আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন জীবনধর্মী অসাধারণ শিল্পী হিসেবে মাহবুব-উল আলম বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণ-বৃত্তান্ত, জীবনস্মৃতি ও প্রবন্ধ রচনায় তিনি অসামান্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন। তাঁর রচিত সাহিত্যে জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব জীবন-চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্য তিনি একদিকে যেমন প্রশংসিত হয়েছেন, অন্যদিকে বিশেষ জীবনদৃষ্টির কারণে সমালোচিতও হয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি যে একজন অসাধারণ জীবন-শিল্পী এ ব্যাপারে কোন দ্বিমতের অবকাশ নেই।
মাহবুব-উল আলম (জন্ম ১ মে ১৮৯৮-মৃত্যু ৭ আগস্ট ১৯৮১) চট্টগ্রাম জেলার ফতেয়াবাদ মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। উক্ত জেলার ফতেপুর গ্রামে তাঁর পৈত্রিক নিবাস। তিনি ১৯১৬ সনে এন্ট্রান্স পাশ করার পর ১৯১৭ সনে প্রথম মহাযুদ্ধের সময় বাঙালি পল্টনে যোগদান করে মেসোপটেমিয়া গমন করেন। ফলে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার এখানেই অবসান ঘটে। মেসোপটেমিয়ায় গিয়ে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধশেষে তিনি ১৯১৯ সনে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর ১৯২০ সনে তিনি সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেন। কর্মদক্ষতার ফলে তিনি ১৯৪৮ সনে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার পদে উন্নীত হন। পরে ১৯৫২ সনে তিনি জেলা রেজিস্ট্রার পদে এবং উক্ত একই সনে ইন্সপেক্টর অব রেজিস্ট্রার পদে উন্নীত হন।
১৯৫৪ সনে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করে মাহবুব-উল আলম চট্ট্গ্রাম থেকে সাপ্তাহিক ‘জামানা’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। সাংবাদিকতা করার পাশাপাশি তিনি লেখালেখির কাজে মনোনিবেশ করেন। তিনি একাধারে কথাসাহিত্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণ কাহিনী, ইতিহাস-রচয়িতা ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর রচিত বিভিন্ন গ্রন্থের তালিকা নিম্নরূপ:
১. পল্টন জীবনের স্মৃতি (১৯৪০)
২. মোমেনের জবানবন্দী (১৯৪৬)
৩. তাজিয়া (১৯৪৬)
৪. আলাপ
৫. পঞ্চ অন্ন (১৯৫৩)
৬. মফিজন (১৯৪৬)
৭. গোঁফ সন্দেশ (১৯৫৩)
৮. বার্মা (১৯৫৯)
৯. সীলোন বা লঙ্কা (১৯৫৯)
১০. ইন্দোনেশিয়া (১৯৫৯)
১১. তুর্কী (১৯৬০)
১২. সৌদী আরব (১৯৬০)
১৩. পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষী (১৯৬০)
১৪. পূর্ব পাকিস্তানের বনক্ষেত্র (১৯৬০)
১৫. পূর্ব পাকিস্তানের মৎস সম্পদ (১৯৬০)
১৬. চট্টগ্রামের ইতিহাস (তিন খন্ড, ১৯৪৭-১৯৫০)
১৭. বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের ইতিবৃত্ত (চার খন্ড)
১৮. সঙ্কট-কেটে গেছে (১৯৫৪)
