মানব রাজ্যত্বে মানুষ অসহায় হয়ে উঠেছে। সাথে পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীও মানুষের অমানবিক অত্যাচারে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার উপক্রম। অনেক প্রাণী তাদের বংশ রক্ষায় কোনো প্রকার প্রটেকশন তৈরি করতে না পেরে চিরতরে হারিয়ে গেছে। মানুষ মানুষকে নির্মম অত্যাচার করেছে। এক জাতি অন্য জাতিকে নির্মূল করা জন্য তৈরি করেছে মানব হত্যার সরন্জাম। তারপর ঝাপিয়ে পড়েছে জাতিতে জাতিতে, ধর্মে ধর্মে, দেশে দেশে। আজ পৃথিবী যেন মানব পাপের কুণ্ডলিতে পরিণত হয়েছে। মানুষ ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে, গাছ ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে, মাছ ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে, প্রাণীরা ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে। নদী, সমুদ্র, পাহাড়, মরুভূমি ফরিয়াদ করেছে প্রভুর কাছে। বায়ুমণ্ডল ফরিদায় করেছে প্রভুর কাছে। প্রভুর মানবের অত্যাচার থেকে আমাদের বাচান।

আজ সেই ফরিয়াদ কবুল হয়েছে। পৃথিবীতে প্রভু পাঠিয়েছে তার সেনাবাহিনী। সেই বাহিনির নাম ‘করোনা’। যার ভয়ে অত্যাচারি মানুষ গৃহবন্দি। তারা বের হতে পারছে না। নিজের সম্পর্ককে আজ অস্বীকার করছে। পিতার লাশকে গ্রহণ করছে না পুত্র-স্বজন। নিজেকে নিজে বিশ্বাস করছে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে তাদের জীবন।

কিন্তু আমরা এ পাপ থেকে মুক্ত হতে চাই। আমরা ফিরিয়ে দিতে চাই প্রাণের অধিকার। প্রকৃতির অধিকার। আমরা যার যার অবস্থান থেকে পাপ মুক্ত হবো। আমাদের পাপের পরিবর্তে পূণ্য করে প্রকৃতিকে বাচিয়ে রাখবো। আমাদের প্রয়োজনেই আমরা তাদের সেবা করব। আমরা বন উজাড় করব না। আমরা পাহাড় কাটব না। আমরা সমুদ্রকে দুষিত করবো। আমরা হত্যার জন্য মারনাস্ত্র তৈরি না করে প্রকৃতির ভালোবাসার জন্য তৈরি করব নিরাপদ পৃথিবী।

পৃথিবীর প্রকৃতি ভালো থাকুক এই কামনা। করোনা সচেতনতায় সামাজিক দূরত্ব বহাল রাখি ভালোবসার সম্পর্ক কাছি রাখি। করোনা সচেতনতা সংখ্যা ২০২০-২ প্রকাশ করা হলো ।
আফসার নিজাম, সম্পাদক

সূ চি প ত্র
অস্বস্তিকর ভীতির মুখ থেকে :: ওমর বিশ্বাস
আবার হবে পথ চলা :: নীলিমা আক্তার নীলা
সমবেত :: গোবিন্দ বারিক
চল সব আত্মসমর্পন করি :: মোহাম্মদ আবদুর রহমান
নিজকে মারি খোঁচা :: আব্দুস শাকুর তুহিন
একই সমতলে :: নাসিমা জোহা চৌধুরী
পটভূমি : কোভিড-১৯ :: রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায়
হোম কোয়ারেন্টিন :: ময়েজ মোহাম্মদ
কি যে হবে শেষটাই :: আবু নেসার শাহীন
চিড়িয়াখানা :: সৈয়দ আছলাম হোসেন
তোমার দয়া চাই :: মুহাম্মদ ইমদাদ হোসেন
করোনা আতঙ্ক :: শেখ একেএম জাকারিয়া
বুকের গহিণে কালোমেঘ :: রুদ্র সাহাদাৎ
করোনা ভাইরাস :: রফিক উদ্দিন লস্কর
করোনা ভীতি :: স্বপন শর্মা
নভেল করোনা :: ওবায়দুল মুন্সী
হৃদয়ের বিশালতা হোক আকাশসম :: মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর
সচেতন হতে হবে :: কবির কাঞ্চন
জন্ম কূলের জীবন চক্র ছিটানো নকশা :: রবিউল ইসলাম
স্তব্ধ পৃথিবী :: সালমা বিনতে শামছ

