আশাবাদের কয়েক ছত্র

কেউ শুধায়না কেমন আছি করোনা সংকটে
সবাই বলে ঘরেই থাকো শুয়েই থাকি খাটে৷
চঞ্চলতার রক্ত সাগর পোষ মানেনা আর
ছটপটানি বাড়ছে শুধু পাব কী উদ্ধার ?

চির চেনার এই দুনিয়া অচেনা আজ লাগে
দূর আকাশের তারাগুলি আগের মত জাগে৷
আমিই শুধু একলা ঘরে নিয়ম মেনে চলি
কথা বলার নাইকো কেহ নিজের সাথে বলি৷

হঠাৎ কেন জীবন নদী হারালো আজ পথ
ইচ্ছে বাগান হঠাৎ কেন থামালো তার রথ ?
অদৃশ্য এক শত্রু এসে চালাচ্ছে পোদ্দারী
ভয় আতঙ্কে মানুষ আজি করছে আহাজারি৷

আর কী ফিরে আসবে নাকো ভাললাগার দিন ?
আশায় থাকি আগের মতো যদি না হয় ক্ষীণ্৷
থাকবো বেঁচে এই ধরাতে মরিবে ভাইরাস
লড়াই করে বাঁচবো আমি থাকিতে এই শ্বাস৷
…………………………………………..

আর কতদিন ?

এই তো সেদিন গিন্নী ডেকে আদর করে বলে
ঢের হয়েছে এমন হালে আর কতদিন চলে ?
পকেট খালি নাইকো বাজার সব হয়েছে শেষ
সত্যি বলছি এইভাবে কী চলতে পারে দেশ ?

সুখবরের নাইকো বালাই বিজ্ঞানীরা করছে কী ?
শুনছি শুধু আসছে টিকা সেই বিষয়টা সত্যি কী ?
এইভাবে কী চলতে পারে জীবন জগত বিশ্বটা ?
চারিদিকের বিলাপ রোদন ভাল লাগেনা দৃশ্যটা৷

অনেক বকা দেখি গিন্নীর মুখটি এবার খুলে-
“ওই করোনা এই জমিনে আসবিনা আর ভুলে৷
মরবি কখন ঢের খেয়েছিস পথটি এবার ছাড়
না যদি যাস কসম তোর ভাঙবো পিঠের হাড়৷”

তাকিয়ে দেখি আর থামেনা গালির বহর মুখে
এদিক সেদিক ছুটতে থাকে তীব্র জ্বালা চোখে৷
নিজ কানেতে শুনতে পেলে করোনা মরতো রাগে
বাক্য বিষের দহন তাপে মরতো সবার আগে৷

চাইলো পানি দিলাম আনি ঘামছে কপাল তার
ঘুমিয়ে পড়লো কে জাগাবে আছে সাধ্য কার ?
অঘোর ঘুমে গিন্নী ঘুমায় নড়ছে দেখছি মুখ
হঠাৎ উঠে বললো শোন থাকবেনা আর দুখ৷

পালিয়ে যাবে সব করোনা নহে নহে বেশি দূর
কিছুদিন পরে ধরনী তলে বাজিবে জীবন সুর৷
…………………………………………..

আমফান মুক্তির প্রার্থনা

ওগো দয়াময় আমি নিরুপায়
ডাকিতেছি বার বার-
তোমার ধরায় মোরা অসহায়
সাড়া দাও একবার৷
কত যে ব্যথার উঠে হাহাকার
শুনিতেছ তুমি সব
বসতি উজাড় ভাঙিতেছে ঘর
মানিতেছি পরাভব৷

কত যে আশার হলো ছারখার
আহাজারি জনতার
জায়া ও জননী মরিতেছে শুনি
করিতেছে চিৎকার৷
কত যে আদম করিছে মাতম
শোন তার ফরিয়াদ
প্রেমের বাগান সাক্ষাৎ শ্মশান
ভাসিতেছে জনপদ৷

চেয়ে আছে ওরা দিবে কবে ধরা
সুদিনের আলো ধারা
অসহায় মুখ খুঁজিতেছে সুখ
সকলে পাগল পারা৷
তব ক্ষমতায় করো গো বিদায়
ঘূর্ণিঝড় আমফান
দয়ার সাগর দাও গো আবার
সজীব সতেজ প্রাণ৷
…………………………………………..

