আমরা দিবস কেন্দ্রীক সংখ্যা করে আসছি বহুকাল থেকে কিন্তু এই দিবসের যে চেতনা তা দিবস শেষেই ফুরিয়ে যায়। এর থেকে বের হয়ে আসার উপায় আমাদের অনুসন্ধান করতে হবে। কিভাবে একটি দিবসকে সারা বছর জারি রাখা যায়। একুশের যে চেতনা তা হলো ভাষার প্রবাহমনতা ঠিক রাখা। ভাষা গেলো। ভাষা গেলো বলে কোনো লাভ নেই। ভাষা তার গতি ঠিক করেই এগিয়ে চলবে। আমরা যদি ভাষা গেলো বলে ভাষাকে তার অবস্থানে ধরে রাখতে চাই তবে ভাষা মরে যাবে। ভাষা মরে যাওয়া থেকে বাঁচানোই একুশের চেতনা। আমরা প্রতিদিন যে শব্দ ব্যবহার করি সেই শব্দ দেশি বা বিদেশি হোক তা আত্মিকরণ করাই একটি ভাষার বেঁচে থাকার প্রধান নেয়ামক। আমরা কোনো ভাষাকেই ঘৃণা না করে তার শব্দকে আহরণ করব এটাই হোক একুশের চেতনা।
আমরা প্রতি দিবসের ন্যায় এবারও একটি সংখ্যা করলাম। নাম দিয়েছি ‘একুশের চেতনা : ভাষা দিবস সংখ্যা ২০২২’। এখানে কবিতা ছড়াই প্রাধান্য পেয়েছে। গল্প ও প্রবন্ধ আমরা আলাদা আলাদা প্রকাশ করেছি। আমরা এভাবেই করে থাকি। আমাদের এই সংখ্যাটি আপনাদের ভালোবাসায় সমৃদ্ধ হয়েছে। আশা করি প্রতিবারের ন্যায় আপনারা আমাদের সাথে থাকবেন। -আফসার নিজাম, সম্পাদক-মোলাকাত

সূচীপত্র
একুশ ভাবনার অমরত্ব :: কাজী আতীক
একুশের গাথা :: ফারুক নওয়াজ
তোমাদের বুকের রক্ত আমার মা বলা আজ :: অর্ণব আশিক
ভাষা :: আফসার নিজাম
কিষাণ আস্তে চালাও লাঙল :: মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান
ভাষা :: দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য
সাত তিনে একুশ :: হরেকৃষ্ণ দে
চমকানো সেইদিন :: ফরিদ সাইদ
এক পৃথিবী একটা আঁচল :: হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
আমার মায়ের বাংলা ভাষা :: তাজ ইসলাম
একুশ… :: মাহবুব মুকুল
ভাষা দিবস :: সৈয়দা কানিজ রাসুল
আটই ফাল্গুন :: রবিউল মাশরাফী
মাতৃভাষা :: শ্রীলেখা চ্যাটার্জি
সবার সেরা রাষ্ট্র ভাষা বাংলা ভাষা :: শওকত আলম
মায়ের ভাষা থাকবে অটুট :: পলাশ মন্ডল
ভাষার স্মৃতি :: জুবায়ের দুখু
প্রাণের বাংলা ভাষা :: আনিসুর রহমান
বাক-যন্ত্র :: সালমা বিনতে শামছ
ভাষা মানে :: নাছির বিন ইব্রাহীম
মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা :: রাহীদুল ইসলাম রাহী
বাংলা :: সুবোধ সরকার
একুশ মানে :: কাজী রহিম শাহরিয়ার
দৃপ্ত পতাকারা :: তৈমুর খান
ফাগুন মাসে আগুন হাসে :: মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর
শোধ হবে না :: শাহীন খান
ফাগুন মাসের আটে :: জানে হৃদয়
দেমাগ :: আসাদজামান
বাংলা ভাষা :: মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ
আমার অনুভূতি আমার ভাষা :: বিপুল চন্দ
সত্যাধারা :: হাসান আবু নাঈম
বর্ণমানব :: ফিহির হোসাইন
বর্ণমালার প্রেম :: জিহাদ হোসেন
মুখরিত জনপদ :: বাপ্পা আজিজুল
একুশে ফেব্রুয়ারী :: স্বপন শর্মা
বাংলাভাষা :: শেখ একেএম জাকারিয়া
আমার মাতৃভাষা :: শম্পা মনিমা
আমার মাতৃভাষা :: শম্পা মনিমা
মুহ্যমান দেশে,শোক আসে :: নিঃশব্দ আহামদ
একুশের ঋন :: হামিদা পারভিন শম্পা
একুশ স্মরণে :: রাসেল হোসেন
আমার মা আমার ভাষা :: পলাশ চন্দ্র দাস
ফেব্রুয়ারির কাহন :: সেতু সরকার
আমার বাংলা ভাষা :: আনিসুর রহমান
একুশে ফেব্রুয়ারি না আট ফাল্গুন :: মিনহাজুল ইসলাম মাসুম
শহীদ স্মরণে :: শরিফ উল্যাহ
মাতৃভাষা বাংলা :: মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন
বসন্ত দিন কিংবা পলাশের রঙ :: কমল কুজুর
বাংলা ভাষার তরে :: সৈয়দুল ইসলাম

একুশ ভাবনার অমরত্ব
কাজী আতীক

যেনো খড়গ নেমে এলো-
যদি বলা হয়- সবাই বাতাসে ভর দিয়ে হাঁটো,
অথবা যদি বলা হয় মা’কে বাবা বলে ডাকো,

কিংবা হয়তো- বলা হলো
মাটিতেও ভর দিয়ে হাঁটতে পারো
তবে পা’ নয় হাতের সাহায্যে কেবল,

আসলে এরকমই উদ্ভট কিছু বলা হয়েছিলো,
বলা হয়েছিলো আমাদের মুখ দিয়ে আর যা হয় হোক
উচ্চারিত যেনো হয়না কেবল বংলা হরফেরর শব্দ!,

হ্যাঁ- যেনো বললেই হলো? অতঃপর-
সেই রক্তফাগুন আগুন হয়ে ছড়িয়ে পড়লো দিক্বিদিক,
বাঁধা পেলে যেমন তীব্রতর হয় স্রোতস্বিনী, জলপ্রপাত,
ঠিক তেমনি- তুচ্ছ করে সব বাঁধার পাহাড়-
‘অক্ষর বাংলা’ই গড়ে দিলো ভিত্তি প্রিয় ‘জয় বাংলা’র।

একুশের গাথা
ফারুক নওয়াজ

ফাগুন হাওয়ায় বিষাদের সুর
আঁধার প্রকৃতি চুপচাপ…
দূরবন থেকে ভেসে আসে মৃদু
পাতার শব্দ টুপটাপ।

নীল বেদনার দীয়া জ্বেলে জ্বেলে
স্মৃতিকে জাগায় জোনাকি;
কালো আকাশের তারার দীপালি
শোকের আলোতে বোনা কী?

পাণ্ডুর চোখে চাঁদ চেয়ে থাকে
মেঘের ওড়না সরিয়ে…
স্মরণের গীতি গেয়ে যায় গিরি
ব্যথার ঝরনা ঝরিয়ে।

হঠাৎ কোথায় হুতুম পেঁচাটি
কেঁদে ওঠে হুমহুমিয়ে…
ঝিঁঝিপোকা বলে, চুপ চুপ ওরে
রফিক শফিক ঘুমিয়ে!

চাঁদের পরীরা পলাশের ডালা
দেয় দুটি হাত বাড়িয়ে…
বরকত ওহি সালাম আছেন
শহিদ মিনারে দাঁড়িয়ে।

শহিদ মিনার উপচিয়ে ওঠে
গোলাপ অশোক জবাতে…
মাতৃভাষার অমর ছেলেরা
আসে একুশের প্রভাতে।

তোমাদের বুকের রক্ত আমার মা বলা আজ
অর্ণব আশিক

জীবনের জলছবি কালোরঙ
গোপন সিন্দুকে নীরব নির্বাক
আগুনের লেলিহান ডানা
পোড়ায় অন্তর,
তোমাদের বুকের রক্ত আমার মা বলা আজ।

পলাশ শিমুল প্রভাত ফেরী
খুঁজে ফিরে প্রিয় বর্ণমালা
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি”
স্বরলিপি সুর।

দরজায় এখনো কড়া নাড়ে
৫২র সেই দিন, উত্তাল মিছিল
উম্মাদ ছাত্রজনতা, রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই
লেলিহান আগুন।

রক্তে আচ্ছন্ন অ আ ক খ আমার অক্ষর
মায়ের ঘ্রাণ, বাঙালির স্বরলিপি
“মোদের গরব মোদের আশা
আমরি বাংলা ভাষা”, এলোকেশি
ছন্নছাড়া অক্ষরে অক্ষরে বুকের কথা
চাই বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা।

ভাষা
আফসার নিজাম

বুলবুলি গো বুলবুলি
গাছের কাছে পাখির কাছে
বলো তুমি কোন্ বুলি?