অস্বস্তিকর ভীতির মুখ থেকে
ওমর বিশ্বাস

খুব বেশি কি আগ্রসর হয়ে গিয়েছিল মানুষ!
এভাবে থমকে যেতে হলো!

একটা অস্বস্তিকর ভীতির মধ্যে হঠাৎ আটকে
ভয়ংকর এক গুপ্তঘাতকের হাতে এসে পরেছে পৃথিবী
সাতশ কোটি মানুষকে রাজপথ, ক্লাব, রেস্তোরাঁ,
জৌলুস, প্রাসাদ থেকে তাড়িয়ে এক জীবাণু ভাইরাস করোনা
সবাইকে তুলে দিলো গৃহে। সেই থেকে মানুষ আজ গৃহবন্দি।
পৃথিবী জ্বরে আক্রান্ত। পৃথিবীর জ্বর হয়েছে।
জীবাণুস্রর দখলে পড়ে এখন জ্বর কাশি সর্দি নিয়ে যাচ্ছে তাই অবস্থা।

বাতাসের আগে দৌড়ানোর প্রতিযোগীতায় নেমেছিল মানুষ
বিদ্যুৎচমকের আলোর ঝলকানি দেখার আগেই
মানুষকে দেখতে হয়েছিল পৃথিবীর কুৎসিত কুৎসিত
ভয়ঙ্কর কিছু অকল্পনীয় দৃশ্য!
গা শিহরিত হয়ে ওঠা কত নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটে যাচ্ছে একের পর এক
ভয়াবহ আর নিষ্ঠুরতম জঘন্যতায় বিবেকগুলো ক্রমে মরে যাচ্ছিল। মানুষ দেখছিল
একের পর এক রাত্রি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা কান্নার আওয়াজ
দিনের উত্তপ্ত সূর্যের উজ্জ্বলতার আলোকিত মানবিকতার ভিতর দেখছিল
বিপরীতমুখ থেকে ধেয়ে আসা বিরুদ্ধ-বাতাসের কণ্ঠরোধ করা পাশবিকতা।

কতটা পথ বেশি গিয়েছিল মানুষ?

এগুলো কি বিজ্ঞানেরই আশীর্বাদ?
নাকি প্রযুক্তির লাগামহীন উৎকর্ষের কাছে বেঁচে দেওয়া বিবেক?
যে রশি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এই পরিণামের দিকে?
কীভাবে আটকে গেল ক্ষুদ্রতি ক্ষুদ্র অনুজীব করোনায়
হায় বিজ্ঞান, কল্পনা! কল্পনা!

২.

হে সম্রাজ্যবাদের অধিপতিগণ! যুদ্ধ থামাওনি।
উসকে রেখেছিলে আগুনকে
উসকে দিয়েছে আগুনকে তার স্ফূলিঙ্গ ছড়ানোর জন্য
ওই আগুন সুপ্ত থাকেনি। সহ্য করতে পারেনি
মনুষ্যত্ব ও মানবিকতাকে ধ্বংস করা সেইসব বীর বাহাদুরদের
যারা এখন নিজ নিজ গৃহে স্বেচ্ছায় বন্দি। কোয়ারান্টিনে।
ওই আগুন তো সুপ্ত থাকেনা।
কে বলেছে আগুন নিয়ে খেললেও ও সুপ্ত থাকবে।

কী শিখলাম আমরা?
মিনিটে মিনিটে নিঃশ্বাস ফেলার আগেই শুনতে হচ্ছে মানুষের মৃত্যুর খবর।
কত অসহায় মানুষ!

