আবু সুফিয়ান। বয়স আনুমানিক ১২ হবে। এ বয়সেই বাবা-মাকে হারিয়েছে সে। ৭ বছর বয়স থেকেই সে মোতালেব মিয়ার বাড়িতে কাজ করে। প্রথমে তাকে বাড়ির এককোণে অবস্থিত পরিত্যক্ত একটি রুমে থাকতে দেয়া হয়। এরপর বাড়ির সবার যেকোন প্রয়োজনে সুফিয়ানকে ডাকা হয়। সুফিয়ানও সবার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। বাড়ির বাজার করা, ঘরদোর পরিষ্কার করা, মোতালেব মিয়ার একমাত্র ছেলে সোহেলের দেখাশোনা করা তার প্রধান কাজ।
দিনে দিনে মোতালেব মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সাথে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইতোমধ্যে থাকবার জন্য মোতালেব মিয়ার মূল ভবনের একটি রুমও পেয়েছে সে।

রেহনুমা বেগম। মোতালেব মিয়ার স্ত্রী। একজন ধার্মিক মহিলা। সুফিয়ানকে তিনি খুব দেখতে পারেন। সুফিয়ানও তার ভালোবাসার মাঝে মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসাকে খুঁজে পেয়েছে। মোতালেব মিয়া একটু গম্ভীর স্বভাবের মানুষ হলেও সুফিয়ানকে মাঝে মধ্যে আদর করেন। হাতখরচের জন্য কিছু টাকাও দেন। সোহেল তাকে আপন ভাইয়ের মতোই জানে। এতোদিনে মোতালেব মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সে আপন করে নিয়েছে। ওদের মাঝেই বেঁচে থাকার শক্তি ফিরে পেয়েছে।

একদিন বাজার থেকে এসে মোতালেব মিয়া চিন্তামগ্ন হয়ে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেন। রেহনুমা বেগম নামাজ শেষে জায়নামাজটা গুছিয়ে নিয়ে বললেন,
-কী হলো, সোহেলের বাপ? আজ তোমাকে এমন লাগছে কেন? কোন সমস্যা?
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হতাশার সুরে মোতালেব মিয়া বললেন,
-হ্যাঁ, রেণু, মনটা ভালো নেই।
-হঠাৎ কী হয়েছে?
-কী হয়নি সেটা বল। টেলিভিশনটা অন করে খবরের চ্যানেল দাও।
-কোন খারাপ কিছু?
-হ্যাঁ, সারাবিশ্বে একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চীনের উহান শহর থেকে করোনা নামক একটা ভাইরাস সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বলতে না বলতেই এটা নাকি আমাদের দেশেও ঢুকে পড়েছে। ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে আগত প্রবাসীদের মধ্যে কয়েকজনের দেহে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে।
-কী বলছো! আজ কয়েকদিন ধরে কোন খবর দেখছি না। হায়! আল্লাহ, একি খবর শোনালে।

