জীবন হোক ষোলকলায় পূর্ণ

কিসের দ্বিধা? কিসের ভীতি
কিসের এতো লজ্জা?
শির দাঁড়াটা থাকুক সোজা
পোক্ত থাকুক মজ্জা!

সামনে পথে এগিয়ে যেতে
পড়লে পথে কাঁটা,
ভীষণ ঝড়ে উড়িয়ে দেবো
মারবো কঠিন ঝাঁটা।

ভোঁদকা গন্ধে বুঁদ হয়ে কেউ
ছিঁটিয়ে দিলে কাদা,
সামনে এসে প্রেতাত্মা কেউ
দেয় যদি রে বাধা –

সেই কাদারে পায়ের তলায়
বানিয়ে পাথর মাটি,
ওই হিমালয় ছুঁতে যাবো
বিশ্বাস আছে খাঁটি।

হার মানে না সত্য নাবিক
আসুক না ঝড় শক্ত,
এই শরীরে বইছে হাজার
বীর বাঙালীর রক্ত!

শিং বাড়িয়ে আসলে বলদ
রাখবো কোদাল সাথে,
নোংরাগুলো সরিয়ে দিয়ে
ফুল ফুটাবো হাতে!

হুলের ব্যথা ফুলের ঘ্রাণে
জুড়াবো ঠিক ঠিক,
মরুর বুকে আশার পানি
করবে রে চিক চিক!

জীবন পথে পাথর-বাধা
হোক না ধুলায় চূর্ণ!
ষোল আনার জীবনটা হোক
ষোলকলায় পূর্ণ।
…………………………………………..

মানবতার কাটাকুটি

ঠেলাঠেলি খেলাখেলি
ডিগবাজিটা বেশ,
হরফ তুলে নিয়ে কাঁধে
দরজাতে দেই ঠেস।

সিংহসাবক বলে কথা
ছন্দ মেলে ডানা,
ছড়ার ময়ূর মেলতে পেখম
আজকে তো নেই মানা!

কার ডাকে কে ছুঁইছে কারে
কানামাছি খেলায়,
শব্দকোষে হীরের কুচি
কাব্য শরীর মেলায়।

মেলায় খেলায় কাব্য-কথা
কবির কলম হাঁটে,
ধ্বনির রঙে কাব্য-মলিন
আজকে কবির গাঁটে।

মানবতার মানস কাঁদে
নীতির রাজা কই?
নীতি কথায় ভরছি কেবল
হরেক ভাষার বই!

শক্তি দেখে ভক্তি করি
নরম কাটি খড়গে,
মানবতার কাটাকুটি
সভ্যতার এই মর্গে।
…………………………………………..

ক’ফোটা বৃষ্টির স্মৃতি

কত সহজেই একটা আকাশ ভেঙে দেয়া যায়!
সারা রাত্রি ধরে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা নক্ষত্রের চোখে বেঁধে দেয়া যায় অন্ধকারের কালো কাপড়!
কত সহজেই মনের সুখে উড়ন্ত পাখির ডানায় লিখে দেয়া যায় বিদায়ী সম্ভাষণ!
নন্দিনী, কেবল তুমিই পারো এমন যাদুর হাত ছাফাই।

তটস্থ দর্শকের চোখে ধুলো ছিঁটিয়ে কেবল তুমিই মুছে দিতে পারো ধুলো মাটির ঘর!
সাব্বাস! নন্দিনী সাব্বাস!
সরষের মাঠে কেবল তুমিই করতে পারো প্রজাপতি হত্যার উল্লাস!
একটা অাচমকা ঝড়ে উড়িয়ে দিতে পারো শিল্পী বাবুইয়ের বাসা!
এই তো তোমার প্রেম, এই তো ভালবাসা!

কবিদের চোখ তো কালো কাপড়ে বাঁধা!
তাই দেখেও না দেখার ভান করতে হয় সারাটি জীবন!
বুকের হাড় ভেঙে লিখে যেতে হয় অালো ও অন্ধকারের খোয়াবনামা!
এক অাকাশ বৃষ্টিকে ঝুলিয়ে রাখতে হয় চোখের অলিন্দে।

তুমি নিশ্চিন্তে মেঘে হয়ে উড়ে যাও নন্দিনী!
এখানে এই লোকালয়ে ফেলে যাও কেবলই ক’ফোটা বৃষ্টির স্মৃতি।
নিকষ অন্ধকার, তুমুল বৃষ্টি, আর কিছু খোয়াবের চিহ্নই সাজানো থাক কবিতার র্যাকে। ইতি। নন্দিনী, ইতি।
…………………………………………..