আমরা নিরীহ মানুষ সকল মানুষ ও আরশের অধিপতির কাছে
ফরিয়াদ করে বলেছি ওই আগুন থামাও এখনি।
হে মাবুদ! আমরা কতিপয় ক্ষমতাহীন মানুষ
তোমার কালামের দোহাই দিয়ে থামতে বলেছিলাম
আমরা শক্তিহীন নিরীহ জনগণ বিশ্বটাকে শান্ত করতে পারিনি
তবে আমাদের বিশ্বাস তোমার প্রতি আগের মতোই অটল।

আমরা কবিগণ অনেকবার থামতে বলেছিলাম
ওরা অস্ত্র দিয়ে দমিয়ে রাখছিল বিশ্বটাকে
তবে তোমার কাছে ফরিয়াদ তুমি থামাও ওই ভয়ংকর খেলা
তুমিই পারো আগুনকে থামাতে
আগুনের নিয়ন্ত্রক তো তুমিই।

হে মাবুদ! ক্ষমা করো। তুলে নাও ধ্বংস!
এবারকার মতো ক্ষমা করো। তুমিই বড় ক্ষমাশীল।
আমরা তোমার কতিপয় তুচ্ছ গোলাম
গোটা পৃথিবীর মানুষের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাচ্ছি
এতে কোনো কোনো মানুষ আমাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও
তুমি তোমার পৃথিবীকে অবাসযোগ্য রাখো
তুমিই পারো তুমিই পারো
সবকিছু তোমার – তুমিই পরাক্রমশালী।
আমরা আবার তোমার কাছে একটা বাসযোগ্য পৃথিবী চাচ্ছি।

আবার হবে পথ চলা
নীলিমা আক্তার নীলা

আমাদের সচেতনে
বেঁচে যাবে কারোর প্রাণ
হবে আবার ভোর
পাখির কলতান।
আনন্দ মিছিলে হাতে হাত রেখে
আবার হবে পথ চলা
আলোর মশালে হারিয়ে যাবে
আঁধারের সব খেলা।
আমাদের সাবধানতায়
বিশ্বের মুখে ফুটবে হাসি
নিঃস্ব করে করোনাকে
জেগে উঠবে বিশ্ববাসী।

সমবেত
গোবিন্দ বারিক

দিনে সূর্য রাতে জ্যোৎস্নার প্রহরী আমি
বাড়িই এখন তীর্থ-স্বর্গ, কেউ কোথাও নেই
নিরালা দুপুর গোধূলি আসে চুপিচুপি
কোথাও কি শঙ্খধ্বনি শোনা গেল?
কারোর বাড়ি থেকে শোনা গেল কান্নার ধ্বনি
কেউ কি হাত বাড়িয়ে দেব সাহায্যের?

এখানে নরকের দরজা খোলা!

এ-বসন্ত ডাকছে হাওয়ায় হাওয়ায়
এ-মৃত্যু মিশে আছে পাড়ায় পাড়ায়
এ-আকাল চলবে কতদিন!
এ-নির্ঘুম রাত্রি অজানা পরিচয়হীন

কেউ নিঃসঙ্গ নই, সমবেত, এ-লড়াই জিতবই।

চল সব আত্মসমর্পন করি
মোহাম্মদ আবদুর রহমান

মহান প্রভুর সামান্য সৃষ্টি
ভাইরাস নবেল করোনা
তাকে ভুল করেও কেউ
কোন ভাবেই ধরোণা।

করোনা শুধু মহান প্রভুর
আদেশ পালন করছে
যাকেই সে সামনে পায়
তাকেই জাপটে ধরছে।

করোনার ভয়ে বিশ্ব জুড়ে
শুধু চলছে লকডাউন
তবুও করোনা চলছ শুধু
নিজের মনের মতন।

বিশ্ব জুড়ে চলছে কেবল
মৃত্যু মিছিল রাজপথে
ক্ষমতাশালী মানুষ গুলি
হারিয়ে গেছে কোন রথে।

