টাকু মিয়াকে কবরে একা মাটি চাপা দিয়ে আসার পর ডান কাঁধের মনির এসে বলে, পেয়েছি এবার তোরে, তোরে এবার ফালাফালা করে পাপ পুণ্যের দিতে হবে সঠিক হিসাব। খাতায় লেখা আছে অনেক পাপ পুণ্যের হিসাব; কিন্ত বাস্তবতার পোহাতে হবে ধকল-যা প্রথম জীবনের শুক্রের ফলাফল। আসলে শুক্রবারের শুক্র দিয়ে সৃষ্টির মানুষ গুলি হয় লেবাংডিস। এরা সব কাজে বেশী ক্ষতি করে বলে আল্লার লক্ষ্মী এদের থেকে মুখ ঘুরিয়ে রাখে, লক্ষ্মীর ভাড় দিয়ে আবার কেড়ে নেয়, দেয় ফতুর করে। দম নিয়ে মনির মাটির গ্যাস চুরুট খায়।
ঐ বকবক বকার কথা বলে নেই লাভ, লক্ষ-কোটি পাপের মধ্যে মানষ খুন করা কাজটিতে করলে হয় বেশী পাপ, আর খুনের পাপ বাপকেও ছাড়েনা, পাপের এই কুন্ঠির বিচার আমার হয়েছে পাচু গলাতের অপারেশন থেকে। এই অপারেশনে কষ্ট আর কষ্ট; আরও কষ্টের যোগ সূত্রে যোগ হয় মানসিক মিথ্যে টেনশনে। ঐ হায় হায় রাগ-যা রাগিণীর হয়েছে সৃষ্টি, সুর ও লয়ের এনেছে ধারবাহিকতার্। মৃত্য মানুষ মাটির শুয়ে বলে কথা।
মানুষ খুনের বিচার মানুষ করে বলেই বিচারপতির ও উকিলদের বিচার করে মাটির মানুষ; মাটির ঘর, শেষে বিচার করে মাটির মানুষ। মানুষের হুশ শেষে পুন: হুশ এনে বিচার করা হয় সব মানুষের, সব মানুষ তখন এক হয়ে যায়। মানুষের তৈয়ারী সুখ উঠিয়ে এনে কাঁচা মাটির বিচার বিশ্লেষণ হয় শুরু; এখানে থাকবে শুধু আগুনে তৈয়ারী দুই মানুষ মনির ও নকিব। প্রথমে আমি মনির বাম পাশ থেকে উঠে আসি, নকিব উঠে আসবে ডান পাশ থেকে; মাটির এখানে দুই পাশ, দুই পাশের মাটি তোমাকে করবে জিজ্ঞাসা, করবে প্রশ্ন, নেবে জবাব। নিশ্বাসে টানা টান দিয়ে বলে, স্বাধীনতা যুদ্ধে দশজন মানুষ খুন, ডাকাতি করতে যেয়ে খুন হয়েছে একজন; মোট এগারো জনের খুনের কাহিনি। রাজাকারা আরও নয় জন খুন, পাক সেনা একজন; জনে জনে খুনের প্রতিনিধি পার, শেষে নরুলের বিলে জীবন প্রদান্র্।র্
দান- প্রদানের কথা যখন এসে যাচ্ছে তখন সত্য বিচারে দেশ স্বাধীন, ন্যায় বিচারে মানুষ আবার পরাধীন, আবার শোষণের চলছে শ্রেণী বৈষম্য। আগের দুনীতি আর এখনকার দুনীতির মধ্যে পার্থক্য এই যে, কমিশনে বাণিজ্যে দেশীয় এজেন্ট, নমিনশনে হওয়া খাওয়া যায় দেশীয় দলের সহচার্যে। মত পার্থক্যে টাকার স্কায়ার, ডলার আনে ফেয়ার বিহার। তাই খুন করে মন পাওয়া, রক্ত সাগরে শুধু গান গাওয়ার্। তাপিত মসে ক্ষোভ খেদিয়ে কথা বলে টাকু মিয়া।