মাহবুব-উল আলমের প্রথম ও সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য রচনা ‘পল্টন জীবনের স্মৃতি’ (১৯৪০) একটি আত্মচরিতমূলক গ্রন্থ। এটি প্রথমে মাসিক মোহাম্মদিতে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। এতে তাঁর সৃজনশীলতার পরিচয় সুস্পষ্ট। এর বর্ণনা অত্যন্ত আকর্ষণীয়, তীক্ষ্মধার ও অন্তরঙ্গতায় অসাধারণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি বাঙালী পল্টনে যোগ দিয়ে মেসোপটেমিয়ায় গিয়ে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর ঐ সময়কার জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা তিনি এ গ্রন্থে বিশেষভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। এটা একাধারে ভ্রমণ-বৃত্তান্ত ও জীবন অভিজ্ঞতার অন্তরঙ্গ বর্ণনা হিসাবে এক জীবনধর্মী সাহিত্যের মর্যাদা লাভ করেছে। এ গ্রন্থটি সম্পর্কে গ্রন্থকার তাঁর নিজের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন এভাবেঃ “আমার কৌতুহল অদম্য। আমি যেখানেই গিয়েছি সেখানকার চলমান জীবনকে জানবার চেষ্টা করেছি। তাছাড়া, আমার স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রবল। পুরনো ঘটনা আমার যেভাবে মনে থাকে, নতুন ঘটনা সে রকম থাকে না। অর্থাৎ এখনকার ঘটনা ঠিক এখনই আমার মনে আসবে না। পুরনো হলেই নতুন করে স্মৃতিতে জেগে উঠবে। আমার স্বভাবের এই পরিস্থিতি আমার এই লেখার প্রেরণা। নজরুল ইসলাম লেখাটির অসম্ভব প্রশংসা করেছিলেন। আমি তাঁর উৎফুল্ল অভিনন্দন কখনই ভুলব না।” (সৈয়দ আলী আহসান: সতত স্বাগত, প্রথম প্রকাশ, আগস্ট ১৯৮৩, পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯)।
মাহবুব-উল আলমের স্মৃতিচারণমূলক অন্য আর একটি অসাধারণ গ্রন্থের নাম ‘মোমেনের জবানবন্দী’। এটা বিশেষ ঢঙে লেখা একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। এ গ্রন্থটি সম্পর্কে বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্য সমালোচক সৈয়দ আলী আহসান বলেন: “জীবনের কর্মপ্রবাহ নয় কিন্তু জীবন-জিজ্ঞাসার বিচিত্র কল্লোল গ্রন্থটিকে মহার্ঘ করেছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্বভাবের জাগরণ এবং চৈতন্যোদয়ের রোজনামচা এ-বইটি। একজন মানুষের বিশ্বাসের স্বরূপ কি? কোন তাৎপর্যে বিমন্ডিত মানুষের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা? জীবনকথার স্মৃতি-মন্থনে এ সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ভেসে উঠেছে।” (ঐঃ ঐ, পৃষ্ঠা ৪১)। এ গ্রন্থে সমাজ ও বাস্তব জীবনের নিখুঁত বর্ণনা স্থান পেয়েছে। তাঁর গদ্য রচনা অত্যন্ত সাবলীল ও বলিষ্ঠ, এ গ্রন্থে তার সুস্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।
‘তাজিয়া’ ও ‘পঞ্চ অন্ন’ মাহবুব-উল আলমের বিখ্যাত দুটি গল্প সংকলন। মনে হয়, ছেটগল্পে তাঁর প্রতিভা ও শিল্পী-সত্তার পূর্ণ বিকাশ ঘটেছে। তাঁর গল্প বলার ভঙ্গি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। বাক্যবিন্যাসে নৈপুণ্যের পরিচয় আছে। অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা কিন্তু বাস্তব জীবন থেকে উপমা নিয়ে তা উপভোগ্য ও রসময় করে তোলার সক্ষমতা রয়েছে তাঁর। তিনি একজন জীবনরসিক প্রাণময় গল্প-রচয়িতা। তাঁর গল্প সম্পর্কে সৈয়দ আলী আহসানের মন্তব্য অতিশয় প্রণিধানযোগ্য। তাই এখানে তা সংক্ষেপে উদ্ধৃত হলো: “মাহবুব-উল-আলম গল্প বলেছেন অসাধারণ তৃপ্তিতে