গণজীবনের সংগ্রামী ইতিহাস ও সমসাময়িক রাজনীতির ধারায় বেগবান স্রোতের কথাশিল্পী সাংবাদিক ও কবি মহলে আতা সরকার নামে পরিচিত হলেও তাঁর আসল নাম আতাউর রহমান। ডাক নাম মিন্টু। পিতা ও মাতা প্রয়াত মকবুল হোসেন ও আলীমুন্নেছা।
শিক্ষা জীবন শুরু জামালপুর মডেল প্রাইমারি স্কুল (অধুনালুপ্ত) ২য় শ্রেণী থেকে ৩য় শ্রেণি। প্রাইমারি ও মাধ্যমিক: জামালপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (বর্তমান জেলা স্কুল) ৪র্থ শ্রেণী থেকে এসএসসি। উচ্চ মাধ্যমিক: ঢাকা কলেজ। স্নাতক: শহীদ আলমগীর মনসুর মেমোরিয়াল কলেজ, ময়মনসিংহ। সর্বশেষ স্নাতকোত্তর এমএ ডিগ্রি লাভ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনপ্রশাসনসহ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে। সত্তর দশকের শক্তিমান কথাসাহিত্যিক আতা সরকার ১৯৫২ সালের ১৭ জুন জামালপুর শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ী- জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার পাখিমারা গ্রামের সরকার বাড়ী।

ময়মনসিংহের ‘সাপ্তাহিক চাষী’র মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু। ১৯৭৪ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকতা পেশায় ছিলেন: দৈনিক আজাদ, সাপ্তাহিক দেশবাণী, সাপ্তাহিক সংহতি ও দৈনিক দেশএ কর্মরত। এছাড়াও তিনি দৈনিক জনপদ, দৈনিক আজাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক নয়াদিগন্ত, দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক যায়যায়দিনসহ বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিকে কলাম লেখক।

১৯৮৫ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডএ সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদান এবং ত্রিশ বছর পর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

আতা সরকার চাকরী ও লেখালেখির পাশাপাশি সামাজিক কার্যক্রমেও জড়িত ছিলেন।বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের গুরু দায়িত্ব পালন করেন সুনামের সাথে।
জাতিসংঘ সমিতি, বাংলাদেশ ও বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সহযোগি সদস্য।
উপদেষ্টা, ঘাসফুল গণমাধ্যম সংস্থা।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, পাবলিক রিলেশনস এসোসিশেশন অব ব্যাংকস।
উপদেষ্টা, বাংলাদেশ পাবলিক রিলেসন এসোসিয়েশন।
ডাইরেক্টর, ধারাপাত।
ডাইরেক্টর, পটুয়া কামরুল হাসান ট্রাস্ট।
সদস্য, কার্যনির্বাহী কমিটি, পটুয়া কামরুল হাসান আর্ট স্কুল।
সভাপতি, শব্দসঙ্গ।
সাবেক সভাপতি, আর্থ-সামাজিক চর্চা কেন্দ্র, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
যুগ্ম আহ্বায়ক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক ফেডারেশন।
সাবেক আহ্বায়ক, আগে চলো কচি কাঁচার মেলা, জামালপুর।
সাবেক সভাপতি, মুক্ত মানস, জামালপুর।

আতা সরকার ছোট বয়স থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। ব্যতিক্রম ধারার গল্প লেখক হিসেবে পরিচিত এ লেখক তাঁর জীবন ঘনিষ্ঠ গল্প উপন্যাসের জন্য সুধী ও পাঠক মহলে প্রশংসিত।

প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ
উপন্যাস:
তিতুর লেঠেল, আপন লড়াই, একদা অনঙ্গ বৌ, চারদিক বৃষ্টি, সোনাই সরদারের ঢাকা অভিযান, উপন্যাস সমগ্র, বালিকা বিষয়ক পাপ, কালো ধারাপাত, যে যায় প্রজাপতি, বীর বীরাঙ্গনা কাপুরুষ, পুষ্পকুন্তলা তুমি।
গল্প:
বিপজ্জনক খেলা সম্পর্কে রিপোর্ট, সুন্দর তুমি পবিত্রতম, ব্রেকহীন বাস চলছে চলছে, নিষিদ্ধ রাজনীতির গল্প, নির্বাচিত গল্প, রে স্বপ্ন রে দুর্বৃত্ত, সামরিক শাসন বিরোধী গল্প, আতা সরকার গল্প, কৃষ্ণপক্ষ লালট্রেন, অচল আনিতে বিকিয়ে যায় পিতৃভূমি, চরমপন্থী মহিলা গ্রেপ্তার।

এ ছাড়াও আরো বই রয়েছে
জার্নাল:
মঞ্চ নাটক, সকলি নাটক ভেল, নিউজ ডেস্ক, হলদে খবরের ফ্যাক্টরী, ক্যাবলাকান্ত, যুক্তি নেই তর্ক নিষেধ।
প্রবন্ধ:
সৃজনশীলতার সন্ধানে, বেলায় অবেলায় রবীন্দ্রনাথ।
শিশু কিশোর উপন্যাস:
গ্রহলোকের গোয়েন্দা, সিন্দবাদের সাতদেশ, বাঁশের কেল্লার গণনায়ক, পুতুল কন্যা, নির্বাচিত শিশু কিশোর সমগ্র, সাহসী মানুষের গল্প, দুঃখী পালোয়ানের বীরত্ব গাথা, রাজার বাড়ি ধুম ধাড়াক্কা, চন্দ্রলোকে গণ্ডগোল, রাঙ্গামাটির রহস্য রঙ্গ, মামার বাড়ি পালাই পালাই, অবাক বাড়ির সিংহ দরজা।

তাঁর কৈশোরে সম্পাদিত ম্যাগাজিন ‘প্রভা’ আইয়ুবী কালাকানুনে নিষিদ্ধ ও সব কপি বাজেয়াপ্ত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ এর সামরিক শাসনকালে তাঁর ভিন্ন ধারার গল্প মুদ্রণের জন্য মুন্সীগঞ্জ থেকে প্রকাশিত এবং তারিক হাসান ও গোলাম কাদের সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন ‘অনিকেত’এর সব কপি পুলিশ কর্তৃক জব্দ করা হয়।

তিনি বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক। আতা সরকার ঘাসফুল গণমাধ্যম সংস্থার উপদেষ্টা। তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক। স্ত্রী রওনক সুলতানা। একজন ব্যবসায়ী। স্বত্বাধিকারী, চারুশীলা। চেয়ারম্যান, ঘাসফুল গণমাধ্যম সংস্থা। নির্বাহী সভানেত্রী, তৃমূল নারী উদ্যোক্তা সমিতি। সদস্য, এফবিসিসিআই। এ ছাড়া ও আতা সরকারের মেয়ে অ্যাডভোকেট ইবতিদা ফারহাত ত্রপা। এলএলবি (অনার্স), এলএলএম (ঢাকা), এমএস ইন ল (ইউনিভারসিটি অব লন্ডন)। সিনিয়র এসোসিয়েট, এ. এস. অ্যান্ড এসোসিয়েটস।