চল সব আত্মসমর্পন করি
মহান প্রভুর কাছে
করোনাকে থামানোর অস্ত্র
তার কাছেই আছে।

নিজকে মারি খোঁচা
আব্দুস শাকুর তুহিন

বন্ধ হলো শিক্ষায়তন
বন্ধ হলো আকাশ পথ,
অনুষ্ঠান আর খেলাধুলা
জনসমাগমের রথ।

বন্ধ হলো আমদানী আর
বন্ধ হলো রফতানী,
বন্ধ হলো ড্রামস পিয়ানো
কিংবা শখের দফখানি।

বন্ধ হলো করমর্দণ
কোলাকুলি কত্ত কী!
তবুও মন মনন তুমি
ভীষণ রকম মত্ত কী!

সব কিছু আজ বন্ধ হলেও
খোলা শাফী কাফীর দ্বার,
তার আলো জুটলে কপালে
লাগবে কি রে পাগল আর!

একই সমতলে
নাসিমা জোহা চৌধুরী

কেউ থাকেন উঁচু তলায় কেউ আবার নিচুতে
কেউ থাকেন গাছ তলায় কেউ বাসার পিছুতে,

কেউ হাকান পাজেরো জীপ কেউবা চলেন হেঁটে,
এমন শত লোক পাবেন সোনার বাঙলা ঘেঁটে,

কেউ আছেন রাজার হালে কেউবা মজুর মুঠে,
কেউ খান কোরমা পোলাউ কেউবা খান খুঁটে

কেউবা ভাসে সুখের তোড়ে কেউবা চোখের জলে
কেউবা লড়ছে বাঁচার লড়াই প্রতি পলে পলে,

ধনী গরীব প্রভেদ যখন বাড়ছে দলে দলে
করোনা এসে আনলো তাদের একই সমতলে।

পটভূমি : কোভিড-১৯
রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায়

একটাই পৃথিবী
অথচ, একমাত্র মানুষেরা ছাড়া
নির্বিঘ্নে অন্যেরা সবাই
কোভিড-১৯-এর অভিধানে
একমাত্র মানুষেরাই শুধু ‘বেনে শালা’…

আসলে, বেচাল খেলাটা চিন খেললেও
বিশ্বমানবের ললাটে দগ দগ করছে
চিত্রগুপ্তের মোক্ষম কলমের আঁচড়…
তাই বর্ষশেষের বসন্তবেলায়,ঘরে বসে
কুহু ডাকে খুঁজে পাচ্ছিনা কদমতলা
খুঁজে পাচ্ছিনা মুরলীধারী কৃষ্ণকে…

যাবতীয় প্রতিরোধের বেড়া টপকে
বিশ্বমানবের আড়াই হাত দূরে দাঁড়িয়ে
ক্রমশ দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত্যুর হুমকি
স্বভাবতই আমরা নিভু নিভু
ব্রেকফাস্টের আসরে
মধ্যাহ্নের সাদা ভাতে
বিকেলের মেজাজী চায়ের পেয়ালায়
রাতের সিরিয়ালে…

একান্তের মগ্ন কলমে
তার ছেঁড়া বেহালায়
অষ্টপ্রহর ভেসে যাচ্ছে অদ্ভূত শিবরঞ্জনী…
আন্তর্জাতিক বদহজমে জ্বলে যাচ্ছে ঈশ্বরের পাড়া…
তথাপি রক্তের ভিতরে শুনি জাতীয় সংলাপ:
বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী..!

হোম কোয়ারেন্টিন
ময়েজ মোহাম্মদ

করোনার ভয়ে সব ঘরে ঘরে বন্দি
ময়নার মায়ে বলে, করে নাও সন্ধি।
ময়নার বাবা তাই কাছে এসে ঘেঁষে
কপালেতে হাত তুলে, কী সর্বনেশে!