মিয়া ভায়ের চ্যাটাং চ্যটাং কথা শুনে আমার নেই কোন লাভ, আমি এসেছি সব লাভের কমিশন নিতে, সব ক্ষতির সুদে আসলে ওসুল করতে। এই স্বাধীন দেশে মুক্তি সংগ্রামে মানুষ মারা যাবে-এ যুদ্ধের বিধান; কিন্তু যুদ্ধ শেষে লুট- খুন-গুমের তো বিচার হয়নি, হয়না কোন দেশে-সে বিচার। যে দেশের বিচার সুপ্রীম কোটে যুগ যুগ পড়ে থাকে- সেই বিচার আমি করতে চাই টাক মাথা টাকুর মিথ্যে কথা বলার জন্য। প্রথমে মিথ্যে কথা বলা, তারপর কথা দিয়ে কথা না রাখার বিচার? প্রশ্ন মুখে বাম পাশে কথা বলে মনির।
কথা দিয়েই সকল কথা রাখা যায়, কথা দেওয়ার জন্য প্রযোজন হয়না খাজনার, প্রয়োজন হয়না ভ্যাট দেওয়ার। আবার রাজস্ব ফাঁকিতে কথা না দিয়ে কথা না রাখলেও চলে। আসলে এক মুখের এক কথা, এক মুখে অন্যের কথা বলে দায়িত্ব থেকে পালিয়ে আসা যায়। আর সে জন্য যেন পালিয়ে বেড়াতে না হয় কথা এ জন্য দেওয়া, কথা এ জন্য দিতেই হয়। আসলে কোটি কোটি কথা বলা, কোটি কোটি কথা বলে কথা না রাখা-এ কথা মানুষ সৃষ্টি করেছে বলেই তোমার হিসারে খাতাও তো গড়মিলে ভরা র্। কথার প্যাঁচে কথা দিয়ে কথাকেই ধরতে চায় টাকু।
দুষ্ট মানুষ বুদ্ধিতে দারুন সেয়ানা, কুটবুদ্ধিতে আজরাইলকে চায় হার মানাতে। মরার পরেও আজরাইলকে দোষ না দিয়ে, দোষ দেয় মানুষকে, দোষ দেয় মানুষে শক্তি ও সামথ্যকে। এই যেমন সকলকে দেওয়া হচ্ছে ভূলের শিক্ষা, গড়মিল হিসাবের শিক্ষা। শক্তির জোর নিশ্বাস টেনে পুনরায় বলে, তোমার কুট চালের প্রশ্নের উত্তর এখন আমি দেই। কথা দিয়ে কথা রাখা, কথা না রাখার মানুষ মানুষকে দেয় -আল্লার হুকুমে হয়না, না হবার প্রধান কারণ আল্লাকে সাক্ষী রাখা। সাক্ষী রেখে কথা দেওয়া মনেই শুন্য বিচারকের আসনে কেহ থাকেনা বসে, বিচারকের আসনে বসে থাকে যে মানুষ। মানুষ এখানে কর্মের নিত্য, কর্মের প্রেরণ বলেই মানুষের হিংসা, মানুষের ক্রোধ- মানুষের সব মনকে রাখে জাগ্রত, আর সে জন্যই মিথ্যে বলা মানুষের কথায় পাপ, আমার কথায়, কথা না রাখা হাজার গুনের মহাপাপর্।
পাপ করে তো পৃথিবীতে জন্ম দিয়ে হয়েছি তো অনেক ছেলের বাপ। বাপ হবার সেক্স মন্ত্রনা যদি মনের ভিতর না থাকতো তাহলে মিথ্যে কথা দেওয়া, মিথ্যে কথা বলার কোন প্রয়োজন হতোনা, আর মিথ্যে কথা বলার সুখ-শান্তি ভোগের মুখে রাম নামের কদর বেশী পেতো। আসলে কথার দোয়া-দরুদ আমরা বেশী বেশী পড়ি বলেই কথার কথা, কথা হয়েই মিলে যায়, মিশে যায় আপন কথার অন্য কথায়। মুখ ভারের ব্যপার- স্যপারে কথা এখানে থাকলেও কথা বলার জোর ডকুমেন্ট সব সময় থাকেনা, না থাকার প্রধান কারণ একশত চুয়ান্ন ধারা