উপসংহারে পানপাত্র

দৈবাৎ ডাক হরকরা ঘন্টি বাজিয়ে পত্র সপে গেলো
তখন ফাল্গুনের আগুন গায়ে জ¦লে
খুব জ¦লে চোখের কার্নিশে জোনাকির আলো
খুব জলে ভেসে যায় লবণঠোঁট
উপসংহারে পানপাত্র
নিস্তরঙ্গ নদী বেয়ে ওপারে বিবেকের এপিটাফকাব্য
ভুলচাষে নিমজ্জিত জীবন, ফুলচাষ করেনি এ জন্ম!
শেষ জীবনের হিসেবপত্তর বুঝে নিয়ে নিজের সাথে
ভাল থাকার দেনদরবার কার সাথে করো হে?
তোমাদের দিনমান রাত্রি কেটেছে মিত্রদ্রোহিতায়
মানুষ হয়ে জন্ম নেয়া মানুষগুলো কতকাল মানুষ ছিলো?
কতজন ভালোবেসে লীন হয়েছে
কতজন ভালোবেসে আলো জে¦লেছে
কোথাও কেউ নেই
চোখের ভেতর ঘুটঘটে অন্ধকার
বুকের ভেতর হু হু বাতাস বরফ জমে যায় শরীর
নারী হাত ছুঁয়ে জঠরে ভ্রুণ ছেড়ে পুরুষ
এবার থেকে জন্ম নিক আপাদমস্তক মানুষ।
…………………………………………..

আলো নিভে যায় বুকের দরজায়!

ভেজা ঘামে শরীরে লেবু ঘ্রাণ
অন্ধকার ছুঁয়ে উর্বর স্তনবৃন্ত পান
যোনীমুখে গ্রীবায় রসালো লেহন
দ্বৈরথ সুখলীলায় নিশিজাগরণ
নাভিতে ঈগল নখর আঁচর
প্রমোদ বিলাসী রাত্রিবিভোর
ঘৃণা-প্রণয়, প্রণয়-ঘৃণা-সুখ
তুলিতে-ইজেলে নিশাচর চোখ
কোকিল পলাশে বসন্তময় শিমুল
ঋতুরক্তে রাঙা যুবতীর শাড়ীর আঁচল
শবনিকেতনে গোলাপ নিবাস
ভস্ম হিয়ায় প্রতারক প্রেম চাষ
আহা! আলো এসে যায় দখিন জানালায়
আলো নিভে যায় বুকের দরজায়!
…………………………………………..

চলো বাড়ি যাই!

গদবাধা গল্পের লাইনগুলো একই রকম
মানুষগুলোরও কোন পরিবর্তন নেই
কেন নেই এ শহরের বুকে আলো
কেন নিঃশব্দে হেঁটে চলা?
পায়ের শব্দে কার বা ঘুম ভাঙে মাঝরাতে?
জেগে থাকো? কি করো রাত জেগে পাখিগুলো
দেখছো তো ঝর ঝর জমাটবাধা অন্ধকারে
বাতাস ভারী হচ্ছে! ভরাট চাঁদের পাশে মেঘ নেই
তুমি অপরূপা নও তারপরও পূর্নিমা বলে সবাই
পূর্ণিমা কে? রূপসী চঞ্চলা হরিনী মাধবী জলকন্যা
আর তুমি ভেসে ভেসে বেড়াও
তোমাতে প্রেম জাগেনা!
প্রেম জাগানিয়া সুর তুমি তোলোনা
ঝংকার তোলো তুমি সেতারায়
পুড়ে পুড়ে যায় বুকে রাখা প্রেম
তুমি প্রেমিকার মুখ দেখিয়ে হারিয়ে যাও
নির্দয়া, তুমি!
এ শহরের মানুষগুলো ঘুমোতে বড্ড ভালবাসে
নিশ্চুপ নিরবতা, সবুজ আলো নীল আলো ঘরে ঘরে
এ ঘরে সাদা আলো ঠিকরে বেরুচ্ছে
আমার ডানপাশের ড্রেসিং টেবিলটায় কতদিন তোমায়
বসে থাকতে দেখেছি
চুপচাপ বসে থাকো
কথা বলোনা তাকিয়ে রও
মাঝে সাঝে চুল বাঁধো কাজল আঁকো
চোখে চোখ পড়তেই তুমি লজ্জায় লাল হও
সম্বিত ফিরে পেতেই নীল হই আমি
দেখা হয় না পথেঘাটে ভীড়ের মাঝে প্রিয়জনের মুখ
আজ অবধি কত ঘড়ির বদল হলো তার হিসেব ভুল হবে
সময় ছিঁড়ে কুঁড়ে গিলে ফেলছে অনুভূতিগুলো
বৃষ্টি নামবে পর জনমে নবজাতকের কান্নার সঙ্গে
অনেক দেরী করিয়েছি আজ, অনুতপ্ত! চলো বাড়ি যাই!
…………………………………………..