এবং সহজ নিরাভরণ তীক্ষ্মতায়। গল্পে তিনি একটি নির্মল বিশ্বাসযোগ্যতা নির্মাণ করেছেন-তিনি জানেন কতটা বলতে হবে এবং কখন থামতে হবে। অর্থাৎ কৌশলগত অতিস্বর বা তাঁর কোন রচনায় নেই-কিন্তু তাঁর রচনা পরিচ্ছন্ন, জীবনময় এবং উপভোগ্য। মাহবুব-উল-আলম প্রায়ই আমাকে বলতেন, ছোটগল্প তো কবিতা। ছোটগল্পের মধ্যে গল্প লেখক চরিত্রের গতিবিধি অনুসরণ করে একটি অভিজ্ঞতাকে নির্মাণ করেন, আর কবি শুধু সেই অভিজ্ঞতার অন্তঃসারটুকু নিজের উপলদ্ধি হিসেবে উপস্থিত করেন। তাই আমি বলি, কবি ও গল্প লেখকের মধ্যে তফাৎ নেই। দুজনের বেসাতি একই। শুধু ক্রেতার সামনে উপস্থাপনার তারতম্যটুকুই আছে।” (ঐঃ ঐ, পৃষ্ঠা ৩৭)।
মাহবুব-উল-আলম রচিত ‘মফিজন’ বাস্তব জীবনভিত্তিক ছোট আকারের একটি উপন্যাস। অনেকে এটাকে বড়গল্প জাতীয় রচনাও মনে করেন। তবে শিল্প-রীতি অনুযায়ী এরমধ্যে উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য অধিক। এটা একটি বিতর্কিত উপন্যাস। অনেকে এটাকে অশ্লীল সাহিত্যের পর্যায়ভুক্ত বলে মনে করেন। এতে মুসলিম সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রতি আঘাত হানা হয়েছে, বলে অনেকের ধারণা। সবকিছু মিলিয়ে এটা তাঁর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। এই গ্রন্থটি সম্পর্কে সৈয়দ আলী আহসান তাঁর নিজের ধারণা ও লেখকের কথিত মন্তব্য সম্পর্কে যা বলেন, তা এখানে সংক্ষেপে উদ্ধৃত হলো:
“তাঁর ‘মফিজন’ গল্পটি যখন প্রথম প্রকাশিত হয় তখন গল্পটিকে অশ্লীল ও যৌনতাবহ বলে অনেকে চিহ্নিত করেছিলেন। মাহবুব-উল-আলমকে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করাতে তিনি উত্তরে বলেছিলেন, যারা এ গল্পকে অশ্লীল বলে তাঁরাই এ গল্পটি পড়ার সময়, নিশ্চয়ই জানবেন, বারবার ঢোক গিলেছেন। এখানেই আমার গল্পেটির সার্থকতা।’ একটু থেমে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনার কেমন লেগেছে?’ আমি বলেছিলাম, ‘অল্প পরিসরের মধ্যে আপনি একজন গ্রাম্য রমণীর দেহগত পরিপুষ্টি এবং তার মানসিক প্রতিক্রিয়া যেভাবে প্রকাশ করেছেন তা আমাদের সাহিত্যে নতুন। রমণীর শরীর এবং মনের সার্থকতা এবং সফলতাকে আপনি সুন্দর ও সুস্পষ্টভাবে রূপ দিয়েছেন। তবে আমার মনে হয় গল্পটিকে আরও একটু বড় করলে ভালো হত।” (ঐঃঐ, পৃষ্ঠা ৪০-৪১)।
মাহবুব-উল আলমের রচিত ‘গোঁফ সন্দেশ’ একটি ব্যঙ্গ রচনা। ব্যঙ্গ রচনার ক্ষেত্রে এবং বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরস সৃষ্টিতে তাঁর নৈপুণ্যের প্রকাশ ঘটেছে এ গ্রন্থটিতে।
মাহবুব-উল আলম সরকারী চাকরী থেকে অবসর গ্রহণের পর জাতিসংঘের ইউনেস্কোর কমিশন পেয়ে বার্মা, শ্রীলংকা, তুরস্ক, সৌদি আরব, ইত্যাদি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। তাঁর এসব দেশভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি রচনা করেন ‘বার্মা’, ‘সিলোন বা লঙ্কা’, ‘ইন্দোনেশিয়া’, ‘তুর্কী’ এবং ‘সৌদী আরব’। তাঁর রচিত এসব গ্রন্থে ঐ সকল দেশের ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক ও জনজীবনের বিচিত্র জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে। এছাড়া, উক্ত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি ‘পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষী’, ‘পূর্ব পাকিস্তানের বনক্ষেত্র’ ও ‘পূর্ব পাকিস্তানের মৎস সম্পদ’-এ তিনটি পুস্তিকাও রচনা করেন। তাঁর এসব গ্রন্থে বাংলাদেশের পশু-পাখি ও মূল্যবান বন সম্পদ সম্পর্কে চমৎকার ধারণা পাওয়া যায়।