কাজ করো রান্নার ধোও থালা বাটি
ঘরগুলি ঝাড়ু দাও রাখো পরিপাটি।
ভ্যবাচাকা খেয়ে বলে ময়নার বাপে
অপরাধ কী আমার এমন কী পাপে?

ময়নার মায়ে বলে, বাইরে না যাও
একা একা শুয়ে বসে মজা তুমি পাও।
আমি একা কাজ করি বুয়াদের মতো
তারপরে খুঁত ধরো রান্নাতে শত।

রাগ করে বের হলো ময়নার বাপ
পুলিশের মার খেয়ে পিঠে নিলো ছাপ।
সোজা হয়ে বাড়ি ফেরে গিন্নির কাছে
বলে, সরিষার তেল বাড়িতে কি আছে?

রাত এলো ঘন হয়ে এক খাটে শুয়ে
মাঝখানে মিটারের ফাঁক দিলো দুয়ে।
প্রাতে দেখে দুজনের নাকে নাকে শ্বাস
এই হলো করোনায় ঘরে বসবাস।

কি যে হবে শেষটাই
আবু নেসার শাহীন

বদলে গেছে দিনকাল
কোন কাজে নেই তাল
সবই দেখি বন্ধ,
পুলিশেরা দল ঝুটি
করে সব ছুটাছুটি
মনে নেই আনন্দ।

অসহায় লোকজন
চারদিক ছুটছে,
তবু রোজ বাগানে
নানা ফুল ফুটছে।

খেলা করে সারাদিন
গান গায় ধিন ধিন
ছোটদের দল,
কি যে হবে শেষটাই
করোনায় দেশটাই
যাবে রশাতল।

চিড়িয়াখানা
সৈয়দ আছলাম হোসেন

বিশ্বজুড়ে মহামারী
দেশে দেশে লাশ,
তাই দেখে পশুপাখি
করছে উপহাস।

চীন দেশের উহানেতে
করোনা শুরু,
দেশে দেশে থমকে আছেন
বড় বড় গুরু।

চিড়িয়াখানার পশু পাখি
ডাকছে সভা আজ,
মানুষের কর্ম দেখে
পাচ্ছে তারা লাজ।

শুকর এলো কুকুর এলো
এলো অনেক সাপ,
পশু পাখি সবাই জানে
করছে মানুষ পাপ।

সাগর থেকে যোগ দিয়েছে
দুটি অক্টোপাস,
মিছিল সহ আসছে ছুটে
হরেক রকম মাছ।

গাছের ডালে ঝুলে ঝুলে
যোগ দিয়েছে বাদুর,
বানর বলে সবাই এসো
খেলা দেখ যাদুর।

কুকুর বলে মানুষ কেন
আমাদেরে ধরে,
হালাল হারাম চিন্তা ভুলে
খাচ্ছে মজা করে।

বিড়াল বলে মানুষ এখন
খায় ইদুর ভাজা,
হারাম খাবার বিনিময়ে
হচ্ছে তাদের সাজা।

সব পশুদের কথা শেষে
সভাপতি বলেন,
মরার ভয়ে মানুষ এখন
নিরাপদে চলেন।

পাপের বোঝা ঢাকতে মানুষ
মুখটি ঢেকে রাখেন,
বাচার তরে মানুষ এখন
চিড়িয়াখানায় থাকেন।

তোমার দয়া চাই
মুহাম্মদ ইমদাদ হোসেন

রোগ করোনা চাইনা প্রভু তোমার দয়া চাই,
এই করোনায় তুমি ছাড়া বাঁচার উপায় নাই।
এই করোনার তুমি দাতা তুমিই শিফা দাও,
তোমার দেয়া গজব থেকে রক্ষা করে নাও।

ধরায় যখন পাপ সাগরে ডুবে মানবকুল
তোমায় ভুলে মানুষ যখন কেবল করে ভুল।
হাল্কা গজব দিয়ে তখন ভুল ভাঙ্গাতে চাও
কঠিন গজব দিয়ে পরে ধ্বংস করে দাও।