ভাষার জন্য দিলো যাঁরা
প্রাণের প্রিয় প্রাণ
তাঁদের জন্য গাইছি আমি
মাগফেরাতের গান।

কিষাণ আস্তে চালাও লাঙল
মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান

বাংলার সুখ প্রিয় কিষাণ ভাই আমার
তুমি তোমার তীক্ষ্ণ লাঙলের ফলা
অতি ধীরে অতি সন্তর্পণে চালনা করো-
তোমার নরোম মমতা দিয়ে চিরে দিয়ো
সোঁদা দোআঁশ মাটির বুক
এখানে মিশে আছে লাল লাল
ছোপ ছোপ রক্তের শ্বেতকণিকা
মিশে আছে হিমোগ্লোবিনের সরস তেজ
বরকতের সালামের রফিকের শফিকের

তুমি তোমার সন্তান তুল্য বলদ জোড়াকে বলে দিয়ো
ওরা যেন ওদের ধারালো ক্ষুর খুব ধীরে ধীরে মাটির বুকে ফেলে হাঁটে বাংলার আলপথে
এখানে পদচিহ্ন মিশে আছে
আমার ভাষা শহীদ ভাইদের
মিশে আছে পথে-প্রান্তরে বন-বাদাড়ে
ফসলের মাঠে নদীর পাড়ে বয়সী বটের ছায়ায়
কৈশোর স্মৃতি সুখ যৌবনের দুর্দান্ত তারুণ্য

তুমি তোমার ঢেলা ভাঙ্গার মইকে বলে দিয়ো
সে যেন আস্তে আস্তে চেপে বসে মাটির বুকে ভালোবেসে বেসে ভাঙে যেনো মাটির জটলা
এই মাটিতে মিশে আছে আমার শহীদ ভাইদের রক্তের ইতিহাস
তুমি মুছে দিও না যেনো
ঘুম যেনো না ভাঙে আসলামের জব্বারের নাম-না-জানা কত শহীদ ভাইদের।

ভাষা
দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য

সবচেয়ে বেশী বেঁচে থাকা, নিয়মিত অপরাধ আনেনা টেনে,
কোথাও খুঁড়ে চলা মাটি- যুক্ত হয় সমাজে কিংবা ড্রেটে।

ফুটপাতে জাতপাতের ছুঁড়ে ফ্যালা বিপনি শতশত,
নিঃশ্বাস তবু বয়ে চলে নিজের খেয়ালে- নিজের মতো।

ভালোবাসা চিনেছি প্রতিটা শব্দ বাঁচতে শেখায় যখন,
পোষাক চিনে নেয় জাতি- ভেবে দেখেছি কতোবার? কখন?

রক্ত ঝরাই নির্বিশেষে- নির্বিচারে গ্রহণ করেছি সব শ্লোক!
বিভাজন নয় এই ভাষা শিখুক যোগাযোগ।

সাত তিনে একুশ
হরেকৃষ্ণ দে

রংধনুর সাতটি রঙে বাংলা ওড়ে৷
বে নি আ স হ ক লা একুশ গড়ে৷
ফুলের ভেতর,
বাংলা আতর,
সাত তিনে একুশ মানে মাতৃভাষা৷
বাংলা আমার বাংলা তোমার বাসা৷

বাংলার উঠোন সাত তিনে একুশ৷
বাংলার ভাষায় বাঙালির হোক হুঁশ৷
বাংলা মানে এক এ চন্দ্র,
বাংলা বাঙালির মুখ মন্ত্র,
সাত তিনে একুশ মানে বাংলা ভাষা৷
বাংলা হোক বাঙালির ভালোবাসা৷

বাংলার রঙ ছড়িয়ে পড়ুক শ্রাবন মেঘে৷
ঝরঝর বারিধারায় থইথই হোক আবেগে৷
বাংলা মানে মায়ের উনুন,
বাংলা মানে নয় তো করুন,
সাত তিনে একুশ মানে আমার ভায়ের শপথ৷
বাংলার গরব জানাও সবে বাংলার হকিকৎ৷

চমকানো সেইদিন
ফরিদ সাইদ

ফাগুন এলেই মনে ভাসে
হাত উচানো সিন
মনে পড়ে মনের কাচে
চমকানো সেই দিন।

রঙছড়ানো পথে
চললো আলোর রথে
প্রতিরোধের দেয়াল ভেঙে
এগিয়ে ছিল কারা ?
বুকের তাজা রক্ত ঢেলে
সামনে এলো যারা।

স্মৃতির মিনার
স্মৃতির মিনার
তোমার কাছে ঋণ
আমার মুখের মায়ের ভাষা
বাজাই সুখের বীণ।

এক পৃথিবী একটা আঁচল
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

আঙুল দিয়ে এঁকেছিলাম বটগাছ
মাথার চুলের মতো অগণন ডালপালায়
হাত ছড়িয়ে বুঝতে পেরেছিলাম
বৃষ্টিভোরে মায়ের গায়ের গন্ধ লেগে আছে

বৃষ্টিদিনে ছাউনি এসে মাথায় হাত রাখে
বৃষ্টিদিনে কোলের উষ্ণতায় জীবন ছড়িয়ে যায়
ঘরের এককোণ থেকে আর এক কোণ পর্যন্ত

কে জানত বৃষ্টি একটু ধরে এলে
ছাউনির নিচে থেকে সবাই যে যার যানে চেপে বসবে

রোদ উঠলে ভুলে যেতে হয় গাছের পাতা ?

প্রত্যেকেরই আজ বেশ বড় এক একটা বাড়ি
এক ছাঁচ, এক রঙ- যেকোনো একটা ছাউনি

বৃষ্টিদুপুরে একাকী বাসস্টপে আকাশ পড়লে মনে পড়ে
আমার মায়ের একপৃথিবী একটা আঁচল ছিল ।

আমার মায়ের বাংলা ভাষা
তাজ ইসলাম

পাখির ভাষায় পাখি বলে
পাখির সাথে কথা
কুলুকুলু শব্দে ভাঙে
নদীর নীরবতা
প্রজাপতি কথা বলে
রোজই ফুলের সাথে
জোসনা চাঁদের মৌন কথা
চলে নিঝুম রাতে।
আমার মনের গহীন তলে
যত দুঃখ আশা
সকল কিছুই প্রকাশ করে
আমার মায়ের ভাষা।
বাংলা আমার মায়ের ভাষা
তার তুলনা নাই
এই ভাষাতে কথা বলি
আনন্দে গান গাই।

একুশ…
মাহবুব মুকুল

একুশ আমার বুকের ভেতর
উতাল পাথাল ঢেউ
একুশ পুষি হৃদয় মাঝে
কেউ জানেনা কেউ।

সালাম রফিক নিত্যদিনই
মনে জাগায় আশা
সেই আশাতেই এগিয়ে চলি
সাথে বাংলা ভাষা।

স্বৈরাচারের কালো থাবা
যখন চতুর্দিক
একুশ এসে ঠিক তখনই
দেয় দেখিয়ে দিক।

যুগে যুগে তাইতো একুশ
পথ হারাদের পথ
এ পথ দিয়েই আসবে বিজয়
থাকুক যত মত।

তাইতো একুশ যত্নে রাখি
মনের গভীর কোণে
নয় কোনো নয় আপোষ কোনো
স্বৈরাচারের সনে।

ভাষা দিবস
সৈয়দা কানিজ রাসুল

ফেব্রুয়ারীর একুশ তারিখ ভাষা দিবস হলো
কাদের জন্য এই কাজটি সফল হলো বল?
সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার আরও কত নাম
জীবন দিয়ে রাখলো তারা মায়ের ভাষার মান।
মায়ের মুখের মধুর ভাষা জন্ম থেকে শোনা,
সোনা আমার, মানিক আমার
মায়ের চোখে হাজার স্বপ্ন বোনা।
‘মা’ ডাকে মধু ঝরে ‘আম্মিজানে’ নয়
‘সোনে চান্দী’ বলতে হবে তাই কি ধাতে সয়?
উর্দু হরফে বাংলা লেখা লিখতে হবে বলে
উঠলো ফুঁসে বাঙালিরা, পড়লো ফেটে ক্ষোভে।
বাঙলা মায়ের সোনার ছেলেরা শপথ নিল তাই
বাঙলা হবে রাষ্ট্রভাষা উর্দু হটাও ভাই।
রক্তে ভেজা বর্ণ আমার ছড়াক আলো বিশ্বময়
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষায় একুশ বাঁচুক জগৎময়।

