মায়ের কাছে

মাকে কথা দিয়েছিলাম মিথ্যে বলব না,
মায়ের লক্ষ্মী ছেলে হয়ে থাকব,
মদ ছোঁব না,স্পর্শ করবো না নারী
বইয়ের ভাজে লুকিয়ে রাখব মুখ।
টেবিলের দৈর্ঘ্য ছেড়ে পালাব না দূরে
কাটবো না সাঁতার নদীর ঘোলা জলে,
দুপুর রোদে ওড়াবো না সুতায় কাটা ঘুড়ি,
আরো কতো কথা দিয়েছিলাম মাকে।
সেসব কথা কী করে গেলাম ভুলে,
কী করে পালটে গেলাম প্রতারণার ছলে
কী করে শিখে গেলাম কঠিন হতে ?
মায়ের কাছে রেখে দেয়া বাক্যগুলো দহন করে
সদাই করে হাস্য তীব্র বেগে শূলের মতো।
বাক্যগুলো জাগিয়ে রাখে রাতদুপুরে,
স্বস্তি দেয় না একটুখানি অবকাশে।
মা,আবার তোমায় কথা দেবো,
তোমার পাশে নিত্য রবো।
ছোটবেলার কথাগুলো শপথ করে আবার দেবো
আবার দেবো একই কথা, একই মাপের স্বপ্ন বুনতে
একইভাবে বাঁচার তরে ভোরের হাওয়ায় নতুন করে,
একইভাবে কোমল হ্নদে শপথ ধরি,
মাগো, তোমায় দেয়া কথাগুলো নবায়ন করি।
…………………………………………..

মায়ের গায়ের গন্ধ

মায়ের একটা গন্ধ আছে,
ভীষণ সেটা অন্যরকম, আতর -গোলাপ নয়তো,
গন্ধটা ছড়ায় না কারো নাকে,
গন্ধটা সুভাস দেয় না কারো নাকে,
শুধুই সেটা জমে থাকে আমার পাশে,আমার নাকে।
মা’কে আমি চারপাশে পাই অনুভবে।
মা’যে আমায় কাজল দিত দু’চোখ জুড়ে,পায়ের তলে
দ’পায়েতে দিত নূপুর ঝনঝনিয়ে,
কোমরবন্ধ বেঁধে দিত নাভিপুটে।
মায়ের একটা গন্ধ আসে আমার নাকে,
গন্ধটা এমন মাদক হাওয়া তোলে,
ফের নিয়ে যায় আশৈশবে,মায়ের কোলে
মায়ের গায়ের গন্ধটা এতোই কোমল,এতোই পূত
কোনো গন্ধ গায়ে আর থাকে না যে,
মায়ের বোনা গায়ের খাতা সুতোর ভাজে,
কেমন মাদক গন্ধ জোগায় সেখানটাতে,
মায়ের হাতের সবই যেন অমৃত,
মায়ের তৈরি ছানা,পনির,ঘৃত।
মা আমার যেখানেই থাকুক যতো দূরে,
মায়ের সেই গন্ধ যেন নাকে পুরে।
…………………………………………..

