গাঁয়ের টান

পরান আমার ব্যাকূল করে
বাংলাদেশের সবই
মায়ের মতো আপন লাগে
দেখলে গাঁয়ের ছবি।

গাঁয়ের বুকে পার করেছি
মধুর শৈশব স্মৃতি
ঘুরেফিরে গাঁ-কে ঘিরেই
আমার সুখের গীতি।

সবুজ গাঁয়ের পাখপাখালি
ডাকে তাদের গানে
গাঁয়ের বুকে ফিরতে বলে
আমার কানে কানে।

গাঁও-গেরামের স্মৃতিগুলো
আমায় শুধু টানে
তাই তো আমার মন ছুটে যায়
সবুজ গাঁয়ের পানে।
……………………………………………

মুমিনের ইবাদত

বছর ঘুরে আবার এলো
ধরার বুকে রোজা
মুমিন লোকে নিত্য খোঁজে
পথটা সরল সোজা।

সত্যের পথে চলে বলে
মুমিন লোকে ভালো
আল্লাহ পাকের প্রিয় হয়ে
ছড়ায় তাঁরা আলো।

ইবাদতে কাটায় সময়
খোদার পথে থেকে
হিংসা-বিভেদ সব ভুলে যায়
ভালোবাসা মেখে।

রোজা রাখে কোরআন পড়ে
সালাত আদায় করে
চিরসুখের জন্য তাঁরা
ন্যায়ের পথে লড়ে।
……………………………………………

একটি ভালো বই

জীবনখানা পাল্টে দেবে
একটি ভালো বই
আমরা যেনো বইয়ের আলোয়
আলোকিত হই।

জ্ঞানের আলো ওঠলে জ্বলে
বিশ্বজুড়ে আজ
আলোকিত বিশ্ব পাবে
সফলতার তাজ।

প্রতিদিনই নতুন কিছু
শেখায় মোদের বই
অজ্ঞতাকে তাড়িয়ে হয়
সফলতার মই।

ভালো বইয়ে আশা জাগায়
মনে বাড়ায় বল
মনের বলেই জ্ঞানের পথে
তাই সকলে চল।
……………………………………………

মায়ের হাতের পিঠা

খোকনসোনা খোকনসোনা
আলসেমিটা আর করো না
এবার ওঠে যাও,
মায়ের হাতের তৈরি পিঠা
খেতে লাগে কী যে মিঠা
মজা করে খাও।

খোকনসোনা খোকনসোনা
দুষ্ট ছেলের পথ ধরো না
মায়ের কাছে যাও,
পিঠার থালায় দৃষ্টি রেখে
চুপিচুপি পিছন থেকে
হাত বাড়িয়ে দাও।

খোকনসোনা খোকনসোনা
এদিকসেদিক চোখ রেখোনা
যত্তো পারো নাও,
মায়ের হাতে পড়লে ধরা
শাসন পাবে আদর করা
ইচ্ছেমতো খাও।
……………………………………………

খুকুমণি

খুকুমণি সোনার খনি
আমার কাছে এসো
ফোকলা দাঁতের মিষ্টিমুখে
খিলখিলিয়ে হেসো।

চোখে চোখে রেখো আমায়
মায়ের মতো করে
যতই দেখি ততই আমার
পরানটা যায় ভরে।

তোমায় দেখে আমার মনের
দুঃখ ব্যথা হারাই
তাই তো আমি সুযোগ পেলেই
হাত দু্’খানি বাড়াই।
……………………………………………

দেশটা আমার

দেশটা আমার সবচে’ প্রিয়
দেশটা আমার প্রাণ
দেশের মাঝে পাই খুঁজে পাই
আমার মায়ের ঘ্রাণ।

দেশটা আমার ভালো লাগা
ভালোবাসার গান
দেশের মাঝে পাই খুঁজে পাই
বুকের ভেতর টান।

দেশটা আমার স্বপ্নে ঘেরা
খোদার সেরা দান
দেশের মাঝে পাই খুঁজে পাই
মুগ্ধ সুরের তান।

দেশটা আমার শান্তি সুখের
অনন্য এক স্থান
জীবন দিয়ে রাখবো ধরে
লাল সবুজের মান।
……………………………………………

ভূতের ছেলে

ভূতের ছেলে দন্ত মেলে
নিত্য ঘুরঘুর করে
নিশি রাতে একলা পেলে
যারে তারে ধরে।

এই তো সেদিন সন্ধ্যাকালে
দেখলো কতক ছেলে
ভূতের ছেলে খাচ্ছে গিলে
আস্ত গরু ফেলে।

চোখজোড়া তার আগুন যেনো
চুল যেনো তার দড়ি
তাই না দেখে পালায় তারা
করে তড়িঘড়ি।

সেই কথাটা এই গেরামে
সবার মুখে মুখে
কার বা এমন সাধ্য আছে
ভূতের কাণ্ড রুখে।

সন্ধ্যা হলেই ভূতের ভয়ে
দুষ্টছেলে থামে
ভূতের কথা ভাবতে গেলেই
শীতের দিনেও ঘামে।

ভূতের ছেলে ভূতের ছেলে
ভয় কেনো রোজ দেখাও
ভয়কে ভুলে পরান খুলে
ভালো কিছু শেখাও।
……………………………………………

পুষি বিড়াল

খুকুর পুষি বিড়ালছানা
নাদুসনুদুস দেখতে
কাগজ কলম দেখতে পেলে
ছুটে আসে লেখতে।

বিড়ালছানার লেখা দেখে
খুকুমণি হাসে
বিড়ালছানার লজ্জা যেন
চোখেমুখে ভাসে।

খুকু যখন কাছে এসে
পুষিকে নেয় কোলে
পুষি তখন মনের সুখে
সবকিছু যায় ভোলে।
……………………………………………

পরনিন্দা

পরনিন্দা করে যারা
তোষামোদি করে
অসম্মানে পড়ে তারা
ক্ষণকালের পরে।

তোষামোদি করে করে
যাদের সময় কাটে
একজীবনে তারাই আবার
উল্টো পথে হাঁটে।

অন্যের ক্ষতি চিন্তা করে
যারা সদা চলে
পরিনামে নিজের ক্ষতি
তাদের জন্য ফলে।

পাপের পথে চলতে গেলে
ঝগড়াঝাঁটি বাড়ে
সত্যের মুখোমুখি হলে
পরনিন্দা হারে।
……………………………………………

ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাং

টাপুরটুপুর শব্দ শুনে নৃত্য করে ব্যাঙ,
বৃষ্টি পেয়ে কাদাজলে করে ঘ্যাঙর ঘ্যাং।
খোকন সোনা চুপিসারে দাদুর কানে কয়,
বাইরে এসব আওয়াজ কিসের লাগছে মনে ভয়।

মুচকি হেসে দাদু বলেন করো নাকো ভয়,
বর্ষাকালে গাঁও-গেরামে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর হয়।
ব্যাঙে করে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর পাখি করে গান,
তাই তো তোমার বাবার মনে গাঁও-গেরামের টান।