একটি জাতি বিনির্মাণে সেই দেশের শিক্ষকরাই অগ্রণী ভৃমিকা পালন করেন এবং শিক্ষকরাই সেই দেশের শ্রেষ্ঠ কারিগর(BEST MAKER)।শিক্ষকরাই প্রতিটি ছাত্র/ছাত্রীকে অনেক শাসন স্নেহ মমতা ও ভালোবাসার ফল্গুধারা প্রবাহিত করে তাদেরকে যুগের ও দেশের শ্রেষ্ঠ সূর্য সন্তান করে গড়ে তুলেন।এই প্রসঙ্গে বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর এর একটা লেখা আমার মনে পড়ে,যেখানে তিনি লিখেছেন ঠিক এইভাবে —-“শিক্ষকদের দিক থেকে থাকে আয়োজন আর ছাত্র/ছাত্রীদের দিক থেকে থাকে প্রয়োজন, ছাত্র/ছাত্রীরা সেই প্রয়োজন গ্রহণ করে পরিপূর্ণ হয়,তাই শিক্ষকদের প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতার শেষ থাকে না” এটি অতীব সত্য এবং বিবর্ণ রঙে রঙিন শব্দ মালা যার লোবান সুবাসে শিক্ষকরা ঠিকই আহ্লাদিত হয় -মন ভরায় তারই সুস্নিগ্ধতায়।তাদের জীবন রাঙাতে ও সাজাতে এই শিক্ষকরাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন করেন ও করবেন। প্রতিদানে শিক্ষকরা কিন্তু কোন ছাত্র/ছাত্রীদের নিকট থেকে আজ অবধি কোন কিছু চায়নি ও চাননা। শিক্ষকরা পৃথিবীর নানাহ্ বই ও জার্নাল পড়ে জ্ঞান আহরণ করে থাকেন এবং সেই আহরিত জ্ঞানের আলো তাঁরা ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে করছেন ও করে যাচ্ছেন।তারই বর্ণালীময় আলোকচ্ছটা ধারণ করে প্রায় ছাত্র/ছাত্রীরা হয়েছেন সাংসদ মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সচিব ও বিভিন্ন কর্মকর্তা কিন্তু শিক্ষকরা সেই শিক্ষকই বা গ্রাম্য তুচ্ছ কথায় মাস্টারই রয়ে গেছেন।তাঁরা সম্মানের জায়গার মালিক হলেও মাস্টার বলে ডাকা এই শিক্ষকরা তাঁদের পেশায় আগের চেয়ে তুলনা করলে সেই এই শিক্ষার্থীদের থেকে সেই সম্মানটুকুও এখন পাচ্ছেন না।অধূনা এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা আগের তুলনায় বেশি বেতন পাচ্ছেন কিম্বা রুলিং সরকার দিচ্ছেন।কিন্তু যদি এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ ও সরকারী যে কোন দপ্তরের অফিসের পিয়নরা মানে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর চেয়ে অনেক কম বেতন পাচ্ছেন কিম্বা সরকার দিচ্ছেন। বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে একজন এমপিও ভুক্ত শিক্ষক প্রথমে পাচ্ছেন 12500টাকা আর বাড়ি ভাড়া বাবত পাচ্ছেন 1000টাকা ও চিকিৎসা ভাতা পাচ্ছেন 500টাকা।এই নিয়ে তার জীবন চলা।অপর দিকে সরকারী যে কোন অফিসে একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী প্রথমেই পাচ্ছেন 82250টাকা স্কেল + বেতন স্কেলের 45%বাড়ি ভাড়া +চিকিৎসা ভাতা পাচ্ছে 1500টাকা।একজন সরকারী যে কোন অফিসে নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত একজন পিয়ন উৎষব ভাতা পায় পুরো স্কেলের সমান আর এমপিও ভুক্ত স্কুলের শিক্ষক পাচ্ছেন তার বেতনের মানে12500টাকা স্কেলের 25% হিসেবে আবার এখানে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা উৎসব ভাতা পায় র্তদের স্কেলের 50% আর সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পর্যন্ত পান তাদের স্কেলের 25%।