কঠিন বদকাম করলে কোটের ক্ষেত্রে প্রযোয্য, মানুষে মানুষে কথা বলার ক্ষেত্রে নয়। আমার কথা তাই জয় বাংলার কথা দেওয়া, দেশকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্র্রহন করা। আর সশস্ত্র সংগ্রামে রাজাকারে হয়েছে মৃত্য, পাক সেনাকে আরও মারতে হয়েছে বেশী। এজন্য পাপ নয়, পুন্য হয়েছে বেশীর্। কথার জাকানদানীতে চরুচুর করে কথা বলে টাকু মিয়া।
নিজের হিসেব নিজে রেখে নেই কোন লাভ, এখন শুরু হবে ক্ষতির হিসেব, এখন ক্ষতির খতিয়ান হিসেব হবে শুরু-এ শুরুর প্রাথমিক বিচারে আছে, জোর কদমে পা ফেলা, এগিয়ে গিয়ে শুধু পাপের কথা বলা। পাপের খাতা ভারি হবার কারণে বিশটনি ট্রাক পারছেনা-সে ওজন পরিবহন করতে, তাই আনতে হবে লঙ্ককান্ডের লরী চালানর্।
মনিরের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে টাকু মিয়া গলা ঝাঁকিয়ে বলে উঠে, আমার জন্য দরকার তিরিশ টনি ট্রাকের, সে ট্রাক মঙ্গল গ্রহ থেকে শুন্যে রওনা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বেহেশতের সদর দরজায়, দোজকের দরজায় পা হয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে মনিরের জন্যর্। টাকু আলোড়ন কথায় হতে চায় মুখরিত।
মাটির দুয়ারে আল্লার দরজা কখনও থাকেনা খোলা। খেল খতম হবার হিসাব নিকাশে আমার হিসাব প্রথমে হবে, তারপর হিসাবে বসবে নকির, শেষে থাকবে তোমার জবানবন্দীর পালা-গান।র্
গেয়েছি অনেক আল্লার গান, গা হাঁফিয়ে, প্রাণ খুলে গেয়েছি সব আরবী গান, বাংলা গানে গলা খোলেনি বলেই সাধানার পাপ-পুণ্যের হিসাব, হিসাবের সুরে হয়নি গাওয়ার্।
এখন গাও দেখি পাপ-পুণ্যের মন খোলা গান, দরদে দরদে এনে দাও দেখি মুলতানী রাগর।
মুলতানী রাগে গাইলে কি পাপের দায়ভার কি যাবে কমে?
পাপের দায় ভার আরও বাড়তে পারে।
তা হলে তো গাইতে পারিনে গান মুলতানী রাগে।
গাইতে তোমাকে হবেই, নতুবা নতুন করে লেখা হবে পাপের হিসেব।
গাই তাহলে আপন মনের গান।
গাওয়া গানের সুর ভৈরব
বেশ গানের রেশ সুর টেনে নেই লাভ,ওর চেয়ে পুণ্যের দেহ তত্বের হিসেব গণনা হবে শুরু। প্রথমে হত্যার করতে হবে দায় স্বীকারর্।
করলাম হত্যার দায় শিকারর্।
এবার ধর্ষণের স্বীকার উক্তির প্রয়োজনর্।
সে স্বীকার উক্তির নেই প্রয়োজন। বিয়ে করে দু’জন তো হয়েছি সুখী, ছেলে- মেয়ে, নার্ত-পুতি নিয়ে দু’জন দুই মেরুতে সুখী, পরষ্পরের দেখা সাক্ষাত হলে হয় কথা, শুধু চেয়ে থাকার দায়ভার করতে হয় গ্রহনর্।