আটই ফাল্গুন
রবিউল মাশরাফী

রাষ্ট্র ভাষা উর্দু হবে জিন্নাহ যখন বলছিলো
সেই ভাষণে ছাত্র সমাজ “নো নো” ক’রে চলছিলো
তাদের এমন নিঠুর কথা বাঙ্গালী যে মানলো না
প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিন আমলে তা আনলো না
ঢাকার বুকে বিপুল পুলিশ উঠলো মেতে হামলাতে
বাঙ্গালীদের রক্ত গরম পারলোনা রাগ সামলাতে
আন্দোলনে নামলো তারা একটি দাবী পেশ করে
রাষ্ট্রভাষা বাংলা হবে সেই দাবীরই রেশ ধরে
বাংলা ভাষার জন্যে লড়ে অকাতরে জান দিলো
মাতৃভাষার প্রতি বুঝুন কেমন তাদের টান ছিলো
ভাষা শহীদ সালাম বরকত রফিক শফিক জব্বারে
দেখিয়ে দিলো দেশ ও জাতির জন্যে তারা সব পারে
রক্তে কেনা সেই ভাষাকে শ্রদ্ধা ক’রে চলছিনা
ইংরেজিতে তুখোড় তবে বাংলা ভালো বলছিনা
ঢাকার দু’টি সংগঠনের দাবি এবং চেষ্টাতে
যুক্তিযুক্ত রায় এসেছে এখন থেকে দেশটাতে
শহীদ দিবস হবে পালন বাংলা তারিখ সাল গুনে
ফেব্রুয়ারির একুশে নয় মহান আটই ফাল্গুনে।

মাতৃভাষা
শ্রীলেখা চ্যাটার্জি

বাংলা আমার ভাষা !
বাংলা আমার ভাষার কৃষ্টি মুড়ে ,
চলনে বলনে প্রবাহতে আছে জুড়ে !
বাংলা ভাষার আশা !
শিখরে কিরীট সৌর দীপ্তি স্নাত
চরণে নূপুর বিপ্লব সঞ্জাত !
প্রদাহে শহিদ ভ্রাতা !
সৌর–ধৌত নির্যাসে নিষিক্ত
ভাষা বিপ্লবে কত দ্রোহীরা রিক্ত ;
শহিদ রক্তে গাঁথা
আমার কলম যে পথে চলতে চায়
আমার বাক্য যে কথা বলছে হায়
বাংলা ভাষার পথে !
আমি বাংলায় কথা বলি আজীবন ;
সম্পদ লুটি আমি ভাষার শ্রাবণ !
কোনো একুশের রথে
গান গাই আমি বাংলায় সুর তুলে ,
প্রাণের লহরী উথলি ওঠে যে দুলে —
শহীদ সমাধি জুড়ে !
বাংলা ভাষায় এঁকেছি মায়ের স্নেহ ;
এঁকেছি শিশুর কান্না হাসির গেহ ;
বিশ্ব ভবন ঘুরে
পিতার আদেশ মায়ের মমতা বাঁধে ;
অপত্য সুখ দুঃখ হরণী সাধে
মাতৃ ভাষার তরে !
আমার তোমার সবার বাংলা ভাষা !
মানসে স্বপনে মনে জাগ্রত আশা
বাংলা মায়ের ঘরে

সবার সেরা রাষ্ট্র ভাষা বাংলা ভাষা
শওকত আলম

মায়ের ভাষা বাপের ভাষা
মধুর ভাষা বঁধুর ভাষা
বোনের ভাষা বাংলা ভাষা।
চাঁদের ভাষা মাছের ভাষা
মাঝির ভাষা গাছির ভাষা
তারার ভাষা বাংলা ভাষা।

ফুলের ভাষা কুলের ভাষা
কুলির ভাষা তুলির ভাষা
যাদুর ভাষা বাংলা ভাষা।
খোকার ভাষা খুকির ভাষা
আটের ভাষা হাটের ভাষা
রক্ত মাখা বাংলা ভাষা।।

রবির ভাষা কবির ভাষা
নদীর ভাষা ছবির ভাষা
পাখির ভাষা বাংলা ভাষা।
বিলের ভাষা ঝিলের ভাষা
বুকের ভাষা ব’য়ের ভাষা
মুখের ভাষা বাংলা ভাষা।।

মাঠের ভাষা চাষের ভাষা
ভোরের ভাষা পূবের ভাষা
রোদের ভাষা বাংলা ভাষা
চাষার ভাষা চাষীর ভাষা
গাঁয়ের ভাষা মনের ভাষা
ঢাকার ভাষা বাংলা ভাষা।।

লেখার ভাষা শেখার ভাষা
আশার ভাষা বাসার ভাষা
মেছের ভাষা বাংলা ভাষা।
ছড়ার ভাষা পড়ার ভাষা
দিদির ভাষা চিঠির ভাষা
দাদার ভাষা বাংলা ভাষা।।

খেলার ভাষা মেলার ভাষা
রাতের ভাষা দিনের ভাষা
চোখের ভাষা বাংলা ভাষা।
রাজার ভাষা প্রজার ভাষা
সুখের ভাষা দুখের ভাষা
সবার সেরা বাংলা ভাষা।।

মায়ের ভাষা থাকবে অটুট
পলাশ মন্ডল

বাংলা ছিল বাংলা আছে থাকবে বাংলা ভাষা।
মায়ের ভাষা থাকবে অটুট, এটাই সবার আশা।
তোমার পাড়ায় তোমার ভাষা বলব আমি স্নেহে।
আমার পাড়ায় আমার ভাষা রোখার তুমি কে হে?
তোমার ভাষা তোমার মা হয় , আমার সে হয় মাসি।
মায়ের চেয়ে মাসির দরদ কক্ষনো নয় বেশি।
তোমার মা কে জানাই বহত শুকরিয়া আর সালাম।
আমার মাকেও তোমাকে তাই বলতে হবে প্রণাম।

ভাষার স্মৃতি
জুবায়ের দুখু

বাংলা ভাষায় কথা বলি
করি তারই বড়াই
তোমার জানো ভাষার জন্য
করেছে বীর লড়াই?

সেই বীরেদের রক্তে কেনা
ভাষা দেশে বলি
এসোনা ভাই তাদের পথে
জীবন গড়ে চলি।

প্রাণের বাংলা ভাষা
আনিসুর রহমান

একত্রিশ কোটি মানুষেৱ মুখে
ধ্বনিত হয় যে ভাষা
সেইতো আমাৱ অতি গর্বেৱ
প্রাণেৱ বাংলা ভাষা ৷

ভাষাৱ সঙ্গে নইযে আপশ
নেইযে কোন রক্তচক্ষুকে ভয়
ভাষাৱ জন্যে নিজ জীবন কে
রাজি আছি করতে ক্ষয় ৷

ভাষাৱ তরে হয়েছে শহীদ
রক্তে রঞ্জিন পিচঢালা পথ
আওয়াল, তাজুল, জব্বাৱ,
ৱফিক, শফিক, সালাম, বরকত ৷

রক্তেৱ দামে কেনা
মোদেৱ প্রিয় বাংলা ভাষা
বর্ণমালাৱ প্রতি তাদেৱ ছিল
কতই না ভালোবাসা ৷

