আধা প্রেম

আসমানি
একটু যখন ভাবনা তুমি
আরেকটু স্বপন আমি;
আধা যদি ভাসতে ভালো
আধা বাসতাম আমি !
আধা আধা এক হয়ে
প্রেমটা হত দামি ।

পক্ষান্তরে তুমি নাকি আমায়
সেইরকম ভাবনা;
এই মিষ্টি উক্তি কখনো কি
প্রকৃত মন্ত্রণা ?

আমার হ্রদয়ের বাতায়নে
তুমি অলস জোসনা,
প্রেমের দরজায় এসেও
কেন টোকা দেও না ?

আঠার জোয়ার নিশা পয়োধর
আমার লুব্ধ দৃষ্টিতে আসেনি !
শিশু হয়ে থেমে আছো
নাকি প্রবীণা আসমানি ?

দেড় যুগেও যৌবন পাওনি
কেন উপযুক্ত বনবাস ?
আবেগ তোমার এতই হীন
বিবেক আধা বিনাশ ?

তোমার কপল-নাসিকা-বদনে আমার
অধরের আচরের রোমাঞ্চিতা;
তোমার অন্তরে নিদ্রা তাড়াতে
আমি পঞ্চ চুম্বন নির্মাতা !

বশত আমার তপ্ত ঠোটে
কদরে উদ্দিপনা ছিল না ?
মনোহর জুড়া চোখ থাকতেও
তুমি আমার তারুণ্য দেখ না ?

শালা তুই জ্যোষ্ঠ কানা
সত্য চিনিস না;
সততা প্রেম পাঁজরে ঘেরা
অভ্যন্তরে আসলি না ।

আমি সংকুচিত বিষম অস্থির
অঙ্গদ্বয়ে প্রেস কিংবা তোমার গা ;
আধা ভাবনায় উদেম স্নিগ্ধ কায়া
সম্পাদন সোনায় সোহাগা ।

কিন্তু অল্প ছোয়ায় চোখের চাওয়ায়
তুমি জাগ না;
এই, স্বপনেও কি কখনো আমায়
আলিঙ্গন করো না ?

বেমানান একক শয্যায় আমি
ভাবনায় বেহায়া !
শেষ নিশিতে আধা স্বপনে
তোমায় সোহাগ করিয়া-

দৃষ্টি করে বস্ত্র হরণ
হুর উলঙ্গিনী দেহ দেখা!
তোমার বুকের বৃত্তে ইচ্ছা
মোর স্পর্শের ত্রিভুজ রেখা!

দ্বিধা আমার ঘ্রাণ
তোমার নেশায় মাতাল করে না ?
আমার পরশ তোমার
গায়ে কম্পন উঠে না ?

সে কম্পনের বর্ষণ
তোমায় কখনো ভিজাইনি ?
আমায় তুমি কেচরা ভেবে
দুষ্ট ক্ষুধায় স্লান করনি ?

যৌবন লিলা কখনো
কি আহ্বান করে না ?
এতই কৃত্তিম হয়ছো
তুমি প্রণয় বুঝনা ?

কৃত্তিম বলেই তুমি আমার
আধা কাল্পনিক নায়িকা,
আমার অকৃতিম প্রীতি অনু তুমি
নিবৃত হয়ে জীবন্ত লেখা ।

যান্ত্রিক মানবীর বশত প্রতিক্ষা
আমার সাংঘাতিক উন্মাদনা !
আমার হওয়ার চেষ্টা
তোমার দুঃসহ ছলনা ।

সৃষ্টি তুমি যার জন্য
তার থাকো সঞ্চিত;
আমি পাইনি তবুও
হয়নি পরিপূর্ণ বঞ্চিত!

জানি তকে পাবো না
সো নেই হারানোর আশংকা;
তোমার সঙ্গটাই নিবিড় দামি
সর্ব আধা প্রেমের ছ্যাঁকা !
…………………………………………..