ঋতু

ঋতুর মুখখানি গত ক’যুগেও দেখা হয়নি
ছোঁয়া হয়নি চুল, গাল, হাতের নখ
গত জন্মে সে আমার বউ ছিলো
এ জন্মে প্রেমিকা! জোনাকি প্রেমিকা!
আলো জ¦লে, আলো নেভে
জোনাকি এবার তুমি আলো জ্বালো
অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসুক
প্রিয়তমার মুখ
তাকিয়ে দেখি, তৃপ্ত হই, দোহাই!
বড্ড ক্লান্ত হয়ে গেছি
কত সহস্র বছর গেলো, ঋতুর হাত ধরবো বলে
ঈশ্বরের কাছে আবদার জানিয়েছি-
ঈশ^র আমাকে ফিরিয়ে দেন
ঋতুর ঘ্রাণ সে জন্মে পেয়েছিলাম
সোদা মাটির ঘ্রাণ
জলপাই বনের টক টক ঘ্রাণ
হিমরাতের ঘ্রাণ, বসন্ত ঘ্রাণে
সে আমার কাছাকাছি থাকতো
খুব কাছে, শরীরের সঙ্গে শরীর
সে মুখ ঘুরিয়ে শুয়েছিল
ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদেছিল
সে জন্মে ঋতু আমার বউ ছিল
এ জন্মে প্রেমিকা
প্রেমিকা মানে গগনভাসা মেঘ
মেঘ প্রেমিকা
আকাশে ভেসে ভেসে বেড়ায়
ধরা দেয় না
ঋতুর মুখখানি গত ক’যুগেও দেখা হয়নি
গত জন্মে সে আমার বউ ছিল
এ জন্মে প্রেমিকা বলে তাকে ছোঁয়া যায়না
দুষ্প্রাপ্য, দুর্বোধ্য ঋতুকে
খুঁজতে গিয়ে ওর বুকভর্তি
আমার জন্য ভালবাসা পেয়েছি
যে ভালবাসা দেবতাদের পূজায় ব্যয় হয়
আমি বার বার পুজোর ফুল ছিঁড়ে ফেলি
আগুনে ঝলসাই, ঘি ঢালি গলগলে আগুনে
যেখানে অজস্র প্রেমিকের হৃদপিন্ড পুঁড়ে খাক হয়েছে
ঋতুর মুখখানি গত ক’যুগেও দেখা হয়নি
গত জন্মে সে আমার বউ ছিল
এ জন্মে প্রেমিকা
আমি প্রেমিক
অথচ আমাদের মাঝে প্রেম নেই!!!
…………………………………………..

পৌঢ়

দর্পনে কার মুখ দেখা যায়
এমন বিদঘুটে মুখ
এর আগে দেখিনি
ভাঁজ পড়া চামড়ায় আবৃত মুখ
নিয়ে দাঁড়িয়ে আছো, লজ্জা নেই?
ঈশ^র তোমাকে খুঁজছেন
এতদিন পরে দর্পন খুঁজে পেলে
ও চোখে আর তাকিয়োনা
অনেক হয়েছে গোপন সুখে থাকা
এবার ঘুমিয়ে পড়ো।
…………………………………………..

প্রলাপ

মুখোশের আড়ালের বীভৎসতা
ঠোঁটের কোণে নির্মল হাসি
যান্ত্রিক শহর, বাতাসে স্বার্থবাদী
কার্বন ডাই অক্সাইড
ভর্ৎসনা ধিক্কার অর্থহীন প্রলাপ
ভুল শব্দ ভুল শুদ্ধ অশুদ্ধ সঠিকের মুখ
মেকি শুদ্ধে শবশ্রদ্ধা-স্নেহে অনল
চায়ের গাঢ় লিকারে গরম ঠোঁট
চুমুকে রক্তস্বাদে আত্মতৃপ্তি
বাঁকাপথের ভালবাসায়
সোজা পথভ্রষ্ট বিভাজনে
ক্ষীণ দৃষ্টি আলোকপাত করে
অষ্পষ্ট জলীয় বাষ্পের দানা
ভেসে থাকা ঘরবাড়ি
পাতার আড়ালে-বাঁশঝাড়ে,
বিলের জলে জ্বলে জলজ প্রাণীর নেত্র
যেখানে সূর্যও চোখ বন্ধ করে ডুবে মরে
সুবাস ছড়ায় জারবেরা ডেইজিও!
…………………………………………..

