বন্ধু

গাছ, নদী, ফুল,পাখি,,পাহাড়
সকল ই বন্ধু যে আমার।
যখন ই থাকি একেলা নিজ মনে
ভীড় করে আসে তারা আমার সঙপানে।
চাঁদ, সূর্য, নদী, ঘাটে মাঠে,
আমিও ছুটি বেগে তাদের ই বাটে বাটে। জানি বন্ধু ওরা আমার ভীষণ খাঁটি,
ওদের ই সঙ্গে রয়েছে এ ধরার মাটি।
রেখেছ সুন্দর করে সাজায়ে এই ধরনীকে,
চাঁদ, সূর্য, তারারা করেছ সুন্দর আকাশ কে! ছোটো ছোটো বুনো ফুল,গুল্মো লতা,
সবুজ অরণ্য রাজি হয়েছ পাহাড়ের সাথী
নদী আপন বেগে দিয়েছ ধারা, ছুটেছ সাগরের পানে, হয়ে পাগলের পারা।
শুধু আমার মন ছুটে পথে ঘাটে মাঠে,
যেখানে রয়েছ তোমরা পিছু তটে তটে।
…………………………………………..

দুই বোন

গঙ্গা ও পদ্মা তোমরা, রয়েছ এক ই জল, জঙ্গল, শাপলা, সালুকে ভরা। এক ই তোমার হৃদয় অভিন্ন!
যদি ও শরীর খানি রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন।
এক সে আকাশ, মাটি, জল, মরু পাহাড়,
মেঘ রৌদ্রের খেলা এক ই চন্দ্র কিরণ মালা।
চা বাগান, সমুদ্রতট, পদ্মফুল,
কি অপরূপ শোভা তার।
পদ্ম দিঘির কালো জলে,
বক, মাছরাঙা পানকৌড়ির অবগাহন।
বাঁশঝাড়, তাল, তমাল, আম, জাম, বট কিম্বা শালবন ।
দেখিয়েছ কত না মনের মিল, রয়েছ হয়তো দূরে, কিন্তু সে তো পলকের।
যতো ই কাটুক, ছিড়ুক, করুক খান খান,
এক ই সে আত্মজার বুকে গাঁথুক দেয়াল।
নমি তোমাদের চরণ যুগল দুইখানি,
ঠেকায় মাথা মা মা করে, কাছেতে লও গো টানি ।
…………………………………………..

অচিন পাখি

খাঁচার পাখি থাকে বন্দি দশায়,
রয়না হয়ে মুক্ত বিহঙ্গ
ওড়েনা, সে কথা বলে, মানুষেরই মতো হয়েও নিঃসঙ্গ ।
আমি বলি ওরে মুক্ত বিহঙ্গ-পাশনি তোরা, মানুষের পরশ, সাহচর্য।
যত্ন করবার নেই কেউ তোদের,
করলে অসুখ কেউ কি দেয় ওষুধ?
করে কি কেউ পরিচর্যা?
পাসনা কোমোল পরশ, যখন ই নিস তুই শয্যা।
আদর করে দানা খাওয়াই না তো কেউ তোকে,
মানুষের মত করে!
সেই কোন ছোট্ট বেলায়, যেমন খাওয়া তো -তোর মা তোকে ওরে!!
বলেনা তোকে কেউ আই গোবিন্দকে এসেছে দ্যাখ… থাকিস না করে চোখ বন্ধ ।
কাছে আই বাছা আমার, রাগ করিস না… আর,
আমায় ছেড়ে যাস না চলে আবার।
ও পাখি তুই থাক আমার মনের খাঁচায়।
…………………………………………..

ইন্টারনেট

আজ নেই নেট, সুতরাং আমি লেট
মাধ্যম তো ঐ একটি
অবসর যাপনের সময় টি
হলোনা কারোর সঙ্গে যোগাযোগ
এ ভাবে চললে ধরবে মনরোগ
হয় আলোচনা বিভিন্ন কথা,
একে অন্যকেউ পাঠাই বার্তা
আজ সব ই যেন বেস্বাদ
মন ভেবে আকুল করে আর্তনাদ
সব ই তো কেড়ে নিলে হে করোনা
এই টুকু থাক তুমি কেড়ে নিওনা
সারাদিন কত কাজ তবু রই উন্মুখ
কখন করবো পোস্ট-দেখব ফেসবুক
এতেও কর কেন শত্রুতা?
নেই কি তোমার কোনো ভদ্রতা?
দয়া কর আমাদের যাও তুমি চলে,
আর যেন না পরি
করোনা- তোমার কবলে।।
…………………………………………..