অপেক্ষার প্রহর প্রার্থনা

দেখবো কবে প্রভাত আলো প্রেম বাগানের আঙ্গিনায়
মৃত্যু পুরীর শ্বশ্মান ঘরে জীবনটা আজ মৃতপ্রায়৷
মেঘ বালিকা দূর আকাশে ছুটছে দেখ নিত্য দিন
চাঁদের দেশে হাজার তারা সাঁতার কাটে নৃত্য চিন্৷

ঐতো পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে আগের মতো রূপ ধরে
সাগর নদী চলছে বয়ে প্রেমিক সখার দরবারে-
নিত্য প্রেমের গুঞ্জরনে মাতাল সাকী দিচ্ছে দোল
আগের মতো সুর জগতে করছে ওরা কোলাহল৷

মানব শুধু করছে বিলাপ করছে লড়াই প্রাণপনে
সর্ব নাশের ঘাতক সাথে বাঁচার তরে এই ক্ষণে৷৷
থমকে গেছে জীবন গতি যায়না চেনা আপন ঘর
ঐ তো দেখ গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে আছে প্রেমিকবর৷

জীর্ণ বসন মানস প্রিয়ার ভীত বিহবলা কণ্ঠ তার-
মানুষ যদি যায়গো হেরে কি হবে এই সভ্যতার ?
রূপ পিয়াসী মায়ার ধরা হয়নি কি তার প্রায়শ্চিত ?
জীবন সুধা ধরার মানব হারায় যদি সুনিশ্চিত ?

গাইবে কে গান তোমার রূপের দাওগো প্রভু দাও বলে
দাও বলে দাও আর পারিনা কসম তোমার জাত-কুলে;
হোক অবসান ভয়াল ক্ষণের হাসুক ধরা পূর্ব বৎ
ঢের হয়েছে মানব এবার মানবে তোমার সত্য পথ৷
…………………………………………..

নিরাশ হয়োনা হে মানবাত্না

চলে গেছে যারা আসিবেনা ফিরে আসে নাই আগে কেহ
কত যে সোহাগ কত যে আদর মধু মাখা যত দেহ
স্মৃতি বাতায়নে করে আনাগোনা নাহি কোন অধিকার-
আসিবে ধরার কুসুমিতা গৃহে বলিবে একটি বার

এইতো আবাস ছিল গো মোদের কত যে মমতা মাখা
পাখির কূজনে প্রেয়সীরে ছাড়ি খুঁজিতাম আলো রেখা
আদরে আদরে চুমুতে চুমুতে জড়ায়ে হৃদয় ধন-
নহে অভিমান শত আবদারে জুড়াইত দেহ -মন৷

বহিতেছে ঝড় ধরনীর ‘পর কাঁপিতেছে থর্ থর্
দেহগুলো দেখ কত অসহায় নাহি কোন প্রতিকার৷
সাজানো বাগান সাক্ষাৎ শ্বশ্মাণ থেমে গেছে কোলাহল
সবে পথহারা করিতেছে ত্বরা খুঁজিছে সাহস বল৷

শোন হে মানব হয়োনা নিরাশ আসিবে সুদিন ফের-
কাটিবে আঁধার এই সভ্যতার জয় হবে মানবের৷
হাসিবে আবার মানবের ঘর করোনার হবে হার
খোদার ওয়াদা মনে রেখ সদা প্রতিনিধি তুমি তার৷
…………………………………………..

একটি প্রেমের কবিতা

নরম বিছানার কুসুমিত সোহাগী ঘ্রাণে
প্রেম সরোবরে হাজারো ভাললাগার ব্যথিত আলপনা
সর্বনাশী ! তোমার ঐ চোখ ফিরিয়ে নাও
ফরহাদের বাসর শয্যা মিশে যাক ধুলায়
তুমি বরং সুখী হও জগতের মধু উদ্যানে৷

ঐ দেখ দূরের নীলিমা আকাশ ভরা তারা
সাগরের স্বচ্ছ ঢেউ পাহাড়ের নীরবতা
অথবা মৃত্তিকার সুবাসিত প্রজনন ক্রিয়া
এই বন্ধকী দলিলে সাহস থাকলে স্বাক্ষর দাও
আমি জানি তা তুমি দিবেনা৷

মধু যামিনীর কোন এক অসতর্ক মুহূর্তে
সভ্যতার আদিম চারা করেছি রোপন
বিশ্বাস করো গন্তব্যহীন এক বেখেয়ালী যুবক
আজো অস্তিত্বের রহস্য অনুসন্ধানে ব্যস্ত
উঠানের ঝরা পাপড়িগুলো নিয়ে বিলাপ করে৷

সবশেষে নিরুপায় হয়ে
মজনুর কানে কানে বলে দিয়েছি
“আস্ত গণ্ডমূর্খ কোথাকার-
ঐ দেখ তোমার ভালবাসার লাইলী
দিনারের বাহুডোরে আলিঙ্গন করে”৷
…………………………………………..

