এ-ই শহরে

এ-ই শহরে মেঘলা আকাশ চাঁদের মুখে হাসি
এ-ই শহরে ফেরিওয়ালা বাজায় দুঃখের বাঁশি
এ-ই শহরে প্রেমের হাটে বৃষ্টি করে জয়
এ-ই শহরে আঁধার হলে জমে নানান ভয়।

এ-ই শহরে প্রেমিক মুখে কাজল গলে জলে
এ-ই শহরে একলা হলে হারায় দলে-দলে
এ-ই শহরে অর্থ হলে হাসির ঢেউ খেলে
এ-ই শহরে ভাত না পেলে সবাই ভাবে কেলে।

এ-ই শহরে একটি মুখে হীরার কণা ঝরে
এ-ই শহরে বৃষ্টি এলে সেই মুখেতে পড়ে
এ-ই শহরে রেললাইনে কত গল্প বুনে
এ-ই শহরে পিছু হটলে ভিজবে মাটি খুনে।

এ-ই শহরে ল্যাম্পপোস্টে কত স্বপ্ন খুলে
এ-ই শহরে ভুল আলোতে কত মুখ ঝুলে
এ-ই শহরে পাপ করে কেউ সাধুর বেশে থাকে
এ-ই শহরে ভুল থেকে কেউ নতুন পথে হাঁকে।

এ-ই শহরে বালির কণা চোখ বেঁধে দেয় ঝাঁক
এ-ই শহরে অঢেল লোকে দিগুণ করে হাঁক
এ-ই শহরে নর্দমাতে পলিথিনের বাস
এ-ই শহরে শিক্ষা নিয়ে মুখের লাগাম ফাঁস।

এ-ই শহরে হাঁটতে গেলে দুঃখের দেখা মিলে
এ-ই শহরে মানব সারস কুরসিতে বসে গিলে
এ-ই শহরে বাতাস এলে চুলের বাঁধন খুলে
এ-ই শহরে দুষ্ট চোখে মানব জীবন ভুলে।
…………………………………………..

সমাজপতি

সমাজপতি তোমার বিচার করবে কারা?
বিপরীতে উল্টো ছোবল ধরবে তারা
অট্টহাসি হেসে দিলে সব চুকে যায়?
মুখোশ পড়ে ফুঁ দিলে ও সব চেনা যায়।

নীতির শ্লোক শুনবে কত যুগ?
এই ভাবে যে হচ্ছে কত ভোগ
ন্যায়ের মুখে লাগাম ফাঁসে
পর্দা টেনে অট্ট হাসে।

ছাত্র বলে বারুদ জ্বালাও মুখে
হিংস্র থাবা বসাও তখন বুকে?
রক্ত মাখা অস্তি দেখার স্বাদ?
গাত্র চুকে গড়ো মৃত্যু ফাঁদ।

রংতুলিতে রক্তিম হাসি দেখে
তুমি ও কি তার গাত্রে দাও আঁচড় মেখে?
ক্ষত স্থানের রক্ত মিষ্টি লাগে
তাই বলে কি মিঠাও ভাগে ভাগে?

এই যে দেখো ভোগের ভাগে শান্ত লাশ
একটু আগে স্বপ্ন ছিলো শুভ্র কাশ
যোগ সুত্রে পর্দা টেনে রাখলে আজ
প্রকৃতি ও খুলে দিবে মিথ্যে লাজ।

কুকুর গুলোর কি দোষ ছিলো শহর জুড়ে?
আসল কুকুর ঘরের কোণে দেখো খুঁড়ে
ভাংতে প্রাচীর নেয় না সময় যুগান্তর
বিপরীতে ঘুরে দাঁড়াও দেখবে দেশান্তর।
…………………………………………..

ঝাপটে ধরি

আমাকে কেউ দুঃখ দেয়নি
দুঃখ আমি খরিদ করি
হঠাৎ করে কান্না পেলে
তোমার ছায়া ঝাপটে ধরি

তবুও আমি দুঃখ খরিদ করি
গহীন আঁধার একলা হলে
তোমার চেনা সুর ক্ষণে-ক্ষণে
বাজে আমার কর্কশ গলে।

পথের ধুলো সরিয়ে আজও
তোমায় দেখি রাতদিন
তুমি একটু তাকিয়ে দেখো
তখুনি বাজবে আমার সুখের বীণ।
…………………………………………..