ছেঁড়া কথা

সিন্ধুর ওপাড়ে প্রেমতরী ডুবিল
জল নাচিতে নাচিতে ঢেউ হইয়া
পা ছুইয়া প্রণাম করিয়া কহিল
এক জলোচ্ছ্বাসের প্রবল আর্তনাদে
তাহারা আত্মকে সৎকার করিয়াছে
নবপ্রেমিকাদ্বয় যৌবনে আটখানা
চিন্তা কিসে?
আখি দুখানি মোর সন্তর্পনে
চাহিয়া রহিল উত্তর দুয়ারে
কর্ণে বিধিল জগতসংসার
কেবলি তৈলের চাকায়
ঘুরিয়া চলে
দুঃসাহস কি দুঃসাহস
স্ত্রীলোকের সান্নিধ্য কেবল পত্রে
কালিতে ইথার তরঙ্গে
ষোড়শী যৌবনবতীরা গুনিতেছে
প্রহর কার লাগিয়া
যা শোন গিয়া কান পাতিয়া!
…………………………………………..

গন্তব্য অনেক দূর

মধ্যরাত, রাস্তায় গাড়িঘোড়া নেই
পায়ে খড়ম বেধে হেঁটে চলি
পাশে কোথাও ঘরবাড়ী নেই আমার
অথচ কুকুরদের থাকে সবখানে বেডরুম
রাস্তার ধারে, বালির উপরে
বেঞ্চের তলে পায়ের কাছে
একবার কুকুরকেই হিংসে পেয়ে বসলো
যাক সে কথা, আমার গন্তব্য অনেক দূর
তোমার মন থেকে আমার মন
খোড়া পায়ে হেঁটে চলা
চশমাতেও ময়লার আস্তরণ
আজকাল সময়ই হয় না কারো
না আমার না তোমার
একটুখানি জল দিয়ে গ্লাসটা পরিষ্কার করার
কি ঝাঁপসানো সময়গুলো, রাস্তাগুলো
কুকুরগুলো, কিচ্ছু দেখা যায় না
লম্বানো সড়কে হাঁটতে হাঁটতে
ঘেউ ঘেউ শব্দে ব্যথায় ক্লান্ত মগজের শিরাগুলো
সংকেত দেয়, আপনার জন্য লণ্ঠন হাতে
দাড়িয়ে আছে ঝিনুকমালা
যে আগে কুপির সলতে কেরোসিনে চুবাতো
টেনে বড় করতো আগুনের শিখা
তার হাতে লন্ঠন
রাত্রিবেলা দেখতে নাকি খুব অসুবিধে
বিশেষ করে আমাকে
অনেক আবদারে তাই কিনেছিললাম
সে দাঁড়িয়ে থাকে
এখন না রোজ, রোজ না সর্বদা
সর্বদা না ছায়ার মিলনে
তখন থেকে এখন রাত ফুরোবে
আমি হেঁটে চলেছি, নষ্ট ঘড়ি
নষ্ট সময়, নষ্ট মানুষ নষ্ট সম্পর্কে জড়ায়
আমি কি করি? ঠোটে সেলাই আঁকি
তুমি কি করো? পটল তুলে কঙ্কাল সাজো
সে কি করে, নিষিদ্ধ পল্লীর দুয়ার খোলে
ও কি করে? প্রবীণা রেখে বালিকা খোজে
ধর্ষকামী আর বালকামী ওরা নাকি
দেবদারু পুরুষ!
তবে নপুংসক কারা?
রক্ষা করবে বলে শপথ নেয় যারা?
…………………………………………..