এই কথা বলে রেহনুমা বেগম উদ্বিগ্ন হয়ে টিভি সেটটা অন করলেন।
দু’জনে গভীর মনোযোগ দিয়ে খবর শুনলেন। এরপর টিভি অফ করে বেশ কিছু সময় নীরব থাকার পর রেহনুমা বেগম বললেন,
-এখন আমাদের কী হবে? আমরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেলাম!
-হ্যাঁ, রেণু। খুব ভয় লাগছে। কি থেকে কি হয়ে যায়!সোহেল আর সুফিয়ানকে দেখছি না। ওরা আবার কোথায় গেল?
-আর কোথায় যাবে? বাড়ির কোথাও আছে নিশ্চয়।
-এখন থেকে ওদের দিকে বেশি খেয়াল রাখবে। বিশেষ করে সোহেলের সবকিছুতে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। ওদের স্কুলও বোধহয় বন্ধ হয়ে যাবে। ওর বাড়ির বাইরে যাবার কোন দরকার নেই।
-এভাবে কী জীবন চলবে?
-কেন চলবে না। সুস্থভাবে বাঁচতে হলে আমাদের হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে।
-হোম কোয়ারান্টাইন কী?
-কোনও ব্যক্তি যখন নিজের বাড়িতেই কোয়রান্টিনের সব নিয়ম মেনে, বাইরের লোকজনের সঙ্গে ওঠাবসা বন্ধ করে আলাদা থাকেন, তখন তাকে হোম কোয়রান্টাইন বলে।
-আর কোন ব্যক্তি আক্রান্ত হলে কী করতে হয়?
-কোন ব্যক্তি করোনা পজিটিভ হলে তাকে আইসোলেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
আইসোলেশনের সময় চিকিৎসক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে থাকতে হয় রোগীকে। অন্য রোগীদের কথা ভেবে হাসপাতালে আলাদা জায়গা তৈরি করা হয় এদের জন্য। অন্তত ১৪ দিনের মেয়াদে আইসোলেশন চলে। অসুখের গতিপ্রকৃতি দেখে তা বাড়ানোও হয়। আইসোলেশনে থাকা রোগীর সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। তাদের পরিবার পরিজনের সঙ্গেও এই সময় দেখা করতে দেওয়া হয় না। একান্ত তা করতে দেওয়া হলেও অনেক বিধিনিষেধ মেনেই করতে হয়।
-এবার বুঝলাম। আচ্ছা কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা প্রাথমিকভাবে কীভাবে বুঝব?
-জ্বর,সর্দি, গলা ব্যথা, কাশি, মাথা ব্যথা, হাঁচি, অবসাদ, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি দেখে।
-আচ্ছা। এ রোগের কোন প্রতিষেধক আবিস্কৃত হয়নি?
-না, এখনও এর কোন প্রতিষেধক আবিস্কৃত হয়নি। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে এই সময় কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দিয়ে, নিরাপদ পানি, ভাল করে খাওয়া-দাওয়া, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায় এমন কিছু ওষুধ ও পথ্য দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা হয়। যাদের শরীরে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি ও করোনার প্রকোপ অল্প, তারা এই পদ্ধতিতে সুস্থও হন। আর যাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম ও রোগের হানা বড়সড় রকমের, তাদের পক্ষে সেরে ওঠা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
রেহনুমা বেগম চিন্তিত হয়ে বললেন,
-আচ্ছা, এ রোগ প্রতিরোধে কী কী ব্যবস্থা নিতে হয়?
মোতালেব মিয়া বাজারের ব্যাগটা টেনে নিয়ে আবার বললেন,
-এখানে কিছু লেবু আছে। এগুলো ধুয়ে যত্ন করে রেখে দাও। মাল্টাগুলো ফ্রিজে রেখে দাও। এখন থেকে ‘ভিটামিন সি’ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আর হ্যাঁ, এ সময় নাক, মুখ ও চোখে হাত দেয়া থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। এখন থেকে ঘরের সবাই যেন কিছুক্ষণ পরপর সাবান ও নিরাপদ পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধৌত করে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখবে।
-তুমি তো দেখছি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মতো কথা বলছো।
-তুমি জানো না, বাইরে এসব এখন সবার মুখে মুখে।

হঠাৎ সোহেলকে ঘরের দিকে আসতে দেখে মোতালেব মিয়া কাছে ডেকে সোফায় বসিয়ে বললেন,
-শোন বাবা, আজ থেকে খুব জরুরি দরকার ছাড়া আমরা কেউই ঘরের বাইরে যাব না।
-কেন, কি হয়েছে, বাবা?
-দেশের পরিস্থিতি ভালো নয়। বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোহেল একটু ভেবে নিয়ে বলল,
-আমিও শুনেছি। টিভি অন করলেই তো এখন করোনার কথা শুনি।
হঠাৎ বাবার হাতে কিছু দেখে সোহেল বলে ওঠলো,
-বাবা, তোমার হাতে ওগুলো কী?
-মাস্ক।
-কয়টা এনেছো?
-৪টা।
-আমাকে দুইটা দাও।
-দুইটা কেন?
-একটা আমার জন্য। আরেকটা সুফিয়ানের জন্য।
মোতালেব মিয়া স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,
-ভালো। অনেকক্ষণ ধরে সুফিয়ানকে দেখছি না। ও আবার কোনদিকে গেল?
-বাবা, ও আমার পড়ার রুম পরিষ্কার করছে। তোমারা এখন কথা বল আমি সেদিকে যাচ্ছি।
-আচ্ছা।

দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে ততই করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকজন এতে আক্রান্ত হচ্ছে। জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এরইমধ্যে সুফিয়ান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। গায়ে জ্বর। তারওপর হালকা কাশি। হাঁচিও আছে।
খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে সে। সোহেল তার বাবার কাছে সুফিয়ানের অসুস্থতার কথা জানায়। সুফিয়ানকে এভাবে হঠাৎ অসুস্থ হতে দেখে তিনি খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। রাতে স্ত্রীকে কড়া নির্দেশ দেন যেন সকাল সকাল সুফিয়ানকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। রেহনুমা বেগম স্বামীর এমন আদেশে হকচকিয়ে গেলেন। তিনি চোখ কপালে তুলে বললেন,
-এ কেমন কথা! ছেলেটা এতোগুলো বছর আমাদের সাথে আছে। বাবা-মা নেই। আত্মীয়স্বজন বলতে তো ওর আমরা ছাড়া আর কেউ নেই। এতটুকু বাচ্চা ছেলে কই যাবে? আর ওর অপরাধই বা কী?
-তুমি ওকে দেখেছো? ওর গায়ে জ্বর, তারওপর হালকা কাশি। হাঁচিও আছে। আমার মনে হয় করোনা ভাইরাস ওকে সংক্রমণ করেছে। ওকে এ বাড়িতে রাখলে আমাদের সবার মাঝে এটি সংক্রমিত হবে।
-আমার মনে হয় তোমার ধারণা ঠিক নয়। ওর এমনিতেই জ্বর, কাশি হয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের কারণে হয়তো এমনটি হয়েছে।
-না, আবেগে জীবন চলে না, রেণু। তুমি ওকে কালই বাড়ি থেকে বের করে দেবে। আমি আর কোন ঝুঁকি নিতে চাই না।
রেহনুমা বেগম স্বামীর হাত ধরে অনুরোধ করে বললেন,
-প্লিজ, সোহেলের বাপ, তুমি দয়া করে ছেলেটাকে বাড়ি থেকে বের করে দিও না। প্রয়োজনে আমাদের পরিত্যক্ত রুমে ওকে থাকতে দাও।
-আচ্ছা ঠিক আছে। তাই কর। তবে রুমের বাইরে তালা মেরে রাখবে। খাবার সময় হলে বাইরে থেকে দেয়া যাবে।
এই কথা বলে মোতালেব মিয়া বাজারের দিকে চলে গেলেন।

পরদিন সকালে রেহনুমা বেগম সুফিয়ানকে কাছে ডেকে কেঁদে কেঁদে সব বুঝিয়ে বললেন। সুফিয়ান চোখের জল ছেড়ে খালাম্মার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। রেহনুমা বেগম নিরপরাধ সুফিয়ানকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন। এরপর নিজে গিয়ে সেই পরিত্যক্ত রুমটি পরিষ্কার করে সুফিয়ানকে রেখে আসেন।

এভাবে দিন যায়। সুফিয়ান একাকী একটি পরিত্যক্ত রুমে বন্দী থেকে অঝরে কান্না করে। সোহেল মাঝেমধ্যে ওর কাছে যেতে চায়। কিন্তু বাবার বারণ আছে বলে যায় না। শুধু খাবার দিতে মোতালেব মিয়া নিজে যান। তাও বাইরে থেকে খাবার দিয়ে চলে আসেন।

প্রতিদিনের মতো আজও বিকালবেলা সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে নলচিরা ভূঁঞার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের দিকে আসেন মোতালেব মিয়া। বাবা-ছেলে প্রায় এক ঘন্টা ধরে ব্যায়াম করে বাসায় ফেরে। কিন্তু আজ মোতালেব মিয়ার সাথে স্কুল মাঠে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে দেখা হয়। মহিউদ্দিন চৌধুরী মোতালেব মিয়ার একসময়ের সহপাঠী ছিলেন। কলেজে পড়ার সময় তারা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এরপর মহিউদ্দিন চৌধুরী হঠাৎ করে ইতালিতে চলে যান। অনেকদিন পর তিনি দেশে ফিরেছেন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে তার ছেলেও আছে। সিজন চৌধুরী। সোহেলের সমবয়সী। মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মোতালেব মিয়া একে অন্যের সাথে কোলাকুলি করে গল্প করতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যে সোহেল ও সিজনও একে অন্যের খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। তারা দু’জনে একসাথে খেলতে থাকে।
এরিমধ্যে মাগরিবের আযান দিলে তারা যে যার গন্তব্যে চলে যায়।
এভাবে প্রায় সপ্তাহ খানেক সময় পার হলো।