মৃত্যুদণ্ড!

আমার মৃত্যুদণ্ড ভূমিষ্ঠের পূর্বে লিখে রেখেছো
তবু হতাশার দণ্ডে দণ্ডিত করো না হে প্রভু
তোমার ভালবাসায় পরিপূর্ণ করে দাও
যেন তোমারে ভুলে না যাই কভু!

কঠিন শোকে ও যেন ভেসে না যাই জোয়ারে
তোমারি মহিমায় ভরিয়ে দাও এ দুয়ারে
সেই প্রেমে হৃদয়ের কালো দাগ মুছে নাও
আমার হাতে শিকলের ছোঁয়া যেন না লাগে ওপারে।

সত্য দেখে পিছু যেন না ডাকে বেঠিক
তোমারি ভয়ে দিলে যেন আলো জ্বলে
আঁধারের কালো ছায়ায় ভুল খুঁজে
সুখের পর্দায় চোখ রেখে পাপী গলে।

শয়তানের চৌদিকের হামলার শিকার হতে
এ হৃদয়ের ঘর করে দাও আলোকময়
তোমাকে যেন প্রভাত হতে অন্তিমকালে
অশ্রু টলটল অক্ষি দু’টি হৃদয়ে আনে ভয়।

মিনারের চত্বর হতে ভেসে আসা সে সুরে
এ পাপী হৃদয়ের তরে ন্যায়ের হাঁক
মাশরিক হতে মাগরিবে সিজদায় লুটে
এ ধরার ঘোর কাটিয়ে হৃদয়ে তোমারি ডাক।
…………………………………………..

প্রকৃতি

নীল শাড়ীতে আকাশ সাজে
সবুজ করে প্রকৃতি
হাড়ের ভরে দাঁড়িয়ে আছি
এ-ই তো আমার আকৃতি।

দেহের ভিতর লালচে আভা
এমনিতে তা যায় না দেখা
ক্ষত স্থানে হাসি দিলে
তখন কিন্তু যায় যে দেখা।

হৃদয় হলো খাতার ভুবন
হয় না কভু শেষ
অক্ষি দু’টি হৃদয় কলম
লিখে অনেক বেশ।

হাজার ফুলের হাজার ঘ্রাণ
সাজায় নামের সাজে
হঠাৎ করে দেখলে সে ফুল
হৃদয় খাতায় বাজে।

হাজার মুখের ভাঁজে পড়ে
করে না তো ভুল
একটু খানি দেখলে সে মুখ
গড়ে তুলে কূল।
…………………………………………..

সুখের তরী

কবিদের নাকি মন থাকে না
তবে একটি সুখের তরী থাকে
দিনের আলো নিভে সন্ধ্যা নামলে
সে শুধু ক্ষণে ক্ষণে ডাকে।

হাজারো মেকি মুখের ভাঁজে
একটি মুখের গন্ধ খুঁজে
রাতের আঁধার একলা হলে
তোমার স্মৃতি মন বুঝে।

কোনো এক পড়ন্ত বিকালে
রৌদ্র ছায়া খেলা করে বিন্দু জলে
ভাসমান জলের বুকে কচুরিপানা খেলা করে
তখন সেই স্মৃতি বাসা বাঁধে দলে-দলে।

হঠাৎ করে বৃষ্টি এলে সৃষ্টি করে অনুভূতি
বৃষ্টি কণা মিশে যায় অন্ধকারে ভাঁজে
রাতের আঁধার একলা হলে একটি নাম ডাকে
সেই চোখ যে তাকিয়ে আছে কাজল মাখা সাজে।
…………………………………………..