নিজের সাথে নিজের খেলা

কি নাম দেব তার?
দূর গগণের তারা হয়ে নিত্য ভাসে চোখে,
কোথা থেকে আঁধার এসে আকাশ ঢেকে রাখে,
বাতায়নের ওপাশ থেকে শিউলি এসে
আঁধার চিরে, কানের কাছে বললে হেসে-
সখা এসো রাত্রি হবো,
তারার মতন মিটিমিটি এসো দুজন কথা কবো!

যতই বলি – বুঝিনে গো তোমার ভাষা,
তুমি তারা, আকাশ জোড়া তোমার আশা!
নেই কো আশা, নেই কো ভাষা,
নেই কো আমার আকাশ বড়,
ভুতলে যে বৃক্ষ-লতা কাঁপছে থরোথরো!

আমি বাপু বুঝিনে ছাই, তারার কথামালা
বুকের ঘরে সই পেতেছে হাজার ব্যথার জ্বালা!
নষ্ট কথার কষ্টেরা সব আমার আপনজন,
নিজের সাথে নিজের কথা তাই তো সারাক্ষণ,

বৃক্ষ যেমন নিজের সাথে
বলে কথা পাতার সাথে,
হাওয়া যেমন আপন মনে
বাজায় বাঁশি নিজের সনে,
তেমনি আমার নিজের সাথে নিজের সহবাস,
ষড়ঋতুর চোখে ধরি শ্রাবণ বারোমাস!

কোথা থেকে এলে তুমি কোন্ আকাশের তারা?
চোখের পাতায় জেগে থাকে শহর নগর পাড়া!

কিসের ছোঁয়ায়, কিসের টানে বিনিসূতার গাঁথা,
দুঃখ সুখে জড়িয়ে আছে জীবন নকশী কাঁথা।

কেউ দেখেনি, কেউ শোনেনি, কেউ রাখেনি খোঁজ,
নিজের সাথে নিজের খেলা খেলছি আমি রোজ।
…………………………………………..

ছড়ার ফুল
[উৎসর্গ: কবি মোশাররফ হোসেন খান]

ছন্দ লেখার, মন্দ দেখার
জীবন এটা বেশ,
আঁধার-আলোয় মিশে থাকা
কবির কালো কেশ।
কবিকেই তো নিতে হবে
কাব্য লেখার ভার,
কবি ছাড়া সত্য কথক
নাই তো কেহ আর।
কবির খাতায় কলম নাচে
বিদ্রোহে দেয় শান,
কবির কাব্য শুনিয়ে যায়
সত্য ন্যায়ের গান।
কাব্য রাজে কবিই রাজা
অশ্বারোহী যিনি,
আঁধার জোড়া পাঁথার মাঝে
আলোর জোনাক তিনি।

কবিই এখন আলোর মশাল
জাহাজের মাস্তুল,
কবির জন্য শুভ আশীষ
ছড়ার গোলাপ ফুল।
…………………………………………..

নপুংশক্ পূজারি

অনেকটা আলপথ বেয়ে হেঁটে আসা রোদ তুলে নিয়েছি বুকের পকেটে,
দুহাতে তুলে নিয়েছি চোখ ধাঁধানো আলোর ঝিলমিল,
দুচোখে ছড়িয়ে দিয়েছি হরফের সূর্যরশ্মি,
হৃদয়কে ভেবেছি জীবন্ত মানুষের ছবি;

অথচ এই শহরের চোখে চোখ রেখে কেবলই দেখেছি-
আঙ্গুলের ডগায় সাজানো ইমারতের দেয়াল থেকে খুলে পড়া বিশ্বাসের পলেস্তরা,
কেতাবের বদলে আলমিরায় ঝুলে অাছে
কেবলই কেতাবের ছবি,
মুখের উপরে ঝুলে অাছে কেবলই মুখোশের প্রতিকৃতি,
আর নপুংশকের অর্ঘ্য নিতে সম্মুখে ভূতের মত দাঁড়িয়ে আছে একটা ছায়ামানবী,
তাকেই বারবার কুর্নিশ করছি, পূজা দিচ্ছি,
শিরনী দিচ্ছি তার পায়ের তলায়,
বাহবা বাহবা ধ্বনিতে মুখরিত করছি আকাশ বাতাস,
বন্য বরাহের পদতলে মথিত জমিনের বেহেশত, কান্নার জলে ভেসে যাচ্ছে মনুষ্যত্বের শেষ চিহ্নটুকু্ও;
তবুও চুপ করে পড়ে আছি সময়ের মদন!
কবিতার পয়ারে অশ্রুর দাগ নেই,
কবির কলমে শোকের মিছিল নেই,
নেই বিদ্রোহের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ,
বাহুর শিখরে বজ্রমুষ্টি নেই,
শরীরের শিরায় উপশিরায় নেই অশ্বের টগবগানি,
আসলে নপুংশক্ উপাসকের দলে নিথর পড়ে থাকা আমি নিজেই এক নপুংশক্ পূজারি!
…………………………………………..