আন্য দিকে ঝাড়ুদার থেকে প্রধান শিক্ষক পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া হচ্ছে 1000টাকা ও চিকিৎসা ভাতা 500টাকা।এই বিরাট বৈষম্য কে বা কারা করেছেন?তাঁদেরই পড়ানো শিখানো ছাত্র/ছাত্রীরা যাঁরা যখন যেই সময় বিভিন্ন উচ্চ পদে সমাসীন ছিলেন ও অদ্যাবধিও আছেন।এটি এই পৃথিবীতে সবচে বড় লজ্জার বিষয় বৈ আর কিছু নয়।শুধু কি তাই?পত্র পত্রিকায় দেখতে পাই বহু জায়গায় শিক্ষকরা তাঁদের ছাত্র/ছাত্রী দ্বারা লাঞ্চিত হচ্ছে।সরকার যতবারই এসেছেন,ততবারই শিক্ষকদের ভূমিকা রয়েছে কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, দেশের অনেক বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা হয় বিল পাস হয় কিন্তু শিক্ষকদের বিষয় নিয়ে আজ অবধি কোন সাংসদ তা সংসদে উপস্থাপন করেননি।তবে সম্প্রতি অতীব শ্রদ্ধার সাথে বলতে হয় গত কয়েকদিন আগে দুই তিন জন সাংসদ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদেরকে জিতীয়করণ করার কিম্বা উৎসব বোনাস বৃদ্ধিসহ নানান যুক্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীর সম্মুখেই জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছেন কিন্তু দু:খের বিষয় দেশের নির্বাহী ক্ষমতার মালিকসহ কেউ কিছুই বলেলনি অথচ বছরে যে দেশে শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি দেয়া হয় আট হাজার কোটি টাকা সেখানে এমপিও ভুক্ত শিক্ষক/কর্চারীদেরকে পাঁচ শত কোটি টাকা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ উৎসব বোনাস দিতে অপারগতা পৌষণ করছেন। সে যাহোক যে কথা বলছিলাম শিক্ষকদের দু:খে ব্যথায় যে সব মাননীয় এমপি মহোদয়গণ সংসদে কথা বলেছেন তা সত্যিই আশার দিগন্তে গুলবাগিচায় কুঁড়ি ফোটা বৈ কী।আশার কথা পূর্বে প্রায়শ এমপি মহোদয়গণ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতনাংশ কি বা কি পান বঞ্চিত না অবঞ্চিত তা আগে না জানলেও সংসদে উপস্থাপনের পর সবাই জানতে ও বুঝতে পেরেছেন ঠিকই।তাই মনে করি প্রত্যাশার মুখে তড়িৎভাবে কুঁড়ি থেকে ফোটা ফুল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে বলে আশাবাদী।প্রকৃতপক্ষে শিক্ষকরা যদি পুরো সরকারী হতো তাহলে সরকারের তেমন কোন অসুবিধেই হতো না যদি আমাদের শিক্ষকদের ছাত্র/ছাত্রী মানে আমলারা তা সরকারকে বা সরকার প্রধানকে ভালোভাবে বুজাতেন,অন্যভাবে না ফুঝিয়ে সঠিক পথ দেখিয়ে দিতেন,তাহলে আজো গণতান্ত্রিক এই বা ংলাদেশের এমপিও ভুক্ত শিক্ষক বলে কোন শব্দই থাকত না।প্রকৃতপক্ষে বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা না হলে না থাকলে একটি দেশ কোনদিনই উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতে পারে না আর তা হতে হলে শিক্ষকদের জন্য বিবেচনা করতে হবে তাঁদের জীবন ও জীবীকার সুন্দর আয়োজনের। শিক্ষকদের জন্য আর্থিক সুবিচার যদি সরকারী শিক্ষকদের ন্যায় করা হয়,তাহলে এই পেশায় আসবে মেধাবীরা অন্যদিকে অধ্যয়ণরত শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে যেমনটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পেয়ে থাকে।