ইতিহাস-বিষয়ক রচনার মধ্যে মাহবুব-উল আলমের দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো- ‘চট্টগ্রামের ইতিহাস’ (তিন খন্ড, ১৯৪৭-১৯৫০) ও ‘বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের ইতিবৃত্ত’ (চার খন্ড)। ‘চট্টগ্রামের ইতিহাস’ ১ম, ২য়, ৩য় খন্ড নবাবী আমল প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সনে, কোম্পানী আমল ১৯৫০ এবং পুরানা আমল ১৯৫০ সনে প্রকাশিত হয়। ইতিহাস গ্রন্থ হিসাবে এটা একটি তত্ত্ব-তথ্যপূর্ণ মূল্যবান গ্রন্থ। ইতিহাস-সচেতন ব্যক্তি হিসেবে এতে তাঁর পরিচয় সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইতিহাস গ্রন্থ হিসাবে এর বৈশিষ্ট্যও কম নয়।
তিনি বিশিষ্ট কথা-সাহিত্যিক ও গদ্য রচয়িতা।তাঁর রচনার মধ্যে বাস্তব জীবন ও সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে। তিনি গতানুগতিকতার উর্দ্ধে একজন প্রকৃত জীবনশিল্পী। সৈয়দ আলী আহসানের মন্তব্য দিয়েই আলোচনা শেষ করছি। তিনি বলেন: “ অন্নদাশঙ্কর রায়ের সঙ্গে যখনই আমার দেখা হয়েছে তখনই তিনি মাহবুব-উল আলমের অপূর্ব রসবোধের কথা বলেছেন, ‘ইংরেজীতে যাকে বলে রহঃৎড়ংঢ়বপঃরড়হ অর্থাৎ মর্মমূলে প্রবেশ করার ক্ষমতা, মাহবুব-উল আলমের মধ্যে সেই ক্ষমতা আছে। তিনি বাইরের অবয়বকে স্পর্শ করেন না, হৃদয়কে নাড়া দেন।’ অন্নদাশঙ্করের সঙ্গে আমি এ ব্যাপারে একমত। আমি মনে করি, মাহবুব-উল আলমের যথার্থ মূল্যায়ন আমাদের দেশে হয়নি। তিনি অনেকের মধ্যে একজন নন, তিনি একাই সম্পূর্ণ। তিনি কাউকেই ঈর্ষা করেন নি, কিন্তু তাঁর সমসাময়িক অনেকেই তাকে ঈর্ষা করেছে। তিনি একবার আমাকে বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের জীবনে যখন সংকট আসে, সেই সংকট মুহূর্তের জন্য যথার্থ সিদ্ধান্ত আবিষ্কার করা একজন গল্প লেখকের কর্তব্য। আমি সেই কর্তব্য পালন করার চেষ্টা করেছি মাত্র।”
উপরোক্ত মন্তব্য থেকে সুস্পষ্ট হয় যে, মাহবুব-উল আলম এক ব্যতিক্রমী ধারার সার্থক লেখক। তিনি জীবনের অভিজ্ঞতা ও পারিপার্শ্বিকতা থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে অসাধারণ কুশলতার সাথে তাঁর গল্পের কাহিনী নির্মাণ ও বিভিন্ন ঘটনার বিন্যাস করেছেন। গল্প বলায় তাঁর যেমন নিজস্ব ভঙ্গি রয়েছে, তেমনি রয়েছে তাঁর চমৎকার রসবোধ। তাঁর নিজস্ব জীবনবোধ বাস্তব অনুষঙ্গে গল্পের মধ্যে ফুটে উঠেছে, যার ফলে তা পাঠকের মনকে যেমন আবিষ্ট করে তেমনি ভাবনা-তরঙ্গে করে দোলায়িত। তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ শিল্পী হিসেবে চিরদিন অমর হয়ে থাকবেন।
সাহিত্য-কর্মের জন্য মাহবুব-উল আলম ১৯৬৫ সনে বাংলা একাডেমী পুরষ্কার, ১৯৬৭ সনে প্রেসিডেন্টের পুরষ্কার ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’, এবং ১৯৭৮ সনে একুশের পদক লাভ করেন।