মেঘ জমেছে

বৃষ্টি আমায় শরত দেখায়
আমি দেখি দুঃখ
চেনা মুখে মেঘ জমেছে
আমি নয় তো মূখ্য।

মনের ভেতর লুকানো কথা
হাড় ভাঙ্গা সেই শব্দ
কোথায় গিয়ে উগলে দিলে
আর হবে না জব্দ।

শ্রাবণ মেঘে গহিন বনে
আজও পানি শূন্য
চেনা মুখের মেঘ সরাতে
হলো না পরিপূর্ণ।

একটু হেসে বৃষ্টি দেখো
দেখবে আপন পাশে
শূন্য বনে জলের জোয়ার
মিটমিটিয়ে হাসে।

অভিমানে পর্দা সরে
আকাশ দেখো নীল
দুঃখ গুলো হারিয়ে গিয়ে
গড়লো সুখের ঝিল।
…………………………………………..

অভিলাষী মন

আমি ও ছায়া দু’দিক থেকে মুখোমুখি বসে
কল্পনা করি যে যার মধ্যে একটা স্মৃতি নিয়ে
তখন ঘাসের মতো পেচিয়ে থাকি দূরে সরে
সুখ অভিলাষী মনের চোখ দু’টি জলে যায় হারিয়ে।

সোনা ঝরা রোদ পড়ে মৃত গাছ হয়ে উঠে উর্বর
পাওয়া না পাওয়ার গল্প খুঁজে সুখ ডুবে উজানে
পুষ্পের গাত্রে বৃষ্টি পড়ে সজীবতা খেলা করে
প্রেমের মধুতে বাঁশি ভিজে কেন দু’টানে?

জলের বুকের প্রেমে মাছ ভালবেসে সংসার পাতে
তবু ও তো যায়নি দূরে শ্বাস ছেড়ে যেতে
রক্তের কালো রঙের ভাঁজে কত শিরা যায় মিশে
ব্যথার প্রাচীর ভুলে আজ প্রেম রয়েছে উৎপেতে।

পাখি ও প্রেমের টানে সুতোর মতো জড়িয়ে ধরে
গাছের কুঠরি ভাঁজে লুকিয়ে রাখে স্মৃতি
এপাশ-ওপাশ করে ধরে রাখে ভালবাসার মোহ
তবুও দেখা হলে বেড়ে উঠে সেই সম্প্রীতি।
…………………………………………..

সেই আমি

আমি আবার আসবো সেই আমি হয়ে
কোন এক বৃষ্টি মুখর দিনে
বৃষ্টি আমায় ভাসিয়ে দিবে তেজে
আমার কাক ভেজা গাত্র নিবে চিনে।

লুকিয়ে আবার দেখবে জানালার এক কোণে
আমি ও ঠিক চিনে নিবো সেই চোখ দু’টি
বাতাসে ভেসে বেড়ানো সেই হাসির ঢেউ
আমি তো জানি সেই শব্দ আমার হৃদয় জুটি।

হঠাৎ বৃষ্টির গতি বেড়ে গেলে একটা নজর দেখতে
জানালার পর্দা সরিয়ে দেখার স্বাদ জাগে
মনের গহীন হতে ব্যজন এসে পর্দা সরিয়ে দিলে
তোমার হৃদয়ে মিশে জমাট বাঁধবো সেই তুমির ভাগে।

এবার না হয় বৃষ্টি আসুক ভিজবো দু’জনে
ছাতার বদল পাণি দু’টি দেবো তোমার ছায়া
প্রতি ফোঁটা স্পর্শ করে তোমার গাত্রে মাখবে
তোমার হাতের ছোঁয়ায় বিন্দু কণায় জমে মায়া।
…………………………………………..

ধূসর আমি

রঙিন চোখে ধূসর আমি
ধূসর আমার মন
সুখ খুঁজে ও দুঃখ ডাকে
নেই তো আপনজন।

আমার চোখের কাজল হাসি
দেখলে জাগে রাগ
আমি আমার ব্যথার কারণ
দুঃখ বসায় ভাগ।

রংধনু ও আমায় দেখে
হারায় মেঘের ভাঁজে
গোধূলির ঐ নিরব হাসি
অন্য স্রোতে সাজে।

রাতের আকাশ জোছনা মাখে
বৃক্ষ ঘাসের বুকে
আমি যখন জোছনা দেখি
ছায়া বসে মুখে।