গ্রহন থেকে বর্জন পর্যন্ত চোখের দৃষ্টির হবে হিসেব-নিকেশ, তারপর চোখের শাস্তি থেকে মুখের শাস্তি দেওয়া হবের্।
শাস্তির দায়ভাগে প্রথমে আনা উচিত শয়তানকে। সে সব সময় চোখের দৃষ্টি ঘুরিয়ে রেখে মুখের কথা বলে দেয় তাড়াতাড়ি। তারপর দেহ উত্তেজনার কাজ সেরে সটকে পড়ে সবার অলক্ষ্যের্।
বাহানা দিয়ে হিসাবের কাজ হবেনা বিলম্বিত, এখানে এক কথা, এক কাজ, হিসাবের সে কাজ। এখানে হিসাবে এক লক্ষ পাপের কাজ হয়েছে, খুনের হিসাবে হয়েছে দশ লক্ষ পাপের কাজর্।
হিসাবে অঙ্ক মুখেমুখে না করে ক্যালকুলেটারে হিসাবে করুন ব্যবস্থা। লক্ষ ও কোটির হিসাব কখনও হয়না মুখেমুখে।
আমার মুখ মাথা এক ক্যালকুটারে করে কাজ, এক পাপে লক্ষের হবে হিসাব, তারপর কোটির হিসেব হবে ঘুষ খাবার জন্য, জমি দখল করার জন্য।
ঘুষ খাবার রেকর্ড শুধু আমার নয়, আছে তোমারও সে অভ্যাস।
আমি তো খাই আল্লার ওয়াস্থে ঘুষ, আল্লাকে হাজির রেখে ঘুষ খাওয়া জায়েজ।
আমিও আল্লার নামে খেয়েছি ঘুষ, নিজের পরিবারকে স্বাক্ষী রেখে।
মানুষকে স্বাক্ষী রেখে ঘুষ খাওয়া পাপের- সেই হিসাব এখন করা হবে।
এ হিসেব সে হিসেব নয়, এ হিসেব দোজাক-বেহেশস্তে যাওয়ার আগুন-পানির হিসেব।
বায়ু বাদ, সূর্য আলোর গ্রহনের হিসেব বাদ, পানি পানের হিসেব বাদ, সব বাদ দিয়ে কি সঠিক হিসেব দেওয়া যায়, সঠিক হিসেব কি করা যায?
সে তো দেহ ঘড়ির হিসেব-এ হিসেব দেহ ঘড়ির টিকটিক শব্দে আছে লিখা, সাত কদমের এ স্বর লেখা আপন চিত্তে লিখা হয়ে থাকের্।
সাত স্বরের সেই তিনশত ষাইট তালের হয় ও লয়। হিসেব সেখানে বরাবর বিশ্বাসের অঙ্কে থাকে লিখা- সে লিখা তো আমি নিজেই লিখতে পারির্।
পারা না পারার কথার হিসেবের কথা এখানে এনে নেই লাভ, কবরে আসার লাভ মাটিকে চেনা, মাটির ক্ষুদ্র দানার সঙ্গে আরও পরিচিত হওয়ার্।
নিশ্বাসে যেখানে বিশ্বাস শেষ, সেখান মাটির ঘর, কবরের বাউন্ডারী সবার জন্য এক মাপের হলেও সাদা কাপড়ের জন্য কপালে লিখা থাকে মার্কিন কাপড়- সব চাইতে কম দামের কাপড়। আর আতর সুরমার ব্যবহার গন্ধরাজ সাবানের চেয়ে বেশী দামী নয়। তাড়াতাড়ি কবর না দেওয়া হলে বাড়ে আত্মার কষ্ট, পাপ কর্মের ধারাবাহিকতা আরও যায় বেড়ের।
এ মানুষের কথা ধরে নেই কোন লাভ, মানুষের মুত্য হলে শয়তান সেখান থেকে পালিয়ে বেড়ায়, শয়তান নিজকে মুক্ত করে কাছে আত্মীয়দের প্ররোচনা দেয় তাড়াতাড়ি মাটির কবরে ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরা দুই ভাই তখন হিসাবের খাতা খুলে বসে থাকির্।
আমার তো বাম পার্শ্বের হিসেব শেষ?