ভাষাৱ নামেই দেশটা
মোদেৱ প্রিয় বাংলাদেশ
রুপে,গুনে,বৈচিত্রে
তাহাৱ নাইযে শেষ ৷

মোৱা বাংলায় হাঁসি,বাংলাতে হাঁসায়,
বাংলায় কাঁদি,বাংলায় কাঁদায় ৷
বাংলাতে ভাসি,বাংলাতে ভাসায়
মোৱা বাংলাতেই কথা কই ৷

বাংলায় দেখি স্বপ্ন
মোৱা বাংলায় বাধি ঘড় ,
বাংলা ভাষা আমাদেৱ মুখে
বেচেঁ রবে অবিনশ্বৱ ৷

বাংলায় লিখি কবিতা
বাংলাতেই গান গাই,
বাংলা ভাষা সবাৱ সেৱা
তাহাৱ তুলনা নাই ৷

বাক-যন্ত্র
সালমা বিনতে শামছ

এই যে কত কত সুন্দর শব্দমালা বাকযন্ত্র থেকে প্রতিনিয়ত প্রকাশ হচ্ছে।
কত রং
কত ঢং
কত গন্ধে মাখা সে ভাষা,
মুগ্ধ হই, আপ্লুত রই, প্রেমে পড়ি,
কি যে এক অদ্ভুত নেশা।

অথচ কারা যেন মুখ থেকে সে ভাষা ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিলো,
অন্য ভাষা চাপিয়ে দিয়ে ; বন্দি করেছিলো বাকযন্ত্র।
সোনার ছেলেগুলো; বড্ড ভালোবাসে এ ভাষা,
কি মুধুর, কি যাদুর প্রিয় বাংলাভাষা।

বুক পেতে
রাজ পথে
মৃত্যুর সামনে দাড়িয়ে,
ভাষার জন্য ভালোবাসা
বিদেশ বিভূঁই ছাড়িয়ে।

এ ভাষায় কত কবিতা গান
কত শত ইতিহাস, স্মৃতি
অনুভূতি, জীবন, প্রকৃতি, সমাজ,
গাঁথা আছে কত প্রেম-প্রিতী।

দিনটি সেই একুশের ক্ষন
জীবন দিয়ে ভাষা ছিনিয়ে
ইতিহাসে লিখেছি নতুন পণ।

বাংলা ভাষা আমার অহংকার,
এ ভাষার প্রতিবাদে তুলি ঝংকার।
বেঁচে থাক বাংলা মুখের বুলিতে
চাই না কখনো
এ ভাষা ভুলিতে।

ভাষা মানে
নাছির বিন ইব্রাহীম

ভাষা মানে চাষি, মিষ্টি মুখের হাসি
জয় চিনিয়ে আনে,গোলা ভরা ধানে।

ভাষা মানে লাল, কৃষ্ণচূড়ার ঢাল
সবুজ পাতার ফাঁকে ,যে আমাকে ডাকে।

ভাষা মানে মায়ের,ডাকটি ছোট ভাইয়ের
বাবার মুখের বুলি, বোনের রংতুলি।

ভাষা মানে আশা এবং স্বপ্নে ভাসা
গান কবিতা লেখা, তোমায় কেবল দেখা।

মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা
রাহীদুল ইসলাম রাহী

বাংলা ভাষায় পূর্ব বাঙালি
বলতো মনের কথা ;
মাকে ডাক’তো মা বলে
রাখতো বুকে মাথা।।

শান্তি সুখের নিদ্রা যেতো
ভুল’ ত মনের জ্বালা ;
স্বর্গ সুখের স্নিগ্ধ মায়ায়
কাটাতো সারাবেলা।।

মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা
সেই ভাষাতে মতের প্রকাশ ;
ভাষার এমন জনপ্রিয়তা দেখে
পাকের বুকে জাগল হিংস্রক্রাস।।

মায়ের ভাষা কাইরা নিতে
ওরা করল নানান ফন্দি ;
উপরে এক ভেতরে আরেক
ওদের ভাষার বানাতে মরিয়া বান্ধী।।

নিখুঁত পরিকল্পিত অংক কষে
বাংলা ভাষা মুছে ফেলার
কেউ যেনো নামতে না পরে রাজপথে
খুলে বিদ্রোহ দ্বার।।

আইনের ধারা জারি করে
করে ক্ষমতার অপব্যবহার ;
রাজপথ করে নেয় নিজের
ভয়ময় শব্দের ঝংকার।।

ওরা জানে তো মা পাগল খোকা
কি করতে পারে ভাষার জন্য ;
ভাষা যে ওদের মা ও প্রাণ
তার জন্য কতটা হতে পারে জঘন্য।।

ভেঙে ফেললো ৫৪ ধারা
রাজপথে ভাষার দাবির শ্লোগান
বাংলাই হবে মাতৃভাষা
কেড়ে নিতে পারবে না দেহে থাকতে প্রাণ।।

উত্তাল রাজপথ
কণ্ঠে প্রতিবাদী বুলি ;
ওরা প্রতিবাদী শব্দ স্তব্ধ করতে
চালায় বেপরোয়া ভাবে গুলি।।

সেই গুলিতে ঝরে গেলো তাজ প্রাণ
সালাম রফিক সফিক বরকত জব্বার ;
বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কাড়লো
নতুন ইতিহাসের জয়গান।।

২১শে তারিখ! ২১শে তারিখ!
ফেব্রুয়ারীর ভাই ;
হাজার ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষা
ওরা জীবন দিয়ে দিল প্রমাণ।।

বছর বছর ২১শে আসে
ইতিহাস দিতে জানান;
ফেব্রুয়ারীর ভেতর সীমাবদ্ধতা চাই না
বার মাস চাই বাংলার গান।।

বাংলা
সুবোধ সরকার

দুঃখ কষ্ট কার ঘরে নেই, আছে আমাদেরও ঘরে
আশায় আশায় তবু আমাদের বুক ধ্বক ধ্বক করে।

বাংলা ভাষায় ঝড় উঠেছিল , উঠেছে আবার ঝড়
এই জনপদে, এই ভাষাতেই তোমার আমার ঘর।

কাকদ্বীপ থেকে কুচবিহারের পথে পথে ভাইবোন
‘মণি মণি’ বলে কে যেন ডাকছে, ছুটে যায় কান্চন।

সোনার ছেলেরা কেন ভিনদেশে সোনা খোঁজ করে ফেরে
আমরা কী তবে হারার আগেই বসে আছি সব হেরে?

হতেই পারে না, লক্ষ লক্ষ হাতের ওপরে হাত
সব বাঙালিরা বাংলা বললে ঘটে যাবে বাজিমাত ।

আছে অনাহার,আছে মারামারি,তবু আছে ভালবাসা
গর্ব করার মতন রয়েছে একটি মাতৃভাষা।

একুশ মানে
কাজী রহিম শাহরিয়ার

একুশ মানে ছোট্ট বেলায়
অ আ শেখা;
একুশ মানে মায়ের ভাষা
রক্ত দিয়ে লেখা!

একুশ মানে সালাম বরকত
শফিউরের নাম;
একুশ মানে রফিক জব্বার-
রক্তে রাঙা খাম!

একুশ মানে ফাগুন হাওয়ায়
দুলছে কৃষ্ণচূড়া;
একুশ মানে স্মৃতির মিনার-
হিমালয়ের চূড়া!

একুশ মানে মায়ের ভাষায়
গাইছে পাখি গান
জীবন দিয়ে সেই ভাষারই
রাখতে হবে মান!