সব ক্ষমতার মালিক তুমি তুমিই সবার রব,
বাঁচা-মরা তোমার হাতে তুমিই করো সব।
ইচ্ছে করলে মারতে পারো দিতে পারো রোগ
চাইলে তুমি ফেলতে পারো করতে কষ্ট ভোগ।

তুমি ছড়া উদ্ধারিবার সাধ্য আছে কার?
তুমি ছাড়া এই বিপদে নাই ভরসা আর।
রোগ করোনা পঙ্গুপাল আর যতো মসিবত
দোহাই লাগে আল্লাহ তুমি করো হেফাজত।

করোনা আতঙ্ক
শেখ একেএম জাকারিয়া

করোনা তো নয় করুনা
জটিল একটা রোগ,
মরছে মানুষ হাজার হাজার
মিলছে নারে যোগ।

আতঙ্কে আজ জগতবাসী
কখন এ রোগ হয়,
হাঁচি-কাশি-স্পর্শে ছড়ায়
সবার মনেই ভয়।

বিশ্বজুড়ে মহামারি
চিকিৎসা তো নেই,
এমন খবর শোনেই সবে
হারায় কথার খেই।

খোদা ছাড়া নেইরে উপায়
যতই উজান বাও,
বাঁচতে হলে মানব জাতি
সবাই ক্ষমা চাও।

বুকের গহিণে কালোমেঘ
রুদ্র সাহাদাৎ

বুকের গহিণে কালোমেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরে আকস্মিক
বৈশাখ নেই বৈশাখী হাওয়ায় উড়ছি শূন্যতায়
আষাঢ় নেই শ্রাবন নেই তবুও ভিজে যাই
তুমুল ঝড় তুফানে

আজবজনম, যা চাইনে তা বারেবারে পাইরে।
আজবজনম,মাস্কের অন্তরালে মুখ,
বুঝি না হাসে না কাঁদে।

আজবজনম, গুজবের গ্যাঁড়াকলে আটকে আছি
বুঝি না সত্য মিথ্যের কথোপকথন…

করোনা ভাইরাস
রফিক উদ্দিন লস্কর

প্রথম এলো চীন দেশেতে
নাম হয়েছে করোনা,
মহামারির এই ভাইরাসটা
যে কাউকে ছুঁইওনা।

সময় এখন নয় নিরাপদ
করোনার আছে ভয়,
হাঁচি কাশি জ্বর আসলেই
ডাক্তার দেখাতে হয়।

আপন পরের যে কেউবা
ঘুরে আসলে বিদেশে,
তাড়াতাড়ি পরিক্ষা করাও
ডাক্তারগনের নির্দেশে।

কত মানুষ মারছে বিশ্বজুড়ে
ঐ করোনার ভাইরাসে,
হও সচেতন থাকতে সময়
জীবন যেন না নাশে।

বাইরে গেলে মাস্ক পরাটা
এখন খুবই দরকার,
সব দেশেতে সতর্কতার
আদেশ দিচ্ছে সরকার।

সুস্থভাবে বাঁচতে যে তাই
পরিস্কারের জুড়ি নাই।
নিজের শরীর হাত পা সহ
ঘর পরিষ্কার রাখা চাই।

এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে
ফলের রস করেন পান,
মাছ, মাংস ডিম তরকারিটা
ভালো করে সিদ্ধ করান।

ভালো করে হাত না ধুয়ে
চোখে মুখে স্পর্শ নয়,
আর খালি হাতে বন্যপ্রাণী
স্পর্শতেও আছে ভয়।

হাট-বাজার বা শপিংমলে
নিরাপদ নয় পরিবহন,
সবখানেতে সতর্ক থাকুন
ছোঁয়াচেতে আক্রমন।

করোনা ভীতি
স্বপন শর্মা

হাঁটছি দুজন পাশাপাশি ধরছি না তো দুহাত
দূরত্ব ঠিক বজায় রাখি; করোনা যাক নিপাত।
মানবো এখন নিয়মনীতি স্বাস্থ্যবিধি রুল-
সকল কিছু চলছি মেনে করছি না আর ভুল।