শেষ নয় হয়েছে শুরু, এখন কবরে শুরু হবে সাত তলা আসমানের হিসেবর্।
সম থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে মঙ্গলের্।
শুক্র থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে শনিতের্।
শুক্রের কুফা লাগবে শনিতে, তারপর কুফা কাটতে না কাটতেই পার হয়ে যাবে বৃহষ্পতিবারের্।
সে তো এক কর্মে, এক কাজর্।
পদার্থের বিচার বিশ্লেষণে খাওয়া-দাওয়া করা, পদার্থের সংশোধনে তাই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার্।
এক যাওয়া এক আসা, গৃহ কর্মে যোগ দেওয়ার্।
তারপর শিক্ষা কর্মে ফিরে যাওয়ার্।
সামাজিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছে যাওয়া, ঘুষ দিয়ে থানায় ডাইরী লিখানর্।
আর বাবা অর্থ ঘুষের নয়, অর্থ কাজ উর্দ্ধারের মোক্ষম চালবাজির্।
বাজি ধরে বলতে পারি সব মানুষের হিসাব আমার মত বরাবরর্।
সবার হিসেব বিলিয়নে গিয়ে ঠেকের্।
আমার মনে হয় ট্রিলয়নে গিয়ে ঠেকবের্।
ঐ ঠোকাঠুকিতে আসে নকির, আমার সাথে দেখা হবে দোজকের তালা খোলার সময়র্।
তালা খোলার চাবি দর্শন।
এলাম ডান পার্শ্বের কর্ম-কাজের হিসাব নিতের্।
আমার ডান পাশ জন্ম থেকেই নেংডা ও লুলার্।
ঐ লেংড়া ও লুলারা বেশী বজ্জাত হয়, বেশী হয় বদমাইশর্।
শয়তানের চেয়ে তো বেশী বদমাইশ নয়, ঐ অচল পয়সার মত পড়ে থাকলে যা হয়র্।
কি হয় তা সবার জানা না থাকলেও, হিসাবের আছে লম্বা ফিরিস্থির সংখ্যার্।
সংখ্যা তো জিরো থেকে নয়’য়ের মধ্যে ঘুরঘুর করে ঘুরে যায়র্।
বিলিয়ন, ট্রিলয়নের হিসেব শেষ হয় জিরো দিয়ের্।র্
জিরে তো মহাকাশের গোল চিহ্নর্।র্
সে জন্য আর্থ মানে সূর্যের গোলক রেখার্।র্
তাহলে গোল দিয়ে গ্রহের যাত্রা শুরুর্।র্
এখন হিসাবে আসে জিরো-জিরো-জিরোর্।র্
তিন জিরো চলে আকারে, তিন জিরো আসে মানুষের মনের্।র্
আমিতে দুই জিরোতে বন্দী, হিসাবের খাতা বেশী দূর এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হবেনার।
মানুষের তিন জিরোর মধ্যে প্রথম জিরো মাথা, দ্বীতৃয় জিরো পেট, তৃতীয় জিরো পাচু; তিন জিরোতে চলে দেহ, গড়ে মাংস দেহ রক্তের্।র্
এর মধ্যে হাড্ডি, নালা, পেশী, মাংস, চামড়ার আবরণ-সময়ের চাপে নিউক্লিয়ার অণু হয়ে কাজ করে বলেই দেহের ডান পার্শ্বের হিসেব জিরো দিয়েই শুরু হয়র।
জিরো থেকে একের হিসাবে কি লিখা আছে?র্
লিখা আছে পাপে ডবল বার বুন গেছে ভেঙ্গের্।র্
সংখ্যা হিসাবে এক এক করে এখানে কি লিখা যায়?র্
একের চালানে শুধু পাপ সংখ্যার একর্।র্
পুণ্যের সংখ্যা তাহলে কি দুই?
সব সংখ্যাতে পাপ পুণ্যের লিখা লিখতে হয়র্।র্
আধা আধি দিয়ে কি শুরু করা যায়?র্
যায়, আবার, যায়নার।
মানে?
লেখালেখির খাতা এখানে লেখালেখিতে ভরপুরর।
সংখ্যা কবিতার,না, গানেরর।
সব কিছু তো পদার্থ দিয়েই শুরু, তাই পদার্থর সূর্য এখানে কাজ করে বেশীর।
পদার্থ জীব বিজ্ঞানের মধ্যে ঢুকলে কি হয়?
পদার্থ সব সময় ঢুকে পড়ে পদার্থের ভিতরর।
পদার্থের সংর্ঘষে পাপও পুণ্যে ধারা যায় বদলের।
কখনও বদলে, কখনও বদলেনার।
অদল বদলের ধারা থেকে কি বেরিয়ে আসা যায়?