দৃপ্ত পতাকারা
তৈমুর খান

আমার কান্নার শব্দ, আমার মর্মরিত প্রেম
সমূহ শ্রদ্ধার গান, চেতনার নব উত্থান
সব লিখে রাখি

সব বেদনার পরাভব, অজর অক্ষর
নীলাভ আকাশ আর নিরুচ্চার অভিমান
বিশ্বাস আর বিস্ময়, কাঙ্ক্ষিত মুক্তির সোপান

দূরদৃষ্টি জেগে ওঠা দূর্বার কাছে
নিজেকে পাঠাই আমি নিরন্তর মুখর আলোকে
এই নাও ফেব্রুয়ারি,সোনালি সকাল
বিনম্র মহিমার

একটি সুচারু ত্যাগ, উষ্ণ উল্লাস
প্রাচুর্যের অন্তহীন ব্যাপ্ত ক্রিয়ায়
মগ্ন যাপনের দিন ফিরুক আবার

রক্তে পা ভিজে যায়, তবু দাঁড়ায় ভাষা
ভাষার সাম্রাজ্যে ওড়ে দৃপ্ত পতাকারা
স্নিগ্ধ তরবারি হাতে ভাষার যুবক যুবতীরা
ঘোষণা করে জয়

ফাগুন মাসে আগুন হাসে
মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর

আমি একজন বাঙালি তাই
বাংলায় করি শব্দের চাষ,
বাসন্তী ফাল্গুন যে আমার
মাতৃভাষা অর্জনের মাস।

ভাষার মাসে বাংলা নিয়ে
করেন যারা ফাজলামি,
তাদের নিয়ে লিখতে ছড়া
সোচ্চার হব আজ আমি।

ফাগুন মাসে আগুন হাসে
মাতাল হাসে দুষ্টুমিতে,
এদের আজকে রুখতে হবে
রাখব না কো ইষ্টুমিতে।

শোধ হবে না
শাহীন খান

চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা আছে যতোদিন
ফাগুন ফাগুন কোকিল ডাকা বসন্ত রঙিন
প্রজাপতি ডানার সাথে হাওয়া যে খেলে
দোয়েল কোয়েল শ্যাম পাখি সব পাখা যে মেলে
নদীর ঢেউয়ে আছড়ে পড়ে দুঃখ শত শত
খোকার মুখে অ আ যে পাঠ লাগে সুধার মতো
শিমুল পারুল লালের আভায় শোকটা যে ঝরে
ঠিক তখনই রফিক তোমায় মনে যে পড়ে!
তোমরা আছো বুকের ভেতর দিন যে প্রতিদিন
কোনদিনই শোধ হবে না তোমাদের এ ঋণ।

ফাগুন মাসের আটে
জানে হৃদয়

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
ফাগুন মাসের আটে
রক্ত বন্যা বয়ে ছিলো
দেশের রাস্তা ঘাটে।

রফিক শফিক জব্বার সহ
নাম নাজানা কতো
তরতাজা প্রাণ উড়িয়ে নিলো
পশু-পাখির মতো।

কেউ হারালো প্রাণেরস্বামী
কারো বুকের শিশু
দ্বন্দ্ব নয়তো ব্যক্তি গত
ভাষাই কেবল ইসু।

কেমনে তোরা ভুলে গেলি
ভাই হারানোর দিন
স্মৃতি সৌধে ফুল দিলে কি
শোধ হয়ে যায় ঋণ!

বাংলা ভাষার নেই ব্যবহার
গোড়ায় গন্ডগোল
একুশ এলেই চেতনবাজি
স্মৃতিসৌধে ফুল।

দেমাগ
আসাদজামান

ভাষা-
বর্ণ ও শব্দের নীরব কোলাহল
ভাষা- ছায়া ও পাতার সাথে আরো দেয় ফল।

কি আছে আমাদের ?
অভিধান খুললেই তেলচিটে রক্তের দাগ!
রোগ শোক জরা, সাথে কিছুটা দেমাগ।
এইতো! যুগ কতক আগে;
এখনো রক্ত ঢালি, স্বপ্ন-আবেগে।

কেটেছে কি অন্ধকার ভাষার জমিনে?
নিবিড় স্বাধীনতায় ধ্বনিরা কি বাঙময়!
পুড়েছে চুনেই ঠোঁট; দধিতে বরাভয়।

রাত্রির অন্ধকারে জেগে থাকে প্যাঁচা,
সাথে করে পরাশক্তিময় দু’টি চোখ
বোধের যত প্রকাশ বাঙলায় মূর্ত হোক।

বাংলা ভাষা
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

মায়ের ভাষা ভাইয়ের ভাষা
বাংলা ভাষা ওই,
খোকন সোনার কন্ঠে শুনি
ফুটছে যেনো খই।

নদীর ভাষা পাখির ভাষা
বাংলা ভাষা সুর,
মায়ের কোলে কান্না থামে
রয় না যেন দূর।

বাংলা ভাষা হাসি খুশির
মজার মজার গান,
মায়ের কোলে শুনছি শুয়ে
ভরে গেছে প্রাণ।

এই ভাষাতে হামলা দিলো
হায়েনার ওই দল,
উর্দু হবে রাষ্ট্র ভাষা
করলো প্রয়োগ বল।

সালাম রফিক শফির জন্য
বাংলা ভাষা পাই,
রক্ত দিয়ে কেনা ভাষা
মনে দিলাম ঠাঁই।

আমার অনুভূতি আমার ভাষা
বিপুল চন্দ

বিকৃত ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া অনেক সন্তান মাকে মা আর বাবাকে বাবা ডাকতে পারে না।তারা ভিনদেশ থেকে ধার করা নামে ডাকে অথচ অনেক পিতামাতা তাদের সন্তানকে সাথে করে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জানাতে সেল্ফী উৎসবে মেতে উঠেন।

ফুল দেওয়া আর সেল্ফী তোলার ফাঁকে যে সময়টুকু মেলে তারা তখন কি ভাষা দিবসের ইতিহাস সম্পর্কে নিজের সন্তানকে কিছু বলেন?সন্তান কি তখন প্রশ্ন করে – ডায়্ডি কেন তোমাকে তাহলে বাবা ডাকতে নিষেধ করো..? তার উত্তরেও হয়তো ইতিহাস উলঙ্গ করে ফেলেন খুব সচেতন ভাবে।

হৃদয়ের ভাষা হৃদয় থেকে হারিয়ে যাবার সাথে সাথে হৃদয়ের সম্পর্কগুলোও দুর্বল হয়ে পড়ে।
মাতৃভাষা শুধুই একটা ভাষা নয় একটা বন্ধন।

মাতৃভাষার শক্তি অনেক তা না হলে সালাম বরকত রফিক জব্বাররা একটা ভাষার জন্য বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে শহীদ হতো না, আর আজ পালন হতো না আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

বাবাকে বাবা আর মাকে মা ডাকার মধ্যে যতটা আবেগ কাজ করে,ডায়্ডি আর মাম্মি ডাকার মধ্যে ততটাই অহংকার কাজ করে।আমরা খুব সচেতন ভাবে নিজের সন্তানকে অহংকারী করে তুলছি।

আমার সন্তান আমাকে বাবা ডাকে কারণ তাকে বাবা ডাকতে শিখিয়েছি, আজীবন যেন বাবাই থাকি ডায়্ডি হবার বিকৃত স্বপ্ন দেখি না।

“ভাষা শহীদদের প্রতি এক হৃদয় শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা”

সত্যাধারা
হাসান আবু নাঈম

কালের কাছে বন্দি হতে কিংবা আমি সাক্ষী হতে
এলাম আমি একটি ভাষার খুজেঁ,
আকাশ চরণ মুগ্ধ হয়ে, ডাকল আমায় কাছে
দাও না ডুব শুকনো জলের মাঝে।

ওদের কাছে ভিখ চেয়ে, কী পেলাম তাই হাতে?
পূজ্ঞীভূত রাতের কালো?
দিল কি তাই হাত বাড়ালে
একটি আশার আলো?

মায়ের ছোঁয়া পায়নি বাতাস
কেমনে পাব আমি?
বৃক্ষ হল ভূমি ছাড়া
হাসল কি তাই মরুভূমি?