তোমার স্মরণে হে বীর
(ডাঃ মঈন উদ্দিন )

কত যে ব্যথার হাহাকার শুনি কত যে অনাদর
কত যে সাগর হারায়েছে পথ কত যে প্রীতিডোর-
মিশে গেছে আহা! ফিরে নাহি চাহে ঝরিছে অভিমান
কত যে আশার হলো সমাপন নাহিকো অনুমান৷

কত যে প্রেমের মধুমাখা সুর তোমার রক্ত ধন-
শুনিবেনা নাহি জমিনের মাঝে ব্যথার সত্য পণ৷
কে দিবে ওদের ভালবাসা আর পূরিবে আবদার ?
বড়ই বেভুলা জানে জানে ওরা সমাজ কর্ণধার৷

তোমার মহিমা লিখে রাখা হবে জাতির ইতিহাসে
স্মরিবে তোমার মহতী নামটি প্রতিটি নিঃশ্বাসে৷
তুমি যে বিজয়ী পরোয়া করোনি নিজের মৃত্যুভয়
পরাজিত মোরা তব আত্নদান করেছে সত্য জয়
শহীদী সারির তুমি মহাবীর জান্নাতী মেহমান
খোদার আশিষ অবিরাম থাক তোমার দেহখান৷
…………………………………………..

আর্তনাদের অশ্রুমালা

প্রতীজ্ঞার পলাতকা কুহরিতা রমনীর আঁচল তলে
এই আমি জোয়ারভাটার গন্তব্যতীরে দণ্ডায়মান
তাহার ব্যথিত অশ্রুর অবাক করা কান্নাভেজা জলে
কাতরতার শত কাতরানি অাজো হয়নি অবসান৷

সেদিন দুপুরে কাতরকণ্ঠে শ্বেতবসনা এক ভিখারিনী
জননায়ক ভেবে ভুল স্বর্গে লজ্জানতা বাড়ায় হাত
দস্তরখানার হাড়গুলির চিৎকারে বেখেয়ালী প্রিয়দর্শিনী
জীবনের হিসাব মিলায় পায়না দেখা কাঞ্চন প্রভাত৷

অপ্রকাশের ব্যথাগুলো জমে ডুকরে ডুকরে কাঁদে
মহাতেজী সেলফিবাজের লক্ষ্যভেদ চাপটের ভয়ে
থাকে নিশ্চুপ ; রিলিফের লিষ্টের সাক্ষাৎ মরণ ফাঁদে
ধরা খায় শেফালী বেওয়া ফিরে আসে নিরাশ হয়ে৷

ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখে শেফালী বেওয়া শিয়রে তার
দাঁড়িয়ে আছে এক অচেনা পুরুষ অনেকদিন আগে
এক কেজি চাল সাথে পান সুপারী দিয়েছিল আর
বলেছিল “ভোটের দিন সিল মারবে এটার শেষভাগে”৷

কোমলমতি শেফালী জানেনা চিত্তনাশের প্রেমলীলা
পড়েনি অধিকার লিখিত বই-পুস্তক জটিল রসায়ন
তবে মূর্খ থাকা বেশ ভাল অদ্ভূত আঁধার যত শিলা
চেটে চেটে খাক সব; বঞ্চিত থাকুক ওরা আজীবন৷
…………………………………………..

