অপেক্ষার অবসান

একদিন তোকে আসতেই হবে ফিরে
আসবি ঠিক-ই কিন্তু যে তার আগে-
বাইম মাছের শরীর বেয়ে বেয়ে
এই আমাকে খাঁ খাঁ রোদ্দুর পাড়ি দিতে হবে
হাতে নিয়ে পান্তাভাতের থালা
একলা একা নুনের শহর ঘুরতে হবে মিছে!
দুঃখ নামের অচল মুদ্রা বুকপকেটে পুরে
বয়স যাবে দিন যাপনের সওদা করে করে
দুধ সাদাফুল তোর অই শরীরটাতে
মেখে নিয়ে কয়লা, কাঁদামাটি
হাঁসফাঁসিয়ে আসবি যেদিন ফিরে-
হয়তো সেদিন এই আমিটা হবো-
একাত্তরে হারিয়ে যাওয়া খোকার বৃদ্ধ বাবা
ছানিপড়া দুই নয়নের কোণে
বান ডাকবে দশ বরষার জল
সেই জলেতে স্নান করিয়ে তোকে
বলবো, আহা এতোটা দিন কোথায় ছিলি বাপ?
তুই যে আমার হারিয়ে যাওয়া সাত রাজার ধন
শান্তি সুবোধ মুক্তি স্বাধীন তুই যে আমার সকল বিশেষণ।
…………………………………………..

নারী ও প্রকৃতি

নারী কি হাসে না? হাসে তো
নারী কি কাঁদে না? কাঁদে তো
নারী কি ঝরে না? ঝরে তো
হাসি ও কান্না, মান-অভিমানে
নারীরা যেখানে
প্রকৃতি সেখানে
তুমি কি প্রেমিক? তবে-
প্রকৃতির বুকে দুঃখ কীসের?
তুমি কি স্বামীও? তবে-
প্রকৃতির নাকে নাক ফুল কই?
তুমি কি ভাইও? তবে-
প্রকৃতির সুখে কতটা করেছো শুনি?

যদি,নাই করে থাকো কী সে হলে জ্ঞানী-গুণী?
সম্পর্কের তর্জমা করে দেখে নাও এক্ষুনি।
…………………………………………..

জিজ্ঞাসা

শব্দের সতীত্ব বাঁচে যথা উচ্চারণে-
ধর্ষক না প্রেমিক হে তুমি?

শব্দেরা সঠিক প্রেমে পরমায়ু পায়-
কসাই না কবি হে তুমি?

শব্দেরা বাগান জুড়ে থোকাথোকা ফুল
পেঁচা না মালি হে তুমি?

মালি হবে? কবি হবে? প্রেমিকও হবে?
খ্যাতি নেবে কাঁড়িকাঁড়ি…

তোমার স্পর্শে কেন ভাষা ও শব্দেরা
খায় আছাড়িপিছাড়ি?
…………………………………………..

হালাল উপার্জন

আমার পিতামহ সত্য ও সুন্দরের একমুঠো বীজ আমার মন ও মগজের উঠোনে বপন করে দিয়ে বলেছিলেন- হালাল উপার্জন খাবি তবেই বীজগুলো চারায় পরিনত হবে। সুবহে সাদেকের মতো নিষ্পাপ শুশ্রুষা দিবি- চারাগুলো কান্ড-শাখা-প্রশাখায় প্রসারিত হবে। ফুল ও ফল হবে। সুবাসিত ফুলগুলো মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিবি আর ফলগুলো ডালিমের মতো ভাঙলে পাবি মুঠোমুঠো দানা।দানাগুলো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের নিশানা ঠিক রেখে ভাবনার মাঠে ছুড়ে মারবি একেকটি দানার দূরত্ব ও অবস্থান বিনিময়ে পাবি একেকটি সত্য ও সুন্দরের পথ এবং আরও একটি আগামীর বাগান।
…………………………………………..

এটুকু মিনতি রাখো

অদেখা অপ্সরা তুমি। দুপুরের ঘুঘুটার মতো-
ডেকে ডেকে করো ঘরের বাহির…
এ বৃক্ষ ও’ বৃক্ষ করে ঘুরে ঘুরে খুঁজি-
আহা তুমি থাকা বৃক্ষ কই!
তোমাকে খুঁজতে… ভাবতেই…
যেমন পোয়াতি ধানক্ষেত বাতাসে মুচড়ায়
আমিও তেমন -ই হই।

শুচি ও শুভ্রতা নয় বলে
আমার হাঁড়ির চাল, নেই বলে চাঁদ ও সূর্যের
সুতোর বুননে গতরের সৌখিন চাদর
আঙুলের ডগায় গোলাপের ঘ্রাণ
তোমার ও’ শরীরে দেবো না দ্বীনহীনের স্পর্শ!

এটুকু মিনতি রাখো, কচুপাতার শরীর থেকে
যেটুকু সময়ে গড়ে ভোরের নীহার
সেটুকু সময়ও যদি দেখা দিয়ে হাঁকাও উড়ান
চাতক এ মন আমার খুব সহজেই পেয়ে যাবে
তৃষ্ণা মেটাবার এক অতলান্তিক সাগর।
…………………………………………..

সোনার থালায় মাকাল ফল

এপারে উপচানো প্রেম
ওপারে তা ভীষণ আকাল
বলো তবে কীসের এ
আদান-প্রদান?
সোনার থালা দিয়ে কি
কিনিছো না সিঁদুরে মাকাল?
এত প্রেম ভালো নয়
পরিমানাধিক চিনি গুড়ে
পিঠা পায়েসেও থাকে না মূল স্বাদ
সত্য সর্বদা অপ্রিয় কে না জানে?
এসো যেখানে যেমন লাগে
তাই দেই প্রেম ও দ্রোহের
নুন-ঝাল, কেন নয়-

এপারে উপচানো প্রেম
ওপারে তা ভীষণ আকাল।