রোদে পুড়া, দুঃখে মরা, ক্লান্ত প্রাণে ছুটে নদীর ধার
অসীম তেজে তবুও দেখ, রক্ত নদী পার।

এই পৃথিবীর সকল ভাষা
কাদুঁক রাতিভর
আমার ভাষা বাধুক এবার
সকল দেশে ঘর।

ভীনদেশীরা দিকনা হানা যতই
এই হৃদয়ে বসত ততই ফেব্রুয়ারি মাস,
নিত্যধারায় সত্যাধারা
চুমো খাবে আকাশ।।

বর্ণমানব
ফিহির হোসাইন

স্বরের সুতোয় জোড়া বর্ণ
শব্দের ঘরে হাঁটে
দে-বি-অর্ধ-তৎ-খাঁটি
শব্দ সমাহারে
পূর্ণবাক্যের অস্তি মিলে
অর্থবহ হলে॥

সমাস, সন্ধি, সর্গ নিয়ে
নব্য শব্দ ঘটে
যোগরূঢ় শব্দ সাঁঝে
বাক্য সমাজ গড়ে॥

একটি বই-এ নিযুত বর্ণ
বাক্য পাশাপাশি
সবমিলে তার নাম উপাধি
গদ্যপদ্য রাখি॥

ঠিক তেমনি মানব সমাজ
রাষ্ট্র গঠন করে
নারীর নদে নরের তরী
বৈঠা বেয়ে চলে॥

বর্ণমালার প্রেম
জিহাদ হোসেন

অসহ্য অনুভূতি সময়ের পর সময় পার করা
নিষিদ্ধ সময়ের খোলস থেকে ছাড়া পেয়ে,
স্মৃতির দুয়ারে লাল গোলাপের
অর্ঘ সাজিয়ে বসে।

তিলে তিলে সঞ্চিত গুমোট কষ্টের বিনিময়ে
রক্তে ভেজা রাজপথে, একুশের প্রথম প্রভাত ফেরি
লাল সবুজের বুকে সহসা গর্জে ওঠা
সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতসহ সূর্য সন্তানেরা

সুখ দিয়ে সুখ কেনা হয়না কত দিন !
সুখ এখন অনিয়মিত এক মৌসুমী অনুভুতি।

বসন্ত নামের কালের খেয়ায় ঝড়ে পড়ে
নিত্য নতুন তাজা তাজা পত্র-পল্লব

কৃষ্ণচূড়ার রূপের আভায় বেসামাল ষোড়শী
বসন্তের বর্নিল সাজে
সবুজ পেড়ে সোহাগী শাড়ীর ভাজে
শহীদ মিনারের বেদীতে বসে
বাসন্তি পাখি কলঙ্কের তীলক আঁকে।

আজ যুগান্তর বিভোর বর্ণমালার প্রেমে
অসহ্য ভালোবাসায় সিক্ত শহীদ মিনার।

মুখরিত জনপদ
বাপ্পা আজিজুল

আমরা কোন কালেই বোবা ছিলাম না। আমাদের ছিল ঝির ঝির সুর, মর্মর নিনাদ। আমাদের কাকলি ছিল, কূজন ছিল,হ্রেষা ছিল, ছিল বৃংহিত।
একদিন আমরা আক্রান্ত হলাম। বর্বরেরা আমাদের উপর ছড়ি ঘুরালো। রাজসভায় চাপিয়ে দিল অসভ্য সারমেয়দের সংলাপ।
আমরা বিমূঢ় হলাম। আমাদের একটি মুখ বন্ধ হল বটে আন্দোলিত হল দশটি আঙুল।
তারপর আমাদের ঝিরঝিরে বাতাস হল শোঁ শোঁ ঘূর্ণিবত, মর্মরে শুকনো পাতায় দাউদাউ দাহ হল। কূজন হল খুনে কাঁপন ধরা শ্লোগান। মিছিলে যোগ হল গর্জন। আমাদের ঐকবদ্ধ সংগ্রামে জংলী ভূত নগর ছেড়ে পালালো। বসন্ত এল। দোয়েলের শিসে, কোকিলের কুহুতানে মুখরিত হল আমাদের জনপদ।

একুশে ফেব্রুয়ারী
স্বপন শর্মা

একুশ এসে বদলে দিলো বাঙালীদের জীবন
একুশ এসে বুঝে দিলো সব বাঙালী আপন
একুশ এসে ফিরে দিলো মায়ের মুখের ভাষা
একুশ এসে পূরণ করে সবার মনের আশা।

একুশ এলে আজ খুশিতে ভরে সবার মন
একুশ এলে রঙিন হলো সকল ফুলের বন
একুশ এলে ছড়িয়ে পড়ে সুবাসিত ঘ্রাণ-
একুশ এলে ভাইয়ের ডাকে সতেজ হয় প্রাণ।

একুশ মানে সবাই জানে জীবন চলার গতি
একুশ মানে ভুলিয়ে থাকা সকল দুঃখ স্মৃতি
একুশ মানে দুখের মাঝে মহা সুখের বান-
একুশ মানে গেয়ে ওঠা প্রভাত ফেরির গান।

একুশ এসে ভেঙে দিলো, ছিলো যতো বাঁধা
একুশ এসে পূর্ণ করে ছিলো যতো আধা-
একুশ এসে ফিরে দিলো সঠিক সত্য মূল
একুশ ফোঁটায় পলাশ শিমুল কৃষ্ণচূড়া ফুল।

একুশ মানে লক্ষ প্রাণের রক্তে ভেজা ছবি
একুশ মানে পুব আকাশে উদীয়মান রবি।

বাংলাভাষা
শেখ একেএম জাকারিয়া

আমার ভাষা বাংলাভাষা
সকল ভাষার সেরা,
ফাগুন এলে এদেশ থাকে
ফুলে ফুলে ঘেরা।

আমার ভাষা বর্ণমালা
মায়ের সেরা দান,
এই ভাষাতে আমরা সবাই
কণ্ঠে তুলি গান।

আমার ভাষা মায়ের ভাষা
জুড়ায় সবার প্রাণ,
এই ভাষা আজ দেশে দেশে
ছড়ায় মধুর ঘ্রাণ।

আমার মাতৃভাষা
শম্পা মনিমা

ভাগ্যিাস আমার মাতৃভাষা বাংলা
মায়ের স্নিগ্ধ লতাপাতা ভেজা স্নেহ আজ বুকে মাঝে রাখা
ভাগ্যিাস আমার মাতৃভাষা বাংলা
সাতসমুদ্র নিকানো ঘরবাড়ি পাকা ধান আজ বুকের মাঝে রাখা
ভাগ্যিদস আমার মাতৃভাষা বাংলা
অথৈ প্রেম নকশিকাঁথার পাগল বাউল আজ বুকের মাঝে রাখা
ভাগ্যিদস আমার মাতৃভাষা বাংলা
রাঙামাটির কোমল বাঁশি সুর উল্লাস আজ বুকের মাঝে রাখা
ভাগ্যিটস আমার মাতৃভাষা বাংলা
উদাস পথিকের ভরা দিঘল ব্যা কুলতা আজ বুকের মাঝে রাখা
ভাগ্যিটস আমার মাতৃভাষা বাংলা
উৎসবে সব ফোটায় ফুল চিরন্তন ভিড় আজ বুকের মাঝে রাখা
ভাগ্যিটস আমার মাতৃভাষা বাংলা
সমাবেশে চিরসবুজ কবিতার গলা আজ বুকের ভেতর রাখা
ভাগ্যিেস আমার মাতৃভাষা বাংলা
একআকাশ উজান তারার লক্ষ প্রদীপ আজ বুকের মধ্যে রাখা
ভাগ্যিেস আমার মাতৃভাষা বাংলা
হাজার নদীর ঢেউ পেরিয়ে তোমাকে পাওয়া আজ বুকের মধ্যে রাখা।

আমার মাতৃভাষা
শম্পা মনিমা

ভাগ্যিেস আমার মাতৃভাষা বাংলা
মায়ের স্নিগ্ধ লতাপাতা ভেজা স্নেহ আজ বুকে মাঝে রাখা
ভাগ্যিেস আমার মাতৃভাষা বাংলা
সাতসমুদ্র নিকানো ঘরবাড়ি পাকা ধান আজ বুকের মাঝে রাখা
ভাগ্যিদস আমার মাতৃভাষা বাংলা
অথৈ প্রেম নকশিকাঁথার পাগল বাউল আজ বুকের মাঝে রাখা
ভাগ্যিদস আমার মাতৃভাষা বাংলা
রাঙামাটির কোমল বাঁশি সুর উল্লাস আজ বুকের মাঝে রাখা
ভাগ্যিটস আমার মাতৃভাষা বাংলা
উদাস পথিকের ভরা দিঘল ব্যা কুলতা আজ বুকের মাঝে রাখা
ভাগ্যিটস আমার মাতৃভাষা বাংলা
উৎসবে সব ফোটায় ফুল চিরন্তন ভিড় আজ বুকের মাঝে রাখা
ভাগ্যিটস আমার মাতৃভাষা বাংলা
সমাবেশে চিরসবুজ কবিতার গলা আজ বুকের ভেতর রাখা
ভাগ্যিেস আমার মাতৃভাষা বাংলা
একআকাশ উজান তারার লক্ষ প্রদীপ আজ বুকের মধ্যে রাখা
ভাগ্যিেস আমার মাতৃভাষা বাংলা
হাজার নদীর ঢেউ পেরিয়ে তোমাকে পাওয়া আজ বুকের মধ্যে রাখা।