পাহাড়
এই পাহাড় দাঁড়িয়ে কেন তুমি?
আজ আমি দাঁড়িয়ে
একদিন বয়ে যেতাম ভূমি
তবে কেন দাঁড়িয়ে! এখন ও হয়ে স্থবিড়?
কত দিনের তুমি প্রবীণ?
যুগ যুগান্ত ধরেই কি?
কোনো দিন হয় তো ছিলাম সাগর
নয় তো কোনো নদী, প্রান্তর
একদিন জ্বরা এসে ধরল,
চলৎশক্তি হীন নিথর করে দিল।
তবে আমার নীচেই আছে ঘন অরণ্য,
কত প্রাণী আসে জন্তু জানোয়ার।
আমাকে ভেবনা আমি শুধুই নীরব নিথর!
জান তুমি আসেন কত শান্ত সন্যাসী গুরু আচার্য,
পেতে আমার একান্ত নিভৃত সাহচর্য।
করেন নির্জনের ধ্যানে মোক্ষ লাভ।
কত পর্বতাড়হী আসেন, নিয়ে জান আমার উচ্চতার মাপ।
সূর্য প্রতিদিন করে আমার সাক্ষাত।
মেঘ তো আমার গা ঘেঁসে থাকে।
শীতল বরষণে হই আমি স্নাত।
আমার পদপ্রান্ত দিয়ে বয়ে যায বৃষ্টি,
সবুজ করে গহন আরণ্য,
সুন্দর বিপুলা ধরিত্রীর হয় সৃষ্টি।
…………………………………………..

কুট্টুস

কাঠবেড়ালি, কাঠবেড়ালি,
ও কাঠবেড়ালি!
ইতি উতি চকিত চঞ্চল চাহনি,
কখন ও কি তুমি রবে না একটু স্থির?
শুধু চঞ্চলতা উফ্! এই হেতা
এখনই চলে যাও ঐ দূরে হোতা!
কি ই বা কাজ তোমার বল?
আমার কাছে একটু তো বসতে পার!
কতক্ষণ রয়েছি অপেক্ষা রত।
এই তো এসেছিলে
টেবিলের আপেলে ।
কুটকুট করে ছোট্ট দাঁতে কামড় দিলে।
গোল গোল চোখ দুটি শুধু ঘুরে পাক দিয়ে!
সামনে, পিছনে, উপুর, চিৎ,
লেজ গুটিয়ে, উপরে উঠিয়ে,
খাও পাক চকিতেই নেমেছ লেজ বাঁকিয়ে।
হাত দুটি দিয়ে করছ নমস্কার
আমি দেখছি তোমায় অবাক বিস্ময়ে!
হয়তো তা নয়, আমার কাছে যেন নতুন আবিষ্কার।
সকাল থেকে সন্ধে যখন ই তোমায় দেখি,
হয়ে যাই দিশেহারা তোমার সঙ্গ পেতে।
আমি তো জানি ছুটে মরি সারাদিন,
কোথায় পাড়ি দাও তুমি হে আলাদিন!
সব ডেরা যে আমার জানা, আছে গামলাটি তে ছোট্ট ছোট্ট তোমার ছানা।
কিচিমিচি কিচিমিচি সুন্দর লেজ গুচ্ছো,
ছুটে নেচে বেড়াও ফুলিয়ে তোমার পুচ্ছ।
…………………………………………..

স্মরণীয়

ঘন মেঘ আঁধার করে
ঘনিয়ে এলো দুপুর বেলা,
চুপ করে ভাবি মনে
কাটিয়ে এলাম জীবনের আধেক বেলা।
জড়িয়ে আছে অনেক না বলা কথা,
স্মৃতি বিজড়িত অভিজ্ঞতা
সেই যে বার দেশে এলো বান, চারিদিক ভেসে গেল!
কত সংসার তলিয়ে গেল, শিশু আবাল বৃদ্ধা
জন্তু জানোয়ার কত অবলা ‘জান ‘
খুব যখন ছোট্ট দেশে দেখা দিয়েছিল ‘খরা’
মাটি ফেটে চৌচির ফসল গেছে পুড়ে
খাল বিল নদী ডোবা কিছুই নেই কো ‘ভরা’।
জন্তু জানোয়ার সকলের দেহে, শুধু প্রাণ টুকুই রয়ে গেছে।
হার জিরজিরে শিশুদের
সারাদিন জোটেনা দু মুঠো ভাত
যারা ধান ফলায়, তাঁত বুনে, কুমোর, জেলে,
কিম্বা হাপরের কামার
তাদের ই ঘরে যত হাহাকার।
শুনেছিলাম অমুক জোদ্দরের নাকি মজুদ আছে অনেক ধান,
তারা শোনেনি কোনো কথাই করেনি কর্ণপাত,
বান হোক কিম্বা খরা, তারা থেকেছে আহ্লাদে আত্মহারা।
অনাহারে যারা ছিল তাদের দেয়নি শুধু দু মুঠো ভাত।
…………………………………………..