বিবর্ণ সময়

নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা,
চোখ ভিজে গেছে অশ্রুতে,
চারদিক কেমন ফাঁকা, খাঁখাঁ করছে জনবহুল ভূমি,
মানুষের বিচরণ থমকে গেছে হঠাৎ,
হাত মেলাচ্ছে না হাতে,মুখে এটে আছে জীবাণু নিরোধক,
ব্যস্ততম,জমাটবদ্ধ জায়গাগুলোতে সুনসান নীরবতা,
ভয় ধরেছে মনে,দেহে, সমাজের রন্ধ্রে,
ক্রমেই মানুষ ফিরে যাচ্ছে আপন ঠিকানায়,
স্বেচ্ছায় বন্দী হচ্ছে চিলেকোঠায়,
সম্পর্কের আর নেই বাকি, চাল-ডাল আলুর মতো
বানের জলের মতো সবকিছু ভাসমান,
অন্ধকার পথ পেয়েছে, বুকের বাপাশে ধুঁকছে মানবতা,
সবকিছু কেমন যেন দিকভ্রান্ত, থানকুনি আর পানিপড়ায় মজেছে শিক্ষিত,
সামনে আসছে অস্পর্শ্য সময়, মানুষ দূরে সরে যাবে,
সময়ের চক্করে থেমে গেছে দুরন্ত সময়,
ভয় ধরেছে মানুষের প্রাণে, চারপাশে,
মানুষ আর সচেতন হবে কীভাবে,
কীভাবে মানুষ ফিরে পাবে সুবর্ণ সময় ?
…………………………………………..

নতুন পৃথিবী

এক করোনায় বদলে গেলো ভূখণ্ড
কেড়ে নিলো দাঁড়িয়ে যতো নরমুণ্ড।
বদলে গেল নিয়ম- কানুন, রীতিনীতি
গভীর হলো ভালোবাসা, প্রেমপ্রীতি।
থেমে গেলে জ্বলে ওঠা আগ্নেয়গিরি
ভেঙে গেছে বড় হওয়ার চলন্ত সিড়ি।
অর্থনীতি পড়ে গেছে নতুন ফেরে
পরাশক্তি দাঁড়িয়ে আছে পকেট মেরে।
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলাগুলো গেছে থেমে
অবাক সবাই মানবসেবায় গেছে নেমে।
মায়ান,ইনকা ডুবে গেছে দৃশ্যপটে
নেমেসিস, তুতেনখানেম আছেন বটে?
ভীষণ ক্ষতির এটমগুলো ধুকছে বসে
কে ফাটাবে বোমাগুলো অংক কষে।
লিবার্টি আর দাঁড়িয়ে নেই আলো নিয়ে
নিভে গেছে মাচুপিচু জ্বলতে গিয়ে।
পাল্টে গেছে প্রকৃতির সব দৃশ্যপট,
দাঁড়িয়ে আছে শূন্য হয়ে প্যাগোডা, মঠ।
চারদিকে সবুজ সবুজ মনোরম
বাঁচার জন্য নতুন করে ফেলছি দম।
পাল্টে যাওয়া এই পৃথিবী তোমায় সেলাম
পাল্টে নিলে নিজেকে আজ তাই দেখলাম।
…………………………………………..

সুখের চাষ

এক টুকরো জমি দরকার মাথা গুজার জন্য,
ঘাসে ঠাসাঠাসি হলেও সমস্যা নেই,
সাফসুতোর করে আবাস গড়বে নিভৃত প্রান্তে
বাতাবিলেবু আর শিউলি -গন্ধরাজ পুতে দেবে
তড়তড় করে বেড়ে উঠবে বাগানবিলাস,
ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপ নিয়ে পড়ন্ত বিকেলে,
সদ্যস্নাত চুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে পরমা
চায়ের কাপে চুমু দিতে দিতে ছুঁয়ে যাবে বিকেলের রোদ
কোলাহলের মধ্যেও বসে বসে এমন মুহূর্ত ভাসে,
ভীড় করে বিচিত্র চিন্তা, জমির কী প্রয়োজন
জমি ছাড়া কি সুখের চাষ করা যায় না ?
বসত করতে ভূমি আবশ্যক কেন ?
পরমাকে অনেক বুঝিয়েছি, অনেক প্রবোধ দিয়েছি
কাজ হয়নি কোনো, বসত গড়তে তার প্রাণান্তকর চেষ্টা
এক টুকরো জমিই চেয়েছে, আগাছা হলেও চলবে
পরমা বুঝতে পারেনি, সুখের জন্য প্রতিশ্রুতি চাই,
শরীর জাগলে অনায়াসে সুখের চাষ।