জবুথবু নিশির পাখি

টুপটাপ বৃষ্টিতে ঝুমলাগা সন্ধ্যার গায়ে খুঁজি স্বস্তির জোনাকি!
কোথায় এক ফোঁটা নিরেট শান্তির জল?
ভেঙে পড়া শশীর অালো ফিরে আসেনি আজও,
চৌদিকে ফ্রিজের বরফ জমা নিপাট অন্ধকার
আমাকে ঘিরে রেখেছে জন্ম-অবধি!
জলধির কাছে বন্ধক দিয়েছি বাপ-দাদা চৌদ্দপুরুষের ভিটে।
আমি চাইলেই ফিরে পেতে পারি না শোকহীন কোন লোকালয়।

এখানে মেঘ জমে বিমর্ষ অন্ধকার হয়ে,
এখানে বৃষ্টি নামে কান্নার অশ্রু হয়ে,
এখানে ফুল ফোটে মৃত্যুর ঘ্রাণ হয়ে,
এখানে চন্দ্রের মুখে লুকিয়ে থাকে সন্ত্রাসীর দুষ্ট হাসি,
এখানে প্রেয়সীর ঠোঁটে লেগে থাকে বহুগামী শঠতার লিপস্টিক,
এখানে কবিতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে লিপিকরের বিশ্বাস, সংস্কৃতি আর সম্ভ্রমের বিনিময়ে কেনা সম্মাননা ক্রেস্টের ছবি,
এখানে সাতপুরুষের চেনা জানা সম্বোধনে হানা দেয় শব্দভুক হাঙর,
এখানে নীতির আড়ালে লুকিয়ে থাকে বানরের পিঠা ভাগের গল্প,
এখানে আলোর পিঠে জমে থাকে এক পাহাড় অন্ধকার!
এখানে কবির চোখে কেবলই এক বুক হাহাকার!

এখানে কোথাও কেউ নেই আপন,
এখানে কেবলই মন খারাপের দিন রাত্রি যাপন!
এখানে জেগে থাকে ঘুমহীন রাত্রি; নির্নিমেষ চেয়ে থাকি,
এক ফোঁটা আলোর আশায় তবুও বসে আছি
জবুথবু নিশির পাখি!
…………………………………………..

কানামাছি

বুকের মাঝে কষ্ট জমে
পাথর যখন হয় রে!
শুক্তি মাঝে মুক্তো মেলে-
সবাই তখন কয় রে!!!

আহার বিহার জীবন যাপন
এই জীবনের কিচ্ছা,
হয় না পূরণ তবুও থাকে
মনে হাজার ইচ্ছা।

“চক্ষু আঁধার দিলের ধোঁকায়
কেশের আড়ে পাহাড় লুকায়”
লালন সাঁইয়ের গীতি,
ব্যথার পাহাড় বুকে রেখে
রঙধনু রঙ চোখে মেখে
হাসছি মুখে নিতি।

নাট্যশালার অভিনেতা
আমরা সবাই আছি,
এই জীবনে সবাই মিলে
খেলছি কানামাছি।
…………………………………………..

নষ্ট মেঘের উৎপাত

পতিতা মেঘ উড়ে যায় এক আকাশ থেকে
অন্য আকাশে।
কখনই সে বাঁধে না কোন দেশে ঘর,
আপন বলে কাউকেই ভাবে না সে
সবাই তার কাছে পর।

কখনও লম্পট জলীয়বাষ্পের ছোঁয়া পেলে
টুপ করে ঝরে পড়ে তার আবেশী উঠোনে,
ভিজিয়ে দেয় কামুক ঘাসের শরীর!

দিনমান হেঁটে চলা পথিক এক টুকরো ঘাসও হতে পারলো না,
এক চিলতে মেঘও হতে পারলো না,
চাতকের চোখ নিয়ে কেবলই হেঁটে গেল
লালনের আরশি নগর-
“সে আর লালন একখানে রয়,
তবু লক্ষ যোজন ফাঁক রে”।
…………………………………………..