শনিবার সকালবেলা। মোতালেব মিয়া ফজরের নামাজ আদায় করে সোহেলের রুমের দিকে আসেন। সোহেলকে তখনও বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখে তিনি জোরে জোরে শব্দ করে বললেন,
-কী হলো সোহেল, তুমি এখনও শুয়ে আছো?
সোহেল কাতরাতে কাতরাতে বলল,
-আব্বু, আমার খুব খারাপ লাগছে। জ্বরে আমার গা পুড়ে যাচ্ছে।

এরইমধ্যে সোহেল বেশ কয়েকবার হাঁচি-কাশিও দিয়েছে। মোতালেব মিয়া ছেলের কপালে হাত রেখে চিন্তায় পড়ে যান। রেহনুমা বেগম রান্নাঘর থেকে এসে বললেন,
-সোহেলের কী হয়েছে গো? ও কাঁদছে কেন?
-দেখো, জ্বরে ছেলেটার গা যেন পুড়ে যাচ্ছে। তারওপর হাঁচি-কাশিও হচ্ছে। এখন কী করবো? ভেবে কোন কূল পাচ্ছি না। না জানি ওকেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ করেছে।
-অমন অলক্ষুণে কথা বলো না। আমি ওর মাথায় জলপট্টি দিই। ততক্ষণে তুমি গিয়ে ডাক্তার নিয়ে এসো।
-আচ্ছা।
এই বলে মোতালেব মিয়া বাজারের দিকে চলে আসেন। স্থানীয় একজন গ্রাম্য ডাক্তারকে সব খুলে বললে তিনি ‘জাতীয় করোনা ভাইরাস হেল্পলাইন’ এ কল দিতে বলেন।
মোতালেব মিয়া হেল্পলাইনে কল দিলে কিছুক্ষণের মধ্যে একটা টীম এসে সোহেলকে মেডিক্যালের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে ওর সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। এরপর রিপোর্ট হাতে এলে মোতালেব মিয়া জানতে পারেন তার ছেলে করোনা পজিটিভ। মুহূর্তে মোতালেব মিয়া ও রেহনুমা বেগমের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। এরপরই সোহেলকে আইসোলেশনে নেয়া হয়।
মোতালেব মিয়া তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
-আমার মনে হয় সুফিয়ানের কাছ থেকে আমাদের সোহেলের মাঝে করোনা ছড়িয়েছে। আমি তোমাকে কতো করে বলেছি ওকে বাড়ি থেকে বের করে দাও। তুমি দাওনি। মায়া দেখিয়েছিলে। শুধু তোমার কারণে সোহেলের আজ এমন অবস্থা হয়েছে।
রেহনুমা বেগম স্বামীর মনের অবস্থা বুঝতে পেরে সান্ত্বনার ভাষায় বললেন,
-শান্ত হও, সোহেলের বাপ। রোগব্যাধি আল্লাহর দান। আবার আল্লাহই ভালো করে দেন। আর তুমি শুধু শুধু সুফিয়ানকে দোষারোপ করছো।
তুমি নিজে সবকিছু জেনেবুঝেও সোহেলকে নিয়ে প্রতিদিন বিকেলে বের হতে। হোম কোয়ারান্টাইনের নিয়ম পুরোপুরিভাবে মাননি। আমার মন বলছে, সুফিয়ানের এমনিতেই জ্বর-কাশি হয়েছিল। করোনা হলে তো এতোদিনে ওর বেঁচে থাকবার কথা নয়।
-তাহলে সোহেলের কোথা থেকে হয়েছে?
-আল্লাহই তা ভালো জানেন। তোমার মনে সন্দেহ হলে সুফিয়ানকেও টেস্ট করে দেখতে পার।

স্ত্রীর এমন কথায় মোতালেব মিয়া একটু চিন্তিত হয়ে ভাবতে লাগলেন। এরপর তিনি আবার হেল্পলাইনে কল করলেন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে মেডিকেল টীম এসে সুফিয়ানকেও নিয়ে গেল। ওর সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হলো। মেডিকেল টীমের কাছ থেকে রিপোর্ট হাতে পেয়ে মোতালেব মিয়া স্ত্রীর মুখের দিকে লজ্জার চোখে তাকিয়ে থাকেন।