মান অভিমান হোকনা যতো ভাঙে অবিরত
করোনা ঠিক দেখালো দিক পুরোনো সব গত।
থাকছি দুজন বন্দি ঘরে ছুঁই না মরণ ভয়ে
এই বাসনা পোষণ করি হাসব একদিন জয়ে।

কান দেবোনা গুজবে আর- মানবো নিয়মনীতি
থাকবেনা আর চলার পথে এই করোনা ভীতি।
চলছি দুজন পাশাপাশি ধরছি না আর হাত-
দেখছি চেয়ে কেমন করে কাটছে তিমির রাত।

অপেক্ষাতে প্রহরগুনি হাসবে গোটা বিশ্ব-
এই কামনা দেখব আবার হাসি মুখের দৃশ্য।
থাকবেনা আর এই বিপর্যয়, রুখবে মানবজাতি
কাটবে আঁধার উঠবে জ্বলে, জ্বলবে আলোক বাতি।

নভেল করোনা
ওবায়দুল মুন্সী

নভেল করোনা
-এটা কী?
-ভাইরাস
জন্ম কোথায়?
-চীনের উহানে।
-তাতে কী?
-আক্রমণে সারাদেশের
-মানুষ মরে
-মাইনাস!

এবার বুঝেছি, কিন্তু-
হয়ে গেছে বড্ড ভুল।
দিচ্ছে ইতালি
স্পেন আর ফ্রান্স
মহামারি করোনার
ভুলের মাশুল!

-আমিও বাংলাদেশ
-হয়েছি সচেতন
-ঠিক
-তবুও যদি কিছু
-হয়ে যায় কখনো
-পাবো না খুঁজে কোনো
-দিক!

উন্নত দেশগুলো
হিমশিম খাচ্ছে
রয়েছিল মত্ত
-নাপাকে
হুশিয়ার করে দিই
আছে যতো জনগণ
লকডাউন করে নিই
-আমাকে।

কী হবে?
-জানি না
প্রতিহত করে যাবো
মিলেমিশে একসাথে
বীরের জাতি যাঁরা
কারো কাছে কোনোদিন
কভু হার
-মানি না।

যা কিছুই করি
আল্লাকে ডাকি
এছাড়া গতি নাই
সবকিছুর মূলে যিঁনি
দুটি হাত তুলে শুধু
তাঁরই কাছে চাই।

হৃদয়ের বিশালতা হোক আকাশসম
মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর

অফিস পাড়ায় দশদিনের ছুটি শুরু হলো আজ
ইবাদাত আর লেখাপড়া হোক অফিসারের কাজ
সময়টা কাজে লাগুক, অবহেলা নয়
নিরাপত্তার চাদরে আসুক মানবতার জয়
আমরা যারা মুসলিম, আমরা তারাই আবার মানুষ
আমাদের কাজে কামে বাড়াতে হবে তীক্ষ্ণতা, হুশ
বিপদ আসবে, দুঃখ কষ্ট দেখা দেবে, ভয়ভীতি খুব
তবুও মানবতার দেয়াল গড়তে হবে, রবো না নিশ্চুপ
করোনা এসেছে, পঙ্গপাল আসতেছে, আরও আসবে
তাই বলে কী গড্ডালিকাপ্রবাহে গা ভাসবে!
মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত, সৃষ্টির সেরা
আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে সৃষ্টিকূল, স্বজনেরা
মহামারী, মহাসংকট দেখা দিলে
বিশ্বস্ততার হিসেব আরও বেশি কষতে হবে দীলে
মজুদদারি, কালোবাজারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি করা
হারামখোর, বেজরমার কাজ সেটা জানে ধরা
এই দেশ, দেশের জনগণ
আপনার, আমার, আমাদের স্বজন, প্রিয়জন
তুমি খাবে কোর্মা পোলাও, কাচ্চি বিরিয়ানি আর-
পাশের কেউ না খেয়ে করবে হাহাকার
তুমি মানুষ নাকি জানোয়ার
এই কঠিন সময়ে হিসেব করে দেখো আরেকবার
রাষ্ট্র আর সরকারই যদি সব করবে
তাহলে তুমি কিভাবে এই দেশ গড়বে
দশে মিলে করি কাজ
হারি জিতি নাহি লাজ
দশের লাঠি একের বোঝা
কথা কিন্তু সোজা
তাই-
সচেতনতা বাড়ুক, দায়িত্বশীল হওয়া চাই
দেশ আমার, দেশের সম্পদ আমার
মুমিন মুসলিম জেলে তাঁতী কুমোর কামার
হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান জাতিভেদ ছেড়ে
মানুষ আমি, মানুষের কল্যাণে আসব সব হেরে
সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড় সবাই জানি
তবুও কেন এতো কানাকানি
জাতিভেদ ভোল, জেনে নাও মানুষ মানুষের জন্য
যতটুকু পার ভালো কিছু কর হও অগ্রগণ্য
মানবতার দেয়াল গাঁথো ইস্পাত কঠিনসম
বদান্যতা বাড়ুক, হৃদয়ের বিশালতা হোক আকাশসম।