খোলা জানালা

খোলা জানলায়, তাকিয়ে দেখ্লেম
তোমার বৃষ্টি ভেজা স্নান,
ডানা দুটি করে প্রসারিত
চঞ্চু দিয়ে পালক গুলি কর সিক্ত।
সবুজ টিয়া ময়না কিম্বা পায়রা,
বৃষ্টির জলে আনন্দে মেতে, হও তোমরা স্নাত।
যদি এমন হতো
ছাদের উপর দুটি ময়ূর থাকতো,
বৃষ্টি ভেজা জলে পেখম মেলে নাচত!
হতো অপরূপ দৃশ্য
আমিও ওদের সঙ্গী হতাম,
দুটি বাহু প্রসারিত করে, নাচতাম ।
ওদের মতো ই চেয়ে উর্ধপানে
ভিজ্তাম আপন মনে,
নিভৃতে একেলা ওদের সঙ্গপানে।
বৃষ্টি ভেজা শীতল পৃথিবীকে,
অবলোকন করতাম বিদ্যুতের চকিত চমকিত চাহনিতে।
আমি হতাম যেন সিক্ত
কোনো পাখি, খোলা জানালায় বৃষ্টি দাঁড়িয়ে দেখি।

সদ্য প্রয়াত হয়েছেন আমার একমাত্র জামাইবাবু, তাই দিদিকে উদ্দেশ্য করে আমার এই কবিতা।
…………………………………………..

দিদি

পিছন পানে তাকিও না আর
সম্মুখে এগিয়ে চল তুমি আবার
জানি মনে রয়েছে অনেক প্রশ্ন জটিল সে সব, উত্তর নেই কোনো
দায়িত্ব কর্তব্যের ভীড়ে ঘুচবে হতাশার অন্ধকার
আলোর দেখা পাবেই আবার
তুমি যে ধীরা, শান্ত, সলিলা নিষ্পাপ
জীবনের আলো দেখাবেই তোমায় ঘুচে যাবে যত অভিশাপ
তোমার ঐ মৌন মুখ অন্তরের গোপন ব্যাথা

কি দিয়ে ঘোচাব ওগো
নেই কোনো কথ
নির্বাক সজল নয়ানে লুকিয়ে আছে গভীর গোপনে চাওনা কারোর কাছে কিছু নিতে
এসেছ শুধুই দুহাত ভরে দিতে।
তোমার দুঃখ ঘোচাবেন যিনি, আড়ালে দাঁড়িয়ে হাসছেন তিনি।
…………………………………………..

কবিতা
“বিদ্যাপতি”স্মরণে মোরে

“আধজনম হাম নিন্দে গোঙায়লুঁ জ্বরা শিশু কতদিন গেলা
দাম্পত্য সুখে বা কলহে রান্না বাটিতে কিম্বা সন্তান বড় করিতে
কখন ও বা আকারে ইঙ্গিতে পরিচর্চা করিতে কাটিয়া গেল বহুকাল
আর কি ফিরিয়া পাবো?
চলিয়া গেলে মানব কাল
নিজেরে করিলে প্রশ্ন কোনো উত্তর নাই
রহিয়াছি যে কতক দিন ধরাধামে
সব টা যদি নাই পারি
বাকি জা যা আছে কর্ম সে সকলের মাঝে ছড়াইতে পারি
তাতল সৈকতে বারি বিন্দু সম।
…………………………………………..

অপূরুপা এই দেশ-বাংলাদেশ

জঙ্গল ডিবির হাওর বিল, কালা পাহাড়ের চা বাগান কিম্বা ঢাকার তারা মসজিদ,”কখ্স” বাজার “মৈনাট তট”, “গোলাপ গ্রাম”, মনরম জায়গা, জল জঙ্গল কাব্য,
মানস পটে দেখেছি সবই, হয়েছে সে সৌভাগ্য।
আরও আরও কত আছে সৌন্দর্য্য ভরা।
নম নম নম সুন্দরী মম বাংলাদেশ মাতৃকা।
গঙ্গা, পদ্মা রয়েছ দুই বোন ,চরণে তোমার প্রনমী,
পিতৃ পুরুষের চরণের ছাপ সেতো রয়েছে, তোমার ভূমিতে দিয়েছ স্থান।
ঠেকায় মাথা বারেক তোমার চরণে রয়েছ আমার গভীর মননে।
সশরীরেই যেতে চাই, হতে চাই মুগ্ধ,
হবেই কখন ও আছে মনে বিশ্বাস পাবই তোমার স্পর্শ।।