কাঁটাতার

অন্ধ কেন চোখ মানবতার
কিসের বাঁধা এপার ওপার
ছিড়ে ফেলো ঐ কাঁটাতার
সংহার জুলুমের অত্যাচার
ওহে মুসলিম কেল্লা কাতার
জাগো তরুণ সংগ্রামী দূর্বার

শ্রবণ করো রোহিঙ্গার কান্না চিৎকার
তোমার ভাই-বোন রক্তে একাকার
নিশ্চিত করো তাদের বাঁচার অধিকার
ঠেকাও আগ্রাসীদের জুলুম অত্যাচার
সবার আছে সমান বাঁচার অধিকার
এ পৃথিবী মুসলিম অমুসলিম সবার।।
…………………………………………..

আমি লজ্জা

আমি শ্রমিকনেতা, ধর্ষণ দাতা
মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করি;
আমি শিশু তানহা, ক্ষুধার্ত যাহা
খাবারে জন্য ধর্ষিতা হয়ে মরি।

আমি চট্রগ্রাম নগর, আমি ঢাকা শহর
বৃষ্টিতে পদ্মা মেঘনা হয়ে যায়!
আমি সিদ্দিকুর জানাই, পুলিশের
টিয়ারশেলে চোখের আলো হারায়;

আমি সাগর-রুনি, আমি ফেলানী
আমি নির্বাচনের পূর্বে নেতার বানি;
আমি বিশ্বজিত, আমি অভিজিত
আমি নাদিয়া এবং তনুর নষ্ট খুনি!

আমি রাজনের বিচার, আমি শেয়ার বাজার
আমি ব্যাগ ছিনতাই হওয়া অসহায় পথচারী;
আমি বাংলার পাক, আমি হলমার্ক
আমি অগ্নিকান্ডের অসহায় গরীব কর্মচারী।

আমি খাদিজা নার্গিস, ডেসটিনির পলিটিক্স
আমি রানা প্লাজার ধুলোয় উড়া লাশ!
আমি গুম ইলিয়াস, পদ্মার লঞ্চ ডুবির পঁচা লাশ
আমি সরকারী ভবনে রডের বদলে বাঁশ!

আমি অবিচার, সাত খুণ শীতলক্ষ্যার পাড়
আমি ধ্বসে পড়া ভবনের গলিত লাশের গন্ধ;
আমি ধর্ষিতা মাজেদা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মর্যাদা
আমি আইন অন্ধ, ১৬ কোটি কণ্ঠ করে রাখি বন্ধ!
…………………………………………..

শেষ প্রহরের প্রণয়

অদ্রি একটু মৃদু হাসি দিবে?
আমি একটি কবিতা দিবো!
তুমি বর্ষায় অভেলায় ভিজবে?
আমি স্বচ্ছ কমল স্পর্শ দিবো!

অদ্রি কেশ ছেড়ে দিবে?
আমি এলোমেলো হবো!
তুমি নীল জামাটা পড়বে?
আমি নীল পরীর বন্ধু হবো!

অদ্রি আলত ভাবে হাতটা ধরবে?
তোমার পাশে থেকে বুড়ো হবো!
এক মোঠো প্রেম দিবে
আমি সবটুকু জীবন দিবো!
…………………………………………..

নীলাম্বরি

নীলগিরি নীলাচল
নীলিমা ছাড়িয়ে,
নীলের নেশায় মন
যায় হারিয়ে।
আকাশের আসমানী
নীলিমার নীল,
বার বার মুগ্ধ করে
আমার চপল দিল!

নীলের লীলায়
আজ কামিনী অদ্রি;
ভাবনার আগুল ছোঁয়ে
ইচ্ছা ঘোরে বেড়ায় নীলাদ্রি!

নীল চোখে নীল মেখে
আমায় যদি দেখে,
নীল পরীর মিল খুজি
নীলাম্বরি মোড়ানো বুকে!

মুগ্ধ হয় নীল নেইলপলিশে
আর নীলকান্তমণি,
পল্লী বালার নীল ফিতার
দিঘল দিঘল বেণী।

হবু বউ নীল পরী কে
শুভদিনে নীল শাড়ী পরিয়ে,
নীল সজ্জায় হবে
আমাদের বিয়ে।
…………………………………………..

পৃষ্ট

দু’একটি বিকাল একটু একটু সন্ধ্যা
তুমিতে আমি দৃশ্যমান,
শেষ সন্ধায় ছিলে প্রতিক্ষা
অদ্রির গাল ফুলা অভিমান।

তারপর একটি নিষ্ঠুর রাত
তোমার অন্বেষণে;
ক্ষনে ক্ষেনে খুঁচাছিলাম
ফোনবুক তোমার স্মরনে!