সচেতন হতে হবে
কবির কাঞ্চন

বারেবারে সাবান দিয়ে
ধুলে নিজের হাত
করোনা ও রোগজীবাণু
করে না আঘাত।

হাঁচি-কাশি এসে গেলে
নিয়ম মেনে দেবে
হস্ত নির্বিষ মেখে মেখে
টাকাপয়সা নেবে।

স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে
বাঁচতে যদি চাও
ভালো থাকতে ভালোর পথে
পা বাড়িয়ে দাও।

কান্দে মানুষ ঘরে ঘরে
আতঙ্কিত সব
দেশে দেশে করোনার ভয়
রহম করো রব।

জন্ম কূলের জীবন চক্র ছিটানো নকশা
রবিউল ইসলাম

বাহুতে
আশ্রয়
নিয়েছে
বহু ভাঙা দাগ!
আত্মার রাস্তাটা এখন নিঃসঙ্গ,জাম রঙে ভর্তি।

পবিত্র হওয়ার পানি ফেরত যাচ্ছে-
দূর আকাশে গোধূলি মিলিয়ে যাওয়ার মত করে;
পায়ের শাঁসে লাল কাপড়ে বানানো,
নামাজের বিছানা চায় ধৈর্যের সেজদা।

‘’নিয়তি
তৈরী করবে স্বর্গ’’
পাগলামি জুড়ে যদি থাকে আল্লাহ্র খিদে!
দূরত্ব হলেও শিখিয়ে-পড়িয়ে নেবেন তিনি।

স্তব্ধ পৃথিবী
সালমা বিনতে শামছ

পৃথিবী আজ স্থম্ভিত
মহামারি, শঙ্কা; কি জানি কি হয়
জীবন হারাবার ভয়।
পরিবর্তন ভয়ংকর সব পরিবর্তন
চোখে মুখে বিস্ময়,
নব্য মৃত্যুর আবর্তন।

আকাশে মেঘ উড়ছে, বয়ে চলছে নদী
পাখি ডাকছে বৃক্ষ ডালে,
প্রাণীর চলন একই ধাঁচে; ধূ ধূ প্রান্তর অনাবাদী।
সবি চলছে একই নিয়মে,
শুধু পৃথিবী, বাঁধালো সন্ধি,
একটু খানি নিরব হতে
মানুষকে সব করলো বন্দি।

প্রকৃতি কি চাচ্ছে; জানা বড় মুশকিল
জানে স্রষ্টা, কি হবে কখন,
অদ্ভুত সব ঘটনার মিল।
চার দেয়ালে আটকে ভাবি,
জীবন বড় রহস্যময়
মৃত্যু ছাড়া আর কিছুকে
জীবন’ কভু করেনা ভয়।