অবিশ্বাসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

শাপগ্রস্ত ভস্মাধারে ঐ দেখ শূদ্রীর প্রসব যন্ত্রণা
ধর্মদ্বেষী জাত-মূর্খ শূদ্র তৃণকুটিরে দণ্ডদীপিকা জ্বেলে
প্রজনন শিহরণে গৃহভেদী কবিরাজের শিখানো মন্ত্রণা
একে একে পাঠ করে শূদ্রীর দাঁতখিচুনি বেড়ে চলে৷

প্রদীপহীন জলসাঘরে নৃত্যরতা মোহিনীর মনোলোভা দেহ
নিদ্রাহীন মাতালের নিঃশেষিত যৌবনে
আনেনা বন্যা
পথভ্রষ্টতার দখলনামায় দাজ্জালের
কুহকী দণ্ডার্হ
ধবলমৃত্তিকার আঁচলে নিঃশ্বাস ফেলে
অজাতকিনী কন্যা৷

ধর্মচারার মঞ্জরিত মঞ্জরি
বিশ্বাসহীন পাপাচারে
চেতনার নজরানা আত্নহত্যা করে
গোমরাহি চক্রবাতে
বিস্মৃত হয় প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি
পরাান্তক নষ্টাচারে
কিম্ভূতকিমাকার মননের পুষ্পসার
চিত্তদোষ আঘাতে৷

কালান্তক তামসিকতায় পরাধীন
আবাসিক আমলনামা
সংকর রসকর্পূরে ভারাক্রান্ত
মর্ত্যলোকের হরফবিন্যাস
ছন্নছাড়া ঘূর্ণিপাকে ছিন্নভিন্ন
বিশ্বাসের সামিয়ানা
দস্যিপনার নিস্তল পীড়নে ধ্বংসাত্নক
চূর্ণিত নাভিশ্বাস৷

স্বর্ণঈগলের অসিয়তনামায় আত্নবিনাশের
হাজারো অজাচার
বিরামহীন নষ্ট মিথ্যাচারে প্রবসিত
ধর্মের কারাভান
লক্ষ্যচ্যুতির হালখাতায় তুষারমানবের
কৌপীন কদাকার
নির্বুদ্ধিতার কনকরসে আত্নাহুতি শেষে ঘটে
আয়ুর অবসান৷
…………………………………………..

মানুষ যদি

মানুষ যদি পড়তো কোরান মানতো খোদার আইন
পড়তো যদি নবীর হাদীস করতো মানুষ সাইন৷
দিবস রাতে মানুষ যদি পড়তো সবে নামাজ
ছাড়তো যদি বেহায়াপনা হাসতো মানব সমাজ৷
মানুষ যদি ছাড়তো পূজা হাতের গড়া দেব দেবী
খালেস দিলে মানুষ যদি হতো খোদার প্রেম-সেবী৷
মানুষ যদি রাখতো রোজা করতো আদেশ পালন
তাহাজ্জুদের পড়তো নামাজ করিত রাত যাপন৷

মানুষ যদি যাকাত দিত গরীব দুঃখী যারা
জগত মাঝে থাকতোনা কেউ অভাবের সুখহারা৷
করতো যদি আসলে সময় খোদার ঘরে হাজ্ব
মানুষ শিরে পাইতো শোভা সত্য প্রেমের তাজ৷
মানুষ যদি লইতো শিক্ষা হইতে ইতিহাস
ভেদ ভুলিয়া আপন মনে করতৈ বসবাস৷
মানুষ যদি নাই বানাতো জীবন নাশের বোমা
এই ধরাটা উঠতৈ হেসে লাগতো মনোরমা৷

মানুষ যদি করতো তালাস সত্য খোদার দ্বীন
হক বাতিলের লড়াই শেষে হাসতো সুখের বীণ৷
মানুষ যদি ত্যাগ করিতো লোভের মরণ বিষ
বাতিল ছেড়ে খুঁজলে মানুষ পাইতো সত্য দিশ৷
মানুষ যদি খোদার দেয়া মানিত ফরমান
আদম শত্রু ঈমান বাগে আসতোনা শয়তান৷
মানুষ যদি ভয় করিতো কঠিন আজাব কবর
বাসতো ভাল এতিম অনাথ লইতো মানুষ খবর৷

মানুষ যদি ভয় করিতো হাশর দিনের মাঠ
সিজদা ছাড়া থাকতো নাকো লইতো প্রেমের পাঠ৷
মানুষ যদি ঘুষ ছাড়িতো খাইতো নাহি সুদ
নবীর পথে সারাটা ক্ষণ থাকতো যদি বুঁদ ;
পরের ধনে লোভ ছাড়িতো ছাড়তো যদি নষ্টামী
সব ত্যাগিয়া ছাড়তো যদি শঠতা আর ভণ্ডামী
এই দুনিয়া হাসতো আবার জান্নাতের প্রেমরাগে
প্রেমের সুধা বইতো সদা মাটির ধরার প্রেমবাগে৷