হয়ে ওঠে না।
যৌনতা এবং যৌনতার বাইরে অন্য একটি আত্মীয়তায় বিবাহিত এ যুবতী ক্রমেই স্থান করে নিচ্ছে। স্থান করে নিচ্ছে, নাকি ডাক্তার নিজেই সচেতনভাবে মেয়েটির দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিষয়টি ভাবতে গিয়ে ডাক্তার বুঝে উঠতে পারে না, পারে না কথাটা আসলে ঠিক নয়। বিষয়টা ভাবতে গেলে কোন অনুমানের উপরই স্থির থাকতে পারে না।
মেয়েটির কথা বলার ভঙ্গি চমৎকার। অবশ্য ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অধিকাংশ মেয়েদের কথা বলার ভঙ্গিই গোছানো, পরিপাটি। গ্রাহক তৈরী করতে এমন মধুর কথা বলতে হয়। শুধু কথা নয় কারো কারো সাথে শুতেও দ্বিধান্বিত হয় না।
ডাক্তার পত্রিকা ঠেলে যুবতীর চোখের ভেতর তাকায়। যুবতীর কাঁচভাঙা হাসির সুগন্ধী ছড়িয়ে পরে দরজা বন্ধ এসিরুমে। যুবতী চোখ বন্ধ করে হাসলেই মায়াবতী হরিনের মতো আদুরে মনে হয়। আঙ্গুল দিয়ে চোখের পাতা ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে।
কমার্স কন্যা হিবিকুতু চোখ দেখেই ডাক্তারের ইচ্ছে আন্দাজ করে ফেলে। তার আন্দাজ অভিজ্ঞ ডুবুরীর মতো গভীর পুকুরে খুইয়ে ফলা কিশোরীর কানফুল তুলে আনে। মনে মনে চটুল একটুকরো বিজ্ঞের হাসি হেসে বুকের ভেতর মুখের চু-চু শব্দ তোলে। সব পুরুষই প্রায় একই ধরনের। যৌনতা ছাড়া অন্য ভাবনা যেন মাথায় আসেই না। চাকরী জীবনে হিবিকুতুর এ অভিজ্ঞতা বিপুল…