বারংবার নিদ্রাভাঙা চোখ
বেতারযন্ত্রটা পাহাড়া দিতো;
কয়েকটি বোতাম চেপে একটি
বার্তা দিলে কি এমন ক্ষতি হতো?

অদ্রি কত নিষ্ঠুর নির্মম
ভাবে তুমি নিরব ছিলে?
স্নিগ্ধ সুচেতা হতে, কতোটা
চোখের জল ঢেলে দিলে?

আমিতো তোমার কাছথেকে
তোমাকে কেড়ে নিতে চাইনি;
কেন কি হয়েছিলো এ জবাব
আজো কেন আমি পাইনি?
…………………………………………..

আরাধনা

পাপির নেইযে পরিত্রাণ
জীবন করলে গণনা;
প্রভু করো প্রসাদ
সোবাহান মার্জনা।

হে মহান করুণাময় কৃপা
তোমার দরবারে করি তিতিক্ষা;
রোজা আমার স্বীকার করো
আহার পরিহার তোমার প্রতীক্ষা!

প্রভু সকল সমগ্র স্বামী
তোমার ভূজে প্রার্থিত অভ্যর্থনা;
ভুল ভ্রান্তি মার্জনা কামী
এই অধমের আর্ত আরাধনা।
…………………………………………..

জরুরী

কবিতার প্রথম লাইনটা পড়তে গেলে
ধোঁয়াশা চোখেরজল গাঁজার ধোঁয়াতে!
নিরর্থক প্রয়াস ছিলো একটি কবিতা লেখা
নীল আর লালখয়েরিতে।

এক প্যাক রক্তের দামে
এক ব্যাগ গাঁজা হয় ক্রয়,
এভাবেই নিকোটিনের ধোয়ায়
মুঠো মুঠো স্বপনেরা ঘুমায়!

আকাশ আসমানি একাকার
ওটার বাস্তবতা শুধু শৈরতে,
সেটা বুজতে সময় লেগেছিলো ঢের
কারণ মাদক ছিলো হাসিতে!

অবেলায় তোমার ফিরে আসার পথে
সীমান্তের কাটাতারের বেড়া,
যেন লেট হওয়া আর্মির ফলিংয়ে
এক ফালি কটুক্তির চেহারা!

রেড ক্রিসেন্টের বিপ্লবী ছেলেটা
এক ব্যাগ রক্তের অভাবে মরন!
জুরুরী বিভাগের ভর্তি রুগীর
চেয়েও জুরুরী আমার পরিবর্তন!

তাই পরিবর্তনে, স্মৃতি গুলো হত্যা করে
হৃদয়ের রক্ত দেখি!
আর কয়েকটা দিন বাঁচার আশায়
মন চায় অন্য একটি কবিতা লেখি।
…………………………………………..

পালাবো

ভাবছি ভুল হবো
মায়া প্রশ্রয় দিবো
ভাছি প্রেম হবো
বাবুনির নরম অধর ছোঁয়ে দিবো
ভাবছি ঢং হবো
ঢঙির খুনসুটি চুরি করবো
ভাবছি পালাবো
যে খুজবে তার হবো!
…………………………………………..

বাসন্তীর ছোঁয়া

পাঞ্জাবীর গতরে বাসন্তী শাড়ির স্পর্শ
অনেকদিনের কামনা, জুটি কেমন মানায়;
আঙ্গুলে আঙ্গুলে সন্ধি করে, একটি
পহেলা ফাল্গুন আমার চাই-

এমন একটি বিকালে কামিনীকে
পাশে-কাছে নিভৃতে নিরিবিলি চাই;
চুলে ফুল, কানে দুল, ললিত ললাটে
আননে কাননে অধরের স্বাধীনতা চাই।

ধীরে ধীরে দু’জনের মাঝের দূরত্ব
কমিয়ে, বিকালের রৌদ্র জমিয়ে,
বাসন্তী শুভসন্ধ্যা চাই।
শাড়ীর ভাঁজ ভাঙ্গার অভিমান,
প্রতিশোধে নাকটানা অভিযান
সে কামনায় বসন্তের শুভেচ্ছা জানাই!