জীবনের শুক্রুণু পদার্থ থেকে বেরিয়ে আসা যায়না, বেরিয়ে আসার পথ বন্ধ থাকে সত্য -মিথ্যের হিসাব কষার জন্যর।
এ জন্য আমার কবিতা পাঠ, চুটকি পাঠ, গান গাওয়া- যা সত্য-মিথ্যের ধারাবাহিকতা করেছে রক্ষা। আর নাটক, উপন্যাস তো কপনি ধজ্জার দিয়েছে টানর।
টানে মান ভাঙ্গার জন্য খোদার খেদমতের নেই কোন কাজ; শুধু জিকের টানাতে আল্লার নাম- যা বিশ্বাস থেকে নয়, ঘুমের ঘেরের ভিতর শুধু নিশ্বাস টানার।
এ তো কোন পাপের কাজ নয়, এ জিকেরের কাজ চলে আসে যে আপনা আপনিইর।
মিথ্যে খুন করার কাজে তা হয় ব্যবহার, লেখালেখিতে সে খুন -খারাপের কাজ বেশী ব্যবহার হয় বলেই পাপ এখানে বাপকে ছেড়েই বলে কথার।
তাহলে কয় টন পাপের খাতা আমার জন্য লিখা হয়েছে, ডান ও বাম মিলিয়ে কয় টন পাপ-পুণ্যের হিসেবে কি আছে লিখা?
সে সব মিলিয়ে এক লাখ ছিয়াআশি হাজার টনের মতনর্।র্
আমার নেট ওয়েট তো ছিয়াআশি কেজির।
মরার সময় হয়েছিলো একাত্তর কেজির।
সে উনশ একাত্তর সালে আমার ওয়েট ছিলো একাত্তর কেজির্।র্
মুক্তিযোদ্ধা হয়ে মৃত্য বরণ, আপারেশন সার্চ লাইটের আলো দেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনর।
সেই সালুটিয়ার অপারেশনে, কমলপুরের বি.ডি.আর ক্যাম্পের হামলার বিবরণর।
সেখান থেকে রৌমারীতে যাওয়া, বাংলাদেশের নতুন পতাকাকে সেলুট করার।
মুক্ত অঞ্চলে গিয়ে মুক্ত নিশ্বাস নেওয়া, তারপর রৌমারী হাই স্কুলে যুবক-ছাত্রদের জন্য ট্রেনিং ক্যাম্প খোলার।
সেখান থেকে পাটগ্রামে ফিরে যাবার ইচ্ছে পোষণ করার।
সে যাওয়ার ইচ্ছে স্বাধীনতার আট বছর পর পুরুণ হয়র।
সরকারী কাজে গিয়ে কাগজ কলমে তাই ধোলাই খাওয়ার।
এক গুয়ে স্বভাবের জন্য চোট খাওয়ার অভ্যস সহ্য করতেই হয়র।
বাড়ে সেখানেও পাপের বোঝা, সব মিলিয়ে পাপ খন্ডের দিতে হবে উত্তর।
আমার পাপ আমি জাপানে গিয়ে করে এসেছি খন্ডন।
জাপানীরা কাজে বিশ্বাসী, কাজের নিষ্ঠায় বিশ্ব বাণিজ্যে দিয়েছে চমক।
সে জন্য জাপানীরা আমার কাজে সন্তুষ্টি হয়ে পাপের দায়ভার থেকে দিয়াছে মুক্ত।
সে মুক্তির কথা এখানে লেখা নেই, এখানে লিখা আছে সাত জাপানি খুন করার ইতিহাস।
এজন্য দায়ী তোমরা, তোমাদের উগ্র জেহাদী মতবাদ সে জন্য দায়ী।
মানুষের মতবাদে মানুষ দায়ী, মানুষ নিজেই দায়ী ভ্রান্ত পথে চালিত হবার জন্য।
তাই হিসাবের সব খাতা সমানে সমান হয়ে যায়।
তোমার হিসাবের খাতাতে লিখা আছে তিন মহাশুন্য।
এক শুন্যে কবিতা লিখার জন্য।
দুই শুন্যে কি লিখা আছে?
-গান গেয়ে চিত্ত শুদ্ধ করার জন্য।
-তিন শুন্যে খাতেমুন কলাবে লিখা আছে মহাশুন্যের গ্রহ-নক্ষত্রের কথা।
মহাশুন্যের খাতা কবরে রেখে অন্য কবরে ছুটে যায় মনির ও নকিব।