সময়ের গুলিবিদ্ধ লরকা

ব্যর্থতা বলে কিছু নেই। সবই তো অর্জন।
মগজের তন্ত্রীতে লুট হওয়া সময়ের সেলুলয়েড।
মস্তিষ্কের মেরুতে যুগের সিংহ-জারজ হাই তোলে,
আমি কেবল চুপ করে ঘুমিয়ে পড়েছি ঘুমন্ত অাগ্নেয়গিরির মতন।

অনেক যতনে গড়া সাধের পিয়ানোতে সুর তোলার মতন বাদক কোথায় অামার অাঙিনায়?
ধেয়ে অাসা অন্ধকারে কেবল ঘেমে উঠছি থেকে থেকে।
তাই বলে ছাড়ছিনে পথ হাঁটা।

হুজুগের বাঁশিতে ফোঁক দেবার মতন যোগ্যতা আমার নেই।
দাক্ষিণ্যকে চিরদিনই ভিক্ষের দান বলে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছি।
তাহলে আমার আর জায়গা কোথায় ফসলের মাঠে?
কোথায় আর জায়গা আমার ডিগবাজি খেলার মাঠে?

মুখ ফিরে বসে থাকা বিধাতার কাছেই কেবল করেছি অনুনয়।
অন্যমনস্ক বিধাতা নিশ্চুপ চেয়ে থেকেছেন ভিন্ন দিকে,
আমার প্রার্থণায় মনোযোগ দেবার মতন সময় হয়নি তাঁর।

বেশ তো, সময়ের লাটিম ঘুড়ুক বনবন,
ঘুড়ুক বিমর্ষ দিন-রাত্রির চড়কা,
একদিন ঘুড়ে দাঁড়াবে নিশ্চয়ই
গুলিবিদ্ধ সময়ের লরকা;
একদিন উদিত হবেই উজালা সূর্য চনমন।
…………………………………………..

কেবলই জেগে থাকে দুটি ফুল

পেন্ডুলামের মতন এদিক ওদিক ঝুলছে বিশ্বাসের প্রতীকটা।
উপহারের ফুল গাছে ভ্রমরের আনাগোনা,
কেবলই কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে কচি শ্বাস প্রশ্বাস এবং আবেগের কুঁড়ি।

তবুও একটা অদৃশ্য দড়ি বেঁধে রেখেছে যুগের সকল পিছুটান।
ছিঁড়ে পালাতে গেলেই দুটি ফুল এসে জড়িয়ে ধরে,
ওদের নিষ্পাপ পাপড়ি এসে আগলে রাখে পথ।
কেননা মেঘে ঢাকা অাকাশের মুখে হাসি ফোটাতেই ফুল দুটোর একদিন মন খারাপ হয়েছিল,
একদিন বর্ষা নেমেছিল ফুলের বাগানে।

উড়ে বেড়ানো প্রজাপতির চোখে কাপড় বেঁধে লাভ হবে না জানি,
তবুও হৃদয়ের নকশী কাঁথায় সেলাই তুলেছিলাম
প্রজাপতির রঙে।

মন খারাপের সন্ধ্যে বেলায় বুঝলাম – রঙ বদলায় মায়াবী সন্ধ্যার অাকাশ।
গোধুলির আগে হলুদ, হলুদ থেকে লাল, তারপর লাল থেকে কালোতে মিশে যায় সম্পর্কের সব চিহ্নরেখা।
অন্ধাকারে হারিয়ে যায় বড় চেনা মুখের দৃশ্যপট।

পটুয়ার হাত থেকে রঙের তুলি কেড়ে নেয় লোভের লকলকে আড়ি পাতা জিভ।
স্থির থাকে না দৃশ্যের আঁকিবুঁকি।
নতুন ছবিতে মিশে যায় তুলির সব অতীত আঁচড়,
মনের ফুলদানিতে কেবলই জেগে থাকে নিষ্পাপ দুটি ফুল।
…………………………………………..

স্মৃতির লাল শালু

জানি আজ ভেঙে গেছে অপেক্ষার শরীর,
রাত্রির গা বেয়ে শিশিরের সাথে মিশে গেছে
মন ও মননের সব পাঁচালী।

আবেগের ফুলগুলো কী অবলীলায় তুলে দিয়েছো রাত্রির অন্ধকারে ধেয়ে অাসা অস্ত্রধারী খুনীর হাতে,
কী লীলাতেই না মেতেছো ওগো লীলাময়ী!
বুঝে গেছি – লোভের নাগরদোলায় বড্ড মজা পেয়েছো নন্দিনী!