মুহ্যমান দেশে,শোক আসে
নিঃশব্দ আহামদ

স্মৃতির মিনার ছুঁয়ে জেগে ওঠে,সে দিন
ঘনীভূত অন্ধকারে বুলেটের আওয়াজ-বুকের তাজা রক্তে জ্বলজ্বল বর্ণ-যে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর রাজপথ
একুশ বুকের নিঃশ্বাসে জেগে ওঠা সাহসি স্ফুরণ৷

বরাবরই অদম্য তোমরা,ভাইয়েরা-ভেঙে করেছো চুরমার-শাসকগোষ্ঠীর ঘৃন্য ইশতিহার
শ্লোগানে মূখর সে স্বর-আজও বাজে ক্ষণে ক্ষণে, অমিয় বাণী সে-বাংলা,প্রাণের দামে প্রতিষ্টা এক অঙ্গিকার৷

প্রভাতফেরি,মুহ্যমান দেশে একুশ আসে শোকাচ্ছন্নতায়
কুয়াশার ভোরে সিক্ত ফুলের ঘ্রাণে স্মরি
যে অক্ষয় অক্ষরে রচে গেলে নাম, উদ্দীপ্ত যুবাদল
যুগে যুগে এই মহিমার রাখিতে মান, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রতিটি নগ্ন পদবিক্ষেপ৷

আর এই শোকের ভোরে, এলে একুশের ফেব্রুয়ারি
বুকপরে জেগে ওঠে, শোক শ্লোক-অনন্ত আহাজারি৷

একুশের ঋন
হামিদা পারভিন শম্পা

একুশ নয়তো গোলাপ,
নয় রজনীগন্ধার প্লাবন
লাখো শহীদের খুনে রঞ্জিত
বিধ্বংসী নয়নের আগুন।

একুশ নয় কুয়াশা স্নাত
শিশির বিন্দুর আড়মোড়া
সালাম, বরকত, রফিক,শফিকের
বর্ণমালা কয়েক জোড়া।

বাঙ্গালির প্রাণ একুশ যেনো
উচ্ছসিত শহীদের আত্মাহুতি
দিয়েগেছে প্রাণ দিয়েছে রথ
অগ্নি ঝরা বিজয়ের প্রগতি।

বাঙ্গলা মায়ের আনাচে-কানাচে
একুশের জয়ধ্বনি,
রবে বাঙ্গালী শ্লোগানে মুখর
সবুজ বাংলা হলো জননী।

একুশ স্মরণে
রাসেল হোসেন

সালাম, তোমাকে লক্ষ কোটি সালাম,
সালাম তোমারি জন্য যে
ধন্য তোমারি জন্য হে
বরকত, তুমি রত্ন তুমি বাংলার গৌরব,
তোমারি রক্তের গৌরবে এই জাতি হয়েছে কত সৌরভ!
রফিক তোমারি তাজা রক্তে আজো যেন অন্তরে ভেসে যায় বুক কাঁপিয়ে
ওরা কত নিষ্ঠুর, ওরা কত পাষাণ।
ওরা শুধু তোমাদের বুকের রক্ত ঝরায় নি
ওরা আঘাত করেছে পুরো জাতিকে।
ওরা ভেবেছিলো তোমাদের শেষ করে
দেশের ভাষা জাতির ভাষা, মায়ের ভাষা কেড়ে নেবে।
কিন্তু না,
তোমাদের এই পবিত্র রক্ত কভু বৃথা যেতে পারে না
বৃথা যেতে পারে না তোমাদেরি অক্লান্ত চেষ্টা
সালাম, রফিক, শফিক, বরকত, জাব্বার
তোমাদেরি আত্মত্যাগে সোচ্চার হয়েছে কোটি বাঙালি, সচেতন হয়েছে জাতি
ভাষার দাবিতে উত্তাল জনসমুদ্রের ঢল
ছিনিয়ে এনেছে আমার মায়ের ভাষা,
ওহে প্রিয় আত্মত্যাগি
আজ গোটা জাতি তোমাদেরি স্মরণে
চোখের অশ্রু ফেলে কাদে বিধাতার কাছে।
তোমাদেরি মঙ্গল কামনায়।
সালাম, রফিক, বরকত, জাব্বার, অহিউল্লাহ
তোমরা মৃত নও তোমরা জেগে আছো তোমরা বেঁচে থাকবে চিরকাল
কোটি বাঙালির হৃদয়ে।

আমার মা আমার ভাষা
পলাশ চন্দ্র দাস

জন্ম আমার এই বাংলায়
বাংলা আমার আশা,
এই বাংলায় বলি কথা
বাংলা আমার ভাষা।

আমার দেশের মধুর মাটি
সবার আছে জানা,
এই ভাষাকে করতে নস্যাৎ
দস্যু দিলো হানা।

রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম
বাংলা ভাষার জন্য
নেমেছিলো ঐ রাজপথে
লেজ গুটালো বন্য।

মায়ের মুখের মধুর ভাষা
বাংলা সেরা সবার,
এই বাংলার মান রাখতে
যোদ্ধা হবো আবার।

ফেব্রুয়ারির কাহন
সেতু সরকার

এই বাংলার যে দিকে তাকাই সবি সবুজ আর সবুজ
বর্ষার মৌসুমে ডুবে যায় ক্ষেত-খামার
কচি কচি ধান গাছগুলোতে যৌবন এসে দোলা দেয়
দূর থেকে কি অপরূপ সবুজের সমারোহ দেখা যায়,
মনে হয় যেন এই বাংলা মা তার সবুজ শাড়ির আচল পেতে
তার সৌন্দর্য দেখতে বিশ্বকে নিমন্ত্রণ জানাচ্ছে।
ধূসর সাদা বকগুলি শুকিয়ে যাওয়া খাল থেকে
ছোটো মাছ ধরে খাওয়ার জন্য উঁৎ পেতে আছে।
সাদা-কালো, গেরুয়া রঙের শালিকগুলো ছোটো ছোটো
সবুজ ঘাস গুলো থেকে পোকা ধরে আহার করছে।
তাদের সঙ্গ দিতে ঘুঘু, ডাহুকেরাও বাদ যায়নি।
খালের জলে কৃষকের হাঁসগুলোও আপন মনে ঘুরছে।
আর কৃষকেরা নিজের মনের আপন ভাষা দিয়ে
একে অন্যের সাথে কথা বলে বলে
নিজের ক্ষেত থেকে বাঁধাকপি, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া তুলে বাজারে
বিক্রির জন্য সবে তৈরি হচ্ছে
কৃষাণীরা রাতের রান্নার জন্য এ ক্ষেত ও ক্ষেত ঘুরে ঘুরে শাঁক তুলছে
কত কি শাক, হেলেঞ্চা লাল শাক, পুঁই শাক, আরও কত নাম না জানা শাক।
সূর্যও তার দিনের আলো শেষ করে পড়ন্ত বিকেলের কোমল আলো দিয়ে রক্তিম রঙ ধরে ডুবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
অন্যদিকে ওরা এসে বলছে পূর্ব পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা নাকি বাংলা হবে।
মানে এই বাঙালিদের নাকি বাংলা ভাষায় কথা বলতে দেবে না।
ছোটো বেলা মা,বাবা,প্রিয়জন যে ভাষা শিখিয়েছে,
সে ভাষায় নাকি বাঙালিরা ভাব প্রকাশ করতে পারবে না।
ওদের শিখতে হবে,লিখতে হবে,বলতে হবে উর্দু।
আচ্ছা বাপু, এ রকম নিয়ম কেন?
অযাচিত প্রশ্ন বলে ওরা প্রশ্ন কে উড়িয়ে দিল।
বাংলার শিক্ষিত সমাজ জেগে উঠল,ওরা বলে উঠল,
আমাদের দাবি মানতে হবে,রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।
এই বাংলার মানুষেরা মায়ের ভাষা,বাংলায় কথা বলে,
আমাদের মায়ের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে দিব না।
এই আন্দোলন দৃঢ়তর হলো,স্লোগান একটাই রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।
বাঙালি দের এত বড় স্পর্ধা ওদের সহ্য হচ্ছিলো না।
একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়
যথারীতি প্লেকার্ড,ফেস্টুন নিয়ে আন্দোলনে বের হলো।
ওদের ঠেকানোর জন্য ওরা পুলিশ কে দিয়ে চালালো গুলি।
বুলেটের হিংস্র আঘাতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ল,
রফিক,জব্বার,বরকতের মত আরও অনেকের দেহ।
অপরাহ্নের রক্তিম সূর্যের রঙের মত,দেহ ফেটে,
বেড়িয়ে এলো ওদের তাজা রক্ত,কি যন্ত্রণা।
ওরা যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে অবশেষে থেমে গেল।
ওদের রক্তের বিনিময়েই হয়তো পশ্চিম পাকিস্তানিরাও কিছুটা থেমে গেলো।
আমাদের দাবি ওরা মেনে নিলো।
কিন্তু বন্ধ করেনি ওদের অপ-রাজনৈতিক চাল।
কিন্তু এরই মধ্যে কোনো এক মহান গীতিকবি লিখে উঠল গান,
”আমার ভাই এর রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি,
আমি কি ভুলিতে পারি?”