আলো দূরে রাখুন

আমি প্রায়শ’ একটা বাড়ি খুঁজি
যেখানে শোবার ঘর, বিছানা, বালিশ, সুখ
আমার জন্য অপেক্ষা করছে
অথচ, মানচিত্রে কোথাও এর হদিস নেই!
মা নববধূ হয়ে গৃহ প্রবেশ করেও একটা বাড়ি পাননি
এবাড়ি ওবাড়ি সে বাড়ি করে ভেসে বেড়িয়েছেন
একমুঠো স্বস্তিতে জিরোতে পারেননি আজ অবধি
শৈশব কৈশর থেকে যুবক পর্যন্ত খুঁজে যাচ্ছি
একটা ভীষণ রকমের নিজের বাড়ি!
খুঁজতে খুঁজতে আমার চোখটাই বুজে যেতে চায়
মেঠোপথে ভ্রান্ত দিকে হেঁটেছি অনেকবার
ঝোপঝাড়ে ভাঙা কবর কাছে টানলেও
কোন লাভ হয়নি!
পিচঢালা পথে অন্ধকার রাস্তায় সাদা আলো!
আমার পাশ দিয়ে হাঁটেন আরেকজন
তার চোখ নেই, মুখ নেই, নেই নিজস্বতা
আমাকে অনবরত অনুকরণ করেন
কখনও পাশে
কখনও পেছনে
কখনও সামনে
হেঁটে চলেন!
আমার ছায়া!
কি আশ্চর্য! আমার একাকীত্বের সঙ্গীকে পাশে পেয়েও ছুঁতে পারিনা!
মাঝেমধ্যে ছায়া হয়েই মিলিয়ে যেতে চাই মানুষের ভীড়ে
কোন মানুষ, কেমন মানুষ? না না মিলিয়ে যেতে চাই অন্ধকারে!
আলো দূরে রাখুন, দূরে রাখুন!
চোখ বন্ধ করলে আমি স্বপ্নে ভাসতে পারি
স্বপ্ন দেখতে চাই! স্বপ্নে আমি সুখে ভাসতে চাই
কিন্তু খটখট শব্দে দরজা খোলে
সলতে বাতি বুকের খাজে লকলকিয়ে জ্বলে
আগুনের আলো আমার চোখের পাতায়
ফিনকি ওঠা রক্তের সমদ্র দেখায়!
…………………………………………..

আহ! প্রেম!

এসো, রক্তের কণিকা হয়ে মিশে যাও প্রতিটি শিরায়
হৃৎধমনিতে ছুটে বেড়াও, অস্থির আলোড়ন তোলো।
আহ! প্রেম!
তুমি বুকের ভেতরটায় ছুয়ে যাওয়া আজন্ম শীতল পরশ!
তুমি ছুয়ে দিলে শরীরময় মাতাল ঢেউ
ফিরে গেলে নিরব জলেশ্বরে জেগে ওঠা জলোচ্ছ্বাস।
আহ! প্রেম!
একখন্ড গল্প লিখবো তুমি এলে!
একদন্ড বেঁচে থাকবো তুমি বললে!
আহ! প্রেম!
তুমি কি?
তুমি থাকলে পৃথিবী স্বপ্নীল হয়ে যায়
না থাকলে বিদীর্ন সব, যেন হৃৎপিন্ড ছিঁড়ে যায়!
আহ! প্রেম!
এসো, পানকৌড়ির মতো ডুবসাঁতার কাটি
মেঘে মেঘে ভেসে বেড়াই!
এসো প্রেম,ভালবাসি!
আহ! প্রেম!
তুমি সুখ দিতে পারো।
তুমি সুখ দিতে পারো!
তুমি সুখ দিতে পারো?
আহ! প্রেম!
তোমার জন্য পৃথিবীশুদ্ধ বুকে বুকে মিছিল
ঈশ্বরের বুকেও তুমি ঝড় তুলে হারিয়ে যাও
বলো প্রেম! ছুয়ে ফেললে তোমায় কোথায় রাখি?
…………………………………………..

শরীর

মৃদু হৃদকম্পনে নীলকন্ঠে প্রেমের কবিতা
বকুলতলা থেকে ঝিঙে ফুলের আবদার
মাঝ নর্দমার পদ্মে মশকুল জোড়া সাপে
আড়াআড়ি দীর্ঘ সঙ্গমে জলে বীর্যপাত
নেতিয়ে পড়া শিশ্ন কার্তিকের ঘ্রাণে জাগ্রত
কুয়াশাগুলো ধীরে ধীরে আঁকড়ে ধরে
ভিজে দেয় খড়ের চালা, নিওর গড়িয়ে
টুপটাপ ঝরে নববধূর নাভির গুহায়
ভিজে যায় বিছানা দম্পতির
নিহত মশার রক্তে মেকি সতী রক্তের দাগে
নরমনে আনন্দের বন্যা
উথলে পড়া গরমভাতের মার
দীর্ঘ পরিচিত বালিকা তোমার
এক একটি ব্রোথেলে বিবেকের জন্ম
এক একটি জিগেলোয় মৃত বিবেক
আড়মোরা দেয় প্যারাসাইট জন্মের ক্ষুধায়
মশাল হাতে তুমি তেড়ে আসো
তারা লাঠি তুলে প্রতিরোধ গড়ে
নব্য প্রজা’র দল বৃহন্নলা সেজে বসে থাকে!
এটাকে তুমি প্রেমের কবিতা বলো?