বেশ তবে সেই কেলিতেই মেতে উঠুক তোমার রজনীগন্ধা শরীর!
সেই অন্ধকারের গলিতেই হারিয়ে যাক মায়ার মন্দিরে সাজানো তোমার প্রতিমা হৃদয়।

একবুক রক্তাক্ত হৃদয় নিয়ে এইবার না হয় ফিরেই গেলাম ধুলোমাটির সংসারে, সেই ভাল,
নিদারুন সময়ের ঝুল বারান্দায় শুটকি মাছের মতন না হয় বেঁধে রাখবো ভালবাসার সব উষ্ণ নিশ্বাস।
বাতাসের সাথে এইবার উড়িয়ে দিলাম বিশ্বাসের সব বুদবুদ।

যাক, হাওয়াই মিঠাইয়ের মতন নীরবেই মিশে যাক, মুছে যাক সম্পর্কের সব ফুল।
মনের মাজারে তসবীর দানার মতন সাজিয়ে নিলাম এতদিন করে অাসা সব ভুল।

আর কোন দিন তোমাকে ডাকবো না নন্দিনী,
অার কোনদিন হৃদয়ের বাঁধনে জড়াবো না দিবস ও রজনীর প্রহর।

বুকের ভেতরে এই সেলাই করে নিলাম ফেলে আসা স্মৃতির লাল শালু,
ওটাতেই চুমু দিয়ে না হয় কেটে যাবে সারাটি জীবন।
…………………………………………..

আঁকা-আঁকি ফাঁকা-ফাঁকি

কথার কথায়
যথায় তথায়
কতই মাখামাখি,
মোহের মাথায়
কবির খাতায়
স্মৃতির আঁকাআঁকি।

আঁকা আঁকি
ফাঁকা ফাঁকি
জীবন ষোল আনা,
দেখাদেখি
লেখালেখি
হয় না তবু জানা!

কানাকানি
জানাজানি
এসব কিছুই মিছে,
কানার হাটে
জীবন কাটে
মরীচিকার পিছে।

থাকুক তবু,
হয় না কভু
মনের সাথে মিল,
কোন্ সুযোগে
মন হুজুগে
আঁটে দরজায় খিল।

খিলের ভেতর
দিলের ভেতর
স্বপ্ন ফোটায় ফুল,
জনম ধরে
কাব্য করে
জীবন করে ভুল।

ভুলের ছলে
চোখের জলে
ইতিকথা রোজ,
বুকের ঘরে
রাখছি ধরে
ব্যথার বিশাল গোঁজ।
…………………………………………..

অন্ধকারই বড় সত্য

আজকে তবে এইটুকুনই
বাকি হবে কাল,
স্বপ্ন একটা আঁকিবুঁকি
শুধুই মায়া জাল।

হিমহিম ঝিম ঘরেতে
ভেঙে পড়ে চাঁদ,
কপালে কি ঘাম ঝরে
বুকে নিয়ে বাঁধ?

দূর দেশেতে জেগে থাকে
নিশিথিনী একা,
চাঁদের খাতায় পড়ে নিও
কথা যত লেখা!

ঐ তারাতে রেখো চোখ
কবিও চোখ রাখে,
চোখ ভরা তার যত কথা
সেইখানেতে থাকে।

আঁধারের বুক চিরে হায়
মেলে থাকে আঁখি,
শুভ হোক নিশি- বলে
রাত জাগা সব পাখি।

মায়া মাখা যত মুখ
ছায়া হয়ে থাকে,
ধরতে গেলে এই জগতে
পায় কে বল তাকে?

বেবাক তারায় স্বপ্ন মাখা
ঐ আকাশে রয়,
ছুঁইতে গেলে মিটিমিটি
দূরের কথা কয়!

সুখ সুখ মিছে কথা
দুঃখ ভরা থলে,
আঁধারের কাছে এসে
সব আলো গলে!

আলোর কুহক ঝিলিক মেখে
আঁধারের মেলা,
এ জীবনে কেবলই হায়
জোনাকির খেলা!

জীবন জুড়ে অন্ধকারই
সব চেয়ে বড় সত্য,
অন্ধকারেই হি হি হাসে
একটা কালো দৈত্য!