আমার বাংলা ভাষা
আনিসুর রহমান

মধুর চেয়েও মধুর লাগে
আমার বাংলা ভাষা,
শুনতে লাগে খাসা
এই ভাষাতে মনের ঘরে
পুষি স্বপন আশা।

বাংলা ভাষার মত মধুর
ভাষা বিশ্বে পাই না,
বাংলা ছাড়া গাই না
তাইতো মোরা মাতৃভাষা
হারাতে যে চাই না।

এই ভাষাতে সুখের বৃষ্টি
ছন্দ তালে ঝরে,
হৃদয় সবার ভরে
মিষ্টি সুরে পাখির গানে
সবুজপাতা নড়ে।

বাংলা ভাষায় যাদুমাখা
ভোরের রবি হাসে,
ফুলের সুবাস আসে
এই ভাষাতে সুখের তরী
মন নদীতে ভাসে।

একুশে ফেব্রুয়ারি না আট ফাল্গুন
মিনহাজুল ইসলাম মাসুম

একুশে ফেব্রুয়ারি এলে মনে পড়ে আজও
মায়ের ভাষা, প্রাণের ভাষার মান রক্ষার্থে
বুকের তপ্ত খুন ঢেলে দিয়েছিলো রাজপথে
এ জাতির শ্রেষ্ঠ ক’জন বীর সন্তান
সালাম, রফিক, বরকত, শফিক, জব্বার..
তাদের জানাই ফুলেল শ্রদ্ধা ও সালাম।
সেই শৈশবে যখন একুশ আসত
ছুটে যেতাম পুর্বদিকে মেঠোপথ মাড়িয়ে,
ধানখেত, খাল-বিল, এঁদো-ডোবা পথ পেরিয়ে
পলাশ ফুলের মালা গেঁথে শহিদ বেদিতে অর্পণ করার জন্য
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আরোহন করতাম পলাশ বৃক্ষে।

প্রভাত ফেরীতে যাওয়ার অপেক্ষায় সারারাত নিদ্রাহীন
একস্কুল থেকে অন্য স্কুলে, সকল ছাত্র-শিক্ষক,
অতঃপর বিদ্যালয়ে ভাষা শহীদদের কীর্তিগাঁথা আলোচনা মঞ্চে
হলরুম ভর্তি বিশিষ্টজনেরা, চলে কথার ফুলঝুরি।
ক্যামেরা ম্যানের ক্লিক, আলোকচ্ছটা, অতি ব্যস্ততা
আগামিদিনের পত্রিকায় শিরোনাম
চলে যায় পুরোদিবস স্মৃতি রোমন্থনে।

সেই একুশ আজ বিশ্বসভায় আপন মহিমায়,
আমরা তোমাদের ভুলিনি, তোমাদের রক্ত বৃথা যায়নি।
তবে একটা বেদনা মনের গহীনে অনুভূত হয়,
আট ফাল্গুনের রক্তমাখা দিনটি একুশ কি করে হল?
জীবনপাত হল, শহিদ হল বাংলা ভাষার তরে,
একুশে ফেব্রুয়ারি তথা ইংরেজি ভাষার তরে তো নয়!
এমন করে কেউ ভাবে কি না জানি না.
আর ‘বাংলা একাডেমী’ নামের ‘বাংলিশ’ শব্দটা
কি স্ববিরোধিতায় পড়ে না?

তুমি একুশ-ই হও আর আট ফাল্গুন হও
তুমি আছো চেতনার গভীরে,
সমগ্র বিশ্ব মানবের হৃদয়ে পরম শ্রদ্ধা ভরে।

শহীদ স্মরণে
শরিফ উল্যাহ

বাংলা ভাষার মান
দিতে গিয়ে যারা,
দিল নিজের প্রাণ
ভাষা শহীদেরা।

কোকিলের ডাকে
বাজে উচ্চ স্বরে,
আন্দোলনটাকে
ভুলি কেমন করে?

শিমুল পলাশ
রাঙা হয়ে ফোটে,
রাজপথে লাশ
স্মৃতি জেগে ওঠে।

প্রভাতফেরিতে
পায়ে পায়ে হাঁটি,
বুকের গলিতে
স্মৃতি পরিপাটি।

আজ একুশ ফেব্রুয়ারি
তাদেরই স্মরণ করি।।

মাতৃভাষা বাংলা
মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন

রাজপথে বুকের রক্তের বিনিময়ে,
মাতৃভাষা বাংলার অর্জন।
বাংলা মোদের মাতৃভাষা,
বাংলা মোদের আশা।
বাংলা মোদের স্বপ্নের ধ্বনি,
বাংলা মোদের প্রাণ।
বাংলা মোদের উৎসাহ-উদ্দীপনা,
বাংলা মোদের প্রেরণা।
বাংলা মোদের চেতনার আলো,
বাংলা মোদের মুক্তির স্লোগান।

বসন্ত দিন কিংবা পলাশের রঙ
কমল কুজুর

পাতাঝরা বসন্ত দিনে ফাগুনের মাতাল হাওয়া
হঠাৎ এসে দিয়ে যায় দোল
-শিমুল শাখায়,
সবুজ বরণ দুর্বাঘাসে শিশিরের ছোঁয়া লাগে
আনমনে কোকিল ওঠে ডেকে
-বিষন্ন দুপুরবেলায়;
দূরে কাদামাটির হাঁটু জলে কানাবগি
দাঁড়িয়ে থাকে একা চুপটি করে,
পানকৌড়ির সাথে যেন তার ভীষণ আড়ি।

মেঘেদের ভেসে ভেসে যাওয়া
পলাশের রঙে সাজানো প্রকৃতি
দুরন্ত কিশোরের ফুল খোঁজা, আর
মাঝে মাঝেই মাইকে বেজে ওঠা প্রিয় সুর
টেনে নিয়ে যায় তোমায়, কোন প্রভাতে?

আধো আলো আধো আঁধারে আপাদমস্তক
শরীর মুড়িয়ে সাদাকালোতে, সবার সাথে
প্রভাতফেরিতে নগ্নপদে হেঁটে চলা আর
কন্ঠে মৃদু সুর-
“আমি কি ভুলিতে পারি।”
এখনো কি ভুলতে দেয় তোমায়?
কিংবা
ভুলেছ কি তোমরা?

বাংলা ভাষার তরে
সৈয়দুল ইসলাম

উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা
মানবো কেমন করে?
বীর বাঙালি মরতে রাজি
বাংলা ভাষার তরে।

বায়ান্নোর ঐ বিপ্লবীরা
কণ্ঠে তুলে সুর,
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই
বাংলা যে মধুর।

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
বাংলা মায়ের ছেলে,
ভাষার তরে শহীদ হলো
বুকের রক্ত ঢেলে।

সকল ভাষার ঊর্ধ্বে দেখি
বাংলা ভাষার ঠাঁই,
বীর শহীদদের রক্তে কেনা
তুলনা তার নাই।

মাতৃভাষা বাংলা মাগো
ধন্য হলাম পেয়ে,
নেই কোথাও মধুর ভাষা
বাংলা ভাষার চেয়ে।

রক্তে রাঙা অমর একুশ
গর্ব করা দিন,
ফুলে ফুলে ভাষা শহীদ
শ্রদ্ধায় অমলিন।